23/01/2026
✅ আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তুলসীর ১৬ টি গুণাগুনঃ-তুলসী একটি মহা-মূল্যবান ঔষধিগাছ। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। এর পাতা, বীজ, ডাল সবকিছুই মানুষের উপকারে লাগে। আয়ুর্বেদে তুলসীকে ভেষজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
তুলসী সর্দি, কাশি, কৃমি ও বায়ুনাশক এবং মুত্রকর, হজমকারক ও এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বুদ্ধি ও স্মরণশক্তি বাড়াতে প্রতিদিন ৫-৭টা তুলসী পাতা খেতে পারেন। আসুন জেনে নিন এর ১৬ টি পুষ্টিগুণ-
১. জ্বর প্রতিরোধে-
জ্বর হলে পানির মধ্যে তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে ভাল করে সেদ্ধ করুন। তুলসী পাতা, গোল মরিচ এবং মিশ্রী মিশিয়ে সিরাপ তৈরি করুন। দিনের মধ্যে তিন-চার বার সিরাপ খেলে জ্বর খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।
২. ডায়রিয়া হলে-
পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরের সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খেলে পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. ত্বকের বলীরেখা ও ব্রন দূর করতে-
ত্বকের চমক বাড়ানো, ত্বকের বলীরেখা এবং ব্রন দূর করার জন্য তুলসী পাতা পিষে মুখে লাগান। স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৫-৭ টা তুলসী পাতা চিবান। ত্বকের সমস্যা দূর করতে তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগান।
৪. মূত্রাশয়ের জ্বালা যন্ত্রনায়-
প্রস্রাবে জ্বালা হলে তুলসী পাতার রস ২৫০ গ্রাম দুধ এবং ১৫০ গ্রাম জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করুন। তুলসীর বীজ পানিতে ভিজালে পিচ্ছিল হয়। এই পানিতে চিনি মিশিয়ে শরবতের মত করে খেলে প্রস্রাবজনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার হয়।
৫. সর্দি-কাশিতে তুলসী-
ছেলেমেয়েদের সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার রস ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে কয়েকটি তাজা তুলসী পাতার রসের সাথে একটু আদার রস ও মধুসহ খাওয়ানো হয়। বাচ্চাদের সর্দি-কাশিতে এটি বিশেষ ফলপ্রদ। তাজা তুলসী পাতার রস মধু, আদা ও পিঁয়াজের রসের সাথে এক সাথে পান করলে সর্দি বের হয়ে যায় এবং হাপানিতে আরাম হয়।
৬. আমাশয়, রক্ত-
তুলসী পাতার রসে মধু মিশিয়ে খাওয়ালে বাচ্চাদের পেট কামড়ানো, কাশি ও লিভার দোষে উপকার পাওয়া যায়। এটি হজমকারক। প্রতিদিন সকালে ১৮০ গ্রাম পরিমান তুলসী পাতার রস খেলে পুরাতন জ্বর, রক্তক্ষয়, আমাশয়, পায়ু পথে রক্ত পরা রোগ ভালো হয়ে যায়।
৭. চর্মরোগে-
তুলসী পাতা ও দুর্বার ডগা বেটে গায়ে মাখলে ঘামাচি ও চুলকানি ভাল হয়। যে কোনো চর্মরোগ বা ঘা দ্রুত কমাতে তুলসী পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘা এর স্থানে লাগান, কমে যাবে।
৮. ম্যালেরিয়া জ্বর-
তুলসীর পাতা ও শিকড় ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য বেশ উপকারী। ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে প্রতিদিন সকালে গোল মরিচের সাথে তুলসী পাতার রস খেতে দেয়া হয়। বসন্ত, হাম প্রভৃতির পুঁজ ঠিকমত বের না হলে তুলসী পাতার রস খেলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসবে।
৯. বক্ষপ্রদাহ ও উদারাময়-
তুলসী পাতার রসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ক্রিমি রোগে বেশ উপকার পাওয়া যায়। শুষ্ক তুলসী পাতা সর্দি, স্বরভঙ্গ, বক্ষপ্রদাহ, উদারাময় প্রভৃতি রোগ নিরাময় করে থাকে।
১০. কানের ব্যথায়-
তুলসী পাতার রস ফোঁটা ফোঁটা করে কানে দিলে কানের ব্যথা ও কান থেকে পুঁজ পড়া রোগ সেরে যায়।
১১. বাত ব্যথায়-
অর্শ এবং অজীর্ণ রোগ সেরে যায়। বাত ব্যথায় আক্রান্ত স্থানে তুলসী পাতার রসে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পট্টি দিলে ব্যথা সেরে যায়।
১২. বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ কামড়ালে-
বোলতা, ভীমরুল, বিছা প্রভৃতি বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ কামড়ালে ঐ স্থানে তুলসী পাতার রস গরম করে লাগালে জ্বালা-যন্ত্রণা কম হয়।
১৩. যৌনদূর্বলতা-
তুলসী পাতার রস, এলাচ গুঁড়া এবং এক তোলা পরিমাণ মিছরী মিশ্রণ পান করলে ধাতু পরা সমস্যা ভালো হয়। এটি অত্যন্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক। প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ তুলসী গাছের শিকড় পানের সাথে খেলে যৌনদূর্বলতা রোগ সেরে যায়।
১৪. শ্লেষ্মা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে-
তুলসী পাতা গরম পানিতে সেদ্ধ করে সে পানিতে গড়গড়া করলে মুখ ও গলার রোগজীবাণু মরে, শ্লেষ্মা দূর হয় ও মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে দিনে ৪-৫ বার তুলসী পাতা চেবান ৷
১৫. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে-
এটি উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে হৃদপিণ্ডের রক্ত সরবরাহের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এটি যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
১৬. পোড়া দাগ-
শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ্বালা কমবে। পোড়া জায়গাটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। সেখানে কোন দাগ থাকবে না।
এই ওষধি পাতা সারাবছরই ব্যবহার করা যায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গাছ আমাদের পরিবেশে, বনে-ঝোপে প্রাকৃতিক পরিবেশে খুব বেশি আর টিকে নেই। তুলসী গাছের বাতাস ও যথেষ্ট উপকারী। আসুন পরিবেশ বাঁচাতে গাছ রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলি।