03/02/2026
গল্পের নাম: ধমনীর যখন 'লাফিয়ে' ওঠার শখ!
নার্সিং ইন্সটিটিউটের করিডোর দিয়ে বেশ চিন্তিত মুখে হেঁটে যাচ্ছিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শ্যামলী । হাতে প্র্যাকটিক্যাল খাতা। সামনেই দেখা হলো অভিজ্ঞ সিনিয়র নার্স মারিয়া আপুর সাথে।
মারিয়া আপু: কিরে শ্যামলী, মুখটা শুকনা কেন? কোনো পেশেন্টের ভাইটাল সাইন বুঝতে সমস্যা হচ্ছে?
শ্যামলী: আপু, ১০ নম্বর বেডের পেশেন্টের পালস চেক করতে গিয়ে একটু কনফিউজড হয়ে গেলাম। নাড়িটা আঙ্গুলের নিচে এমনভাবে ধাক্কা দিচ্ছে, মনে হচ্ছে পালসটা ধমনী থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসবে! এরকম তো আগে দেখিনি।
মারিয়া আপু: (মুচকি হেসে) আরে পাগলী, ওটাকেই তো বলে 'Bounding Pulse'। আয়, তোকে সহজ করে বুঝিয়ে বলি।
বাউন্ডিং পালস আসলে কী?
মারিয়া আপু বলতে শুরু করলেন— "সাধারণত আমরা যখন পালস দেখি, সেটা একটা নির্দিষ্ট ছন্দে মৃদু ধাক্কা দেয়। কিন্তু বাউন্ডিং পালস হলো এমন এক অবস্থা যখন হার্ট প্রতিবার রক্ত পাম্প করার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি জোরে ধাক্কা দেয়। একে ডাক্তারি ভাষায় অনেক সময় 'Water hammer pulse'-ও বলা হয়। মনে হবে ধমনী দিয়ে রক্ত প্রবল বেগে বয়ে যাচ্ছে।"
শ্যামলী: কিন্তু আপু, হার্ট এত জোরে ধাক্কা দেয় কেন?
মারিয়া আপু: কারণটা খুব সিম্পল। যখন হার্ট প্রতিটি স্পন্দনে অনেক বেশি পরিমাণ রক্ত পাম্প করে (যাকে আমরা বলি High Stroke Volume) অথবা যখন ধমনীর চাপের পার্থক্য খুব দ্রুত উঠানামা করে, তখনই পালস এমন 'বাউন্ডিং' বা শক্তিশালী হয়।
কেন এমন হয়? (ক্লিনিক্যাল কারণ)
শ্যামলী আগ্রহ নিয়ে ডায়েরি বের করল। আপু বলতে লাগলেন:
জ্বর (Fever): শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে মেটাবলিজম বেড়ে যায়, তাই হার্টকে জোরে জোরে রক্ত পাম্প করতে হয়।
অ্যানিমিয়া (Anemia): রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে কোষগুলো অক্সিজেনের জন্য চিৎকার করে। তখন হার্ট তাদের শান্ত করতে দ্বিগুণ শক্তিতে রক্ত পাঠাতে থাকে।
শারীরিক পরিশ্রম বা ভয়: ব্যায়াম করলে বা হঠাৎ খুব ভয় পেলে আমাদের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম হার্টকে 'পাওয়ার মোডে' নিয়ে যায়।
হাইপারথাইরয়েডিজম: শরীরে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলেও হার্ট রেট আর পাম্পিং পাওয়ার বেড়ে যায়।
অ্যাওর্টিক রিগারজিটেশন: হার্টের মেইন ভালভ (Aortic Valve) যদি ঠিকমতো না আটকায়, তবে রক্ত উল্টো দিকে ফিরে আসে। এতে পালস প্রেশার বেড়ে যায় এবং পালসটা 'ধপাস' করে পড়ার মতো জোরালো অনুভূত হয়।
শ্যামলী: তার মানে আপু, বাউন্ডিং পালস পাওয়া মানেই কি পেশেন্ট বিপদে আছে?
মারিয়া আপু: সবসময় না। কিন্তু কোনো পেশেন্ট যদি চুপচাপ শুয়ে থাকা অবস্থায়ও বাউন্ডিং পালস দেখায় এবং তার সাথে শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড়ানি থাকে, তবে দেরি না করে ডাক্তারকে ইনফর্ম করতে হবে। কারণ এটা হার্টের কোনো সিরিয়াস সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
শ্যামলী: বুঝেছি আপু! তার মানে বাউন্ডিং পালস মানে ধমনীর ভেতরে রক্তের 'পাওয়ার শো'।
মারিয়া আপু শ্যামলীর পিঠ চাপড়ে বললেন, "একদম ঠিক! মনে রাখবি, একজন ভালো নার্স হওয়ার প্রথম শর্তই হলো আঙ্গুলের স্পর্শে পেশেন্টের ভেতরের অবস্থাটা টের পাওয়া।"
নার্সিং নোট (সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য):
Bounding Pulse: জোরালো এবং শক্তিশালী স্পন্দন।
বিপরীত নাম: Thready Pulse (দুর্বল পালস)।
অনুভূতি: আঙ্গুলের নিচে লাফিয়ে ওঠার মতো।
সাধারণ কারণ: জ্বর, রক্তশূন্যতা, গর্ভাবস্থা এবং হার্ট ভালভের সমস্যা।
Md Abde Hannan
CEO,Nursing Made Easy BD page..
https://www.facebook.com/share/1BHZeUJ4fg/
BSC, DNSM & DM নার্সিং দের জন্য এই গ্রুপ।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর বিভিন্ন অনলাইন সেমিনার, নার্সিং এর ১ম বর্ষ থেকে ফাইনাল ইয়ারের বিষয়ভিত্তিক ক্লাসের ভিডিও,নার্সিং লাইসেন্স এক্সামের ফুল কোর্স করতে আমাদের সাথে পেজে যোগাযোগ করুন। Dr.Md.Abde Hannan.