24/09/2025
প্রশ্ন: Deflazacort 6 mg INN, স্কিনে এলার্জির সমস্যার কারণে ডাক্তার এই ওষুধটি দুই বেলা প্রেসক্রাইব করেন। তাতে আমার খুব ভালো উপকার হয়। চুলকানি ও চুলকানির কোন দাগ আর থাকে নাই। এক বছর খাওয়ার পর ডাক্তার এই ওষুধটি এক বেলা করে খেতে দেয়। এতে ধীরে ধীরে আগের জায়গাতেই চুলকানি শুরু হতে থাকে। দুই মাস পর ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার একই ওষুধটি আবারও দুইবেলা করে খেতে দেয়। আমার প্রশ্ন হল এই এতদিন যে আমি এই ওষুধটা খাচ্ছি এতে কি আমার কোন বিশেষ সমস্যা হতে পারে? যদিও আমার এখন পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যা দেখা দেয়নি।
উত্তর:
Deflazacort 6 mg হলো এক ধরনের কোর্টিকোস্টেরয়েড (steroid)। এটা চুলকানি, অ্যালার্জি, স্কিন ডিজিজ বা অন্য অনেক অটোইমিউন সমস্যায় দ্রুত উপকার দেয়। কিন্তু স্টেরয়েড ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি থাকে, যদিও সবার ক্ষেত্রে একইভাবে নাও হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী Deflazacort সেবনের সম্ভাব্য ঝুঁকি
ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাওয়া → সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
হাড় ক্ষয় (Osteoporosis) → দীর্ঘদিনে হাড় ভাঙা বা ব্যথা।
ডায়াবেটিস/রক্তে শর্করা বৃদ্ধি।
রক্তচাপ বাড়া।
ওজন বৃদ্ধি, মুখ-চাঁদের মতো হয়ে যাওয়া (Cushingoid face)।
পেটের সমস্যা → গ্যাস্ট্রিক, আলসার।
চোখের সমস্যা → ক্যাটারাক্ট, গ্লুকোমা।
অ্যাড্রিনাল সাপ্রেশন → হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে শরীর নিজে থেকে কর্টিসল তৈরি করতে সমস্যায় পড়ে (জরুরি পরিস্থিতিতে বিপদ হতে পারে)।
কেন আপনার চুলকানি ফিরে আসছে?
স্টেরয়েড শুধু লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে, মূল কারণ (যেমন ক্রনিক অ্যালার্জি, অটোইমিউন স্কিন কন্ডিশন) দূর করে না।
ডোজ কমালে বা বন্ধ করলে আবার উপসর্গ ফিরে আসতে পারে।
করণীয়
1. ডাক্তারের সাথে নিয়মিত ফলোআপ – এই ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে খেলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ত্বক/অ্যালার্জি ডাক্তার বা ইমিউনোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি।
2. রক্ত পরীক্ষা – শর্করা, কোলেস্টেরল, কিডনি-লিভার ফাংশন, ভিটামিন D, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি নিয়মিত চেক করা ভালো।
3. বিকল্প চিকিৎসা ভাবা – অনেক সময় অ্যালার্জি/স্কিন ডিজিজে নন-স্টেরয়েডাল ওষুধ (যেমন অ্যান্টিহিস্টামিন, ইমিউনোমডুলেটর, বায়োলজিক থেরাপি) ব্যবহার করা হয়।
4. লাইফস্টাইল – পরিচিত অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস কন্ট্রোল।
সংক্ষেপে বল্লে:
আপনার এখন কোনো তেমন সমস্যা না থাকলেও দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খেলে ভবিষ্যতে জটিলতা হতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছেমতো ডোজ চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ নয়। ডাক্তারের পরামর্শমতো ডোজ অ্যাডজাস্ট করতে হবে এবং সম্ভব হলে বিকল্প চিকিৎসা খোঁজা উচিত।