Canvas for Psychological Counselling

Canvas for Psychological Counselling To raise the awareness about the need of psychological counselling and to provide a help in psycholog

10/08/2022

#আমার_যাপন

জানিনা,সময়টা ঝিমধরা নাকি ঝিম ধরেছে আমার রক্তে...

আজকাল বড্ড ক্লান্ত লাগে,শুধুই যেনো ঘুম পায়...তলিয়ে যেতে ইচ্ছে করে অপার ঘুমের তলে।যতক্ষণ আপিসে থাকি,সময়ের হিসেব থাকেনা।তারপরের সময়টাতেও অনেক কাজ থাকে।কিন্তু সময়টা চলে ধীর লয়ে।

অনেকগুলো ফোন করবো করবো করেও করা হয়ে ওঠেনা,গল্প-উপন্যাস-পূজাবার্ষিকীরা টেবিলে ড্রয়ারে জমা হয়...আগে যেগুলো গোগ্রাসে গিলতাম,আজ তারা অপেক্ষা করে আমার জন্য।শুধু ডিপার্টমেন্টাল পড়াশুনা চলে একটু-আধটু, কারণ সেটা করতেই হবে,উপায় নাই।

জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত সামলাতে সামলাতে, লড়াই করতে করতে,চুপ করে মুখ বুঝে শক্ত হওয়ার মুখোশ পরতে পরতে...এমন নিঃশব্দ ক্লান্তি বুঝি সম্পূর্ণ সত্তাকে অলক্ষ্যেই গ্রাস করে নেয়।উপলব্ধি আসে গ্রাস করবার পরে...

আজকাল বড়ো ব্যথায়ও কান্না পায়না।বরং চোখ কড়কড় করে যখন কেউ একটু সহাভূতির ছোঁয়া নিয়ে আসে।গলায় কন্না দলা পাকায়,যখন কালেভদ্রে কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে চায়।মনে হয়,এইসবের থেকেই তো নিজেকে দূরে করেছি...ইস্পাত হতে চেয়েছি। তবে কেন প্রভু,তবে কেন অন্তর ভিজে যায় বারবার!

অনেকেই বলবেন,মনোবিদের পরামর্শ নিতে।হয়তো আমরা কোনওএকদিন অন্য একজন মনোবিদকে খুঁজবো নিজেদের স্বার্থেই।এক বোন খুব ভালো বলেছিলো,মনেরও একটা ডাস্টবিন থাকে,চুপ থাকতে থাকতে,সহ্য করতে করতে অনেক না বলা কথায় ভরে উপচে যায় সেটা...তখনই গ্রাস করে ক্লান্তি।

আজকাল মনে হয়,একটু ভুল হয়েছে জীবনবোধে।আসলে বড়ো বেশি বেঁধে বেঁধে থাকতে চেয়েছি,সকলকে পাশে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছি...ভুল ওটাই।একুশ শতক বোধহয় একাকীত্ব যাপনের শতক,তাই যে যার মতো একাকীত্ব নিয়েই বাঁচতে চায় হয়তো।বড়ো হওয়ার, ম্যাচিওর হওয়ার দৌঁড়ের সাথে একা হওয়ার দৌঁড়ও শুরু হয়।তার চেয়ে বরং ঝগড়া করা ভালো,অবুঝ হওয়া ভালো...

এই লেখা পড়ে ভাববেননা খারাপ আছি বা ডিপ্রেশনে আছি।একথাগুলো যাপনের অঙ্গ,না বলা হলে,মিথ্যে বলা হতো...আছি একরকম,ভালোই বলা যায়,কারণ সব খারাপ থাকা ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল।ত বুঝতে হলে,পাশে এসে দাঁড়াতে হয়,কাঁধে হাতটা রাখতে হয়...

❤️
04/08/2022

❤️

02/07/2022

মানুষকে ভালোবেসে,উপকার করে আমরা ঠকি কম-বেশি সকলেই।তা থেকে শিক্ষা নেওয়া অবশ্যই দরকার,কিন্তু তারপরও মানুষের উপর বিশ্বাস হারালে চলবেনা।বিশ্বাস বজায় রাখলে আদতে নিজেরই উপকার হবে,মনের অস্থিরতা কম থাকবে।

11/06/2021

লকডাউন ও ছোটরা

গতবছর থেকে আমরা সকলেই লকডাউন কথাটির সাথে পরিচিত এবং এই কোভিড সংক্রান্ত লকডাউন বিষয়টা সত্যই আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।জীবন যাপন ও বড়োদের বিভিন্নরকম মানসিক সমস্যা ছাড়াও যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি এসেছে তা হলো বাড়ির ছোটদের আচরণে।অনেক বাবা-মাই ছোটদের সামলাতে নাস্তানাবুদ হয়ে পরছেন,অনেকসময় আমাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

কি কি সমস্যা দেখা যাচ্ছে-

গত একবছরে অনেক অভিভাবকের সাথে কথা বলে যেটা বুঝেছি,ছোটদের দুষ্টুমি নিয়ে একদিকে তারা যেমন নাজেহাল,অন্যদিকে বাড়িতে বদ্ধ হয়ে থাকার কষ্টটাও কিন্তু ছোটদের একেবারে অশান্ত করে তুলছে।লকডাউনের কারণে যেহেতু স্কুল যাওয়া বা খেলাধূলো,পার্কে যাওয়া ও অন্যান্য অ্যাক্টিভিটি একেবারেই বন্ধ,তাই ছোটদের অতিরিক্ত এনার্জি বের হওয়ার রাস্তাও অনেকটা বন্ধ।এই পরিস্থিতি তাদেরকে আরও অশান্ত,জেদি ও খিটখিটে করে তুলছে।এর উপর আরো মুশকিল হচ্ছে অনলাইন ক্লাসের নতুনত্ব, যা মানিয়ে নিতে তাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে।সাথে অনিয়ন্ত্রিত ফোন ব্যবহার শিশুমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী করছে।

একটি ঘটনা----
কথা বলছিলাম আমার এক সিনিয়রের ছোট্ট খুদেটিকে নিয়ে,তিনি বলছিলেন যে কিভাবে তার অত্যন্ত শান্তশিষ্ট মেয়েটি কথায় কথায় বিরক্ত হয়ে পরছে,এমনকি অনলাইন ক্লাস করতে বসেও বাচ্চাটির মনে হচ্ছে যে মিস তার কথা শুনছেননা,তাকে দেখছেননা।ফলত বাচ্চাটির আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে।সে তার মাকে বারনার প্রশ্ন করছে,জানতে চাইছে সে ভালো মেয়ে কিনা। ঘটনা শুনে আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছিলো,এতটুকু বাচ্চার শৈশবকে বিপন্ন হতে দেখে আমি অস্থির না হয়ে পারিনি।আমার সিনিয়র দিদিকে বলেছিলাম,বাচ্চাটিকে একসপ্তাহ ছুটি দিতে,দরকার হলে কোনও ক্লাসই করবেনা।এমনকি পড়ার চাপ নিতে না পারলে একটা সেসন গ্যাপ নেওয়া যেতে পারে,সে পরামর্শও দিয়েছি।আসলে গুরুত্বপূর্ণ হলো,ছোটদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা।

সমস্যা সমাধানের উপায়----

লকডাউনে তৈরী হওয়া এইধরনের সমস্যাগুলির সাথে কিন্তু একযোগে লড়াই করতে হবে।বাড়ির বড়োদেরকে ছেটদের প্রতি আরো মনোযোগী ও যত্নশীল হতে হবে।তাদেরকে সময় দিতে হবে,তাদের খেলার সাথী হয়ে উঠতে হবে যাতে তাদের বোরডমটা কমে।

দ্বিতীয়ত,কখনোই বাচ্চার সামনে নিজেদের সমস্যা ও উদ্বেগ প্রকাশ করবেননা।বরং ওদেরকে অল্প অল্প করে বোঝাতে পারেন যে কেন আমরা সবাই বাড়িতে আছি,অসুখ থেকে বাঁচতে সকলে একযোগে চেষ্টা করছি।এটাও বোঝান যে সব ঠিক হয়ে গেলেই আবার আগের জীবনে ফিরে যাবো আমরা,আগামীদিনে সব ঠিক হয়ে গেলে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করা যেতে পারে ওদের সাথে।মোট কথা,আনন্দপূর্ণ পরিবেশ থাকুক বাড়িতে।

তিন,ছোটদেরকে বাড়ির ছোটখাটো কাজে সামিল করার পক্ষপাতি আমি।তা সে লকডাউন হোক বা না হোক।এতে যেমন একদিকে ওদের সময় কাটবে অন্যদিকে ছোট থেকে বাড়ির ছোটবড়ো দায়িত্ব নিতে শিখলে তা ওদেরকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।বিছানার চাদর পাতা,জিনিসপত্র এগিয়ে দেওয়া,খাওয়ার সময় জল ভরে আনা ইত্যাদি কাজ পারিবারিক সম্পর্কে দৃঢ় করতে ও ছোটদেরকে পরিবারের অংশ হতে সাহায্য করে।

চার,লকডাউন হলেও জীবনের স্বাভাবিক রুটিন বজায় রাখা দরকার।ছোটরাও এর ব্যতিক্রম নয়।নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠা,খাওয়া,স্নান বা খেলাধূলো করতে হবে।ছুটির দিন বাদে এর অন্যথা হওয়া কাম্য নয়।অনলাইন ক্লাস করার জন্য আজকাল ছোটদের হাতে হাতে ফোন।এছাড়া কার্টুন বা ভিডিও দেখা তো আছেই।কিন্তু অবশ্যই তা নির্দিষ্ট সময় মেনে করতে দিতে হবে।নয়তো তা আসক্তিতে পরিণত হতে পারে।তাই সকলকে সাবধান থাকতে হবে,ছোটদের শান্ত রাখার জন্য অনিয়ন্ত্রিত ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া কিন্তু সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

পাঁচ,এইসময় যথাসম্ভব কম বকাবকি করা বাঞ্ছনীয় ,মারধর তো একেবারেই নয়।বুঝতে হবে,সময়টা ওদের জন্য অনুকূল নয়।না পারছে স্কুল যেতে আর না পারছে খেলতে যেতে, বন্ধুদের সাথে দেখাও হচ্ছেনা, তাই যতটা সম্ভব বুঝিয়ে কাজ করাতে হবে।অভিভাবকদের উচিত হাজার সমস্যা থাকলে ছোটদের বিষয়ে মাথা ঠান্ডা রাখা,আপনার সমস্যা যেন শিশুমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী না করে।এতে ও নিজেও শিখবে,কিভাবে টেনশন না করে কঠিন পরিস্থতিতে নিজেকে স্থির রাখতে হয়।

ছয়,বাচ্চাকে কোভিড সতর্কতা বিধি মানতে শেখানো এবং তা মেনে নিউনরমাল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হওয়া।পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্র্যাফ্টের কাজ করানো,খেলার ছলে গান-কবিতা শেখানো,গাছের পরিচর্যা করানো বা গল্প লেখা ও বলানো ইত্যাদি করানো যেতে পারে।এতে ওদের শেখাটা থেমে থাকবেনা,এগিয়ে যাবে ওরা।

সবশেষে,যাই পরিস্থিতি আসুক, আমাদের যে সপই অনুযায়ী মানিয়ে নিতে হবে ও জীবনটাকে সুন্দর করে বাঁচতে হবে,এই বোধ ওদের মধ্যে তৈরী করুন।অভিভাবক হিসাবে যে সর্বদা আপনি ওর পাশে আছেন ও আগামীদিনেও থাকবেন,এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা উপলব্ধি করান ছোটদের।দেখবেন,ধীরে ধীরে ওদের অশান্তভাব কমে আসবে,ওরাও মানিয়ে নেবে সবকিছু।তাছাড়া, ছোটরা একটু দুষ্টুমি না করলে তো আপনারও ভালোলাগবেনা,তাইনা!

08/11/2020



আচ্ছা,আপনার কখনো মনে হয়েছে যে,আপনার একা থাকা দরকার।কিংবা এমনটা কি হয়েছে যে আশেপাশে বড্ড ভিড়ভাট্টা লেগেছে,পালাতে চেয়েছেন বা সরে যেতে চেয়েছেন।একান্তে শুধু নিজেকে নিয়ে থাকতে চেয়েছেন কখনো!

জানি,এগুলো সবটাই হয়েছে।কিন্তু পরিস্থিতির চাপে হয়তো একলা হওয়া হয়নি,সুযোগ হয়নি।নিজেকে জানা হয়নি বা কি চান আপনি নিজে,বুঝে উঠতেই পারেননি।

হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের সাথে সময় কাটান,ভালোবাসুন নিজেকে,কাজ করুন নিজের উপর।দরকার হলে,সুযোগমতো কিছু নিত্য কাজ থেকে বিরতি নিন,ছুটি নিন।হয়তো বলবেন,আপনার উপর নির্ভরশীল মানুষদের অসুবিধা হবে,তাতে কষ্ট আপনারই।ওসব ভাববেননা,ওদের স্বাবলম্বী হতে দিন।ভেবে দেখুন,আপনি কোন কারণে না থাকলে,বা তারা দূরে গেলে কতটাই না হেনস্থা হবে।তাই আজ থেকে শিখুক।প্রয়োজনে পাশের মানুষটাকে বোঝান যে স্পেস সবারই দরকার,ছুটি দরকার।

এই অনাদরে থাকা অথচ অত্যন্ত দরকারী বিষয়টা নিয়ে আমরা কেউ ভাবিনা বা আমাদের ভাবতে দেওয়াই হয়না। সকলের তরে নিবেদিত জীবন...হতে পারে,কিন্তু তারও আলো-হাওয়া দরকার হয়।নয়তো জং পরে,মরচে লাগে...মহিলাদের জন্য তো এটা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।

নিজের দিকে তাকান,হাঁপিয়ে যাননি তো সবটা সামাল দিতে দিতে! ভালো আছেনতো! নিজের মনের খবর নিন।নিজের জন্যও বাঁচুন,প্রাণ খুলে বাঁচুন।আপনি ভালোভাবে বাঁচতে শিখলেই,পাশের মানুষটাও আপনাকে দেখে বাঁচার অনুপ্রেরণা পাবে...

আহারে জীবন❤️

22/09/2020

#বাকিটা_ব্যক্তিগত

হ্যাঁ আমাদের জীবনে অনেককিছু বাকি রয়ে যায়,অনেককিছু না-পাওয়া,না-বলা কথা থেকে যায়,একাই বেঁচে থাকে বা মরে যায় সেগুলো।আবার কিছু মানুষও একা থেকে যায়,গোটা জীবনটাই।

আচ্ছা,আপনার কি এমন মনে হয় যে একঘর মানুষের ভিড়ে,আনন্দ অনুষ্ঠানের মাঝেও আপনি একা।কিংবা ধরুন,কাজ করতে করতে,হাসতে হাসতে বা মজা করতে করতেও,কখনো একা বোধ করেন!করেন নিশ্চয়ই।

মজার বিষয় কি জানেন,সকলে আপনাকে বলবে,তুমি যেমন তেমনই থাকবে,be yourself...কিন্তু বাস্তবটা হলো,আপনি যতই পজিটিভ হোন না কেন,আপনাকে আপনার মতো করে মানিয়ে নেবেনা কেউ,বদল চাইবে,এবং অবশ্যই সেটা নিজেদের সুবিধার্থে। আসলে সত্য জিনিসটা নিয়ে হুলুস্থুল করলেও তা দেখতে বা শুনতে কটু,তাই সহ্য করাও মুশকিল।

তাই,জীবনের পথে চলতে চলতে একটু দাঁড়িয়ে দেখবেন,আপনার মধ্যেকার আপনি,একা রয়ে গেছেন।সে কারোর সঙ্গ পায়নি,একলা বসে,মনের এককোণে,অপেক্ষা করছে সমমনস্ক মানুষের।এতে আপনি আহত হন,ক্ষত তৈরী হয় জানি।

এই তাহলে কি এর পরিণাম নিজেকে বদলে ফেলা?একেবারেই না।আমি বলবো,এক সুরক্ষাবলয় তৈরী করে রাখুন নিজের অভ্যন্তরে,সহজ-সুন্দর রাখুন নিজেকে।কিন্তু যখনই দেখবেন আপনার অস্তিত্ব নিয়ে আশেপাশে শোরগোল শুরু হয়েছে,নিজেকে এক সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে নিন নিজেকে,আঘাত থেকে বাঁচবেন অনেকটাই।

এটা একদিনে হবেনা,এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া,সময়সাপেক্ষও বটে।তবে অভ্যাস করতে পারলে,নিজের অন্দরে সুখী হবেন।ওই বলয়ের ভেতর প্রবেশের অধিকার পাবে অবশ্যই অল্পকয়েকজন।এতে বাইরের বহু আঘাত প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যাবে অনেককাংশেই।

আসলে,দিনের শেষে, আপনি সেটাই দেখাবেন,যেটা আপনি দেখাতে চান।কারণ জীবনটা আপনার,এর নিয়ন্ত্রক হবেন আপনি নিজে❤

15/09/2020

অনেকে বলেন,যারা আমার প্রতি অন্যায় করেছেন,অবিচার করেছেন,এগিয়ে যেতে বাঁধা দিয়েছেন,তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।তারাই আমার এগিয়ে যাওয়ার জেদকে বাড়িয়ে তুলেছেন ও আমায় সফল করেছেন।

আত্মীয়র সংসারে উচ্ছিষ্ট হয়ে ছোটবেলা কাটানো অনাথা মেয়েটা দুমুঠো ভাতের লড়াই লড়তে লড়তে বড়ো হয়ে ঠিক কাকে কৃতজ্ঞতা জানায়,আমি জানিনা।

আমি জানিনা,শিশুকালে বা কিশোরীবেলায় অবাঞ্ছনীয় স্পর্শে নিজের কোমল হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হওয়া মেয়েটা কাকে তার কৃতজ্ঞতা জানায়...

তথাকথিত রূপের বিচারে পিছিয়ে থাকা যে মেয়েগুলো ভালো পড়াশুনা বা কনডাক্টের দিক থেকে এগিয়ে থাকতে পারলেও যখন মাতৃসমা শিক্ষিকাদের অবহেলার পাত্রী হয়,ধাক্কা খায় যার স্বপ্ন আর বাস্তব,সে কাকে কৃতজ্ঞতা জানায় কে জানে...

মানসিকভাবে সমস্যায় থাকা ও তা নিয়ে সহপাঠীদের প্রতিনিয়ত আক্রমণ,চারপাশকে বুঝে উঠতে না পেরে,কারো একফোঁটা সাহায্য না পেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া ওই মেয়েটা...কাকে জানাবে তার কৃতজ্ঞতা!

প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করা সৈনিক,নিজের জীবন বাজি রেখে ময়দানে লড়া সেনানী,সামান্য কারনে হেনস্থা হয় যখন,গোটা দুনিয়ার কাছে জিতে,নিজের কাছে হেরে...কাদের জানায় তার কৃতজ্ঞতা!

সাফল্যের জীবন পেয়েও পরিজনহীন জীবন কাটিয়ে বেঁচে থাকা,অবহেলায় দিনপাত করা মেয়েটা,কাউকে আর কৃতজ্ঞতা জানায় না....

অনেক দেরি হওয়ার আগে,একবার পিছন ফিরে তাকান।কেউ হয়তো আপনার দিকে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে,যাকে না দেখেই আপনি এগিয়ে গেছেন জীবনের পথে,যার আপনাকে...শুধু আপনাকে দরকার ছিলো...যেকোন নামের বা বে-নামের একটা সম্পর্কে যার পাশে আপনি দাঁড়ালেই,হয়তো বদলে যেতো তার জীবন...

পাশের মানুষকে ভালোবাসুন,জীবন একটাই❤

20/08/2020

মানসিক স্বাস্থ্য বহুকাল থেকেই কম-বেশী অবহেলিত-উপেক্ষিত।শরীরের যত্ন যেভাবে নিই আমরা,মনের যত্ন কি ততটা গুরুত্ব দিয়ে করি!
বন্ধুদের মতামত চাই...

13/12/2019

#রিজেকসন_ও_আমরা

দিনের শেষে আমরা সবচেয়ে বেশি যেটাকে ভয় করি,তা হল রিজেকশন,বাংলায় প্রত্যাখান।রিজেক্টেড বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় প্রতিমুহুর্তে মারাত্মকভাবে আমাদের মাথা থেকে অন্তরাত্মা সবটাকে দখল করে রাখে,গোটা স্বত্তা জুড়ে তার উপস্থিতি।এমনিতো আমাদের বেশ স্বাভাবিকই দেখায়,কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভয়ের চোরা স্রোত বইতে থাকে,অনেকটা চোরা অম্বলের মতো।

বিষয়টা বুঝিয়ে বলা যাক।কিসের প্রত্যাখান? উমমম,হতে পারে স্কুলে,কলেজে বা ইন্সটিটিউটের কাজে,হতে পারে চাকরি,ব্যবসা বা ব্যক্তিগত পেশার জায়গায়,বা হতে পারে পারিবারিক সম্পর্কের৷ ক্ষেত্রে,বৈবাহিক সম্পর্কে বা প্রেমে....হতে পারে।এবং এই প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কত মানুষ নিজেদের জীবন শেষ করে ফেলে,কেউবা প্রেমিককে খুন করায়,আর অনেকেই প্রেমিকা বা মেয়েটির মুখে-গায়ে অ্যাসিড ঢালে।খুৃঁজলে বেরিয়ে আসবে সেই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষের জ্বালা।

না,আমরা রিজেকশন মেনে নিতে পারিনা।কারণ আমাদের সেটা কখনো শেখানোই হয়না,সেই উদাহরণগুলো কখনো তুলে ধরা হয়না আমাদের সামনে।অমুক কত ভালো পড়াশুনা করলো,বা তমুকের কত ভালো কেরিয়ার এটাই আমাদের একমাত্র কহতব্য।ফেল করেছে মানে হেরো,তার নিশ্চয়ই চেষ্টার অভাব ছিল,মন দেয়নি ব্লা ব্লা ব্লা...

আমাদেরকে বলা হয়না যে একবার-দুবার-তিনবার সফল না হওয়া মানেই হেরে যাওনা নয়,জীবন মানে অন্যকিছু,জীবন মানে মানুষের মতো মানুষ হওয়া,টাকার হিসাব নয়,সম্পর্কের হিসাব নয়।আমাদের পরিবার,সমাজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনদিন আমাদের সহিষ্ণুতা শেখায়না,আত্মবিশ্লেষণ করতে বলেনা,ত্রুটি খুঁজে নিজেকে শুধরাতে প্রেষণা জোগায়না।

তাই আমারাও বসের থেকে গালি খেয়ে অফিসের অধস্তনকে হেনস্থা করি,নেতা-মন্ত্রীদের চুরি মুখ বুজে সয়ে রাস্তার বা বাজারের মুটে বা বিক্রেতাকে চোর বলি অনায়াসে।আমরা প্রেম করি আর প্রেমিকা ছেড়ে যেতে চাইলে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করি,স্ত্রীকে চাপে রাখি,স্বামীকে লুকিয়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরি আর মা-বাবাকে রাখি বৃদ্ধাশ্রমে,কিন্তু ছেলে-মেয়েকে বলি ক্লাসে ফার্স্ট হতে আর ওই বস্তির ছোটলোকদের সাথে না খেলতে।

এর অন্যথা হলেই আমাদের চোরা অম্বল অ্যাসিডিটিতে পরিণত হয়,মাথা ঘোরে,গা বমি ভাব হয়,বুক জ্বালা করতে থাকে।কিছু একটা ওষুধ দিয়ে সমস্যা মেটাতে চাই আমরা।

কিন্তু তবু আমরা কাউকে সময় দিইনা,কথা বলার সুযোগ দিইনা,মেনে নিইনা,ছেড়ে দিইনা একদম। কোথাও বসে নিজেকে নিয়ে ভাবিনা,কাউকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিইনা,ভুল করা মানুষটার কাঁধে হাত রাখিনা,কারোর চোখের জল মোছাইনা,কারো পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়াইওনা।

মনে রাখবেন,আপনি আমিতো কোন ছাড়,অমিতাভ বচ্চনকে অলইন্ডিয়া রেডিও,অরিজিৎ সিং কে গুরুকুল আর জুবিন নউটিয়ালকে এক্স-ফয়াক্টর রিজেক্ট করেছিলো।জে.কে রাউলিং এর বই বহু প্রকাশক প্রকাশ করতে চায়নি,সৌরভ গাঙ্গুলিকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিলো,কালাম স্যারের বিজ্ঞানী হওয়া নিয়ে সকলের সন্দেহ ছিলো আর ওপরা উইনফ্রকে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জাস্ট বার করে দিয়েছিল।এমন উদাহরণ আরো হাজার হাজার আছে।দেখুন আপনার আমার পাশেই হয়তো মজুত।

তাই চলুন,রিজেকশনকে নিতে শিখি,আর অন্যকেও রিজেকশন মেনে নিতে শেখাই,তা থেকে কিকরে এগিয়ে চলার রশদ পাওয়া যায়,এটা বুঝতে শেখাই,তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে এতটুকু অবদান আমাদেরও থাক।মাথা তুলে দাঁড়াক তারা,অন্যের অবলম্বন হোক।
আসলে,শত বাধা সত্ত্বেও ভালোভাবে বাঁচতে পারাইতো জীবন....

23/05/2019

বন্ধুরা,কার কার এই ভীষণ গরমে বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে না পেরে মন খারাপ...জানাও আমাদের!

11/02/2019

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানাই,রাত দশটা বেজে গেছে,বইপত্র বন্ধ করে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেয়ে টানা ঘুম দাও একটা।কাল সকাল সকাল উঠে দরকারি সবকিছু ঠিকঠাক রেখেছ কিনা দেখে নিয়ে পরীক্ষা দিতে চলে যেও।এখন আর বেশি পড়াশুনা করে নিজেকে চাপে রেখোনা।

মা-বাবাকে বলি,অযথা ওদের এটা ওটা মনে করাতে গিয়ে পীড়িত করবেননা,বিভ্রান্ত করবেনা।এটা ওর জীবনের প্রথম সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। এতদিন লড়াই করার কৌশল শিখতে যারপরনাই সাহায্য করেছেন,এইবার ওর লড়াইটা ওকে লড়তে দিন।
আর পরীক্ষা দিতে ঢোকার আগে একটাবার বলুন,তুই সব পারবি দেখিস।দেখবেন কেমন ম্যাজিক হয়....

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Canvas for Psychological Counselling posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Canvas for Psychological Counselling:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram