27/04/2021
সুতরাং হিন্দু বা খৃষ্টান মেয়েলোক বা যেকোন বেদ্বীন বা বেপর্দা মেয়ে হতেও পর্দানেশীন নারীর পর্দা করা ওয়াজিব। তাদের সামনে কেবলমাত্র মুখম-ল, হাতের পাতা ও পায়ের পাতা ব্যতীত শরীরের কোন অংশ খোলা রাখা জায়িয নয়।
ধাত্রী যদি অমুসলিম মহিলা হয়, তবে শুধু জরুরী স্থান ব্যতীত হাতের বাজু, পায়ের নলা, মাথা বা গলা তাকে দেখালে গুনাহগার হবে।
মেয়েদের জন্য নতুন বর বা ভিন্ পুরুষদেরকে সামনাসামনি অথবা বেড়ার ফাঁক দিয়ে কিংবা ছাদে উঠে বা জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখা জায়িয নয়। তেমনিভাবে পুরুষদের জন্য বেগানা মেয়ে বা নতুন বউ দেখা জায়িয নয়।
স্ত্রীলোকদের নিজের পীরকেও দেখা দেয়া জায়িয নয়। তেমনি ধর্মবাপ, ধর্মভাই, উকিল বাপ, খালু, দুলাভাই, দেবর, ভাসুর, বেয়াই, নন্দাই, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই, খালাতো ভাই, খালাশ্বশুর, চাচাশ্বশুর ইত্যাদি গাইরে মাহরাম আত্মীয়দের সাথে দেখা দেয়া জায়িয নয়।
চুড়ি বিক্রেতা পুরুষতো দূরের কথা, বেদ্বীন স্ত্রীলোকের হাতে, এমনকি যে সকল মুসলিম মহিলা বেপর্দায় চলে, তাদের হাতেও চুড়ি পরা জায়িয নয়।
তেমনিভাবে বেগানা পুরুষের সাথে কখনো কোথাও আসা-যাওয়া করা বা দেখা দেয়া দুরস্ত নয়।
(ফাতাওয়া আলমগীরী)
পর্দার অন্যান্য বিধান
অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ নিষেধ
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন – “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্যান্য গৃহে প্রবেশ করো না – যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে (অনুমতির জন্য) সালাম না দাও। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” (সূরাহ আন-নূর, আয়াত : ২৭)
উক্ত আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কারো গৃহে প্রবেশ করতে হলে, আগে অনুমতি নিতে হবে। এমনকি নিজের মায়ের ঘরে প্রবেশেও এ হুকুম।
বিনানুমতিতে কারো গৃহে প্রবেশ করলে, মাহরাম নয় এমন নারীর উপর দৃষ্টি পড়তে পারে কিংবা মাহরাম কেউ নিজ ঘরে কখনো বেহাল অবস্থায় থাকতে পারে, তখন অনুমতি ছাড়া ঢুকলে, তাদের সেই অনাকাক্সিক্ষত অবস্থা চোখে পড়ে যাবে – যা বড়ই লজ্জাকর বিষয়। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে – পর্দা ও সতর রক্ষার জন্যই অপরের ঘরে বিনানুমতিতে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
দৃষ্টি নত রাখতে হবে
দৃষ্টি নত রাখা পর্দার একটি বিধান। আল্লাহ তা‘আলা নর-নারীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন দৃষ্টি নত রাখতে।
দৃষ্টি নত রাখার অর্থ – দৃষ্টিকে এমন বস্তু থেকে ফিরিয়ে রাখা, যার প্রতি দেখা শরীয়তে নিষিদ্ধ ও অবৈধ।