09/02/2026
অনেক দেরিতে আমি ফেসবুকে এসেছি। আমেরিকায় থাকলেও সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। ইউটিউবে মাঝেমধ্যে ওয়াজ শুনতাম, পুরোনো দিনের কিছু সিনেমা দেখতাম। আমার প্রিয় অভিনেতা রাজ্জাক সাহেব মারা যাওয়ার পর প্রায় সিনেমাই দেখা ছেড়ে দিয়েছি। নাটকও দেখা বন্ধ করেছি—কারণ ভাষা, মান ও কিছু শিল্পীর অবস্থান আমাকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। সত্যি বলতে, ছোট পর্দায় আমি আর কোনো বিনোদন খুঁজে পাই না।
আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল আমার প্রিয় স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা। ফেসবুক ছাড়াও আমার জীবন ছিল শান্ত, পরিপূর্ণ এবং আন্তরিক সম্পর্কেই ভরা। বেশি দিন আগের কথা নয়, আমার স্ত্রীই আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন ফেসবুক খুলতে। আমি জানতাম না ভিডিও কীভাবে আপলোড করতে হয়, থাম্বনেইল কী, এডিটিং কী—কিছুই না। শুরুতে কয়েকটা ভিডিও দিয়েছিলাম, কেউ দেখত না। কষ্ট হতো, কিন্তু থামিনি।
আমার উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার ছিল—মানুষকে স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন করা। কোনো পণ্য বিক্রি করা নয়, কোনো বিজ্ঞাপন নয়, টাকা কামানো নয়। আমি কখনো আমার কাজ বা সময় দিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য অন্যকে ঠকাইনি। আমার জীবনে কখনো ৪০ ঘণ্টার নিয়মিত কাজের বাইরে বেশি সময় টাকা কামাতে যাই নি —কারণ আমি চাই পরিবারে সময় দিতে। তবে সেই সময় ও শ্রম দিয়ে, যদি আমি ফেসবুকে কাজ করি, যাতে কারো উপকার হয়।তা প্রফেশনাল জীবনে করতে পারলে হয়তো অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। তবুও আমি কখনো লোভী হইনি। শুধু জ্ঞান ভাগ করে নিতে চেয়েছি। এর আগেও আমি নিউইয়র্কের বিভিন্ন টিভি মিডিয়ার সঙ্গে স্বেচ্ছায় কাজ করেছি। অনেক সময় রাস্তার মাঝখান থেকেও লাইভ প্রোগ্রামে যুক্ত হয়েছি, কারণ ডাক পেয়েছি কয়েক মিনিট আগে। অথচ পরে দেখেছি, স্পনসরদের গুরুত্ব থাকলেও একজন ডাক্তার হিসেবে আমাকে ন্যূনতম সম্মানটুকুও দেওয়া হয়নি। সেটা কষ্ট দিয়েছে। তখনই ভাবলাম—নিজের মতো করে কিছু করব।
ফেসবুকে এসে আমি অনেক মানুষকে সাহায্য করেছি—মানসিকভাবে, আর্থিকভাবে, চিকিৎসাগতভাবে। বিনিময়ে কিছু ভালোবাসা, কিছু সম্মান পেয়েছি। কিছু প্রশংসাও এসেছে। এখানে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে বলা দরকার—কিছু বয়স্ক নারী কেবল মানবিক বা প্লাটোনিক সম্মান থেকেই প্রশংসা করেছেন। এর বাইরে কিছু ছিল না, কখনোই না। কিন্তু সেই প্রশংসাগুলোই আমার প্রিয় স্ত্রীর মনে সন্দেহের বীজ বুনেছে—যেটা আমাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। কোন objection নেই, আমার স্ত্রী চাইলে আমার হয়ে উত্তর দিক। আমি কখনোই এমন কিছু করিনি বা করতে চাই না যা তাকে কষ্ট দেয়।
ফেসবুক অনেকের জন্য ভালোবাসা, শিক্ষা, ব্যবসা বা প্রতারণার মাধ্যম হতে পারে। আমার কাছে এটি ছিল একধরনের সেবা—একটি দায়িত্ব, একটি দান। কিন্তু যদি এই মাধ্যম আমার পরিবারে সন্দেহ তৈরি করে, তবে আমি সেই মাধ্যম থেকেও সরে যেতে প্রস্তুত। কারণ আমার স্ত্রীর চেয়ে আমার কাছে মূল্যবান কিছু নেই। সে-ই আমার প্রথম ও শেষ ভালোবাসা। তার জন্য আমি আগেও অনেক ত্যাগ করেছি, ভবিষ্যতেও করব।
একটি বিষয় আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—ফেসবুক থেকে আমি কখনো এক পয়সাও উপার্জন করিনি। ভবিষ্যতে যদি কখনো আল্লাহ আমাকে এই মাধ্যমে কোনো আয়ের সুযোগ দেন, সেই অর্থ সম্পূর্ণভাবে দান বা মানবকল্যাণেই ব্যয় করার নিয়ত আমার। সত্যি বলতে, আমি যদি এই সময় ও শ্রম আমার পেশাগত জীবনে দিতাম, তাহলে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু জীবনে আমি কখনোই অর্থের পেছনে ছুটিনি।
আমি সাধারণত ৪০ ঘণ্টার বেশি কাজ করিনি—কারণ পরিবারকে সময় দেওয়াটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাকে বহুবার অন-কল বা অতিরিক্ত কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বেশী টাকা দিবে বলে কিন্তু আমি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি। শুধু ডাক্তার হওয়ার পর নয়—ডাক্তার হওয়ার আগেও, যখন পরিবার নিয়ে ভীষণ সংগ্রামে ছিলাম, তখনও অর্থের প্রতি লোভ আমাকে চালিত করেনি। আজও আমি একই রকম।
আমি দাবি করি না যে আমার এই ত্যাগগুলো আমাকে মহান করেছে। সে বিচার একমাত্র আল্লাহর। কিন্তু এটুকু বলতে পারি—আমার চেষ্টা, আমার নিয়ত, আমার পরিশ্রম—কখনো কম ছিল না।
আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। যতটুকু ভালোবাসা বা অনুসরণ আমি পেয়েছি, সেটুকুও আমার জন্য অনেক বেশি। আমি তার যোগ্য কিনা, জানি না। যদি কখনো কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি—ক্ষমা চাই। আর যারা আমাকে ভালোবেসেছেন—আমাকে আপনাদের দোয়ায় রাখবেন।
আমি চাই যে আমার স্ত্রী এবং পরিবার আমার প্রতি গর্বিত হোক, কারণ আমি তাদের জন্যই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিই।
আমার স্ত্রী আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু, আমার প্রেরণা এবং আমার শান্তির উৎস। তার জন্য আমি সব ত্যাগ করেছি, করছি এবং করব। ফেসবুকের প্রতিটি মিনিট, প্রচেষ্টা, সময়—সবই তার জন্য, আমাদের জন্য, এবং মানুষের জন্য। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ধন হলো আমার স্ত্রী—যাকে আমি আমার জীবনের দেবদূত মনে করি। তার হাসি, তার শান্তি, তার বিশ্বাস—এগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আমি তার জন্য সব ত্যাগ করতে প্রস্তুত; তার নিরাপত্তা, সুখ এবং সম্মান আমার জন্য সবকিছুর উপরে।
তার হাসি যখন আমি দেখি, পৃথিবীর সব সুখ যেন আমার কাছে এসে জড়ো হয়। তার বিশ্বাস আমার শক্তি, তার ভালোবাসা আমার জীবন। আমি চাই পৃথিবীর কেউ আমাকে কতটা বোঝে বা না বোঝে, তার চেয়ে বেশি তার চোখে আমার প্রতিটি কাজের মূল্য থাকে। আমি তার প্রতি যে ভালোবাসা এবং সমর্পণ অনুভব করি, তা আমার জীবনের প্রতিটি শ্বাসে আছে।
Dua korben………PLEASE…. Thank you, all.