Health Mirror

  • Home
  • Health Mirror

Health Mirror Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Health Mirror, Medical and health, .

হোমিওপ্যাথি হল আসলে একটা বুজরুকি, আরো অনেক হোমিওপ্যাথির কট্টর সমালোচক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের মত তাঁরও ছিল এই মত, আর সেই...
02/11/2022

হোমিওপ্যাথি হল আসলে একটা বুজরুকি, আরো অনেক হোমিওপ্যাথির কট্টর সমালোচক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের মত তাঁরও ছিল এই মত, আর সেই তাঁর হাতেই কিনা এল মর্গানের ফিলজফি অফ হোমিওপ্যাথির সমালোচনা লেখার কাজ!! এবার কড়া করে বুজরুকদের একটা জবাব দিতে হবে, ভেবে পড়া শুরু করলেন বইটি। তারপর কী হল??

তার আগে একটু এই অসম্ভব মেধাবী, নাস্তিক, বিজ্ঞান সাধকের সম্পর্কে একটু জেনে নেওয়া যাক। ২রা নভেম্বর ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে হাওড়ার পাইকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মহেন্দ্রলাল সরকার। পিতার নাম তারকনাথ সরকার। খুব অল্প বয়সে পিতা মাতা দুজনকেই হারিয়ে মামাদের তত্ত্বাবধানে মানুষ হতে থাকেন। অসম্ভব মেধাবী এবং বিজ্ঞানে উৎসাহী মানুষটি স্কুলের পড়া শেষ করে মেডিসিন নিয়ে পড়ার জন্য ভর্তি হন কলকাতা মেডিকেল কলেজে। মেধাবী ছাত্রটি কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে ওঠেন অধ্যাপকদের প্রিয়পাত্র। এইসময়ে তাঁর মেধা এতটাই বিকশিত হয় যে উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের লেকচার দিতে ডাক পড়ত তাঁর। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে অনার্স সহ এল এম এস ডিগ্রী এবং ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ভারতীয় ছাত্র হিসেবে এমডি ডিগ্রী লাভ করেন।

কর্মজীবনে স্বাধীন ভাবে প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই চিকিৎসক হিসেবে নাম ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতায় ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ও পরে সহ সভাপতি হন।

এইসময়ে কলকাতার বিখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন বাবু রাজেন্দ্রলাল দত্ত, যাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতায় তৈরি হয় একটি হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল। বহু বিখ্যাত ব্যক্তির চিকিৎসক ছিলেন তিনি, এবং বঙ্গদেশে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা প্রচলনে তাঁর অবদান অপরিসীম।

ডাক্তার সরকার প্র্যাকটিস শুরু করার কিছুদিন পর ১৮৬৩ সালে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’-এর বঙ্গীয় শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাপদ্ধতিকে ‘হাতুড়ে চিকিৎসা’ বলে কটাক্ষ করেন। মহেন্দ্রলাল ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। মহেন্দ্রলালের অ্যালোপ্যাথি থেকে হোমিওপ্যাথিতে ঢুকে পড়া এক অপ্রত্যাশিত ও আকস্মিক ঘটনা। এই মত পরিবর্তনের ব্যাখ্যা তিনি নিজেই করে গিয়েছিলেন তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘ক্যালকাটা জার্নাল অব মেডিসিন’-এ। ১৯০২ সালের জুলাই সংখ্যায় তিনি লেখেন: ডাক্তার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তি ‘ইন্ডিয়ান ফিল্ড’ নামক একটি পত্রিকার জন্য ডাক্তার মরগ্যানের লেখা ‘ফিলোজফি অব হোমিওপ্যাথি’ বইটির সমালোচনা লিখতে অনুরোধ করেন। ডাক্তার সরকার ভাবেন, হোমিওপ্যাথির মুণ্ডপাত করার এই এক সুবর্ণসুযোগ। কিন্তু বইটি পড়তে পড়তে ক্রমশ তাঁর দৃষ্টি উন্মোচিত হতে থাকে এবং সমালোচনা লেখার সময় তিনি স্বীকার করেন, হোমিওপ্যাথ মেডিকেল সিস্টেম সম্পর্কে এতদিন কিছু না জেনেই তিনি অন্ধের মতো বিরুদ্ধ-মত পোষণ করে গেছেন। অবশ্য বিনা পরীক্ষায় তাঁর মত পরিবর্তন হয়নি। রাজেন্দ্র দত্তের হাসপাতালে রীতিমত রোগীদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে তাদের ওপর পরীক্ষা চালান যে সত্যিই ওষুধের গুণে ভাল হচ্ছে নাকি পথ্য এবং শুশ্রুষার জন্য সেরে উঠছে। ১৮৬৭ সালের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চতুর্থ বার্ষিক সভায় তিনি বক্তৃতা দেন, এবং স্পষ্টভাবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে অ্যালোপ্যাথির থেকে শ্রেষ্ঠ বলে মত প্রকাশ করেন। ফলস্বরূপ বহিষ্কৃত হন ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন থেকে। বন্ধুবান্ধব শুভানুধ্যায়ীরা হঠকারিতা থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্যে অবিচল। তাঁর কথা থেকে জানা যায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু করার পর প্রথমদিকে যখন পেশেন্ট হত না, তখন তিনি চেম্বারে বসে মনোযোগ সহকারে বিভিন্ন মেটিরিয়া মেডিকা পাঠ করতেন। যা পরে কাজে লেগেছিল তাঁর। ধীরে ধীরে রাজেন্দ্রলাল দত্তের সহযোগিতা এবং নিজের মেধার জোরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতিলাভ করতে থাকেন, এবং বাঙলা তথা দেশের এক লব্ধপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। বহু বিখ্যাত ব্যক্তির চিকিৎসক ছিলেন তিনি, চিকিৎসক হিসেবে তাঁকে নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত, যা এই স্বল্প পরিসরে লেখা অসম্ভব। তবে সবচেয়ে আলোচিত রামকৃষ্ণ পরমহংসের চিকিৎসক হিসেবে তাঁর ভূমিকা। শ্রীরামকৃষ্ণের গলার ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ডাক পড়ে তাঁর। নাস্তিক মানুষটি আদৌ রামকৃষ্ণের অবতার তত্ত্ব বা এইসবে পাত্তা দিতেন না। সোজাসুজি জিজ্ঞেস করেছিলেন "এইসব পরমহংসগিরি করছ কেন??" কিন্তু ধীরে ধীরে এই দুই নাস্তিক এবং আস্তিক মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত হৃদ্যতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, পরবর্তীকালে দেখা যাবে ডাঃ সরকারের অন্যান্য সব কীর্তির থেকে শ্রীরামকৃষ্ণের চিকিৎসক হিসেবেই অধিক পরিচিতি ছড়াবে।

দেশবাসীর বিজ্ঞানচর্চার উন্নতিকল্পে আজীবন বিজ্ঞানব্রতী এই মানুষটি ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি কালটিভেশন অফ সায়েন্স। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সহ দেশের জ্ঞানীগুণী এবং ধনী মানুষেরা সামিল হয়েছিলেন তাঁর এই উদ্যোগে। আমৃত্যু এই সংস্থার সম্পাদক ছিলেন ডাঃ সরকার, পরবর্তীকালে এখানেই গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পান ডঃ সি ভি রমন। অথচ সেই মহেন্দ্র ডাক্তারকেই ১৮৭৮-এর এপ্রিল মাসের মিটিং-এ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজ্ঞান সমিতি’ সেনেটের সদস্যপদ থেকে বিতাড়িত করতে উদ্যত হয়। বিরক্ত মহেন্দ্রলাল নিজেই ভাইস-চ্যান্সেলরকে দুটি চিঠি লিখে পদত্যাগ করেন।

নামকরা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন কিন্তু কট্টর ছিলেন না। বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার কারণে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে মহেন্দ্রলালের কোনও গোঁড়ামি ছিল না। তাঁর এই স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ রয়েছে ১৮৭৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে লেখা চিঠিদুটিতে। সেখানে তিনি হিপোক্রেটিসের চিকিৎসা পদ্ধতি সহ ভিন্ন ধারার চিকিৎসা দর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি লেখেন— ‘হ্যানিম্যান বিশ্বাস করেন, রোগমুক্তির একটিমাত্র পথ, অন্য পথ নেই। এই ধরনের ভাবনা কিন্তু ঠিক নয়। বিভিন্ন পথেও রোগ মুক্তি ঘটে।’ ম্যালেরিয়া হলে তখন হ্যানিম্যানের পথ নয়, বরং কুইনাইনই একমাত্র চিকিৎসা বলে তাঁর মত ছিল। একইরকমভাবে পৃথক ধারার চিকিৎসকদের কাছেও তাঁর নিবেদন ছিল, হোমিওপ্যাথিকে অগ্রাহ্য করার কোনও কারণ নেই। তাঁর কাছে কোন পথে চিকিৎসা হচ্ছে তা জরুরি নয়, সর্বাগ্রে জরুরি রোগীর পীড়ার উপশম।

সমাজ সংস্কারক হিসেবেও তাঁর ভূমিকা কম নয়। ডা সরকারের পরামর্শে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার সরকারি বিবাহবিধি প্রণয়নে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ম্যারেজ অ্যাক্ট থ্রি অনুসারে মেয়েদের বিবাহের ন্যূনতম বয়স ষোল বৎসর নির্ধারণ করে। তিনি ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন। তার সভাপতিত্বে অসমের চা শ্রমিকদের দুরবস্থার সম্বন্ধে প্রস্তাব নেওয়া হয়। তিনি শ্রমিকদের অপমানসূচক "কুলি" শব্দ ব্যবহারে আপত্তি করেন। দেওঘরে তিনি তার স্ত্রীর নামে রাজকুমারী কুষ্ঠাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।

ডা সরকার ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো হন। ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার শেরিফ, অনারারি ম্যাজিসেট্রট নির্বাচিত হন। ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ সরকার তাঁকে 'কম্পানিয়ন্স অফ দ্য অর্ডার অব দ্য ইন্ডিয়ান এম্পায়ার' (সিআইই) প্রদান করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডক্টর অব ল' উপাধি প্রদান করে।

১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ২৪ পরগনা জেলার বন্দিপুর গ্রামের মহেশচন্দ্র বিশ্বাসের কন্যা রাজকুমারীকে বিবাহ করেন। তাঁদের একমাত্র পুত্র অমৃতলাল সরকারও ছিলেন একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক। পিতার মৃত্যুর পর তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্সের সম্পাদক হন।

জন্মদিনে এই বিজ্ঞানসাধককে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম।

ছবি : উইকিপিডিয়া।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বঙ্গদর্শন ও অন্যান্য সাইট এবং কিছুটা স্মৃতি থেকে।

✍️ ডাঃ অংশুমান দে।

No To***co Day ডাঃ সুমিত চট্টোপাধ্যায়সিগারেটের নেশার মত এত মারাত্মক সুদুরপ্রসারী নেশা মানব সভ্যতায় বুঝি আফিং এর পর আর ...
31/05/2022

No To***co Day
ডাঃ সুমিত চট্টোপাধ্যায়
সিগারেটের নেশার মত এত মারাত্মক সুদুরপ্রসারী নেশা মানব সভ্যতায় বুঝি আফিং এর পর আর কেউ আসে নি। ঘুমের ওষুধের নেশা, মদের নেশা, গা৺জা, চরস, L*D আরো কত কিছুর নেশা! মদের নেশার সবচাইতে খারাপ দিক হলো এর খপ্পরে একবার পড়লে ছাড়া খুব মুশকিল। সে তুলনায় সিগারেটের নেশা তো তবু চেষ্টা করলে ছাড়া যায়- কিন্তু সংখ্যাগত গুরুত্বের দিক থেকে- সিগারেটের নেশা পৃথিবীর সর্বোচ্চ । বলা ভালো -সর্ব অপকৃষ্ট।

সিগারেট কেন ক্ষতি করে এ তো এখন আমরা সবাই জানি। সিগারেটের মধ্যে অনেকগুলি খারাপ উপাদান আছে তার মধ্যে সবচাইতে সাংঘাতিক হলো- নিকোটিন। সিগারেটের নেশা থেকে অনেক রকম অসুখ বিসুখ হতে পারে সেটাও আমরা জানি। তবে তাদের মধ্যে সবচাইতে সাংঘাতিক দুটি হল- করোনারি হার্ট ডিজিজ আর ফুসফুসের রোগ।

ফুসফুসের রোগ বলতে শুধু লাং ক্যানসার নয় , এমফাইসিমা বলে একটি রোগ হয় (এই রোগটিকে ডঃ বিধান চন্দ্র রায় বলতেন মোস্ট ডিসগাস্টিং এইলমেন্ট) -ফুসফুসের যে ইলাস্টিক ব্যাপারটা আছে যার জন্য হাপরের মতো লাং বড় হয় ছোট হয় - যার ফলে আমরা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারি সেই স্থিতিস্থাপকতা ব্যাপারটাই এই রোগে নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে হবে কি - বুকভর্তি জায়গা হাওয়া নেওয়ার- (এ্যাজমার ঠিক উলটো) অথচ আপনি নিঃশ্বাস নিতে পারবেন না। সহজে মারা যাবেন না, জীবন্মৃত হয়ে অনেকদিন ঘানি টানতে হবে। আর করোনারি হার্ট ডিজিজ অর্থাৎ যার দীর্ঘমেয়াদী ফল হলো- হার্ট অ্যাটাক- তাও সিগারেট এরই অবদান। সবচাইতে বড় ফ্যাক্টর অবশ্যই বংশানুক্রমিক রোগ, তবে যাদের বংশানুক্রমিক রোগ আছে তারা যদি সিগারেট নেশার খপ্পরে পড়ে তাহলে তাদের যে হার্ট অ্যাটাক হবেই সেটা স্ট্যাম্প পেপারে লিখে দেওয়া যায়। যাদের বংশগত রোগ নেই তাদেরও সিগারেটের নেশা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা প্রায় তিরিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়!

এগুলো আমরা সবাই জানি- তবু কেন সিগারেটের নেশা ছাড়তে পারিনা? সিগারেট কেন, কোন কিছু নেশাই একবার হয়ে গেলে সেটা ছাড়া মুশকিল- এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী? ব্যাখ্যাটি একটু জটিল এবং ফেসবুকের ছোট পরিসরে ঠিক আলোচনাযোগ্য নয়, তবে ছোট করে দু চার কথা বলা যেতেই পারে। দেখা গেছে যেসব জিনিস আমাদের ইমোশন এর সঙ্গে জড়িত সেসব জিনিস ভোলা যায় না। যেমন ধরুন আপনি অফিস যাওয়ার জন্য বড় রাস্তা পার হচ্ছেন, একটা হোঁচট খেলেন, বিরক্ত হলেন, তবে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে অফিসে ঢুকে গেলেন। খানিকক্ষণ পরে আপনার মেমোরি থেকে পুরো ব্যাপারটা একদম ডিলিট হয়ে যাবে, পরে আর কোনদিন মনে পড়বে না। কেন পড়বে না? কারণ এই ঘটনাটি আপনার ইমোশন এর সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু প্রথম প্রেম- যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ প্রেম হিসেবে পর্যবসিত হয়- তা আপনার মেমোরি থেকে কখনোই ডিলিট হয় না, কারণ আপনার মস্তিষ্কের চূড়ান্ত আবেগ সেন্টারের সঙ্গে ব্যাপারটি জড়িত। সিগারেট খেলে ব্রেন এ একটা রিলাক্সেশন অনুভূতি হয় এবং এই অনুভূতিটি আপনার আবেগকে গ্রাস করে নেয়। প্রথম সিগারেট খাওয়ার পর আপনি দেখেন - বাহ্ শরীরে বেশ একটা চনমনে ব্যাপার হচ্ছে তো, এতক্ষণ যে ডিপ্রেশন ছিল সেটা চলে যাচ্ছে। এই অনুভূতিটা আপনার আবেগের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সেই জন্য পরবর্তীকালে আপনি আবার যখন ঐ স্ট্রেসফুল সিচুয়েশনের মধ্যে দিয়ে যান আবার বন্ধু-বান্ধবদের থেকে হাত পেতে সিগারেট ধরান এবং আস্তে আস্তে নেশার দাস হয়ে যান।

সিগারেট ছাড়ার বিষয়ে মার্ক টোয়েনের সুন্দর একটা কথা আছে- সিগারেট ছাড়া খুব সোজা! আমি অনেকবার ছেড়েছি!!
আর কার্ডিওলজিস্টরাও বলেন সিগারেট ছাড়া সত্যিই খুব সোজা- আপনার ফাস্ট হার্ট অ্যাটাক এর পর আপনি অবশ্যই সিগারেট ছেড়ে দেবেন, তবে... তবে? যদি বেঁচে থাকেন তবেই।
সিগারেট এর এই ক্ষতিকর দিকটি সম্পর্কে কিন্তু খুব আগে জানা ছিল না মাত্র তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর হলো এই ব্যাপারটি সম্পর্কে ভালো করে জানা গিয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন পঞ্চাশ ষাট সত্তর দশকের সব সিনেমায় অভিনেতাদের সিগারেট খাওয়ার মারাত্মক প্রবণতা এবং সেই সময় রিক্রিয়েট করে যেসব চলচ্চিত্র তৈরি হয়- যেমন 'ব্যোমকেশ', 'অপরাজিত'- স্বাভাবিকভাবেই সেখানেও সিগারেটের ছড়াছড়ি। তখন সিগারেট এর খারাপ দিক সম্বন্ধে কিছু জানা ছিল না। আমার বাবার নস্যির নেশা ছাড়ানোর জন্য ষাটের দশকে ডাক্তারবাবু বলেছিলেন- আপনি সিগারেট খাওয়া শুরু করুন। সত্যজিৎ রায়ের জীবনী পড়লে জানতে পারবেন তার জীবনেও এরকম ঘটনা ঘটেছিল। এই যে উত্তম কুমার, সত্যজিৎ রায় বেশ অল্প বয়সে ই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, অকালে চলে গেলেন - কারণ কিন্তু সিগারেট এরা দুজনেই খুব স্মোকিং করতেন।

এত কথা লেখার একটাই কারন আজ WORLD NO TO***CO DAY. চেষ্টা করতে হবে সিগারেটের এই মারাত্মক নেশা থেকে দূরে থাকার। ইদানিং আমার একটা অবজারভেশন হলো- সিগারেট খাওয়ার প্রবণতা যেন মেয়েদের মধ্যে খুবই বেড়ে গেছে। আমরা ছেলেদের চাইতে কম কি- এই ভাবনা থেকে সিগারেট খাওয়াটা একপ্রকার বোকামি বলেই মনে হয়।

09/05/2022

★★শিশুর বিকাশে কবিতা, গান ও আর্টের ভূমিকা★★

('শিশু' কাব্য গ্রন্থ থেকে কবিতা সহ ব্যাখ্যা)
বিজ্ঞানকে এত সহজভাবে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে তিনিই পারেন। 🙏 কবিগুরুর জন্মদিনে প্রণাম।


#রবীন্দ্রনাথ_ঠাকুর🙏



ঈশিতা দাস
স্পীচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট

(Last Year Covid র সময় এই ভিডিও টি Recording করা হয়েছিল আজকের দিনে।)

দেশ তথা রাজ্য মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ এর সম্মুখীন, এইসময়ে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা সময়ে পাওয়াটা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে,...
03/05/2021

দেশ তথা রাজ্য মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ এর সম্মুখীন, এইসময়ে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা সময়ে পাওয়াটা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে, সেই জায়গায় কিছুটা স্বস্তি দিতে আমাদের তরফ থেকে এক ছোট্ট প্রয়াস নেওয়া হল। আপনি যদি সাসপেক্টেড, অ্যাসিম্পটোমেটিক বা মাইল্ড কোভিড পেশেন্ট হন তাহলে এই ডাক্তারবাবুদের যে কোন কাউকে তাঁর উল্লিখিত সময়ে ফোন করে চিকিৎসা সংক্রান্ত সহযোগিতা পেতে পারেন। আপনাদের কাজে লাগতে পারলে আমাদের উদ্যোগ সফল হবে।
ধন্যবাদ।

💐💐💐।। ডাঃ ভি. এস. প্রিয়া ।।💐💐💐💜 ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ডাক্তার। 💜সমাজের বাঁধাধরা কুৎসিত নিয়মকে ভেঙ্গে সমাজের  কাছে ...
08/01/2021

💐💐💐।। ডাঃ ভি. এস. প্রিয়া ।।💐💐💐

💜 ভারতের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের ডাক্তার। 💜
সমাজের বাঁধাধরা কুৎসিত নিয়মকে ভেঙ্গে সমাজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন।

~ অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা আমাদের Health Mirror Page র তরফ থেকে।।

Let's normalise Breastfeeding in public in 2021!🔥
03/01/2021

Let's normalise Breastfeeding in public in 2021!🔥


লন্ডন থেকে বন্ধু পাঠাল - এটা কোনো ট্রাফিক জ্যামের দৃশ্য নয়। নয় কোনো বরযাত্রারও দৃশ্য! এই সারি সারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো লন্...
30/12/2020

লন্ডন থেকে বন্ধু পাঠাল -
এটা কোনো ট্রাফিক জ্যামের দৃশ্য নয়। নয় কোনো বরযাত্রারও দৃশ্য! এই সারি সারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো লন্ডনের সুপ্রসিদ্ধ রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছে। হাসপাতালে কোনো সিট খালি নেই! তাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদেরকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কত মানুষ হয়ত কাতরাচ্ছেন এগুলোর ভেতর। কারো অক্সিজেন লেভেল একেবারে লো, তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। ডাক্তার হয়ত প্রাণপন চেষ্টা করছেন বাঁচানোর। কেউ হয়ত এইমাত্র পৃথিবীর সব মায়া ছেড়ে চিরগন্তব্যের পথে চলে গেলেন। বিপর্যয়ের কবলে ইংল্যান্ড। গতকাল ৪১,৩৮৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন, যা গত এপ্রিলের first wave থেকে অনেক বেশি! মৃত্যুর সংখ্যা আর নাই বা বললাম।

© Dr Sumanta Chatterjee

Wishing you all A Very Happy New Year 2021 in Advance !! ❄️🎄🎉🎊☃️Enjoy this Holidays with CARE (Care for you & your surro...
30/12/2020

Wishing you all A Very Happy New Year 2021 in Advance !! ❄️🎄🎉🎊☃️

Enjoy this Holidays with CARE (Care for you & your surroundings) & Maintain Covid etiquettes..







🔥 ।। SANITIZERS ARE FLAMMABLE ।। 🔥Keep them away from fire 🔥 & DON'T sanitize your hands before lighting diyas and candl...
11/11/2020

🔥 ।। SANITIZERS ARE FLAMMABLE ।। 🔥

Keep them away from fire 🔥 & DON'T sanitize your hands before lighting diyas and candles🕯️.

25/08/2020
07/07/2020

◆◆◆ দ্বিভাষার দ্বন্দ্ব ও অভিভাবকের ভূমিকা ◆◆◆

বিশ্বায়ন দেশ, কাল, সমাজ, সংস্কৃতি এমনকি ভাষা গন্ডিও ভেঙ্গে দিয়েছে। যার অনিবার্য ফল হিসেবে আমাদের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বাজারের শর্তে, সময়ের শর্তে একাধিক ভাষা জানার। এই চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম একটা প্রবণতা গড়ে উঠেছে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা, এমনকি দৈনন্দিন জীবনাচরণেও ইংরেজির অভ্যাস। কিন্তু আমাদের বাঙালি মনন চিরকালই তার সমৃদ্ধ ভাষাটির প্রতি দুর্বলতা পোষণ করে এসেছে। মনে রাখবেন পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি যারা ভাষার মর্যাদার স্বার্থে একটা আলাদা রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছি।

একজন পেশাদার অডিওলজিস্ট-স্পীচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট ও পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কর্মরতা অধ্যাপিকা হিসেবে আমার কাছে অভিভাবকগণ প্রায়শঃই প্রশ্ন করেন শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রক্রিয়া কিরকম হবে অথবা দুটো ভাষা কিভাবে শেখাবো, ইত্যাদি। আজকের সচেতনামূলক ভিডিওতে আমি আলোচনা করব শিশুর দ্বি-ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে -

আপনাদের যাদের এই সংক্রান্ত কোন জিজ্ঞাসা বা সমস্যা আছে তারা কমেন্ট সেকশন বা এই page র ইনবক্সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।।
ধন্যবাদ।

ঈশিতা দাস
Audiologist and Speech language pathologist

◆◆ অ্যান্টিবায়োটিক,ও আমাদের বিদায়ক্ষন ◆◆............................................................................অ্যা...
04/07/2020

◆◆ অ্যান্টিবায়োটিক,ও আমাদের বিদায়ক্ষন ◆◆............................................................................

অ্যান্টিবায়োটিক পরবর্তী যুগ হল মানুষের বিদায়ের সময়।
খানিকটা কাব্যিক শোনাতে পারে। আমি নিশ্চিত করছি আপনাদের, এখানে কাব্যিক কিছু নেই। নিতান্তই বাস্তব দুঃসংবাদ লিখতে শুরু করেছি। আপনি পড়তে পারেন, নাও পড়তে পারেন। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের নির্বুদ্ধিতার খেসারত দিতে শুরু করেছি!

আমরা গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অদ্ভুত এক স্বর্গরাজ্যে বাস করছি। গতশতকের মাঝামাঝি অথবা তার আগের সময়ে ফিরে গিয়ে যদি কিছুদিন আমরা বেঁচে আসতে পারতাম তাহলে জীবন কাকে বলে সেই ধারনা খানিকটা আমাদের হতে পারত!

টাইফয়েডে মানুষ মরে যেতে দেখেছেন? দেখবার সম্ভাবনা কম। কারও টাইফয়েড হয়েছে শুনে আঁৎকে উঠেছেন? দুঃখ পেয়েছেন? ঠিক যেমন কারও ক্যান্সার হয়েছে শুনে দুঃখ পান, সেরকমটা না হলেও,অনেকটা ওরকমই। বরং ভেবেছেন ঠিকমত ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নিলেই সেরে উঠবে টাইফয়েডের রোগী। ফোঁড়া কাটতে হবে শুনে নিশ্চয় ভয় পান নি? ফোঁড়া কাটলে মানুষটা না-ও বাঁচতে পারে বলে কখনও ভাবেননি? ডায়ারিয়ায় কত মানুষ মরতে দেখেছেন? ওলাবিবির আক্রমণে গঞ্জ-গ্রাম উজাড় হয়ে যেত একটা সময়ে, এই দেশে। এবং পৃথিবীর অনেক দেশেই। শামুকে পা কেটে গিয়ে মানুষ মরে যেতে পারে বলে মনে হয় আপনার? আমরা জানি, সে প্রায় অসম্ভব এখনকার সময়ে।

অনেক দিন হল গড়পড়তা রোগের নামে আমাদের বুক কাঁপে না। আমাদের এতদিন ছিল স্বর্গবাসের দিন। কেননা আমাদের রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক। যাদুর গুলি।

যে দুঃসংবাদটি দিতে চাইছিলাম, সেটি হচ্ছে, অ্যান্টিবায়োটিকের স্বর্ণযুগ শেষ হয়েছে। আমাদের স্বর্গবাসের সময়ও শেষ হয়েছে। আমাদের নরক দর্শনের দিন এখন। তবে কিছু হিসেবে আমরা খানিকটা ভাগ্যবান। সত্যিকারের নরক দেখবে আমাদের সন্তানেরা। বস্তুত নরক তারা এখন থেকেই দেখতে শুরু করেছে।

তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন একটা খুব ভালো ওষুধ ছিল। জুটিবেঁধে থাকা গোল গোল এক ব্যাকটেরিয়া জাতের শেষ ওষুধ। আগে সেফালোস্পোরিন খেলে ব্যাকটেরিয়া চামড়া ফুটো হয়ে তার নাড়িভুড়ি বাইরে এসে পড়ত। গণোকক্কাল সংক্রমণের (যেমন, গণোরিয়া) শেষ ভরসা সেফালোস্পোরিন এখন আর আমাদের ভরসা যোগাতে পারে না। সেফালোস্পোরিন প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে গেছে সারা দুনিয়ায়। আর এখনো সারা দুনিয়ায় প্রতিদিন কম করেও ১০ লাখ মানুষ গণোরিয়ায় সংক্রামিত হয় !

কার্বাপেনেম/ইমিপেনেম জাতের অসাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ছিল আমাদের। প্রাণঘাতি পেটের অসুখের ওষুধ (নিশ্চয়ই হেসে ফেলছেন অনেকে? পেটের অসুখে আবার মানুষ মরে নাকি! এতদিন মরত না পুরোন অ্যান্টিবায়োটিকের জোরেই) । শিশুদের নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, রক্তের সংক্রমণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্বাপেনেম/ইমিপেনেম ছিল আমাদের বাঁচবার সর্বশেষ উপায়। এছাড়াও সেপ্টিসিমিয়ায় (যেখানে সমস্ত শরীর ইনফেকশনে সংক্রামিত) এটাই ছিল প্রধান ওষুধ। এখন অনেক ব্যাক্টেরিয়া এই জীবন দায়ী অ্যান্টিবায়টিকের বিরুদ্ধে রেসিসটেন্স তৈরী করেছে।

ফ্লোরোকুইনোলন নামের একটা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ এ বিরাট গন্ডগোল করে দিতে পারত। মুখ আর মূত্রনালীর সংক্রমণে অতি চমৎকার ওষুধ! এখনকার প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ফ্লোরোকুইনোলনে ডুবেও মরবে না। আমাদের মায়েদের, মেয়েদের মুত্রনালীর সংক্রমনের ভয় সবচে বেশি । আমাদের শিশুদের রয়েছে মারাত্মক মুখের সংক্রমণের ভয়। আমরা কী করব এখন?

স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামের একটা জাত রয়েছে ব্যাকটেরিয়ার। ল্যাবরেটরিতে খুব সহজে দারুণসব পরীক্ষা করা যায় একে নিয়ে, সে আর বলার নয়! এই জাতটাকে যখন পাওয়া যায় তখন পরীক্ষার পাত্রে স্বর্ণের মতো তাদের রং ছিল বলে এই জাতের নাম দেয়া হয়েছিল "অরিয়াস' (লাতিন শব্দ "অরাম' অর্থ স্বর্ণ)। আঙুরের মতো থোকা বেধে জটলা পাকিয়ে থাকে, আর দেখতে গোল বলে গোত্রের নাম হয়েছিল "স্টেফাইলোকক্কাস'। অতি চমৎকার ব্যাকটেরিয়া। বাস করে মানুষের ত্বকে। কিন্তু এরাই সামান্য কেটে গেলে অথবা নগন্য ক্ষত থেকে মানুষের জীবন নিয়ে নিতে পারে! এরা এই সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে সামনের সারিতে রয়েছে!

এ সামান্যই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য খানিকটা তুলে দিয়েছি। মূল রিপোর্টটা (http://apps.who.int/iris/bitstream/handle/10665/112642/9789241564748_eng.pdf;jsessionid=711D433C444FD8F9A3CC9FF2867ABECC?sequence=1) পড়লে খানিকটা বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

২০১৪ সালের শেষ হিসেব থেকে আমরা এখন জানি, সারা পৃথিবী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুতে ছেয়ে গেছে! খুব সামান্য সংক্রমণ আর সাধারণ রোগেও এখন মানুষ মরে যাবে। যেমন হতো ৫০ বছর আগে। যেসব সাধারণ রোগকে আমরা পাত্তা দিতে শিখিনি, খুব অবাক হয়ে এখন আবিষ্কার করব সেইসব রোগেই আমাদের প্রিয়জনেরা মরে যাচ্ছে! অবাক করা বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়া সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেই। তারমানে আমরা জানিও না ঠিক কী কী বিপদ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে! (সকল দেশেই ভারী আকারের প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে! সত্যিকারের বুদ্ধিমান কোন প্রাণী যদি জানত আমরাও নিজেদেরকে বুদ্ধিমান বলে দাবী করি তাহলে কী হাসাহাসিটাই না তারা করত!)

ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার বড় কারণ হচ্ছে তাদের জীবনের চক্র অতি দ্রুত ঘোরে। তারমানে তারা অতিদ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

জেনেটিক কোড, যাতে জীবনের নিয়ম লেখা থাকে, সে বদলায়। বদলানো কঠিন। কিন্তু বদলায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বদলে যায় প্রজাতির রকম। ব্যাকটেরিয়া যেহেতু দুচারদিনে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের যাত্রা পার করে ফেলে তাই তাদের জেনেটিক কোড বদলায় খুব দ্রুত। সেইজন্য তাদের ভেতর প্রতিরোধী জিন তৈরির সম্ভাবণাও বেশি।

এবং আমরা তাদেরকে সাহায্য করি। বুড়ো ডারউইনের কথা তো আপনারা জানেনই। প্রাকৃতিক নির্বাচনে যোগ্যরাই টিকে থাকে। আমরা সবাই মিলে প্রাকৃতিক নির্বাচনে খুব দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের টিকে থাকার সুযোগ করে দেই। উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করি।

ধরুন হারাধনের দশটি ছেলেকে ছেড়ে দেয়া হলো কলকাতা শহরে। তাদের আর দশটা মানুষের মতই অতি সাধারণ। কেবল তারা বিশেষ একটা জলের ফিল্টার বানাতে পারে যা আর কেউ পারেনা। এখন তাদের পক্ষে কলকাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাচ্চাকাচ্চা নাতিপুতি মিলে কলকাতা শহরে রাজত্ব করবার সম্ভাবণা ১৫ লক্ষে ১ (ধরছি কোলকাতার জনসংখ্যা ১৫০ লক্ষ)। এতো কম সম্ভাবণা হলে সেটাকে পাত্তা না দিলেও চলে। এখন যদি একটা অজানা কারণে কোলকাতার জল বিষাক্ত হয়ে যায়? ওই একটি ফিল্টারের গুণে হারাধনের দশটি ছেলের কোলকাতা শহরের মালিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবণা একশোভাগ।

আমরা যখন আমাদের পছন্দমতো অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাই তখন ওইরকম প্রাকৃতিক নির্বাচনে সাধারণ ব্যাকটেরিয়া মেরে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের টিকে থাকার এবং ছড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেই।

একটা অ্যান্টিবায়োটিকের পরিচিতি আমাদের কাছে কেবল একটি ওষুধ। কিনে খেলেই হয়। কিন্তু বস্তুত অ্যান্টিবায়োটিকে মহাভারতের গল্প থাকে। সব অ্যান্টিবায়োটিক সব ব্যাকটেরিয়াকে মারতে পারেনা, সবের মাত্রা এক নয়, সবের ক্ষমতা এক নয়, সবের কার্যপ্রণালীও ভিন্ন ! অ্যান্টবায়োটিক পরস্পরের বিরোধী হতে পারে, পরস্পরের সহযোগী হতে পারে। অন্য ওষুধ/পদার্থের উপস্থিতিতে কখনো ইতিবাচক কখনো নেতিবাচক আচরণ করতে পারে! একটা অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে দশটা মহাকাব্য লিখে ফেলা যায়। একশোটা জীবন পার করে দেয়া যায় একটা অ্যান্টিবায়োটিকের ঠিকুজি বুঝতে বুঝতে!

আমি বলছিনা সবাইকে অ্যান্টিবায়োটিকের মহাভারত মুখস্থ করে ফেলতে হবে। কিন্তু মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসটি অন্তত কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেই তথ্যটুকু জানার এবং সেটা মেনে চলার মতো বুদ্ধিমত্তা তো আমরা দেখাতেই পারতাম, তাইনা?

একটি ব্যাকটেরিয়ার একটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন থাকলে সেটা সে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারে। তার নিজের বংশধরেরা তো সেই জিন পায়-ই। এমনকি সেই ব্যাকটেরিয়াটি যদি মরে ছাতু হয়ে যায় তবুও প্রকৃতিতে পড়ে থাকা তার প্রতিরোধী জিন তুলে নিয়ে কাজে লাগাতে পারে অন্য ব্যাকটেরিয়া! একটি ব্যাকটেরিয়া কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে সেই তালিকা দেয়া তাই সহজ নয়!

সব মিলিয়ে সেজন্য আমরা নিশ্চিত জানি ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হবেই। কিন্তু আমরা সেই হার কমিয়ে আনতে পারি। তাদের ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে পারি। আর পারি নতুন আরো শক্তিশালী, আরো বিশেষায়িত অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতে! সেই ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কিন্তু এই পৃথিবীতে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণা হয় কতটা? আপনি সেই হিসেব নিজেই করতে পারেন। এই দেশের ১২৫ কোটি মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণা করার মতো উচ্চতর গবেষণাগার একটিও নেই। একটি জাতির বুদ্ধিমত্তা যে কত করুণ কৌতুক হতে পারে সে জানতে আমাদেরকে দেখা যেতে পারে!

প্রসঙ্গত মনে পড়ল, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধবিমান রয়েছে। ধারণা করি, এইসব ক্ষেপণাস্ত্র কিনে বেড়ানো বুদ্ধিমানেরা ওই ক্ষেপণাস্ত্রে ভর করেই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াদের থেকে পালাবার চিন্তা করে নিশ্চিন্ত থাকেন! অথবা তারা নিজেরা যে কীরকম বিপদে রয়েছেন সে বুঝতে যেরকম বুদ্ধিমত্তা দরকার হয় ওনাদের বুদ্ধিমত্তা তার চাইতে খানিকটা বেশি বেশি!

×××

"ডিনায়াল'' পর্যায়ে যারা নেই তারা সম্ভবত এখন কী করা যেতে পারে বলে একটা প্রশ্ন করতে চাইছেন।

এই পৃথিবীর সকলে মিলে চেষ্টা করা যেত। এবং সেরকম হলে মানুষের টিকে যাওয়া খানিকটা নিশ্চিত হতে পারত। কিন্তু সে হয়নি। হবেও না। সেইজন্য কোন আশার বানী শোনাতে পারছি না।

আগে ভাবতাম, অসুখ-বিসুখ তো মানুষের হয়ই। কোন ভয়ঙ্কর কিছু যেন না হয় আমার স্বজনদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই হিসেবটা আজ নাহোক কাল পেতে হবে সেটাও জানতাম। কিন্তু বড্ড তাড়াতাড়ি দুঃসংবাদটা পেয়ে গেলাম বলে মনে হচ্ছে। যেসব ঠুনকো রোগকে পাত্তাই দিতে শিখিনি আমরা, সেইসব সামান্য সংক্রমণ থেকে কী বিপদ হতে পারে ভাবলে ভয়াবহ ক্রোধে মাথা বিস্ফোরিত হতে চায়!

বিশেষত যখন আমি জানি সবকিছুর পরেও কিছু বদলাবে না। পৃথিবীর শিক্ষা আর গবেষনা বাজেট কোন যাদুবলেই আশাপ্রদ হয়ে উঠবে না। পৃথিবীর নীতিনির্ধারকেরা কোন মন্ত্রেই মানুষের প্রতি মমতা দেখাতে শিখবে না!

দুটি উদাহরন :-

১) আমার এক ছাত্র ছিল।জীবনের একটা সময় আমার কাছে প্রায়ই এসে নিঃশব্দে কাঁদতো। কারন জানেন ? সেই সময় ওর মরনাপন্ন বাবার চিকিৎসা চলছিল।তাঁর জ্বর ছাড় ছিলনা। শেষে দেখা গেল তাঁর মেনিনজাইটিস হয়েছে। এবং CSF (পিঠের শিঁড়দাড়ার পাশ থেকে বের করা এক ধরনের ফ্লুইড,যা কিনা ব্রেন স্পাইনাল কর্ডকে ঘিরে রাখে) এর স্টাডি তে দেখা গিয়েছিল ওনার মেনিনজাইটিস্ হয়েছে এবং সেই সময় (২০০৭) বাজারে এভেলেবল সমস্ত অ্যান্টিবায়টিকের বিরুদ্ধে আক্রান্তকারী জীবানু রেসিসটেন্ট।
এখনও ছেলেটির কান্না আমার কানে ভাসে।

২) যতদিন যাচ্ছে,MDR( Multi Drug Resistant) TB রোগ বাড়ছে। কেন,তার কার্য্যকারনএ আমি যাবনা। তবে MDR TB সাঙ্ঘাতিক ভাবে ছড়াচ্ছে।চিকিৎসা তার আছে। কিন্তু অনেকাংশেই রোগী তা নিতে পারছে না। ফলতঃ XDR TB যা কিনা প্রায় সমস্ত ওষুধের বিরুদ্ধে রেসিসট্যান্ট এবং অবধারিত মৃত্যু।

চলুন ,আমরা সবাই বর্তমান প্রজন্মের এপিটাফ লিখি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এক মৃত্যুময় ভবিষ্যত উপহার দিয়ে।

© Dr. Anirban Biswas
M.B.B.S, M.D (Respiratory Medicine)
Consultant Pulmonologist.

Address


E1 1BB

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Health Mirror posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Health Mirror:

  • Want your practice to be the top-listed Clinic?

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram