07/05/2020
আফগানিস্তান হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর
অন্যতম একটি দরিদ্র দেশ(দারিদ্রতার
র্যাঙ্কিং এ তৃতীয় বা চতুর্থ) এবং একটি
অশিক্ষিত দেশ। যে দেশের প্রায়
অধিকাংশ জনগণ পড়তে এবং লিখতে
জানেনা। যে দেশের সাক্ষরতার হার
মাত্র ২৮%। তারপরেও কেন বিশ্বের
প্রত্যেকটি Super Power তাঁদের নিজস্ব
সময়ে (যখন Ruling State of the World) এই
দরিদ্র, অশিক্ষিত দেশটিকে আক্রমন
করেছে। সেই সাথে অবাক করা বিষয় হচ্ছে
প্রত্যেকটি Super Power ই এই
আফগানিস্তানে পরাজিত হয়েছে এবং এর
পরেই তাঁদের সাম্রাজ্য অস্তমিত হয়েছে।
আক্রমণের কারণ হিসেবে এমনটি বলতে
পারবেন না যে দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে
সমৃদ্ধ, তেলের খনি আছে বা স্বর্ণের খনি
আছে আর তাই এই সম্পদ লুঠ করার জন্যেই
প্রত্যেকটি Super Power দেশটিতে আক্রমন
করেছে। যখন ইউরোপ সারা পৃথিবী শাসন
করেছে, সারা পৃথিবীকে তাঁদের
কলোনিতে পরিণত করেছে তখন তারাও এই
আফগানিস্তান অঞ্চলটিকে নিজদের
কলোনিতে পরিণত করার জন্যে প্রানপ্রন
চেষ্টা করেছে কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ
হয়েছে। যখন ব্রিটিশরা পৃথিবীর Super
Power ছিল তখন তারাও এই আফগানিস্তানে
আক্রমণ চালিয়েছে। ব্রিটিশরা প্রথম
আক্রমণ চালায় ১৮৩৯ সালে। যেটা First
Anglo-Afgan War নামে পরিচিত এবং সেটি
স্থায়ী হয়েছিল ১৮৩৯ সাল থেকে ১৮৪২ সাল
পর্যন্ত। দ্বিতীয়বার আক্রমণ চালায় ১৮৭৮
সালে। যেটা Second Anglo-Afgan War নামে
পরিচিত এবং সেটি স্থায়ী হয়েছিল ১৮৭৮
সাল থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত। উল্লেখ্য
হচ্ছে দুটি যুদ্ধেই ব্রিটিশরা শোচনীয়ভাবে
পরাজিত হয় এবং এর মধ্য দিয়েই ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। তারপর Super
Power হয় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন
(বর্তমান রাশিয়া)। তারাও ১৯৭৯ সালে
আফগানিস্থানে আক্রমণ চালায় এবং ১০
বছর যুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন
আফগানিস্থানে পরাজিত হয় এবং এই
পরাজয়ের মধ্য দিয়েই সোভিয়েত
সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। তারপর বিশ্বের
Super Power হয় বর্তমান আমেরিকা এবং
তারাও ২০০১ সালে আফগানিস্থান আক্রমণ
করে। ইনশাল্লাহ তারাও সেখানে পরাজিত
হবে এবং এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই পৃথিবীর
বুকে আমেরিকান সাম্রাজ্যের পতন শুরু
হবে। তারপর Super Power হবে ইসরায়েল
এবং তারাও আফগানিস্থানে সর্বাত্মক যুদ্ধ
পরিচালনা করবে এবং সেখানে পরাজিত
হয়েই বর্তমান পৃথিবীর মানচিত্র থেকে
বর্তমান ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটবে।
(ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামনে
বিস্তারিত আলোচনা করা হবে)। এখন
আপনার কাছে প্রশ্ন হচ্ছে কেন প্রত্যেকটি
Super Power তাঁদের নিজস্ব সময়ে পৃথিবীর
এই দরিদ্রতম অঞ্চলটিকে
(আফগানিস্থানকে) আক্রমণ করেছে এবং
প্রত্যেকেই সেখানে পরাজিত হয়েছে এবং
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই প্রত্যেকের
সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়েছে? বিশেষভাবে
উল্লেখ্য যে যারাই আফগানিস্তান
অঞ্চলটিকে আক্রমণ করেছে তারা
প্রত্যেকেই ছিল আধুনিক অস্ত্রে-সস্ত্রে ও
গোলাবারুদে সজ্জিত। অপরদিকে
আফগানদের অস্ত্র-সস্ত্র ও জনবল বলতে
উল্লেখ করার মত তেমন কিছুই ছিলনা।
আক্রমণকারীদের তুলনায় একেবারে নগন্য।
তারপরেও আফগানরা প্রত্যেকবার বিজয়ী,
এটাই সত্য, এটাই ইতিহাস!!!
:
খ) আমেরিকা আফগানিস্থান আক্রমণ
করেছে ২০০১ সালে । পরবর্তীতে
আমেরিকার সাথে যোগ দিয়েছে NATO।
NATO হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের
অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী এবং
সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর
একটি সামরিক সংঘটন। যারা আধুনিক
পারমাণবিক অস্ত্র-সস্ত্র, গোলাবারুদ,
ট্যাঙ্ক, ড্রোন ও পর্যাপ্ত জনবলে সজ্জিত।
অপরদিকে আমেরিকা ও NATO যাদের উপর
আক্রমণ করেছে তারা হচ্ছে অত্যন্ত দরিদ্র
ও অশিক্ষিত একটি জনগোষ্ঠী।
আফগানিস্থানে আমেরিকা ও NATO এর
সৈন্য সংখ্যা হচ্ছে ১৫০০০০ বা তাঁর কিছু
বেশী বা কম। অপরদিকে আফগান
মুজাহিদিনদের (তালিবানের) সৈন্য
সংখ্যা হচ্ছে ২০০০০-২৫০০০ যাদের হাতে
অস্ত্র-সস্ত্র বলতে উল্লেখ করার তেমন
কিছুই নেই। একবার চিন্তা করে দেখুন
আধুনিক পারমাণবিক অস্ত্রে-সস্ত্রে,
ট্যাঙ্ক, গোলাবারুদে, এবং ড্রোনে সজ্জিত
১৫০০০০ সৈন্যের ২০০০০/২৫০০০ সৈন্যকে
পরাজিত করতে ১১ বছর লাগে!!!জয় দূরের
কথা বরং আধুনিক অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত
সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই আস্তে আস্তে পিছু
হটছে। কয়েকদিন আগে একটা সংবাদে
দেখলাম NATO নাকি গোপনে ৩০০০০ হাজার
সৈন্য দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন প্রশ্ন
হচ্ছে কেন আধুনিক অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত
এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী ১৫০০০০
সৈন্য ২৫০০০ সৈন্যের সাথে পারতেছেনা?
আমেরিকা ও NATO চাইলে তো একদিনেই
তালিবানদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে
দিতে পারে। তাহলে কেন তা করছেনা বা
করতে পারছেনা?
:
গ) একবার চিন্তা করে দেখুনতো
তালিবানদের কি এমন প্রয়োজন যে
নিশ্চিত ও সুন্দর পারিবারিক জীবনের
মায়া ছেড়ে বছরের পর বছর বনজঙ্গলে ঘুরে
ঘুরে প্রতিনিয়ত মৃত্যুটাকে সাথে নিয়ে যুদ্ধ
করার। এরা কি পারে না আমেরিকা ও
NATO এর সাথে আপোষ করতে। আমেরিকা ও
NATO তো আপোষ করার প্রস্তাব
তালিবানদেরকে বার বার দিচ্ছে। কেন
তালিবানরা মরতে রাজি আছে কিন্তু এইসব
কুফফারদের সাথে আপোষ করতে রাজি না?
:
-ইনশাল্লাহ উপরের তিনটি প্রশ্নের উত্তর
পাওয়া যাবে আল্লাহ্ রাসুল(সাঃ) এর একটি
ভবিষ্যৎবানীর আলোচনার মাধ্যমে।
:
৩) কি সেই আল্লাহ্ রাসুলের ভবিষ্যৎবাণী?
:
হাদিস নং-১।
:
আবদুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে বর্ণিত।
রাসুল(সাঃ) বলেন,“পূর্বদিক(খোরাসান)
থেকে কিছু লোক বের হয়ে আসবে যারা
ইমাম মাহদির খিলাফত প্রতিষ্ঠায়
সাহায্য করবে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ
করে দিবে।”- সুনান ইবনে মাজাহ, খণ্ড ৩,
হাদিস নং-৪০৮৮
হাদিস নং-২। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, রাসুল(সাঃ) বলেছেন,
“খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী
একদল লোক বের হয়ে আসবে। পৃথিবীর কোন
শক্তিই তাঁদেরকে থামাতে পারবেনা এবং
সবশেষে তারা জেরুজালেম পৌছবে এবং
সেখানে তারা তাঁদের বিজয়ের পতাকা
উড়াবে।”-জামে আত তিরমিজি।
:
হাদিস নং-৩।
:
থাওবান(রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুল(সাঃ)
বলেন, “যদি দেখ খোরাসান থেকে কালো
পতাকাবাহী দল বের হয়ে আসছে তবে
অবশ্যই তাদের সাথে যোগদান করবে।
এমনকি এর জন্যে যদি বরফের উপর হামাগুড়ি
দিতে হয় তাও……………।”- মুসনাদে আহমাদ,
ইবনে মাজাহ, আল হাকিম।
তাহলে এখন স্বাভাবিকবভাবেই প্রশ্ন
জাগে যে কোথায় সেই ঐতিহাসিক
খোরাসান? পাকিস্তানের বিখ্যাত
ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ ইসরার আহমদের
মতে, রাসুল(সাঃ)এর সময়ে বর্তমান নর্থ-
ওয়েস্ট পাকিস্তান, নর্থ-ইষ্ট ইরান, সমগ্র
আফগানিস্তান এবং উজবেকিস্তাবের কিছু
অংশ নিয়েই খোরাসান । তবে
আফগানিস্তান হচ্ছে খোরাসানের
কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ Afganistan is the heart of
Khorasan.নিচের চিত্রটির মাধ্যমে
খোরাসানের অবস্থান দেখানো হলঃ-
এই অঞ্চলটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে
এই অঞ্চলটিকে কেউ কখনো শাসন করতে
পারেনি। ইউরোপিয়ানরা কখনো এই
অঞ্চলটিকে তাঁদের কলোনিতে পরিণত
করতে পারেনি, ব্রিটিশরা এই অঞ্চলটিকে
শাসন করতে চেয়েছে কিন্তু তারাও
পারেনি, সোভিয়েত ইউনিয়ন শাসন করতে
চেয়েছে তারাও পারেনি, বর্তমানে
আমেরিকা চাচ্ছে কিন্তু তারাও
পারছেনা। ভবিষ্যতে ইসরাইল শাসন করতে
চাইবে কিন্তু ইনশাল্লাহ তারাও
পারবেনা। যা আগেই বলা হয়েছে।
আফগানিস্তানে পরাজিত হওয়ার পর
তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর কমান্ডার
বলেছিলেন,
“কেউ কোনদিন আফগানিস্তান জয় করতে
পারেনি এবং কোনদিন পারবেও না।
কপি→ উস্তাদ আহমাদ শাকের