25/03/2026
পরিচ্ছেদঃ ২৭০০. আমলে মধ্যমপন্থা এবং নিয়মিত করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৬০১৯ , আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬৪৬৩
৬০১৯। আদম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কস্মিনকালেও তোমাদের কাউকে নিজের আমল নাজাত দেবে না। তাঁরা বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকেও না? তিনি বললেনঃ আমাকেও না। তবে আল্লাহ তা'আলা আমাকে রহমত দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। তোমরা যথারীতি আমল কর, ঘনিষ্ঠ হও। তোমরা সকালে, বিকালে এবং রাতের শেষাংশে আল্লাহর কাজ কর। মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। আকড়ে ধর মধ্যমপন্থাকে, অবশ্যই সফলকাম হবে।
এই হাদীসটি সহীহ বুখারীর ২৭০০ নম্বর পরিচ্ছেদের অন্তর্গত, যা ‘আমলে মধ্যমপন্থা এবং নিয়মিত করা’ শীর্ষক। এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট করেছেন: জান্নাতে যাওয়া বা নাজাত লাভ করা solely নিজের আমলের কারণে সম্ভব নয়; বরং তা একান্তই আল্লাহর রহমতের ফল।
হাদীসটির মূল বক্তব্য ও শিক্ষা নিম্নরূপ:
১. আমলের ওপর নির্ভরতা না রাখা:
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের বললেন, “তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না।” সাহাবীরা জানতে চাইলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকেও না?” তিনি উত্তরে বললেন, “আমাকেও না। তবে আল্লাহ তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে আচ্ছাদিত করে রেখেছেন।” অর্থাৎ, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মতো সর্বোচ্চ মর্যাদার ব্যক্তিও শুধু আমলের ভিত্তিতে মুক্তি পাওয়ার দাবি করতে পারেন না, বরং আল্লাহর অনুগ্রহই মুখ্য।
২. আমলের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা (মধ্যপন্থা):
তিনি বললেন, “তোমরা যথারীতি আমল কর, ঘনিষ্ঠ হও।” আরবি শব্দ سَدِّدُوا (সাদ্দিদু) অর্থ “সঠিক পথে থাকো, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো” এবং وَاقْتَرِبُوا (ওয়াকতারিবু) অর্থ “(সত্যের) নিকটবর্তী হও।” অর্থাৎ, এমনভাবে আমল করতে হবে যা কঠিন বা অতি উৎসাহী নয়, বরং ধারাবাহিক ও সম্ভবপর।
৩. সময়ের গুরুত্ব ও ধারাবাহিকতা:
“তোমরা সকালে, বিকালে এবং রাতের শেষাংশে আল্লাহর কাজ কর।” এখানে দিনের বিভিন্ন অংশে নিয়মিত ইবাদতের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে “রাতের শেষাংশ” (তাহাজ্জুদ) অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে সব ক্ষেত্রেই ক্লান্তিকর না হয়ে স্থিরতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
৪. চূড়ান্ত সাফল্যের নিশ্চয়তা:
“মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর। আকড়ে ধর মধ্যমপন্থাকে, অবশ্যই সফলকাম হবে।” এখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই আমলই প্রকৃত সাফল্যের চাবিকাঠি। অতি উৎসাহে শুরু করে দ্রুত থেমে যাওয়ার চেয়ে অল্প কিন্তু নিয়মিত আমল বেশি পছন্দনীয়।
সারকথা:
এই হাদীসটি ইবাদতের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার নির্দেশ দেয়। একদিকে যেমন নিজের আমলকে ‘মুক্তির একমাত্র মাধ্যম’ ভাবার অহংকার থেকে সতর্ক করে, তেমনি অন্যদিকে আল্লাহর রহমতের আশায় আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে সর্বোচ্চ ইবাদত করতেন, কিন্তু সাহাবীদের উৎসাহ দিতেন এমন আমল করতে যা তাঁরা ধারাবাহিকভাবে করতে সক্ষম।