DR SUDIP KUNDU

DR SUDIP KUNDU A HAND THAT HEALS, A CARE THAT CURES...

ইদানিং ১০ বছরের কম মেয়ে শিশুদের আর্লি পিরিয়ড শুরু হয়ে যাচ্ছে। আই মিন আর্লি পিউবার্টিতে পৌঁছে যাচ্ছে। বিষয় টা এলার্মিং। আ...
15/03/2026

ইদানিং ১০ বছরের কম মেয়ে শিশুদের আর্লি পিরিয়ড শুরু হয়ে যাচ্ছে। আই মিন আর্লি পিউবার্টিতে পৌঁছে যাচ্ছে। বিষয় টা এলার্মিং।

আমাদের সময়ে যেটা ক্লাস ফাইভ-সিক্স-সেভেন পর্যন্ত দেখা যেতো সেটা এখন আগেই অনেক মেয়ে শিশুদের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। আপনার আশেপাশে একটু খোঁজ নিলেই বুঝতে পারবেন।

এর কারন কি আসলেই?

এইসব মেয়ে শিশুদের ফুড হ্যাবিট অ্যানালাইসিস করলে দেখা যাবে এরা ডিম, মাছ এগুলা কিছুই খেতে ইন্ট্রেস্ট দেখায় না বরং ব্রয়লার বা ফার্মের চিকেন বেশি পছন্দ করে। ভেজিটেবলস খায় না। ফুড পান্ডা অ্যাভেইলেবেল থাকায় চিকেন ফ্রাই ও তাদের পছন্দের লিস্টে একেবারে প্রথম দিকে। সারাদিন ক্ষুধা লাগলে খায় চিকেন আর বাইরের খাবার। ফাস্ট ফুড, বার্গার, নাগেটস, সসেজ এর প্রতি আসক্তি তো আছেই।

যেকোন সময়ের চাইতে এই বাচ্চাগুলো পড়াশুনা নিয়ে মারাত্মক স্ট্রেস নেয়। বাইরে খেলার সুযোগ পায়না, রোদে যাওয়ার সুযোগ পায়না। আর নানা ধরনের ক্যামিকেল এক্সপোজার তো আছেই চারপাশে। যেটা কমানোর ও কার্যকর কোন উপায় নাই।

কমার্শিয়াল মিট গুলাকে দ্রুত নাদুস নুদুস ও বড় করে তোলার জন্য বাইরে থেকে বিভিন্ন হরমোন, এন্টিবায়োটিক পুশ করা হয়। এস্ট্রোজেন মিমিক করে এমন উপাদান ছড়িয়ে আছে চারপাশে। আবার অতিরিক্ত ফাস্টফুড, পল্ট্রি মুরগী, ফ্রাইড চিকেন ইনটেকের কারনে ওমেগা ৩ ও ওমেগা-৬ টক্সিসিটিতে ভুগে এই বাচ্চাগুলা। এদের মধ্যে অনেকেই বয়সের চাইতে বেশি ওজনে ভুগে। আর্লি ব্রেস্ট ডেভোলেপমেন্ট দেখা যায় অনেকের মধ্যে। গেম ও মোবাইলের স্ক্রিন এক্সপোজার ও যেকোন সময়ের চাইতে বেশি।

তো মূলত প্রোটিনের জন্য শুধু ব্র‍য়লার চিকেনের উপর নির্ভরশীলতা, ওবেসিটি, ওমেগা-৩ & ওমেগা-৬ টক্সিসিটি, লেপটিন রেজিস্ট্যান্স, স্ট্রেস ইত্যাদি বেশ কিছু কারনে বাচ্চারা তার বয়সের আগেই পিউবার্টিতে পৌঁছে যায়।

এজন্য তাদের টোটাল লাইফস্টাইল ও ফুড হ্যাবিটের একটা রিসেট প্রয়োজন। কমার্শিয়াল চিকেনের উপর ডিপেন্ডেন্সি কমিয়ে ফ্রুটস, ভেজিটেবলস, দেশি মুরগী, মাছ, বাদাম,ডিম, প্রয়োজন অনুযায়ী হাই ডোজে ভিটামিন ডি নেওয়া জরুরি।

তাই বাড়িতে ছোটো বাচ্চা থাকলে আজই তার ফুড হ্যাবিট নিয়ে সতর্ক হোন কারণ আপনার বাচ্চার সুরক্ষার দায়িত্ব একমাত্র আপনার হাতে।🥹😱

লেখা ফেসবুক সংগৃহীত

দুধ দাঁত পড়ে গেলে নিচে নতুন দাঁত তখন তৈরি হয় না—বরং সেটা অনেক আগেই তৈরি হয়ে থাকে!মানব শরীর আসলে একটি বিস্ময়কর বৈজ্ঞা...
15/03/2026

দুধ দাঁত পড়ে গেলে নিচে নতুন দাঁত তখন তৈরি হয় না—বরং সেটা অনেক আগেই তৈরি হয়ে থাকে!

মানব শরীর আসলে একটি বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক সিস্টেমে চলে। আমাদের শরীরের প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া।

শিশুরা সাধারণত ৬ মাস থেকে ২.৫ বছরের মধ্যে মোট ২০টি দুধ দাঁত (Milk Teeth / Primary Teeth) পেয়ে থাকে। এই দাঁতগুলোই শিশুর জীবনের প্রথম দাঁত।

কিন্তু অনেকেই জানেন না—এই দুধ দাঁতের ঠিক নিচেই আগে থেকেই তৈরি হতে থাকে স্থায়ী দাঁতের বীজ, যাকে বলা হয় Permanent Tooth Germ।

যখন শিশুর বয়স প্রায় ৫–৭ বছর হয়, তখন নিচে থাকা স্থায়ী দাঁত (Permanent Teeth) ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে এবং উপরের দিকে উঠতে থাকে।

এই সময় শরীরে একটি বিশেষ ধরনের কোষ সক্রিয় হয়, যার নাম Odontoclast cells। এই কোষগুলো ধীরে ধীরে দুধ দাঁতের শিকড় (Root of the Primary Tooth) ক্ষয় করতে শুরু করে।

এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় Root Resorption।

এর ফলে দুধ দাঁতের শিকড় ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে এবং একসময় প্রায় শেষ হয়ে যায়। তখন দাঁতটি আর মাড়ির সাথে শক্তভাবে ধরে থাকতে পারে না। তাই দুধ দাঁত নড়তে শুরু করে এবং একসময় নিজে থেকেই পড়ে যায়।

এরপর নিচে থাকা স্থায়ী দাঁত ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় Tooth Eruption।

সাধারণত ৬–১২ বছরের মধ্যে শিশুদের বেশিরভাগ দুধ দাঁত পড়ে যায় এবং তার জায়গায় স্থায়ী দাঁত উঠে আসে।

তাই দুধ দাঁতকে অনেকেই অস্থায়ী মনে করলেও, এগুলো শিশুর খাওয়া, কথা বলা, মুখের গঠন এবং ভবিষ্যতের স্থায়ী দাঁতের সঠিক অবস্থান ঠিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মানব শরীর সত্যিই একটি নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়।

তথ্যটি অন্যদের জানাতে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন।
Collection

কানে কিছু ঢুকে গেলে কি করবেন?ডাঃ সজল সুরদু'ধরণের জিনিস বাইরে থেকে কানে ঢুকতে পারে।(১) সজীব অর্থাৎ পোকামাকড় বা কেন্নো ইত্...
14/03/2026

কানে কিছু ঢুকে গেলে কি করবেন?
ডাঃ সজল সুর

দু'ধরণের জিনিস বাইরে থেকে কানে ঢুকতে পারে।
(১) সজীব অর্থাৎ পোকামাকড় বা কেন্নো ইত্যাদি।
(২) নির্জীব অর্থাৎ পুঁতি বা গোলাকার ছোট বস্তু, ধান বা ঐ জাতীয় দানা, ভাঙা পেন্সিল শিস বা রাবার টুকরো এইসব ।

এগুলি সাধারণত অসাবধানতা বশত কানে ঢোকে বা কানের চুলকানির মতো অস্বস্তি এড়ানোর চেষ্টায় বেখেয়ালে কানের সুড়ঙ্গে ঢুকিয়ে ফেলা হয়।

কী করা উচিত নয়?

(১) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কানের সুড়ঙ্গ প্রায় এক ইঞ্চি লম্বা। ছোটদের ক্ষেত্রে সামান্য কম। সুড়ঙ্গের ব্যাস ক্ষেত্র বিশেষে কম বেশি এবং এই সুড়ঙ্গ সর্বদা সোজা নয়। ফলে উপযুক্ত আলো, যন্ত্রপাতি বা অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো কিছু তার ভিতর থেকে টেনে বের করতে গেলে সেটা ঠ্যালা খেয়ে আরও ভিতরে ঢুকে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। এই ঘটনা সব থেকে বেশি হয় গোলাকার বস্তুর বেলায় । সুতরাং, কোনোমতেই সন্না বা চিমটে বা অন্যকিছু দিয়ে খোঁচাখুঁচি করা উচিত নয়।

(২) ধান বা দানা শস্য জাতীয় জিনিস জল পেলে ফুলে ওঠে। তাই জল কানে ঢেলে ওসব বের করতে গেলে তা ফুলে আকারে বড় হয়ে আরও সমস্যা করবে।

(৩) কানের সুড়ঙ্গের চামড়া ভীষণ 'সেনসিটিভ' ও শরীরের অন্য যেকোনো চামড়ার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাছাড়া, পেনের ঢাকনার শেষে যেমন সুড়ঙ্গ থেমে যায় তেমনি কানের ক্ষেত্রেও সুড়ঙ্গের শেষে কানের পর্দা থাকে। পর্দা ফুটো করে তবেই ওপাশে যাওয়া যায় এবং ওপাশে গেলে সেখানে কানে শোনার হাড় বা আরও গুরুত্বপূর্ণ দেহাংশের সাক্ষাৎ মেলে। কানে গরম তেল, রসুন ইত্যাদি ঢেলে এসব শোনার 'সিস্টেমের' সর্বনাশ করা অনুচিত।

(৪) সুড়ঙ্গে খুঁচিয়ে কিছু বের করতে গিয়ে চামড়া বা পর্দার ক্ষতি বা রক্তারক্তি হবার সম্ভাবনা থাকায় এসব কাজ করতে বারণ করা হয়। এসব করে চামড়া ফুলে উঠলে বাইরে থেকে দেখে ভিতরে আর কিছু খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

কী করা উচিত?

(১) একটুও আতঙ্কিত হবার কারণ নেই। কানের ভিতরের জিনিস আর যাই হোক মাথার (মস্তিস্ক ) ভিতরে ঢুকবে না কিছুতেই।

(২) কাছাকাছি যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে নাক কান গলার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো কারণে তাঁকে পেতে একটু দেরি হলেও গরিষ্ঠ সংখ্যক ক্ষেত্রে রোগীর তীব্র কষ্ট না থাকলে চিন্তিত হবার কারণ নেই।

(৩) কানে খুব অস্বস্তি বা ব্যথা হলে ( পোকামাকড় বা শস্যদানা ) ওষুধের দোকানে "ওভার দি কাউন্টার " এন্টিবায়োটিক-স্টেরয়েড কানের ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসাথে সেখান থেকেই গ্লিসারিন নিয়ে কয়েক ফোঁটা কানে দেওয়া যেতে পারে। কষ্ট কমলেও কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

(৪) অত্যন্ত কম সংখ্যক ক্ষেত্রে এবং সাধারণ ভাবে ছোট বাচ্চাদের বেলায় চিকিৎসক যদি হাসপাতালে ভর্তি করে ঘুম পাড়িয়ে বা অজ্ঞান করে মাইক্রোস্কোপ বা এন্ডোস্কোপে দেখে কানের "ফরেন বডি" বের করতে চান তাহলে তাঁর উপরে আস্থা রাখতে হবে। এটাই সঠিক পদ্ধতি।

(৫) বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কানের চুলকানি অসুখে এটা সেটা কানের ভিতরে পুরে খোঁচানোর প্রবণতা খুব বেশি দেখা যায়। এমন হলে ঐ অসুখের চিকিৎসা করতে হবে নইলে বাচ্চা আবার কানে কিছু ঢুকিয়ে ফেলার একই কান্ড করতে পারে।

( নাক কান গলার চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের সতর্কতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই লেখা। মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আপনার কাছের চিকিৎসকের উপরে আস্থা রাখুন। ছবি : ডাঃ ভার্গভ এর টেক্স বই থেকে। )

সজল সুর এর সংগ্রহ

♥♥আজ বিশ্ব নারী দিবসে সকল নারীদের সুস্থতা কামনা করে লেখাটি উৎসর্গ করলাম♥♥🔴আর নয় টেনশন, ঘরে বসেই হবে মেয়েলী রোগের প্রাকৃ...
08/03/2026

♥♥আজ বিশ্ব নারী দিবসে সকল নারীদের সুস্থতা কামনা করে লেখাটি উৎসর্গ করলাম♥♥

🔴আর নয় টেনশন, ঘরে বসেই হবে মেয়েলী রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসায় সব সমাধান!

♦মেয়েদের মেয়েলী সমস্যা অনেক ধরনের হয়। এর মধ্যে অনিয়মিত ঋতু , বয়ঃসন্ধি, মেনোপজ, গর্ভধারন জটিলতা,জরায়ু ও স্তন ক্যান্সার অন্যতম। এ সব সমস্যার পিছনে যে কারনটি দায়ী সেটি হচ্ছে হরমোন এর গোলমাল।

🔴যে হরমোনের উলটা পালটা আচরনে এত এত সমস্যার সৃষ্টি হয় সে হরমোন নিয়ে প্রথমে একটু আলোচনা করব।

হরমোন ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ গতি স্থাপন। দেহের ভাব আবেগ, প্রশান্তি, আনন্দ উল্ল্যাস, ঘুমানো, জাগ্রত হওয়া,গর্ভধারন, সন্তান জন্মদান এককথায় দেহের সমস্ত গতিশীলতার পেছনে আছে এ হরমোন।

➡️হরমোন একটি রস যা দেহে অবস্থিত কিছু গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি থেকে তৈরি হয়। এ গ্রন্থিগুলো বিশেষায়িত কোষ দ্বারা তৈরি। এক একটি গ্রন্থি একটি নির্দিষ্ট হরমোন তৈরি করে যা দেহের একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে। ঐ নির্দিষ্ট হরমোনের অতিকার্যকারীতা বা কম কার্যকারীতা বা নিষ্ক্রিয়তা যেটিই হোকনা কেন তা দেহের নানা কাজের ব্যাঘাত করে গতিশীলতা নষ্ট করে।

🔴দেহের হরমোন উৎপাদনকারী মুল গ্ল্যাডটি মস্তিষ্কে অবস্থিত। এটির নাম পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। এ গ্ল্যান্ডটিকে বলা হয় মাদার গ্ল্যান্ড। এটি প্রায় ৭ টি হরমোন উৎপাদন করে। আর হরমোনগুলো দেহের অন্যান্য গ্ল্যান্ডের হরমোন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের অসুস্থতায় পুরো দেহের হরমোন ভারসাম্যাতা নষ্ট হয়ে জটিল জটিল রোগ লক্ষন তৈরি করতে পারে।

এ গ্রন্থিগুলো যে সমস্ত রস তৈরি করে সেগুলোর কাঁচা মালের জোগান আসে খাদ্য ও পুষ্টি থেকে। একধরনের হরমোনের প্রধান কাঁচামাল ফ্যাটি এসিড যার উৎস চর্বি জাতীয় খাবার। অন্যটির কাঁচামাল এমাইনোএসিড যার উৎস প্রোটিন। তা হলে বুঝা যাচ্ছে যথাযত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা না থাকলে দেহে হরমোন উৎপাদন ব্যহত হয়।

🔴এ আলোচনার মুল কেন্দ্র থাকবে কোন কোন হরমোনের সমস্যার কারনে মেয়েদের মেয়েলী সমস্যাগুলো হয়। এবং লেখাটা মনযোগ দিয়ে পড়লে এ সব সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

আলোচনার শুরুতে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি কালের কিছু শারীরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলব। এ সমস্যাগুলোর পেছনে যে হরমোনটা দায়ী সে হরমোনটির নাম এসট্রোজেন। এ হরমোনটি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত একজন মেয়ে মানুষের সকল বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রক। এ হরমোনটি প্রথম সক্রিয় হয় ৮ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এ হরমোন এর প্রভাবে একজন শিশু মেয়ে, নারীতে রূপান্তরিত হয়। মেয়েলী আচরন ও শারীরিক গঠন আর্কষনীয় রূপ নেয় এ হরমোনের প্রভাবে।

এ হরমোন এর প্রভাবে জীবনের প্রথম ঋতু (মিনস) এ সময়কাল (৮ বৎসর থেকে ১৫ বৎসর) থেকে শুরু হয়। চলে ৪৫ থেকে ৫৫ বৎসর পর্যন্ত। একজন মেয়ের জীবনের প্রতিমাসেই এ ঋতু সংঘটিত হয়। ঋতুস্রাবের স্থায়ীকাল ৩ দিন থেকে ৭ দিন হতে পারে। একজন মেয়ের জীবনে এটি একবারেই প্রাকৃতিক ঘটনা। হরমোনটির অতিসক্রিয়তা, কমসক্রিয়তা ও নিস্ক্রিতার কারনে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এ হরমোনটির উৎপত্তি ডিম্বাশয় (ওভারি) থেকে। এছাড়া ডিম্বাশয় থেকে আরও একটি হরমোন তৈরি হয় সেটির নাম প্রজেসটেরন।
গর্ভধারন ও জরায়ু গঠনের জন্য এ হরমোনটি সক্রিয় হয়।

➡️এ হরমোন দুটির প্রভাবে প্রতিমাসে একবার কিভাবে ঋতুস্রাব সংঘটিত হয় সেটি নিয়ে কথা বলব।

প্রথম ঋতুস্রাব থেকে পরবর্তী ঋতুস্রাব পর্যন্ত সময়কালকে মাসিক বা মেনুসট্রেশন বা পিরিয়ড বলে।

মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ড ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) তৈরি করে। এ হরমোনটি ডিম্বাশয়ের ফলিকলকে ( ডিম্ব ধারনকারী পাত্র) উত্তজিত করে। এ হরমোনের প্রভাবে প্রতিমাসে একটি ডিম্বানু পরিপক্ক হয় শুক্রানুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য। ওভারীতে প্রায় ৪ লাখ ডিম্বানু জন্ম নেয়। মাসিক শুরু হওয়ার ১৪ দিনের মাথায় একটি ডিম্বানু পরিপক্ক হয়। ডিম্বানুটি পরিপক্ক হওয়ার পর মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যন্ড অন্য একটি হরমোন লিউন্যাইটাইজিং (LH) তৈরি করে। এটি ফলিকলের পরিপক্ক ডিম্বানুটিকে মুক্ত করতে সাহায্য করে। এ হরমোনের প্রভাবে পরিপক্ক ডিম্বানুটি ডিম্বনালীতে (ফলোপিয়ান টিউব) প্রবেশ করে। যে ফলিকল থেকে ডিম্বানুটি মুক্ত হয়েছে সে ফলিকলটি ধীরে ধীরে করপাস লিউটেনাম (নতুন ধরনে কোষে রূপান্তর) পরিবর্তিত হয়। এ করপাস লিউটেনাম একটি হরমোন তৈরি করে যেটিকে প্রজেসটেরন বলে। মাসিকের ৪র্থ সপ্তাহ পর্যন্ত এটির নিঃসরন হয়। এ সময়ের মধ্যে ডিম্বানুটি শুক্রানুর সাথে মিলিত হয়। নিষিক্ত (ফার্টিলাইজড) ডিম্বানুটি জরায়ুতে প্রতিস্থাপন হয়। ডিম্বানুটি প্রতিস্থাপন এর আগে জরায়ুর পুর্নগঠনের কাজ সম্পন্ন হয়। এ সবগুলো কাজ সম্পন্ন হয় প্রজেসটেরন হরমোনের প্রভাবে। এ সময়ের মধ্যে ডিম্বনালীতে অপেক্ষমান ডিম্বানুটি কোন শুক্রানুর সাথে মিলিত না হলে জরায়ুর ভাঙ্গন শুরু হয়। জরায়ুর জলীয় রক্ত ও মৃত কোষ সহ জরায়ু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এটিকেই রক্তস্রাব বলে। এটি ৩ দিন থেকে ৭ চলতে পারে। এ সময় প্রজেসটেরন ও এসট্রোজেন নিঃসরন কমে যায়। মস্তিষ্কের ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন কার্যকর হয়। পরবর্তী মাসের ঋতুচক্র (মেনসট্রুয়াল সাইকেল) শুরু হয়। এ ভাবে ৪৫ বৎসর থেকে ৫০ বৎসর বয়স পর্যন্ত চলে। ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত ডিম্বানু ডিম্বনালীতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা বেঁচে থাকে। শুক্রানু বেঁচে থাকে ৪/৫ দিন। এ সময়ের মধ্যে নিষিক্ত না হলে ঐ মাসে গর্ভধারন না হয়ে গর্ভধারনের জন্য প্রস্তুত জরায়ুটি ভেঙ্গে যায়। এটিই ঋতুস্রাব।

➡️মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যাড থেকে নিঃসৃত ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন ও লিউটেইনাইজিং হরমোন এবং ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত এসট্রোজেন ও প্রজেসটেরন হরমোনের অতিসক্রিয়তা, কমসক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার কারনেই ঋতু জটিলতা,গর্ভধারন সমস্যা, স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার হয়।

🔴মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ( মস্তিষ্কের একটি প্রধান গ্ল্যান্ড) অক্সিটোসিন নামে হরমোন তৈরি করে যা মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যাডের মাধ্যমে রক্তে আসে।

এটি সন্তান প্রসবে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সন্তান প্রসব সময় হলে এটি সক্রিয় হয় এবং জরায়ুর সংকোচন প্রসারন বাড়িয়ে সন্তানকে জড়ায়ুর বাইরে নিয়ে আসে।

দুগ্ধ তৈরি ও নিঃসরন এ হরমোন এর প্রভাবেই হয়। এটিকে ভালবাসার হরমোনও বলে। একে অপরকে জরিয়ে ধরে আনন্দ উপভোগ এ হরমোনের প্রভাবেই হয়।

➡️আধুনিক ড্রাগ চিকিৎসায় এ বিষয়টিকে এন্ডোক্রাইনোলজি বলে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের এন্ডোক্রাইনোলজিষ্ট বল। হরমোনজনিত শারীরিক সমস্যাগুলোর আধুনিক ড্রাগ ট্রিটমেন্ট নিয়ে কিভাবে হয় সে বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। আলোচনা করব এ কারনে যে, এর বিপরীতে প্রাকৃতিক চিকিৎসা কি হতে পারে সেটি বুঝার জন্য।

মেয়েদের প্রধান হরমোনগুলো কি কি এবং এর কাজ কি উপরের আলোচনায় তা বুঝিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে সেগুলোর নাম আবারও উল্লেখ করছি;
♥এসট্রোজেন
♥প্রজেসটেরন
♥অক্সিটোসিন
♥ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH)
♥লিউনেইটাইজিং হরমোন(LH)।

এ হরমোনগুলোর অধিকাংশই ল্যাবে কৃত্রিম ভাবে তৈরি কর হয়েছে। আবার দেহের হরমোন তৈরির রসায়নকে ব্যহত করার জন্যও ড্রাগ আছে। অভিজ্ঞ ডাক্তার হরমোন এর ঘাটতি হলে হরমোন মুখে বা ইনজেকশান এর মাধ্যমে দেহে ঢুকিয়ে দেন। আবার বেশী হলে হরমোনের কাজকে বাঁধাগ্রস্ত করার ড্রাগ প্রয়োগ করেন। আমার মনে হয় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কিছু নাই। হরমোন বেড়ে গেলে দেহে কি কি সমস্যা হয় আবার কমে গেলে বা বন্ধ হলে কি সমস্যা হয় এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞাতায় বইতে লিপিপদ্ধ আছে। সুতরাং চিকিৎসার সহজ ব্যাকরন হরমোন কম থাকলে বাইর থেকে দিতে হবে,বেশী হলে এর কাজ আটকিয়ে দিতে হবে বা তৈরি ব্যহত করার ড্রাগ প্রয়োগ করতে হবে।

🔴জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারন এ কৃত্রিম হরমোন চিকিৎসা। জন্ম নিয়ন্ত্রন (কন্ট্রাসেপটিভ) বড়ির উপাদান সিনথেটিক এসট্রোজেন ও প্রজেসটেরন।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল কিভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করে তা এখন একটু জানব। এ পিল ব্যবহার করে মনের অজান্তই জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বয়ে বেড়াচ্ছে এর ব্যবহারকারী মেয়েরা।

এসট্রোজেন ও প্রজেসটেরন এক যোগে নিষিক্ত ডিম্বানু ধারনের জন্য জরায়ু গঠনে কাজ করে। মাসিকের শেষ সপ্তাহে এটির নিঃসরন কমে যায়। এর ফলে নিজে নিজেই জরায়ু ভেঙ্গে যায়।

♦কন্ট্রাসেপটিভ পিল খাওয়ার কারনে হরমোন দুটির আধিপত্য থেকে যায়,এর ফলে জরায়ু আরও মোটা হয়। জরায়ুর পুরত্ব বারার কারনে শুক্রানু ডিম্বানুর কাছে পৌঁছতে পারেনা। এর আগে উল্লেখ করেছি ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত ডিম্বানুটি ২৪ ঘন্টার মধ্য শুক্রানুর সাথে মিলিত না হলে গর্ভধারন হয় না। এসট্রোজেন এর আধিপত্যের কারনে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন উত্তজিত হয় না। এর ফলে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্ব অবমুক্ত হয়না।

এসট্রোজেন এর প্রভাবে স্তন উন্নত হয়,দেহ গঠন আকর্ষনীয় হয়। অতিরিক্ত এসট্রোজেন এর প্রভাবে স্তনের অতি বৃদ্ধির কারনে স্তনের কোষে পরিবর্তন আসে। সেখান থেকে টিউমার হতে পারে। এ টিউমার ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

অতিরিক্ত প্রজেসটেরন এর কারনে জরায়ুর গঠনে পরিবর্তন আসে। সেখান থেকে সিস্ট,টিউমার ও ক্যান্সার হতে পারে।

🔴অক্সিটোসিন হরমোনটি স্বাভাবিক প্রসব বেদনা তৈরি করে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে প্রভাব বিস্তার করে। সিনথেটিক অক্সিটোসিন ইনজেকশান পুশ করে এখন জোর করে ডেলিভারি করানো হয়। এটি শিশুর দুগ্ধপানে(ব্রেস্টফিডিং) সাহায্য করে। দেহ মনে ভালবাসা তৈরি করে। কৃত্রিম হরমোন ব্যবহারের কারনে এ সব কিছুতেই কৃত্রিমতা তৈরি হয়। এ হরমোনটি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে তৈরি হয়। সিনথেটিক অক্সিটোসিন ব্যবহারের কারনে দেহে এটি তৈরি হয়না। ফলে ভালবাসা,আবেগ অনভুতি ও সেক্সের ঘাটতি দেখা দেয়। সংসারগুলোতে আগের মতো জোরলো বন্ধন নাই। এর পেছনে এ হরমোনটির অভাব পরিলক্ষিত হয়।

আবার হাইপোথ্যালামাস অতিরিক্ত অক্সিটোসিন তৈরি করলে এর প্রভাবে অতিরিক্ত আবেগ অনুভুতি ভালবাসা পরিলক্ষিত হয়। জরায়ুর সংকোচন প্রসারন বেড়ে যায়। যার ফলে মাসিকের সময় ব্যথা ও অতিরিক্ত স্রাব হতে পারে।

মেনোপজ বা ঋতুবন্ধ ৪৫ বৎসর বয়স থেকে ৫৫ বৎসর বয়সে যে কোন সময়ে শুরু হতে পার। এ সময়ে এসট্রোজেন ও প্রজেসটেরন হরমোন দুটির নিঃসরন একেবারই কম থাকে। যার ফলে জরায়ু গঠন ও ডিম্বানু পরিপক্ক হয়না। এসট্রোজেন কমে যাওয়ার কারনে শারীরিক নানা সমস্যার উদ্ভব হয়।

মেনোপজ মেয়েদের খুব পরিচিত একটি সমস্যার নাম হট ফ্ল্যাশ। হঠাৎ করে ঘাড় মুখ বুক গরম হয়ে ঘাম ঝরতে থাকে। বুক ধপ ধপ করে। এটি ২ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটও চলতে পারে। এসট্রোজেন কম থাকার কারনে এ রকমটি হয়। এ ছাড়া স্তন ঝুলে যাওয়া,স্কিনের ব্রাইটনেস কমে যাওয়া, যৌনতা কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ এ সব অনেক সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়।

এ সব সমস্যা সমাধানের জন্য অনেকই আধুনিক চিকিৎসার দ্বারস্থ হন। আধুনিক চিকিৎসায় সারা বিশ্বে জনপ্রিয় পদ্ধতি এইচআরটি(HRT) হরমোন রিপ্লেইসমেন্ট থেরাপী। নাম দেখেই বুঝার কথা এটি অন্য কিছু নয় দেহে সিনথেটিক হরমোন ঢুকিয়ে দেয়া হয়। যার সুদূর প্রসারী পরিনতি হচ্ছে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার। এ থেরাপির কারনে হৃদ রোগেরও সূচনা হয়।

🔴সিনথেটিক হরমোন ড্রাগ ব্যবস্থাপনায় রোগী সাময়িক ভালবোধ করলেও দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগের সূচনা করে।

➡️এখন আলোচনা করব প্রাকৃতিক চিকিৎসায় কিভাবে এন্ডোক্রাইন (অন্তক্ষরা গ্রন্থি) কে সুস্থ রাখা যায়:
যেহেতু আনন্দ,উচ্ছাস,হাসি কান্না, প্রেম,ভালবাসা ভাললাগা ঘৃনা, মাসিক, গর্ভধারন, প্রসব এর সব কিছুর পেছনে রয়েছে হরমোন এর প্রভাব তাই এর ব্যবহারিক দিকগুলো বাস্তব ও পরিবেশ উপযোগী গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি সারাক্ষণ রেগে থাকেন তাহলে হরমোন ঠিক সেভাবেই দেহের ভিতর স্থায়ী পরিবর্তন নিয়ে আসে। বাহ্যিক ব্যবহারিক আচরন নিয়ন্ত্রণ করে ভিতরের হরমোন কে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আসলেই এটিই মেডিটেশন।

♦ গ্ল্যান্ডগুলো প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা বিশেষায়িত কোষ দ্বারা তৈরি। ঐ বিশেষায়িত কোষগুলোই এ হরমোন তৈরি করে। সুতরাং কোষকে সুস্থ রাখতে হবে। কোষ সুস্থ থাকলে তা থেকে তৈরি হরমোন লক্ষ্য টিস্যু কোষে সঠিক ভাবে কার্যকর হয়।

আগেই একটু আলোচনা করেছি হরমোন গুলোর জৈব রসায়ন বিশ্লেষন করলে দেখা যায় এর জৈব উপাদান এমাইনোএসিড ও ফ্যাটিএসিড ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রোটিন ভেঙ্গে দেহে এমাইনোএসিড এবং চর্বি ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড তৈরি হয়। খাদ্যে যদি উপাদানগুলোর অভাব থাকে তবে এ হরমোন তৈরি ব্যাহত হয়। তবে মনে রাখতে হবে হরমোন ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশু অটিজমের অন্যতম প্রধান কারন।

সিনথেটিক হরমোন নয় প্রতিদিনের সঠিক খাদ্য পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও জীবন যাপন দেহ হরমোনের
উৎপাদন ঠিক রাখা শতভাগ সম্ভব।

Dr.Shebendra karmakar
PhD in Natural Medicine USA
https://adapto-medicine.blogspot.com

👉আমরা অনেকেই ভাবি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের শুরুটা হয় রক্তে অতিরিক্ত সুগার থেকে। কিন্তু আসলে সমস্যার শুরুট...
08/03/2026

👉আমরা অনেকেই ভাবি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের শুরুটা হয় রক্তে অতিরিক্ত সুগার থেকে। কিন্তু আসলে সমস্যার শুরুটা হয় আমাদের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়াতে (Mitochondria)।

মাইটোকন্ড্রিয়া হলো আমাদের শরীরের কোষের ভেতরে থাকা একটি ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী অঙ্গাণু (organelle)। জীববিজ্ঞানের ভাষায় একে কোষের "পাওয়ার হাউস" (Powerhouse) বা শক্তিকেন্দ্র বলা হয়। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির ৯২% এর বেশি তৈরি হয় এই ক্ষুদ্র অঙ্গাণুটিতে। অর্থাৎ আমরা যেসব খাবার খাই (শর্করা, আমিষ, স্নেহ),
মাইটোকন্ড্রিয়া সেগুলোকে অক্সিজেনের সাহায্যে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

কিন্তু বারবার খাওয়া, অলসভাবে বসে থাকা জীবনযাপন বা সেডেন্টারি লাইফ স্টাইল, অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং পুষ্টির ঘাটতির জন্য মূলত মাইটোকন্ড্রিয়া তার এনার্জি তৈরির স্বাভাবিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

আর যখন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন মাইটোকন্ড্রিয়া ঠিকমতো ফ্যাট জারিত বা পোড়াতে পারে না, আর এই "আধাপোড়া চর্বি" বা লিপিড আমাদের পেশি ও লিভারের কোষে জমতে শুরু করে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ক্ষতিকর লিপিডগুলোর নাম হলো Ceramides এবং DAGs (Diacylglycerols)।

এই জমানো লিপিড কণাগুলো সরাসরি আমাদের কোষের ইনসুলিন বাইন্ডিং রিসিপ্টরগুলোকে (Insulin Receptor Signaling) ব্লক করে দেয়। ফলে ইনসুলিন আর ঠিকমতো কাজ করতে পারে না এবং রক্ত থেকে গ্লুকোজকে কোষে ঢুকাতে বাধা পায়।

শরীর তখন অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি শুরু করে জোর করে রক্তের সুগার কন্ট্রোল করার জন্য (Compensatory Hyperinsulinemia)। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনার মেটাবলিজম ততদিনে দুর্বল হতে শুরু করেছে। কয়েক বছর পর শরীর যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই রক্তে সুগার ধরা পড়ে।

তাই নিজেকে এমন অবস্থা থেকে বাঁচাতে নিয়মিত এই ৪টি কাজ করুনঃ
🏃‍♂️ অ্যারোবিক ব্যায়াম করুন: হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইক্লিং করলে কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার ঘনত্ব (Density) ও কার্যক্ষমতা বাড়ে।
🏋️‍♀️ রেজিস্টেন্স ট্রেনিং (Resistance Training): ওয়েট ট্রেনিং পেশির গ্লুকোজ শুষে নেওয়ার জায়গা (Disposal capacity) প্রসারিত করে।
🚫 সারাক্ষণ টুকটাক খাওয়া বন্ধ করুন: বারবার খাবার না খেলে দীর্ঘ সময় ইনসুলিন লেভেল নিচে থাকে যা শরীরের ফ্যাট পোড়ানোর এনজাইমগুলো (যেমন- CPT-1) সঠিকভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়।
⏳ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (Fasting): প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকলে কোষ বাধ্য হয়ে জমে থাকা ক্ষতিকর লিপিডগুলোকেও পুড়িয়ে ফেলে।

আপনার কোষের ফ্যাট বার্ন করার ক্ষমতা (Oxidation capacity) বাড়ান— ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে!
Collected

সারাদিন কি খুব ক্লান্তি লাগে? হাত-পায়ে মাঝে মাঝেই ঝিঁঝিঁ ধরছে কিংবা বারবার মুখে ঘা হচ্ছে? সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এগুলো ক...
08/03/2026

সারাদিন কি খুব ক্লান্তি লাগে? হাত-পায়ে মাঝে মাঝেই ঝিঁঝিঁ ধরছে কিংবা বারবার মুখে ঘা হচ্ছে? সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এগুলো কিন্তু শরীরে 'ভিটামিন বি১২'-এর মারাত্মক ঘাটতির পূর্বলক্ষণ হতে পারে! আমাদের স্না'য়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে, শরীরে শ'ক্তি জো'গাতে এবং ডিএনএ (DNA) গঠনে এই ভিটামিনের কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমাদের অজা'ন্তেই শরীরে এই অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা ডেকে আনে নানা জ'টিলতা। চলুন জেনে নিই, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে শরীরে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়, কেন এই ঘাটতি হয় এবং কোন কোন খাবার খেলে খুব সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

​ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। নিচে প্রধান লক্ষণগুলো দেওয়া হলো:
​জিহ্বায় প্র'দাহ (Glossitis) এবং মু'খে ঘা: জি''হ্বা লাল হয়ে যাওয়া, ফু'লে যাওয়া, মসৃণ হয়ে যাওয়া এবং মু'খে বারবার ঘা হওয়া একটি প্রধান লক্ষণ।
​স্নায়ু"বিক সমস্যা: হাত ও পায়ে ঝিঁ'ঝিঁ ধরা, সু'চ ফো'টার মতো অনুভূতি হওয়া, অ'বশ লা'গা বা জ্বা'লাপোড়া করা।
​চরম ক্লান্তি এবং দুর্বলতা: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও শরীরে চ''রম ক্লান্তি, দুর্বলতা অনুভব করা এবং পে'শি বা অস্থি"সন্ধিতে ব্যথা হওয়া।
​হজম ও পেটের সমস্যা: হ"জমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে মলদ্বারে অস্বস্তি অনুভব করাও সম্ভব।
​ত্বক ফ্যাকাশে বা হলদেটে হওয়া: রক্তশূন্যতার কারণে ত্বক এবং চোখের সা'দা অংশ ফ্যাকাশে বা হা"লকা হলদেটে দেখাতে পারে।
​মান"সিক ও জ্ঞা"নীয় সমস্যা: স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগ দিতে কষ্ট হওয়া, বিষণ্ণতা, উ"দ্বেগ এবং মে"জাজ খিট"খিটে হওয়া।
​কেন হয় ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি?
​এই ভিটামিনের ঘাটতির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ থাকে:
​অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ: ভিটামিন বি১২ প্রাকৃতিকভাবে শুধুমাত্র প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়। তাই যারা সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী (Vegan) বা প্রাণিজ প্রোটিন খুব কম খান, তাদের এই ঘাটতি হওয়ার ঝুঁ"কি সবচেয়ে বেশি।
​শোষ"ণে অ"ক্ষমতা: অনেকের পাকস্থলীতে 'ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর' (Intrinsic factor) নামক প্রোটিনের অভাব থাকে, যা ভিটামিন বি১২ শোষণে সহায়তা করে। একে পারনিসিয়াস অ্যানিমিয়া (Pernicious anemia) বলে। এছাড়া, ক্রনস ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ বা পাকস্থলী ও অন্ত্রের অন্য কোনো সমস্যা থাকলেও শোষণ ব্যাহত হয়।
​পাকস্থ"লীর সা"র্জারি এবং ওষুধের প্রভাব: ওজন কমানোর সার্জা/রি বা পাকস্থ"লীর কোনো অংশ কে"টে ফে"লা হলে বি১২ শোষ"ণের ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া, গ্যাস্ট্রি"কের ওষু"ধ বা ডায়াবেটিসের ওষু"ধ দীর্ঘকাল ধরে নিয়মিত সেবন করলে শোষণের হার কমে যেতে পারে। বয়স্কদের মধ্যে পাকস্থলীর অ্যা"সিড উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণেও এই সমস্যা দেখা দেয়।

​কী খেলে এই ঘাটতি দূর হবে?
​ঘাটতি মেটা"তে নিচের খাবারগুলো নিয়ম করে খাওয়া যেতে পারে:
​প্রাণীর কলি"জা ও মাং"স: গরুর বা খাসির কলি"জা, কিড"নি এবং মুরগি ও গরুর মাংস ভিটামিন বি১২-এর চমৎকার উৎস।
​মাছ ও সামুদ্রিক খাবার: টুনা, স্যালমন, সারডিন, রূপচাঁদা, ইলিশ এবং ঝিনুকে প্রচুর পরিমাণে বি১২ থাকে।
​ডিম: ডিমের কুসুম ভিটামিন বি১২-এর একটি খুব ভালো উৎস।
​দু'ধ ও দু'গ্ধজাত খাবার: দু'ধ, দই এবং পনির নিয়মিত খেলে ভিটামিন বি১২-এর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
​ফর্টিফায়েড খাবার (নিরামিষভোজীদের জন্য): যারা নিরামিষভোজী, তারা ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, নিউট্রিশনাল ইস্ট বা প্ল্যান্ট-বেসড মিল্ক (সয়া বা অ্যালমন্ড মিল্ক) খেতে পারেন, যেগুলোতে কৃত্রি'মভাবে ভিটামিন বি১২ যোগ করা থাকে।
​সতর্ক"বাণী: ঘাটতি খুব বেশি হলে শুধুমাত্র খাবার দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন বি১২ সা"প্লিমেন্ট (ট্যাবলেট) বা ইন"জেকশন নিতে হবে।
Collected

👉ডায়াবেটিস হলে আমরা অনেকেই “বংশে আছে, তাই হয়েছে” বলে একরকম দায় এড়িয়ে যাই। আপনার এই ভাবনাটিকে সম্মান জানিয়েই বলছি—ক...
08/03/2026

👉ডায়াবেটিস হলে আমরা অনেকেই “বংশে আছে, তাই হয়েছে” বলে একরকম দায় এড়িয়ে যাই। আপনার এই ভাবনাটিকে সম্মান জানিয়েই বলছি—কথাটা হয়তো কিছুটা সত্যি, কিন্তু পুরোটা নয়। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এটি আসলে একটি 'প্রগ্রেসিভ মেটাবলিক ডিজঅর্ডার' বা দীর্ঘমেয়াদি বিপাকীয় সমস্যার চরম পরিণতি।

প্রথমে একটু ক্লিয়ার করে নেই যে সব ডায়াবেটিস এক নয়। ডায়াবেটিস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস: এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ইনসুলিন তৈরিতে বাধা দেয়।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: এটি মূলত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance) এবং মেটাবলিক বা বিপাকীয় সমস্যার কারণে হয়ে থাকে।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কেন হয়?👇
আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাস, বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (হাই গ্লাইসেমিক কার্বোহাইড্রেট, অতিরিক্ত ক্যালোরি, কম প্রোটিন ও ফাইবার) এবং কায়িক শ্রমহীন জীবনযাপনের কারণেই মূলত এই সমস্যার শুরু হয়, যা রক্তে বারবার গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বছরের পর বছর ধরে এই চক্র চলতে থাকলে একসময় কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেওয়া কমিয়ে দেয়। এর মারাত্মক পরিণতি হিসেবে পেটে চর্বি (Visceral fat) বাড়ে, লিভারে ফ্যাট জমতে শুরু করে এবং শরীরে নীরব প্রদাহ (Low-grade inflammation) তৈরি হয়। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এই সম্পূর্ণ মেটাবলিক বিপর্যয়ের শুরুতে আপনার রক্তে সুগারের মাত্রা একদম স্বাভাবিক থাকতে পারে, অথচ ভেতরে ভেতরে সমস্যাটি ক্রমাগত বাড়তেই থাকে।

প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের একেবারে শুরুর দিকে শরীর কিছু সিগন্যাল দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা, ভারী খাবার খাওয়ার পর তীব্র তন্দ্রা বা ঘুম পাওয়া এবং বারবার ক্ষুধা লাগা। এছাড়াও হঠাৎ করেই শরীরের এনার্জি কমে যাওয়া বা ক্লান্তি বোধ করা, ফ্যাটি লিভার ধরা পড়া এবং ফাস্টিং ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকাও এই সমস্যার অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ।

পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি অবশ্যই বাড়ে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার ডায়াবেটিস হবেই। জেনেটিক্স কেবল আপনার ঝুঁকির ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়, কিন্তু আপনার লাইফস্টাইল বা জীবনযাপনই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে রোগটি হবে কি না।

সঠিক নিয়মে জীবনযাপন পরিবর্তন করলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি দারুণভাবে বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য করণীয়:
✅সঠিক নিয়মে শরীরের ৫–১০% ওজন ও পেটের মেদ কমানো।
✅নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স বা ওয়েট ট্রেনিং শুরু করা।
✅খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ সুষম খাবার রাখা।
✅পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করা।

আর্লি স্টেজ টাইপ- ২ ডায়াবেটিস ও প্রিডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই রেমিশনে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে যদি প্যানক্রিয়াসের বিটা-সেল রিজার্ভ এখনও কার্যকর থাকে।

ডায়াবেটিস মানেই শুধু রক্তে "সুগার বেড়ে যাওয়া" নয়, এটি দীর্ঘদিনের মেটাবলিক স্বাস্থ্যের অবনতির লক্ষণ। তাই শুধু ওষুধ দিয়ে সাময়িকভাবে সুগার কমানো নয়, বরং জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ঠিক করাই হওয়া উচিত আমাদের আসল
Collection

দ্রুত বী/র্যপাত (Premature Ej*******on) পুরু"ষদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ সমস্যা। এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, কারণ ন...
08/03/2026

দ্রুত বী/র্যপাত (Premature Ej*******on) পুরু"ষদের মধ্যে একটি খুব সাধারণ সমস্যা। এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, কারণ নিয়মিত কিছু প্রাকৃতিক ব্যায়াম এবং কৌশল অনুশীলনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

নিচে ১৫টি কার্যকরী প্রাকৃতিক ব্যায়াম ও কৌশলের তালিকা দেওয়া হলো:

​১. বেসিক কেগেল সংকোচন: PC পেশীটি চিহ্নিত করে ৩ থেকে ৫ সেকেন্ডের জন্য সংকুচিত করে রাখুন, এরপর ধীরে ধীরে ছেড়ে দিন। প্রতিদিন ৩-৪ সেটে ১০ বার করে এটি করুন।
​২. লং হোল্ড কেগেল (Long Hold): ধীরে ধীরে পেশী সংকুচিত করে রাখার সময় বাড়ান। চেষ্টা করুন পেশীটি টানা ১০ সেকেন্ড সংকুচিত করে ধরে রাখতে।
​৩. ফাস্ট বা দ্রুত কেগেল (Fast Kegels): দ্রুত গতিতে মাত্র ১ বা ২ সেকেন্ডের জন্য পেশী সংকোচন ও প্রসারণ করুন। এটি এক সাথে ১০-১৫ বার করুন।
​৪. অশ্বিনী মুদ্রা (Ashwini Mudra): মলদ্বার (A**l sphincter) সংকুচিত করে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ছেড়ে দিন। এটি পেলভিক ফ্লোর ও স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
​এই কৌশলগুলো মূলত স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।
​৫. স্টপ-স্টার্ট টেকনিক (Stop-Start Technique): মি/লনের সময় যখন মনে হবে বী/র্যপাতের চরম মুহূর্তে পৌঁছে গেছেন, তখন সম্পূর্ণ থেমে যান। উ/ত্তেজনা কিছুটা কমে গেলে আবার শুরু করুন।
​৬. স্কুইজ টেকনিক (Squeeze Technique): বী/র্যপাতের ঠিক আগ মুহূর্তে আপনার বা সঙ্গীর সাহায্যে লিঙ্গের মাথায় (যেখানে মাথা এবং খাদের সংযোগস্থল) কয়েক সেকেন্ডের জন্য হালকা চাপ (Squeeze) দিন। এতে বী/র্যপাতের অনুভূতি সাময়িকভাবে কমে যায়।
​৭. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস (Deep Belly Breathing): উ'ত্তেজনার সময় বু'ক দিয়ে শ্বাস না নিয়ে, পে'ট ফুলিয়ে গ'ভীরভাবে শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এটি আপনার প্যা"রাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।
​৮. মাইন্ডফুলনেস বা ফোকাস শিফটিং: চরম উ/ত্তেজনার সময় মনকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। অন্য কোনো সাধারণ বিষয় বা কাজের কথা চিন্তা করলে মানসিক উত্তে/জনা কমে আসে।
​ ​৯. মূলবন্ধ (Mula Bandha / Root Lock): এটি একটি বিশেষ যোগ মুদ্রা যেখানে পেরিনিয়াম (ম'লদ্বার ও অ/ণ্ডকোষের মাঝের অংশ) পে'শীকে ভেতরের দিকে টেনে সংকুচিত করে শ্বাস ধরে রাখতে হয়।
​১০. সেতুবন্ধন আসন (Bridge Pose): পিঠের ওপর শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে কোমর উপরের দিকে তুলুন। এই অবস্থায় কয়েক সেকেন্ড থাকুন। এটি পেলভিক পেশী ও গ্লুটস শক্তিশালী করে।
​১১. ভুজঙ্গাসন (Cobra Pose): উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের ওপর ভর দিয়ে শরীরের সামনের অংশ সা"পের মতো উঁচু করুন। এটি ত:লপেট ও প্র/জনন অ'ঙ্গের রক্ত চলাচল বাড়ায়।
​১২. ধনুরাসন (Bow Pose): উপুড় হয়ে শুয়ে হাত দিয়ে দুই পায়ের গোড়ালি ধরুন এবং শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে তুলুন। এটি পুরো প্রজ/ননতন্ত্রের জন্য উপকারী।
​১৩. পশ্চিমোত্তানাসন (Seated Forward Bend): পা সোজা করে বসে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দিয়ে পায়ের আঙুল ধরার চেষ্টা করুন। এটি স্না'য়ুবিক চা'প কমায় এবং মন শান্ত করে।
​১৪. সর্বাঙ্গাসন (Shoulder Stand): পিঠের ওপর শুয়ে দুই পা এবং কোমর সোজা করে উপরের দিকে তুলুন। এটি পেল/ভিক অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে দারুণ কাজ করে।
​১৫. বজ্রাসন (Vajrasana): দুই হাঁটু মুড়ে গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে বসুন। এটি পে/লভিক অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং হজমশক্তি ও স্নায়ুকে উন্নত করে।

Collected

♥থাইরয়েড সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করার আগে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড নিয়ে একটু পরিচিত হয়েনি। এটির অবস্থান ঘারের সম্মুখে দুপা...
08/03/2026

♥থাইরয়েড সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করার আগে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড নিয়ে একটু পরিচিত হয়েনি। এটির অবস্থান ঘারের সম্মুখে দুপাশে।

♦আকৃতিটা অনেকটা প্রজাপতির মত। দুপাশের গ্ল্যান্ড একটি টিস্যু দ্বারা সংযুক্ত।

🔴এ গ্ল্যাডটি ৩টি হরমোন তৈরি করে দেহ রক্তে ছেড়ে দেয়। আর দেহের প্রানরসায়ন পরিচালনার জন্য এ ৩টি হরমোনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমোন ৩টি হচ্ছে ;
➡️১)ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন সংক্ষেপে টি৩(T3)।
➡️2) থাইরোক্সিন সংক্ষেপে টি৪(T4)।
➡️৩) ক্যালসিটোনিন।
থাইরয়েড এর অসুখ হলে এ ৩ টি হরমোন উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে বা কমে যেতে পারে। আর দুটো অবস্থায়ই দেহের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

দেহ রক্তে টি৩ ও টি৪ যদি বেশী থাকে তবে মেডিকেলের ভাষায় এটিকে:
➡️হাইপারথাইরোডিজম বলে।

দেহ রক্তে টি৩ ও টি৪ যদি কম থাকে তবে মেডিকেলের ভাষায় এটিকে ➡️হাইপোথাইরোডিজম বলে।

🔴টি৩ ও টি৪ বেড়ে গেলে অর্থাৎ হাইপারথাইরোডিজম হলে দেহে কি কি সমস্যা হয় একটু জেনে নেই;

♦স্নায়বিক দুর্বলতা ও উদ্বিগ্নতা।
♦ঘুমের বিঘ্নতা।
♦সবসময় ক্লান্তিবোধ।
♦হার্ট পালপিটেশন।
♦গরম সহ্য করতে না পারা ও ঘামানো।
♦সবসময় তৃষ্ণা অনুভব করা।
♦সেক্স এর প্রতি অনিহা।
♦দেহ পেশীর দুর্বলতা।
♦চুল পড়া।
♦ওজন কমে যাওয়া।

হাইপারথাইরোডিজম চিকিৎসায় আধুনিক ডাক্তারগন যে ড্রাগটি ব্যবহার সে ড্রাগটির জেনেরিক নাম হচ্ছে কার্বইমাজল। হাজার হাজার বাণিজ্যিক নামে সারা বিশ্বে এটি পাওয়া যায়। ড্রাগটি কিভাবে টি৩ (T3) ও টি৪(T4) কমিয়ে আনে সে কৌশলটি একটু জানা যাক। কারন ড্রাগের কৌশলটি বুঝলেই চিকিৎসার বিকল্প পথটি নিয়ে ভাববেন।

♥থাইরোয়েড এ গ্ল্যাডটি বিষেশায়িত কোষ দিয়ে তৈরি।এ কোষগুলোর নাম থাইরোসাইট। এ থাইরোসাইট আয়োডিন (মিনারেল) ব্যবহার করে ট্রাইআয়ডোথাইরোনিন ( টি৩) এবং থাইরোক্সিন (টি৪) এ দুটি হরমোন উৎপাদন করে দেহ রক্তে ছেড়ে দেয়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নিঃসৃত থাইরোট্রপিন রিলিজং হরমোন (TRH) ও পিটুইটারি গ্ল্যান্ড নিঃসৃত থাইরোয়েড স্টিমুলেটিং হরমোনের (TSH) নির্দেশে থাইরোয়েড গ্ল্যান্ড এ হরমোন দুটি তৈরি করে রক্তে ছেড়ে দেয়। মস্তিষ্কের নির্দেশ পাওয়ার পর থাইরোয়েড গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত একটি এনজাইম নাম থাইরোয়েড পারঅক্সিডেজ এ হরমোন তৈরির কাজ শুরু করে।

কার্বইমাজল ড্রাগটিকে বলে পারঅক্সিডেজ ইনহিবিটর। অর্থাৎ এ ড্রাগটি এনজাইম এর কাজকে বন্ধ করে রাখে ফলে হরমোন তৈরি হতে পারেনা। এর ফলে হরমোন উৎপাদন কমে যায় এবং সিমটোম গুলো অদৃশ্য হয়। কিন্তু যে কারনে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হচ্ছিল সেটির কিন্তু কোন সমাধান হয়নি।

🔴টি৩ ও টি৪ কমে গেলে অর্থাৎ হাইপোথাইরোডিজম হলে দেহ নিন্মের সমস্যাগুলো হতে পারে;
♦ক্লান্তিবোধ
♦ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা।
♦কোষ্ঠ্যকাঠিন্য
♦শুষ্ক চর্ম।
♦ওজন বৃদ্ধি।
♦মুখফোলা।
♦কোলেষ্টেরল বৃদ্ধি।
♦জয়েন্ট ব্যাথা ও ফোলা।
♦ হার্ট বিট কম হওয়া।
♦স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া।
♦গয়েটার বা গলগন্ড।

হাইপোথাইরোডিজম সমস্যার সমাধানের জন্য আধুনিক ড্রাগ চিকিৎসায় যে ড্রাগটি ব্যবহার হয় সেটির জেনেরিক নাম থাইরোক্সিন। বিভিন্ন নামে এটি সার বিশ্বে পাওয়া যায়। এটি ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম হরমোন। থাইরোয়েড গ্ল্যান্ড থাইরক্সিন তৈরি করছেনা বা কম করছে এ ক্ষেত্রে এটি মুখে টেবলেট আকারে খেতে দেয়। এতে মুল সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।

♦হাইপার বা হাইপো থাইরোডিজম কেন হয় এ বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য থাইরয়েড গ্ল্যাড ও মস্তিষ্কের যোগাযোগ ব্যবস্থা কিভাবে সংগঠিত হয় সেটি একটু বুঝতে হবে। কারন হাইপার বা হাইপো হওয়ার জন্য মুলতঃ এ ত্রুটিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা দায়ী।

🔴মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস (ক্ষুদ্র একটি অঙ্গ) থেকে থাইরোট্রপিন রিলিজং হরমোন (TRH) নিঃসৃত হয়। এটি মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ড (ক্ষুদ্র একটি গ্ল্যান্ড) থেকে তৈরি হরমোন থাইরোয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) কে সক্রিয় করে। TSH, থাইরোয়েড গ্ল্যান্ডকে সক্রিয় করে হরমোন (T3 & T4) উৎপাদনের জন্য। উৎপন্ন হরমোন সরাসরি রক্তে মিশে এবং সারা দেহ কোষের মেটাবোলিক(গ্লুকোজ, এমাইনোএসিড ও ফ্যাটিএসিড মেটাবলিজম) কাজ দেখাভাল করে।

🔴এবার বুঝব হাইপার বা হাইপোর শুরুটা কোনখান থেকে। প্রথমে হাইপো কেন হয় একটু জেনে নেই।

দেহে যখন থাইরোক্সিন( টি৩ ও টি৪) হরমোনের প্রয়োজন হয় তখন মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশনা থাইরোয়েড গ্ল্যান্ডে পৌঁছে। থাইরোয়েড গ্ল্যান্ড রক্ত থেকে আয়োডিন নিয়ে টাইরোসিন নামে একটি এমাইনোএসিড এর সাথে জুড়ে দিয়ে এ হরমোন দুটি তৈরি করে। দেহ রক্তে যদি খাদ্যপুষ্টি এমাইনোএসিড টাইরোসিন ও মিনারেল আয়োডিন না থাকে তবে থাইরোক্সিন তৈরি হবেনা। এতে থাইরোক্সিন এর অভাবে নানা দৈহিক সমস্যা তৈরি হয় যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। যখন থাইরোক্সিন তৈরি হয়না বা কম তৈরি হয় তখন এ কৃত্রিম থাইরোক্সিন হরমোন খেতে হয়। এতে মুল সমস্যার সমাধান হয়নি বরং দীর্ঘদিন এ সিনথেটিক হরমোন ব্যবহারের কারনে দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়।

♦এবার জানব হাইপারথাইরোডিজম কেন হয়। দেহ রক্তে থাইরোক্সিন কম থাকলে মস্তিষ্ক থেকে ক্রমাগত নির্দেশ আসে থাইরোয়েড গ্ল্যান্ডের উপর। এতে থাইরোয়েড গ্ল্যান্ড সবসময় উত্তেজিত থাকে এবং অতিরিক্ত থাইরোক্সিন তৈরি করে। এ অতিরিক্ত থাইরোক্সিন দেহে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। থাইরোয়েড গ্ল্যান্ডের অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারনে নানা ধরনের ক্ষতি হয়। এ সমস্যা নিরসনের জন্য আধুনিক ড্রাগ চিকিৎসায় কার্বইমাজল ড্রাগটি ব্যবহার করেন। এটি পারঅক্সিডেজ নামক এনজাইম এর কাজকে বাঁধাগ্রস্ত করে। এ এনজাইমটি থাইরোক্সিন তৈরিতে কাজ করে।

🔴এ ছাড়া অন্য একটি কারন আছে হাইপার ও হাইপো থাইরোডিজম এর। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের যদি কোন সমস্যা থাকে তবে সেটির কারনেও হরমোনের এ ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। অর্থাৎ মস্তিষ্কের ঐ গ্ল্যান্ড দুটি অতি সক্রিয়তার কারনে থাইরোয়েড অতি সক্রিয় হবে এবং বেশী হরমোন তৈরি হবে। আবার মস্তিষ্কের গ্ল্যান্ড দুটির নিষ্ক্রিয়তার কারনে থাইরয়েডও নিষ্ক্রিয় হবে এবং কম হরমোন তৈরি হবে।

থাইরোয়েড এর এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে উপরিউক্ত আলোচনার সারমর্ম ভাল করে উপলবদ্ধি করতে হবে। কারন ড্রাগ ব্যবহার করে এর থেকে মুক্তির সুযোগ নেই।

সুতরাং সারমর্মটি হচ্ছে;
♥এ সমস্যার মূল স্থান মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও পিটুইটারি গ্ল্যান্ড।
♥আয়োডিন এর অভাব।
♥খাদ্যপুষ্টি এমাইনোএসিড টাইরোসিন এর অভাব।
♥থাইরোক্সিন উৎপাদনকারী এনজাইম পারঅক্সিডেজ এর অভাব।
♥থাইরোয়েড কোষ (থাইরোসাইট) এর দূ্ুর্বলতা।
নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খেলে রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব
Collected

STEMCELL is a type of cell exist throughout the body.They remain in a non-dividing state for years until activated by disease .Stem cell can divide or self renewal indefinitely enabling them to generate a range of cell types from the originating organ or even regenerates the entire original organ. S...

Address

BAMANGOLA RURAL HOSPITAL
Bamangola
732138

Opening Hours

Monday 7am - 10am
Tuesday 7am - 10am
Wednesday 7am - 10am
Thursday 7am - 10am
Friday 7am - 10am
Saturday 7am - 10am
Sunday 7am - 10am

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DR SUDIP KUNDU posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram