06/12/2019
অপ্রয়োজনীয় ঔষুধ এবং সার্জারি-কে "না" বলুনঃ
আপনার শরীর ২ টি জিনিস দিয়ে গঠিত: (১) আপনার পুর্বপুরুষদের জিন এবং (২) আপনি বা আপনার মা যেসব খাবার খেয়েছেন বা অন্য কোনো উপায়ে শরীরে কিছু গ্রহন করেছেন, সেগুলোর সমষ্টি বা সমন্বয় বা ফলাফল। তাই, আমাদের দেহের অধিকাংশ অসুখ বা রোগ এই ২ টি কারনে হয়: (১) জিন বা বংশগত (Hereditary) কারনে এবং (২) খাবার, পানীয় বা অন্য কোনো উপায়ে শরীরে কিছু গ্রহন করেছেন, সেগুলোর কারনে।
*** জিনগত জিনিসটার উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ কম কিন্তু আপনি কি খাচ্ছেন বা গ্রহন করছেন, সেটার উপর আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে।
এই শরীরের মধ্যে প্রতিনিয়ত নানারকম রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া হচ্ছে। তাই, শরীরের মধ্যে বাইরে থেকে রাসায়নিক জিনিস (যেমনঃ ঔষুধ) প্রবেশ করানোর তেমন কোন প্রয়োজন নেই। না হলে, শরীরে উল্টা-পাল্টা রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া শুরু হবে। আর, এই উল্টা-পাল্টা রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার জন্যেই শরীরে নানা অসুখ, রোগ-বালাই বাসা বাঁধছে। তাছাড়া, আমাদের শরীরের রয়েছে আশ্চর্য রকমের ক্ষমতা যার কারনে আমরা প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারি, রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকতে পারি, এরকম হাজারও কিছু করতে পারি। তাই, পারতপক্ষে, এই প্রাকৃতিক অসীম ক্ষমতা-কে, উল্টা-পাল্টা রাসায়নিক দ্রব্য প্রবেশ করিয়ে নষ্ট না করাই ভালো।
***দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আপনার এই শরীর নিয়ে চলছে বড় রকমের বাণিজ্য যেমনঃ খাদ্য ও পানীয় বা নেশা জাতীয় কোপানি। কিন্তু, সব থেকে বড় বাণিজ্য টি করছে ঔষুধের কোম্পানি গুলো এবং কতিপয় চিকিৎসক নামের “প্রতারক চক্র”।
***আমাদের দেহের বেশ কিছু অসুখ জিন বা বংশগত (Hereditary) কারনে হয় এবং খাবার ও পানীয় এবং জীবন-যাপনের ধরন সেগুলোকে ত্বরান্বিত করে যেমনঃ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্ট্রল ইত্যাদি। তাই, জ্বীন (or DNA)-এর এমন কিছু পরিবর্তন করা দরকার যাতে ওই অসুখ গুলো যেন আর বংশক্রমানুসারে না চলে আসে। যেমনঃ যে জিন (or DNA) ওই রোগ বা অসুখ তা বহন করে, তাকে পরিবর্তন করে ফেলা বা অকর্মক্ষম বা সুপ্ত করে দেওয়া। হয়ত, রোগ প্রবাহিত না হওয়ার (প্রতিরোধ) এই উপায় আছে কিন্ত ওই যে বাণিজ্য!!!ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এসব না হলে ব্যবসা হবে কিভাবে??
আবার যদি, বংশগত রোগ প্রবাহিত হওয়ার এই উপায়, আবিষ্কৃত নাও হয়ে থাকে, সেগুলো চিকিৎসার জন্যে আপনার ঔষুধের তেমন কোন প্রয়োজন নেই। স্বাস্থসম্মত খাবার এবং এক্সারসাইজ-এর মাধ্যমেই বেশিরভাগ অসুখ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু ওই যে, বাণিজ্য!!! ঔষুধের ১ টি উপকার তো ১০ টি ক্ষতি। আপনাকে, মাকড়সার জালের মতো বেঁধে ফেলা হচ্ছে। যেমনঃ আপনার উচ্চ কোলেস্ট্রল (Hyperlipidemia or Hypercholesterolemia) আছে। এখন, তার জন্যে ঔষুধ (যেমনঃ Statin) খাবেন, ওটা খেলে আপনারা মাংসপেশির ব্যথা হবে। এখন, মাংসপেশির ব্যাথার জন্যে, ব্যাথার ঔষুধ (যেমনঃ Naproxen) খাবেন, ওটা খেলে আপনার, গ্যাস্ট্রিক হাইপার এসিডিটি বা আলসার হবে। এখন, গ্যাস্ট্রিক হাইপার এসিডিটি বা আলসার-এর জন্যে ঔষুধ (যেমনঃ Omeprazole) খাবেন, ওটা খেলে আপনার, হাড় দ্রুত ক্ষয় (Osteoporosis) বা বাত (Osteoarthritis) জাতীয় অসুখ হবে হবে। ফলে আবার ব্যথা এবং অন্যান্য উপসর্গ হবে, যার জন্যে, এখন আবার ঔষধ খাবেন বা সব শেষে সার্জারি করবেন। এরকম চলতেই থাকবে। কোথায় যাবে বাবা!!!
***অথচ, স্বাস্থসম্মত খাবার এবং এক্সারসাইজ-এর মাধ্যমে, খুব সহজেই কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই উচ্চ কোলেস্ট্রল নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। তাছাড়া, এক্সারসাইজ করলে, যে জ্বীন (DNA) উচ্চ কোলেস্ট্রল-এর জন্য দায়ী, তাকে ভোঁতা বা সুপ্ত করে দিতে পারেন (Epigenetic effect), যাতে আপনি এবং আপনার পরবর্তী প্রজন্ম ওই উচ্চ কোলেস্ট্রল রোগ থেকে মুক্তি পাই।
***নিয়মিত স্বাস্থসম্মত খাবার খেলে এবং এক্সারসাইজ করলে, আপনি হাজারো রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। তাছাড়া, বয়স্কজনিত কিছু অসুখ যেমনঃ বাত হলেও, আপনার ঔষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি সারা জীবন সুস্থ (ব্যাথা ও অন্নান্য উপসর্গ) ও কর্মক্ষম থাকতে পারবেন।
***কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ রোগ বা অসুখের জন্যে আপনার কাটা-ছেড়া করার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে, (যেমনঃ হাঁটুর আর্থ্রোস্কোপি সার্জারি, কোমরের ডিসেকটোমি ইত্যাদি) সার্জারির দীঘমেয়াদী কোন উপকার নেই। বরং, এইসব সার্জারি আপনার দৈনন্দিন নানারকম কাজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আসবে এবং নানা উপসর্গ দেখা দিবে। কিন্ত ওই যে বাণিজ্য!!!, মানুষরূপী পশুগুলো টাকার লোভে সিজারিয়ান সেক্শন সহ নানা অপ্রয়োজনীয় (প্রয়োজন না হলেও) সার্জারি করছে, আপনার দেহ নিয়ে কাটা-ছেড়া করছে।
***এখন বুঝতে পারছেন, কেন ঔষুধ কোম্পানি গুলো ওই সব মানুষরূপী পশু গুলো-কে কোটি কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি, ল্যাপটপ ইত্যাদি উপহার (ঘুষ) দিচ্ছে!!! হ্যা, আপনার জীবন-কে নিয়ে খেলা করার জন্যে!!!
>>>আসুন, আমাদের শরীরের অসীম ক্ষমতা গুলো-কে ব্যবহার করতে শিখি, অপ্রয়োজনে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য (ঔষুধ) শরীরে প্রবেশ না করাই এবং অপ্রয়োজনে আমাদের শরীর-কে কাটা-ছেড়া না করি।
Written by,
Dr. Md Rasel Rana
Doctor of Physical Therapy/Physiotherapy (DPT), Northeastern University, Boston, MA, USA.
Master of Science (MS) in Exercise Science, Arkansas State University, Jonesboro, AR, USA.