21/09/2025
ডায়রিয়া নিয়ে কিছু তথ্য :
সাধারণত ৩ থেকে বেশি বার পাতলা পায়খানা হলে একে ডায়রিয়া বলা হয়। ডায়রিয়া এমন একটা রোগ যেটা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষ ই অবগত।তবে, এর মধ্যেও অনেক ছোটোখাটো, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে যায়,যেটা আমরা অনেকেই জানিনা।
ডায়রিয়ার উপসর্গ :
১।৩ বারের বেশি পাতলা পায়খানা
২।পেটে ব্যথা
৩।বমিভাব /বমি
৪।জ্বর
৫।দূর্বলতা
৬।অনেক ক্ষেত্রে রক্ত মেশানো পায়খানা
বাড়িতে চিকিৎসা :
ডায়রিয়া হলে বেশি বেশি পরিমাণে পানি ও ওরস্যালাইন খেতে হয়।সাধারণত প্রত্যেকবার পাতলা পায়খানার পর এক গ্লাস পানি অথবা এক গ্লাস ওরস্যালাইন খেতে হয়। এতে শরীরের পানি স্বল্পতা দূর হয় এবং শরীরে লবণ এর ভারসাম্যহীনতা প্রতিরোধ হয়।ওরস্যালাইন সঠিকভাবে তৈরি করে না খেলে মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত থাকে।সুতরাং সঠিকভাবে স্যালাইন তৈরির প্রক্রিয়া সবার জেনে থাকা জরুরি।
ওরস্যালাইন তৈরির প্রক্রিয়া :
৫০০ মিলি পানিতে /২ গ্লাস পরিমাণ পানিতে ১টি সম্পূর্ণ ওরস্যালাইন প্যাকেট ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে মিশ্রিত করে খেতে হবে,কোনো অবস্থাতেই ৫০০ মিলি থেকে কম পানিতে স্যালাইন তৈরি করবেন না।দরকার হলে ৫০০ মিলি বোতল দিয়ে পানি পরিমাপ করবেন।এই নিয়মের বহির্ভূত কম/বেশি করে স্যালাইন অথবা পানি মেশালে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এছাড়াও, কাঁচকলা দিয়ে নরম ভাত, জাউ/খিচুড়ি খাওয়াতে হবে।সর্বোপরি খেয়াল রাখতে হবে রোগী যেনো দূর্বল না হয়ে পড়ে।
কোন ক্ষেত্রে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে:
যদি স্যালাইন খাওয়ার ও ঘরের খাবার জাউ/খিচুড়ি খাওয়ার দুই/তিন দিনের মধ্যে ও পাতলা পায়খানার কোনো উন্নতি না দেখা যায় বা এর সাথে বমি দূর্বলতা বা রক্ত মেশানো পায়খানা থাকে,তবে অনতিবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
প্রতিরোধ :১। এখনকার সময়ে কিছু ডায়রিয়ার জীবাণুর বিপরীতে টিকা আবিষ্কার হয়েছে,এসব দেয়া যেতে পারে।
২।খাবার আগে ও পরে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
৩।যেকোনো ফল বা শাক সবজি খাওয়ার আগে ভালোমতো ধুয়ে নিতে হবে।
৪।রাস্তাঘাটের খাবার বা বাসি-পঁচা খাবার খাওয়া যাবেনা।
৫।সবসময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
এগুলো অতি সাধারণ কিছু জ্ঞান,কিন্তু না মানলে অকাল মৃত্যু ও হতে পারে।আমাদের স্লোগান হোক:"সাবধান হই,সতর্ক থাকি,নিজে ভালো থাকি,অন্যকেও ভালো রাখি।"
ধন্যবাদান্তে-ডা.মারজান ইয়াসমিন মিলি।
#নোট: অনুমতি ব্যতীত পোস্ট কপি /পেস্ট /শেয়ার করলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।