Dr Kaya প্রবণতা

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/185969373821849/?app=fbl
12/09/2022

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/185969373821849/?app=fbl

আমার_নেশা_তুমি
Collected
পর্ব : ১

"ভাগ্য কতটা নির্মম। আজ কি না আমার বাবা আমাকে টাকার জন্যে বিক্রি করে দিবে। হায় আল্লাহ কি নিষ্ঠুর দুনিয়া তোমার। এর থেকে ভালো আমার নিয়ে যাও। জানি আমার বিশ্ব নবী বলে গিয়েছে, যেমন পরিস্থিতিতেই থাকি না কেন নিজের মৃত্যু কামনা যেন না করি। কিন্তু আল্লাহ যেখানে আমার বাপ আমায় বেচে দিচ্ছে অন্যের কাছে সেখানে আমার কি বলার আছে? আল্লাহ আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করো। এমন জঘন্য কাজ থেকে বিরত রাখো।"

আনিসা নিজের মনে মনে কথা গুলি বলে ডুকরে কেঁদে উঠে।

তার বাবা মাদকাসক্ত। যেমন তেমন নয় খুব বেশিই রকম। যাকে কি না বলে "সব সীমার উর্ধ্বে।"
এই নেশার কারণে আনিসুর মিয়া তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছে। বিঘা বিঘা জমি ছিল তার। নেশা আর জুয়া খেলায় সব শেষ করে দিয়েছে।
অবশেষে তার সম্বল হলো এই থাকার বাড়ি আর মেয়ে আনিসা।

আনিসার মা এক বছর আগে মারা গেছে। মা মরা মেয়ের উপর এখন নরপশু নিজের জোর খাটাচ্ছে। তাকে এক জনের কাছে বিক্রি করে দিয়ে টাকা নিবে এক কোটি। মা থাকলে হয়তো তার উড়শের সন্তান কে এমন বিপদে ফেলতে দিত না। কিছু একটা করতই।

মেয়ের দাম এক কোটি। কম দাম নাকি? এমন মানুষ এক কোটি কেন? ১০ হাজার টাকা দিলেও হয়তো অমত করবে না মেয়ে দিয়ে দিতে।

আনিসা ভাবছে কি করবে? বয়সও তার বেশি নয়। ১৮ ও হয়নি। এই বছর এইচএসসি দিবে। সদ্য ফোটে উঠা ফুল টা কে পরিপক্ব হওয়ার আগেই ঝরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাও আবার জন্ম দেওয়া পিতা। যারই রক্ত বইছে তার শিরা উপশিরায়।

সে ভেবে পায় না বাবা কি এমন হয়? যে কি না নেশা করবে বলে নিজের মেয়ে কে বিক্রি করে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজেও দুইবার ভাবে নি।

আনিসা বাবার পায়ে ধরে অনেক কান্না কাটি করেছে বার কয়েক। কোনো লাভ হয়নি।
বারবার তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে খারাপ কথা বলে। লাথি দিয়ে মাটি তে ফেলে দিয়েছে। তবুও আনিসা বারবার বাবার কাছে যাচ্ছে। যদি একটু দয়া হয় ওই নিষ্ঠুর মনে।

আখেরে কোনো লাভই হলো না।

আনিসা সকাল থেকে কান্না করতে করতে জীবন যেন এখন তার দুর্ভিক্ষ তে রূপান্তর হয়েছে। সেখানে আশার কোনো আলোই চোখে পরছে না। তবে কি বাবার দেওয়া জীবনি তাকে মেনে নিতে হবে?

সকাল থেকে মুখে পানি পর্যন্ত নেয় নি মেয়ে টা। মুখ শুকিয়ে পাণ্ডুর হয়ে গিয়েছে। চোখ গুলি ফ্যাকাসে লাগছে যেন রক্ত বিহীন চক্ষু। আনিসার লাল চিকন ঠোঁট গুলিও শুকিয়ে সাদা হয়ে আছে। তার সেই ঝমকালো লাবণ্য এখন চেহারায় বিরাজ করছে না।

করবেই বা কি করে? এমন অবস্থায় থাকলে কি আর রূপ লাবণ্য দেখা যায়?

আনিসা এখন ঠিক মতো কান্নাও করতে পারছে না। শরীর খুব কাঁপছে। বসে থাকতেও বেশ কষ্ট হচ্ছে তার।
তবুও শেষ বারের মতো বাবার কাছে নিজের জীবনের এমন হাল যেন না হয় তার কথা জানাবে। হ্যাঁ জানাবে।

আনিসুর মিয়া মদ খেয়ে টাল হয়ে আছে। তার মদ খাওয়ার কোনো সময় লাগে না। সকালে দুপুরে বিকেলে রাতে যখনি মন চায় পানির মতো গলায় ঠেলে দেয়।

রাত ৭ বা ৮ টা বাজে। আনিসা সঠিক তা জানে না। এত কিছু জানার তার দরকার নেই। সে নিজের এক সুন্দর জীবন নিয়ে চিন্তিত। যা সবাই আশা করে। সবার কাম্য। আনিসা জানে না সে তেমন জীবন আদৌও পাবে কি না। তবুও চেষ্টা করেই চলছে।

আনিসা ধীর পায়ে বাবার দিকে এগিয়ে যায়। আনিসুর মিয়া তখন বিছানায় বসে হেলছে ঢুলছে আর গলায় পানির ন্যায় হারাম মদ গিলছে।

আনিসা গিয়ে তার বাবার সামনে দাঁড়ায়। আনিসুর একবার দেখে আবার মদ পানে ব্যস্ত হয়ে যায়।

সে গিয়ে তার বাবার পা জড়িয়ে ধরে।
"বাবা আমায় দয়া করো তুমি। তোমায় আমি মানুষের বাসায় কাজ করে টাকা দিব। তবুও আমায় বিক্রি করে দিও না।"

কথা গুলি বলতে আনিসার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। খুব খারাপ লাগছিল। তবুও তাকে বলতে হবে।

"বাবা এমন করো না। আমি মাসে মাসে তোমায় টাকা দিব। আমার পড়ালেখা শেষ হয়ে গেলে চাকরি করে টাকা দিব। তবুও এমন করো না বাবা।"

মেয়ের কথা শুনে আনিসুর মিয়া মদ খাওয়া রেখে তার দিকে তাকায়। "তুই টাকা দিবি?"
"হ্যাঁ বাবা আমি বাসায় কাজ করে তোমায় টাকা দিব।"
"সেটা বহুত দেরি। মাসে মাসে। আর তোকে ওই মানুষ টার কাছে দিলে এক কোটি টাকা পাবো এক সাথে। আর মাসে মাসে দিলে সারা মাস আমি মদ খাবো কি করে? জ্বালাতন করিস না তো সর।"

আনিসুর মিয়া মেয়ে কে লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দেয়।
আনিসা তবুও আবার গিয়ে বাবার পা বুকের সাথে জড়িয়ে কান্না করে বলতে থাকে,
"বাবা এমন করো না। তোমার পায়ে পড়ি আমার বাবা এমন করো না। এমন নিষ্ঠুর হইও না। দয়া করো আমার উপর।"

আনিসুর মদের ঘোরে এবার শক্তে আনিসা কে পা দিয়ে ঠেলে দেয়। যার ফলে আনিসা ঘাটের পাশে গিয়ে হুমড়ে পরে। কপাল ফেটে রক্ত পরছে মেয়ে টার।

"বিরক্ত করিস না তো আমায় ঠিক মতো খেতে দেয়। যা এখান থেকে। এত জ্বালাতন আমার ভালো লাগে না।"

আনিসুর মিয়া নিজের কথা শেষ করে আবার গলায় মদের বোতল ঠেলে দেয়।

আনিসা কান্না করে করে ভাবতে থাকে,
"এই মানুষ টা তো কারবালার ময়দানের সীমারের চেয়েও নিষ্ঠুর নির্দয়। এই মানুষ কে বলার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। এমন নির্দয় মানুষ দুনিয়াতে আছে?"

আনিসা নিজের সাথে কথা গুলি বলে তার ঘরে চলে যায়।

নিচে বসে ঘাটের সাথে মাথা হেলিয়ে দেয়। মাথাটা তার খুব ব্যথা করছে। ভার লাগছে। শরীরে শক্তি পাচ্ছে না। কপাল দিয়ে গরম রক্ত পরছে। চোখ গুলি কেমন প্রদীপের মতো নিভে আসছে। আনিসা আর কিছু ভাবতে পারছিল না। শরীর ক্রান্ত, এত কান্না, খালি পেট তার উপর কপাল দিয়ে রক্ত পরছে। আনিসা আর নিতে পারছিল না। ওভাবেই ফ্লোরে বসে ঘাটে মাথা হেলান দিয়ে চোখের পাতা নিভিয়ে নেয়।

কতক্ষণ ঘুমাল তা সে জানে না। কিন্তু ঘুম ভেঙ্গে গেল দরজায় কড়া নড়ার শব্দে।

আনিসা উঠবার শক্তি পাচ্ছে না। তবুও উঠে। আনিসুর মিয়া মদ খেয়ে হয়তো শুয়ে আছে। তার হুস নেই।

আনিসা মাথার ওড়না টেনে আস্তে আস্তে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।

"আসসালামু আলাইকুম ম্যাম।"

লোকটার কথা শুনে আনিসার খুব অবাক লাগে। কালো প্যান্ট কালো কোট কালো সু পড়া এমন এক লোক তাকে ম্যাম ডাকছে বিষয় টা তো অবাক হওয়ার মতোই।
লোক টার হাতে একটা সুটকেস। আনিসা বুঝতে পারল এটা হয়তো তাকে নিয়ে যাওয়ার টাকা।

আনিসা সড়ে আসে দরজা থেকে।

লোক টা গিয়ে আনিসুর মিয়া কে ডেকে তুলে। তার হাতে টাকা দেয়।

"আমি এখন আপনার মেয়ে কে নিয়ে যেতে পাড়ি?"
"হুম নিয়ে যাও।"

আনিসুর মিয়া মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
"যা মা যা উনার সাথে যা। ভালো থাকিস।"

কথা শেষ করেই আনিসুর মিয়া টাকায় হাত বুলাতে থাকে।
"ম্যাম চলুন আমাদের দেরি হয়ে যাবে।"

আনিসা খুব অবাক হয়। ভীষণ ভাবে অবাক হয়। লোক টা এই ভাবে কেন কথা বলছে তার সাথে? তাকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে অথচ তাকেই ম্যাম ডাকছে। আনিসা কিছুই বুঝতে পারে না।

"ম্যাম চলুন।"
"আসছি।"
"ম্যাম।"
".....
"আপনার কোনো ড্রেস কিংবা কিছু নিয়ে যেতে হবে না।"

আনিসা কিছু না বলে লোক টা কে রেখে দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। লোক টা একবার আনিসুর মিয়ার দিকে তাকিয়ে আবার ছুটে চলে বাহিরে।

গাড়ির সামনে গিয়ে পেছনের দরজা খুলে দিয়ে আনিসা কে বলে,
"ম্যাম উঠুন।"

আনিসা কথা না বাড়িয়ে উঠে বসে। তার অবাকের সীমা থাকছে না। লোকটার ব্যবহারে সে অবাক না হয়ে পারছে না। লোক টা তাকে এক কোটি টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে গেল অথচ তাকে ম্যাম বলছে, সম্মান দিচ্ছে। আনিসার মাথায় কিছুই ডুকছে না।

সে চুপ করে বসে আছে।
অবশেষে সেই অন্ধকার জীবনই তাকে পেতে হলো। ভেবেছিল বোরকা পড়ে আসবে। কিন্তু তা আর করল না। কি হবে করে? এখন তার জীবন তো সাধারন ভাবে চলবে না। অন্যের অধীনে থাকতে হবে। যে তাকে কিনে নিয়ে গেল। হয়তো ভালো কারণে নেয়নি। নিশ্চয় কারণ টা হবে "ভোগ বিলাশ।"

আনিসা ছোট তবে এই টুক বুঝার মতো বয়স তার হয়েছে।
"আমাদের দেশের নির্দিষ্ট কিছু বয়সে সবার মাঝে কমন কিছু জ্ঞান স্বাভাবিক ভাবে চলে আসে।"

আনিসা চুপ করে বসে আছে। কপালে রক্তের দাগ। ড্রাইভ করা লোক টা সামনের লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখল আনিসা কে।

"ম্যাম আপনার বাবা বুঝি আপনায় মেরেছে?"

লোকটার কথায় রানি চুপ ছিল। কিন্তু মুখে তাচ্ছিল্যের একটা হাসি টেনে আনল।

লোকটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল,
"ম্যাম জানেন স্যার খুব ভালো মানুষ। আপনি তার কথা মতো চললে সে আপনায় হয়তো মাথায় করে রাখবে। যদিও আমি সব টা জানি না। কিন্তু এটা জানি স্যারের অবাধ্য হলে স্যার ভীষণ রেগে যায়। আর রাগ উঠলে যা খুশি করে। খুব রাগি তো স্যার তাই। কিন্তু মানুষ ভালো।"
লোক টা কথা শেষ করে দম নেয়। আনিসা তবুও চুপ থাকে। কিন্তু সে বেশ বুঝতে পাড়ে এই লোক তাকে কিনে নেয়নি।

তাকে অন্য কেউ কিনেছে। যে এই লোকের স্যার। তাই হয়তো তাকে ম্যাম বলছে সম্মান করছে। আনিসার আগ্রহ লাগে তবুও মনের মাঝে ভয় কষ্ট লুকিয়ে থাকে।

আনিসা ফের চুপ করে জানালার বাহিরে নজর দেয়। বাহির দৃশ্য দেখতে থাকে। অন্ধাকার কালো শহরের মাঝে হয়তো ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বলছে কিন্তু তার অন্ধকার জীবনে হয়তো আর আলো থাকবে না।

আনিসার বুকের ভেতর এক অজানা কষ্ট আর ভয় উত পেতে রয়েছে।

চলবে....

(গঠনমূলক কমেন্ট চাই))

Next part at 10 AM

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/186068710478582/?app=fbl
12/09/2022

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/186068710478582/?app=fbl

আমার_নেশা_তুমি
পর্ব : ২

গাড়ি টা বড় এক গেইটের ভেতর দিয়ে বিশাল বড় এক প্রাসাদে গাড়ি ব্রেক নিল।

লোক টা সিটবেল খুলে গাড়ি থেকে নামে। তাড়াতাড়ি করে দরজা টা খুলে দেয় আনিসার।
উপর থেকে এক ছায়া মানব তাদের দেখছিল।

আনিসা ভীত পায়ে নেমে যায়। মাথা বেশ উঁচু করে প্রাসাদ ন্যায় বাড়ি টা দেখে নেয়। চারপাশের গাছে লাইট লাগানো। কি সুন্দর একটা বাড়ি। আনিসা ঘাড় গুরিয়ে দেখছিল বাসা টা।

আনিসা নামতেই ছায়া মানব হঠাৎ উধাও হয়ে যায়।

"ম্যাম আসুন।"
লোক টা আনিসা কে নিয়ে ভেতরে যাচ্ছে। আনিসা লোক টার পিছন পিছন তাকে অনুসর করছে।

ইয়া বড় এক দরজা ঢেলে তারা ভেতরে গেল। ভেতরে গিয়ে আনিসা আরো অবাক হয়। এ সে কোথায় এলো? সত্যিই কোনো রাজ প্রাসাদে চলে এলো নাকি কোনো রূপ কথার দেশ এটা? এমন তো শুধু মানুষ মুভি তে কিংবা কল্পনায় দেখে।

আনিসা মুগ্ধ হয়ে আশপাশ দেখছিল। চোখ তার ছানাবড়া হয়ে আছে। মানুষ কত টা সৌখিন আর বিলাশ বহুল হলে এমন করে নিজের বাসা সাজায় তা আনিসা হাঁড়ে হাঁড়ে দেখছে।

লোক টা আনিসা কে সিঁড়ি দিয়ে উপরে নিয়ে যাচ্ছে। আনিসাও কথা না বাড়িয়ে তার পেছন যাচ্ছে।
এখানে বলার মতো তো তার কিছুই নেই। সে তো এখন নিতান্তই এক দাসী।

লোক টা তাকে নিয়ে এক বিশাল ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে যেতে বলল।

অথচ সে বাহিরে থেকেই ভেতরে কাউকে বলছে,
"স্যার নিয়ে এসেছি।"
হাতের একটা ইশারা পেয়ে লোক টা কোনো শব্দ ছাড়াই চলে যায়।

এতক্ষণ আনিসা কিছুই খেয়াল করেনি। শুধু রুমের আশপাশ দেখছিল। এই রুমে থাকলেও মনে হয় জীবন সার্থক হয়ে যাবে। রুম দেখে এমন টাই মনে করছে আনিসা।

কারো সাড়াশব্দ না পেয়ে আনিসা দরজার বাহিরে তাকায় লোক টা কে দেখার জন্যে। কিন্তু লোক টা তখন সেখানে ছিল না।

তাই আনিসা আরো একটু এগিয়ে যায়। সামনে পড়ে একজন পিছল ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা মানব। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু সে একটা সাদা শার্ট পড়ে আছে। যতটা সম্ভব আনিসা বুঝতে পেরেছে মানুষ টা প্যান্টের প্যাকেটে হাত দিয়ে পা একটু ফাঁক করে দাঁড়িয়ে আছে। শরীরের গঠন গাঠন মাশাল্লা লাগল আনিসার। জিম বডি শার্ট বেদ করে মনে হয় বের হয়ে আসবে আসবে। পিছন দেখেই আনিসার মনে হতে লাগল এ যেন কোনো রাজপুত্র আর এটা তার রাজপ্রাসাদ।

আনিসা অবাক হয়ে দেখছে আর ভাবছে। রূপকথার দেশে চলে এলো ও স্বপ্নে? ঘুম ভাঙ্গলেই কি সব টা আগের মতো হয়ে যাবে?

আনিসা এক নজরে দেখছে। হঠাৎ করেই মানুষ টা আস্তে আস্তে তার দিকে ফিরল।

আনিসার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এই মনে হয় তার হার্টবিল ফল হবে। এই বুঝি ভেতরের জান বের হয়ে আসবে তার। ড্যাবড্যাব করে দেখছে। তার ধারণা ভুল না। এই মানব যেন কোনো রাজপুত্র থেকেও বেশি। কি সুন্দর মুখ, কি সুন্দর চেহারা, চাঁপ দাঁড়ি, হাল্কা একটু লম্বা চুল পাম করা। হল্কা লাল আভা যুক্ত ঠোঁট। যেন কমলালেবু। কত টা সুদর্শন আর মোহনীয়। আনিসা এমন সুদর্শনে পুরুষ হয়তো এর আগে দেখেনি। কখনোই দেখেনি। কোনো ছেলের দিকে এভাবে তাকানোও হয়নি তার। বুকের ভেতর ধুকবুক করা স্পন্দন ক্রমশ বাড়ছে তার। মনে হচ্ছে হার্টবিট তার কাজ করার বন্ধের বদলে বারিয়ে দিয়েছে। যেন তার মৃত্যু হয়।

লোক টা ধীর পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে।

আনিসা কে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে। আনিসার দুধু আলতা গায়ের রঙ এর দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। মাথায় ওড়না টানা অথচ চুল এলোমেলো। চিকন লাল টকটকে ঠোঁট পানসে বর্ণ ধারণ করেছে। ডাগরডাগর চোখ তার ঘন কালো পাঁপড়ি। এই মন মাতানো সুন্দরের মাঝে কপালে লেগে থাকা রক্ত। সব মিলিয়ে আনিসার দিকে তাকিয়ে আছে মানুষ টা। খুব মনে ধরেছে তার। এক কথায় মনে গেঁথে গিয়েছে।

মানুষ টা একদম তার দিকে চলে এসেছে। আনিসার নিশ্বাস আরো বন্ধ হয়ে আসছে। শুকনো ঢুক গিলল। এতক্ষণ এক মোহের মাঝে ছিলেও এখন ভয় হচ্ছে।
তবুও সে সেই মোহের রেশ পুরোপুরিভাবে ছেড়ে উঠতে পারেনি।

"আনিসা!"

মানুষটার মুখে তার নাম শুনে আনিসা বেশ অবাক হয়। এই লোক তার নাম জানে কি করে? পরক্ষনে সে ভাবে, হয়তো কিনে আনার আগে তার পিশাচ বাবার কাছ থেকে জেনেছে। আনিসা আর কিছু বলে না। তবে ভয় হয়।

মানুষটা তার আরো কাছে চলে আসে। যাকে বলে খুব কাছাকাছি।
"আনিসা। এর অর্থ জানো?"
"....
"আনিসা অর্থ কুমারী। নামের সাথে পুরোপুরি মিল আছে। যাকে বলে পারফেক্ট। তোমার সর্ব অঙ্গে কুমারীর শ্রী দেখতে পাচ্ছি আমি। এ এক মোহ। চোখ ধাঁধালো সৌন্দর্য। সদ্য ফুটে উঠা এক ফুল।"

কথাটা শেষ করে মানুষ টা হাত দিয়ে আনিসার চিবুক উপরে তুলে।

মুহূর্তে আনিসা কেঁপে উঠে চোখ বন্ধ করে নেয়। দম টাও কেন যেন তার বন্ধ হয়েই আসছে। এই প্রথম কোনো পুরুষাঙ্গের সান্নিধ্যে আছে সে।

আনিসা চাইলেও কিছু বলতে পারছে না। চুপ করে আছে। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তার।

"লজ্জা পেলে নারীদের রূপ খুলে যায়। ভয়ংকর মাধুরী বিরাজ করে তখন তাদের। তুমিও সেই দলে।"

কথাটা শেষ করেই মানুষ টা হাত সরিয়ে নেয়। আনিসা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কারো সান্নিধ্য অনুভব না করে চোখ মেলে তাকায়। কেউ নেই। আশপাশ তাকিয়ে দেখে মানুষ টা ড্রয়ারে কিছু খুঁজচ্ছে। আনিসা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।

মানুষটা হাতে একটা বক্স নিয়ে আনিসার হাত ধরে। টেনে সোফার কাছে নিয়ে যায়।

ইশারা করে বসতে। কিন্তু আনিসা তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
"বসো এখানে।"
আনিসা কিছু না বলে বসে।

মানুষ টা বক্স থেকে স্যাভলন নিয়ে আনিসার কপালে লাগিয়ে দিচ্ছে। তারপর ছোট ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিতে দিতে বলল,
"শ্রেয়ান। আমি শ্রেয়ান চৌধুরী। কাউকে আমি আমার নাম ধরে ডাকার পারমিশন দেই না। তবে তুমি শ্রেয়ান বলেই ডাকতে পারো।"

শ্রেয়ান কথা শেষ করে আনিসার দিকে ঝুঁকে ব্যান্ডেজ লাগাতে থাকে।

আনিসা বেশ বিস্মিত হয়। কাউ কে নিজের নাম ডাকতে দেয় না। অথচ তার থেকে কত ছোট এক মেয়ে কে বলছে তার নাম নিয়ে ডাকতে। কিন্তু কেন? আনিসা হিসাব বুঝতে পারে না।

শরীর টা আনিসার ভীষণ খারাপ লাগছে। না খাওয়ার কারণে আরো দূর্বল লাগছে। শরীরে শক্তি আর যেন অবশিষ্ট নেই।

"যাও গিয়ে শুয়ে পড়ো।"
শ্রেয়ান কথা টা বলে চুপ মেরে যায়। আনিসা অস্বস্তি বোধ করে চুপচাপ বসে আছে।

শ্রেয়ান তার দিকে একটু ঝুঁকে যায়। সোফায় এক হাত রেখে আনিসার মুখের কাছে গিয়ে বলে,
"মেয়ে আমার কথা নিবে না এত। যা বলি তাই করবে। কথা না মানলে শ্রেয়ানের রাগ তোমার মতো পিচ্চি নিতে পারবে না। মাইন্ড ইট। যাও গিয়ে শুয়ে পড়ো ওখানে।"

শ্রেয়ান তার নিজের বিছানা ইশারা করে। আনিসা আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায়।

কিন্তু তা আর পাড়ে না। ধপ করে শ্রেয়ানের উপর জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পরে। শ্রেয়ান তাড়াতাড়ি করে আনিসা কে ধরে কোমর জড়িয়ে।

আনিসার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর কোলে তুলে নিতে নিতে বলে,
"ও শীট আমিও কি করে এমন ননসেন্সের মতো কাজ করলাম হয়তো কিছু খায়নি। মুখ ঠোঁট দেখে তাই বুঝা যাচ্ছে। ডেমেট বোকার মতো কাজ করলাম একটা। শীট।"

আনিসা কে শুয়িয়ে দিয়ে শ্রেয়ান নিচে যায়। নিজ হাতে রান্নাঘরে গিয়ে স্যুপ বানায়।

তার বাড়ির কাজের লোকের অভাব নেই। ৬/৭ জন আছে। কিন্তু শ্রেয়ান সবাই কে রাতে নিজ নিজ বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এত বড় বাড়িতে সে একা থাকে।

কাজের লোক কে কল করে আসতে বললে আসে না হলে সে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার এনে খেয়ে নেয়।

কিন্তু এত রাতে রেস্টুরেন্ট বন্ধ। যদিও খুলা পায় তবে দেরি হবে।
শ্রেয়ান আর না ভেবে আনিসার জন্যে স্যুপ বানাতে থাকে। এই প্রথম হয়তো সে রান্না করল অন্য কারো জন্যে। নিজের কিছু খেতে ইচ্ছে হলে নিজে বানিয়ে নেয় না হলে রেস্টুরেন্ট আছে।
কোনো দিন অন্য কারো পছন্দের জন্যে বা কোনো কারণে অন্যের জন্যে রান্না করেনি। এই প্রথম করল আনিসার জন্য।

গরম স্যুপের বাটি নিয়ে উপরে নিজের রুমে যায়।

আনিসা কে ডাকে আনিসা মিটমিট করে তাকায়। আনিসা কে একটু উঁচু করে বালিশ পেছনে দেয়। বিছানার সাথে হেলান দিয়ে বসায়।

"হা করো।"
"....
"হা করতে বললাম।"

শ্রেয়ানের ধমকে আনিসা হা করে। শ্রেয়ান নিজ হাতে আনিসা কে সব টা স্যুপ খায়িয়ে দেয়।

আনিসা খুব বেশিই চিন্তিত শ্রেয়ানের এমন কান্ডে। উনার মতো একজন লোক তাকে এক কোটি টাকা দিয়ে কেনই কিনল? কিনল তো কিনল তবে তাকে কেন? তার মতো একটা মেয়কেই কেন? কি আছে তার শ্রেয়ান কে দেওয়ার মতো? যদি শরীর চায় তবে উনি চাইলে অনেক মেয়ের শরীর নিয়ে খেলা করতে পারে। সেটা অতি তুচ্ছ। তার রূপে হাজার হাজার মেয়ে চলে আসবে এক ডাকে। কিনে যদি আনলই তবে কিছু না করে এত যত্ন করছে কেন? আনিসা আর কিছুই বুঝে পায় না। তার মাথায় কিছুই ডুকছে না।

"এত কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পরো।"
শ্রেয়ানের কথায় হা করে আছে আনিসা। লোক টা বুঝল কি করে সে ভাবছে? হয়তো তার চেহারা দেখে।

আনিসা আর কথা বাড়ায় না। শুয়ে পড়ে। শ্রেয়ান তার দিকে একটু ঝুঁকে গায়ের উপর চাদর টেনে দেয়।

"চোখ বুজো। গুড নাইট।"

শ্রেয়ান কথাটা বলে ব্যালকুনিতে চলে যায়। সিগারেট ধরিয়ে টানতে থাকে।
আনিসা একবার উঁকি দেয়। চাদর টেনে ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মনের মাঝে ভয় আশংকা থেকেই যায়।

রাত তখন ২ টা শ্রেয়ান ব্যালকুনি ছেড়ে ভেতরে এলো। তার বিশাল বিছানায় আনিসা ঘুমিয়ে আছে। ঘুমন্ত আনিসা কে ঘুম কুমারী লাগছে। কি মায়া তার মুখে। মায়া যেন উবছে পরছে মুখশ্রী থেকে। শ্রেয়ান মোহ নিয়ে দেখছে তাকে।

বিড়বিড় করে বলল,
"আনিসা আমার_নেশা_তুমি। এই নেশা দুনিয়ার অন্য কোনো নেশা দ্রব্য দিয়ে কাটবে না। তোমার নেশা শুধু 'তুমি' নামক নেশা দিয়েই কাটবে আমার।"

চলবে....

(গঠনমূলক কমেন্ট চাইছি)

Next part at 12 PM

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/186080623810724/?app=fbl
12/09/2022

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/186080623810724/?app=fbl

আমার_নেশা_তুমি
Collected
পর্ব : ৩+৪


শ্রেয়ান ছোট থেকে একা থাকে। সেই ১০ বছর বয়স তার যখন তখন থেকে একা মানুষ সে।

১০ বছর বয়সে সে তার মাকে হারায়। তার জন্যে তার বাবাই দায়ী। সে ভাবে তার বাবা তার মা কে পরোক্ষ ভাবে খুন করেছে।
বুঝবান হওয়ার পর থেকে সে দেখেছে তার মা বাবা কারণে অকারণে ঝগড়া করতে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে দেখা যেত তার বাবা তার মাকে প্রচন্ড রকম ভাবে মারধোর করত। জখম করে দিত। এমনো হয়েছে তার মা চোখে ৯/১০ দিন দেখতেই পেত না। এলোপাথাড়ি মারার ফলে চোখের মাঝে বেতালা কিল ঘুষি দেওয়ার কারণে এতটাই ফুলত আর রক্ত জমা হয়ে যেত যার কারণে তিনি চোখেই দেখতে পেতেন না। সেদিনও খুব ঝগড়া করেছিল, ভয়ংকর ভাবে মেরেছিলও। তারপর শ্রেয়ানের মা ঠিক করেই নেয়। আত্মহত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে।
আর সে দিনের পর থেকে বাবা কে শ্রেয়ান সহ্য করতে পারে না। মায়ের খুনি ভাবে।

শ্রেয়ানের বাবা তার মাকে তেমন পছন্দ করত না। যার কারণে তার সাথে উঠতে বসতে লেগে যেত। রাগলে মারধোর করত। এটা যেন রুটিন হয়ে গিয়েছিল।

শ্রেয়ানের বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বিদেশে অবস্থান করছে। মাঝে মাঝে তিনি শ্রেয়ান কে কল দেয়। কিন্তু সে ইচ্ছা করেই ধরে না। ধরলেও বাবা কে কথা শুনিয়ে বসে সে বিজি আছে। তারপর কল কেটে দিয়ে মায়ের স্মৃতিতে বিলিন হয়ে যায়। কখনো কখনো গগন ফাটানো চিৎকার দিয়ে কান্না করে।

শ্রেয়ানের খরচ তার মায়ের ভাগে পাওয়া সম্পত্তি দিয়ে চলছিল। তার নানাভাই মারা গিয়েছে আরো আগে। নানাভাই তার মাকে যে সম্পত্তি দিয়েছিল তা এখন শ্রেয়ানের।

বড় হয়ে নিজের চেষ্টায় এত বড় বিজনেসম্যান হিসেবে পরিচিত হয়েছে। দেশে বিদেশে এক নামে সবাই চিনে "শ্রেয়ান চৌধুরী।"

ছোট থেকে একা থাকতে থাকতে আর নিজেই নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শ্রেয়ান এক রগচটা মানব। এক ঘেয়ো আর ভীষণ জেদি খুব রাগিও বটে। এক বার যেটা ঠিক করে সেটা করেই ছাড়ে। রাগ উঠলে সে নিজের মাঝে থাকে না। অফিসের সবাই তার রাগের জন্যে বাঘের মতো ভয় পায়। কাজের প্রতি বেশ মনোযোগী। তাই সব স্টাফ নিজের সব টা দিয়ে কাজ করে। না হলে চাকরি যেতে ১ মিনিটও লাগবে না।

শ্রেয়ান খুব নেশা করে। এমন দিন তার যায় না সে নেশা করেনি। প্রতি দিন নেশা করে। কারণ বাঁধা দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।

নেশায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখতে চায় সব টা সময়। যেন তার কষ্ট না থাকে জীবনে।

তবে শ্রেয়ান চৌধুরী আজ ড্রিংক করে নি। করে নি বললেও ভুল হবে। করেছে তবে এ নেশা অন্য নেশা। কুমারী "আনিসা" এর নেশায় মত্ত ছিল শ্রেয়ান।

আনিসা ঘুমিয়েছে আর সারা রাত শ্রেয়ান বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি নেশা করেছে। এক মনে ধ্যানে আনিসার দিকে তাকিয়ে ছিল।

এ যেন তার কাছে দুনিয়ার সব চেয়ে বড় নেশা। এই নেশার কাছে বাকি নেশা দ্রব্য নগণ্য হতে অতি নগণ্য।
শ্রেয়ান "আনিসা" নেশায় আসক্ত হয়ে পরেছে। যার ফলে বাকি নেশা নেওয়ার কথা সে বেমালুম ভুলে বসে আছে।

সারা রাত শ্রেয়ান আনিসা কে দেখছিল। এটাই নেশা। সব চেয়ে বড় নেশা। এ নেশা ধরলে ছাড়তে চায় না। রেশ যেন তার থেকেই যায়। এই নেশায় পরে গেলে মাতলামো করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কারণ এই নেশা দুনিয়ার সেরা নেশার ১ম তম জায়গায় বসে আছে।

শ্রেয়ান "আনিসা" নেশায় ভুদ হয়ে থাকলেও একবার তার কাছে যায় নি। ছুঁয়ে দেখে নি। তবে কপালের চুল, চিকন ঠোঁট আর চোখের ঘন কালো পাঁপড়ি তাকে খুব টানছিল।
তবুও সে যেন নড়তে পারছিল না। ঠাই দাঁড়িয়ে শুধু দেখে যাচ্ছিল।

আনিসার মুখে গরম রোদের ঝিলিক পরতেই মিটমিট করে তাকায়। উঠে বসে শরীর মুচড়াতে থাকে। সামনে দেখা যাচ্ছে শ্রেয়ান দাঁড়িয়ে আছে।

বিছানা পিছল করে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। কাঁচের দেওয়াল দিয়ে রোদ দেখা যাচ্ছে। সে মিষ্টি আভা দিয়ে সকল কে আরেক টা নতুন সকালের আগমনের জানান দিচ্ছে।

শ্রেয়ান কাঁচের দেওয়ালে দেওয়া ইয়া বড় পর্দা টেনে আনিসার দিকে মুখ ফিরে তাকায়। আনিসার চোখ আটকে আছে। ধাঁধালো ঝিলিক দিচ্ছে শ্রেয়ান।

কাঁচের দেওয়াল থেকে রোদের সব টা আভা শ্রেয়ানের চারিপাশে বিরাজ করছে। শ্রেয়ান যেন অদ্ভুত এক শক্তির উৎস। মনে হচ্ছে তার শরীর থেকেই সূর্য কিরণ দিচ্ছে। মুখ যেন মোহনীয় লাগছে শ্রেয়ানের।

শ্রেয়ান ধীর পায়ে আনিসার দিকে এগিয়ে এলো।
"উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও। বের হবো।"
".....

আনিসা কিছু না বলে ড্যাবড্যাব করে দেখছে।
"পিচ্চি কি বললাম? যাও রেডি হয়ে নাও।"
"....

আনিসা কি বলবে? তার বলার কি আছে? ফ্রেশ হয়ে কোথায় যাবে? শ্রেয়ানের সাথে? শ্রেয়ান কি তাকে কোথায় নিয়ে মেরে ফেলবে নাকি অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দিবে? এমন তো হয়েই থাকে।

"আনিসা, আনিসা."
শ্রেয়ানের ঝমকালো কন্ঠ শুনে আনিসা তার দিকে তাকায়।
"হোয়াট হ্যাপেন?"
"....
"আনিসা আমি তোমায় কিছু বলছি তো।"

শ্রেয়ান দাঁত কিড়িমিড়ি করে কথা টা বলে। ভয়ে আনিসা বলতে থাকে,
"আ আপনি আমায় কোথায় নিয়ে যাবেন?"
"....
"আমায় অন্য কারো কাছে বিক্রি.. "

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই শ্রেয়ান রাগে আনিসার দিকে তেড়ে যায়। আনিসা বিছানা তেই বসা ছিল। আনিসার দুই পাশে হাত রেখে শ্রেয়ান তার দিকে একটু ঝুঁকে দাঁত কিড়িমিড়ি করে বলে,
"বিক্রি মাই ফুট। ফারদার এটা যেন তোমার মুখ থেকে আমি না শুনি। মেয়ে তোমায় আগেও বলেছি আমায় রাগ তুলাবে না। তার পরিণতি খুব একটা সহজ হবে না। তাই যা যা বলব তাই করবে। কথা গুলি মনে রেখো। যাও ফ্রেশ হয়ে আলমারির থেকে বোরকা টা পড়ে রেডি হয়ে নাও।"

শ্রেয়ান গরগর করে কথা গুলি বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আনিসা ড্যাবড্যাব করে শুধু দেখে গেলো।

অনেকক্ষণ পর নিচ থেকে শ্রেয়ানের গলা শুনা যাচ্ছে। আনিসা কে ডাকছে।
"আনিসা আনিসা।"
"....

আনিসা চুপ করে ঘর থেকে বের হয়। উপরে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে দৃষ্টি দেয়।
"নিচে আসো।"
শ্রেয়ানের কথায় আনিসা চুপচাপ নিচে নামে।

শ্রেয়ান একটা চেয়ার টেনে দেয়।
"বসো এখানে।"

আনিসা কথা অনুযায়ী বসে।
"এই গুলি খেয়া নাও।"
".....
"কি হলো? বললাম তো খেয়ে নিতে।"
"আ আমার খিদে নেই।"
"হোয়াট?"
"....
"আনিসা আমার মাথা গরম করবে না। চুপ করে খেয়ে নাও।"

আনিসা ভাবতে থাকে, লোকটা পাগল টাইপ। খুব বেশিই রগচটা আর রাগি। আনিসা তবুও চুপ করে বসে আছে।

শ্রেয়ান আনিসার মুখ চেঁপে ধরে অন্য হাতে খাবার মুখে তুলে দেয়।
আনিসা হা হয়ে আছে। একে একে তিন বার এমন করে খাবার তুলে দেয় আনিসার মুখে। আনিসা খেতে পারছিল না। মুখ ভর্তি খাবার। হঠাৎ বিষম খায়।

শ্রেয়ান তাড়াতাড়ি করে পানির গ্লাস এগিয়ে ধরে আনিসার মুখের সামনে।
"আনিসা আর ইউ ওকে?"
"....
"আনিসা ঠিক লাগছে তো এখন?"
"হুম।"
"শান্ত ভাবে খেয়ে নাও তো পিচ্চি।"

আনিসা ভয় ভয় মুখ নিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেয়। তারপর শ্রেয়ান বলে,
"এবার যাও। আলমারি থেকে বোরকা টা নিয়ে পড়ে ফেলো।"
".....
"এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? কি ভাবছো? মেবি বোরকা টা কার এটাই তো?"

শ্রেয়ান আনিসার মনের কথা বলায় সে অবাক হয়।
"আসলে এটা অনেক আগে কিনেছিলাম। কেন কিনে ছিলাম মনে নেই। জাস্ট কিনতে মন চেয়েছিল তাই কিনেছিলাম। এর বেশি কিছু না। কারণ আমার বাসায় কোনো লেডি নেই। এখন থেকে শুধু তুমি থাকবে।"

আনিসা কি বলবে এখন? সে এখানে থাকবে কোন কারণে? ভয় সরিয়ে সাহস নিয়ে বলেই দিল,
"আ আমায় কেন কিনে এনেছেন বলবেন?"

শ্রেয়ান যেন রেগে যায়। তার সহস সরল চেহারা টা মুহূর্তেই কালো হয়ে যায়। বুঝায় যায় সে রেগে গেছে।
দাঁত কিড়িমিড়ি করে বলে,
"আমায় প্রশ্ন করছো তুমি? আনিসা শ্রেয়ান চৌধুরী কারো প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়। এটা আমি পছন্দও করি না। এমন ভুল আর করো না। আর একটা কথা, কখনো বলবে না কিনার কথা। কথাটা প্লিজ ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নাও। এখন যাও যা বললাম তাই করো।"

আনিসা ভয়ে তাড়াতাড়ি উপরে চলে যায়। এমন মানুষের সাথে কি থাকা যায়? সাইকো টাইপের লোক।

আনিসা আলমারি থেকে বোরকা টা হাতে নেয়। বেশ দামি বোরকা। নিচ থেকে শ্রেয়ানের গলা শুনা যাচ্ছে। তাই সে তাড়াহুড়া করছে।
একটু পর নিচ থেকে শ্রেয়ান নিজেই উপরে চলে এলো।

আনিসা তখন বোরকার স্কার্ফ পড়ে নিচে নামবে। শ্রেয়ান হা হয়ে দেখছে। সাদা বোরকা আর স্কার্ফ থেকে আনিসার ঘন কালো পাঁপড়ি যুক্ত চোখ গুলি দেখা যাচ্ছে। আনিসার নেশা ভরা চোখ দেখেই শ্রেয়ানের অন্যরকম অনুভূতি হতে লাগল।

শ্রেয়ান ঘোর লাগানো চোখ নিয়ে আনিসার দিকে এগিয়ে আসছিল।

আনিসা এক অজানা ভয়ে আছে। বুকের ভেতর খুব ভয় লাগছে। শ্রেয়ান এই ভাবে তার দিকে এগিয়ে আসছে কেন? সে খুব অস্বস্তি বোধ করছিল।

শ্রেয়ান মৃদু পায়ে আনিসার খুব কাছে চলে এলো। আনিসার বুকে এক ভয় আরো বেড়ে গেল। সে শুধু শুকনো ঢুক গিলছে।
শ্রেয়ান খুব কাছ থেকে আনিসা কে দেখছিল। আনিসার চিবুক উপরে তুললে আনিসা ভয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।

শ্রেয়ান কে আনিসার খুব ভয় লাগে। লোক টা হুটহাট তার কাছে চলে আসে। ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে যায়। চোখ মুখ খিঁচে দাঁড়িয়ে আছে। শ্রেয়ান মোহ নিয়েই আনিসা কে দেখছে।

হঠাৎ তার মুখ থেকে শুধু এটাই বের হয়ে এলো।
"নেশা।"

কথাটা শুনা মাত্র আনিসা চোখ মেলে শ্রেয়ানের দিকে তাকায়। শ্রেয়ান শুধু "কাম" বলেই আনিসার হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে যেতে লাগে।



আজ আর শ্রেয়ানের অফিস যাওয়া হলো না। বলতে গেলে সে ইচ্ছা করেই আজ অফিস যায় নি।
কি করতে হবে শুধু ম্যানেজার কে বলে দিয়েছে কল করে।

শপিং করে শ্রেয়ান দুপুরের খাবার নিয়ে বাসায় চলে এসেছে। তার নিজের জন্যে কিছুই কিনল না। যা কেনার এত এত কাপড় জুতা সব আনিসার জন্যে কিনেছে শ্রেয়ান।

সারা টা শপিং করার সময় আনিসা শুধু শ্রেয়ান কে দেখেছে আর বিস্মিত হয়েছে।

লোক টা মাঝে গভীরতা নামক জিনিস টা উবছে উবছে পরছে। মানুষ টা কে দেখে কিছু বুঝার জো নেই। কেন তাকে ওই নরক থেকে এত দামে কিনে আনল। কেনই বা এত যত্ন নিচ্ছে এত দামি দামি তার জন্যে জিনিস কিনছে? আবার বিক্রির কথা বললে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে।

শ্রেয়ান উপরের দিকে যেতে যেতে বলল,
"রুমে গিয়ে বোরকা খুলে ফ্রেশ হয়ে নিবে। আমি পাশের রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসছি।"
".....

শ্রেয়ান আনিসার কথার জবাব আশা না করেই উপরে চলে গেল। মেয়ে টা বড্ড কম কথা বলে।

আনিসা বোরকা খুলে ফ্রেশ হয়ে নেয়। শপিং থেকে কিনে আনা মেরুন রং এর ড্রেস টা পড়ে নেয়। তারপর ভেজা চুল ছেড়ে দিয়ে মাথার উপর ওড়না টেনে দেয়।

ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে আছে। দমকা বাতাসে মাথায় দেওয়া ওড়ানাটা বারবার খসে পরছে। আনিসা বার কয়েক ওড়না টেনে দিয়েও এখন চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় ওড়না দেওয়ার কোনো তাড়া এখন তার নেই।

লম্বা চুল গুলি কোমর ছাড়িয়ে আছে। ভেজা চুল দিয়ে টুপটুপ করে নিচে পানি পড়ছে। আনিসার ড্রেস টা কোমরের দিকে অনেক টা ভিজে আছে।

শ্রেয়ান তাকে হঠাৎ খাবারের জন্যে ডাকতে এসে এই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো।
বড্ড কাছে টানছে আনিসার লম্বা ভেজা চুল তার উপর ভিজে যাওয়া ড্রেস টাও। কেমন ঘোর লাগানো দৃশ্য।

শ্রেয়ান যেন নিজেকে সামলাতে পারছে না। চোখ ছানাবড়া হয়ে আছে। অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে খুব লম্বা একটা নিশ্বাস ছেড়ে দেয়। ডান হাত দিয়ে কপাল ডলতে থাকে। তারপর মাথা এমনি ঝাঁকাতে থাকে।
এ যেন এক মোহে পরে যাচ্ছে শ্রেয়ান। এই মোহে সম্পূর্ণ পরে গেলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তার কাছে অধিক। আর সে এখন কোনো রকম দুর্ঘটনা ঘটাতে ইচ্ছুক নয়। সময় চাই। তাই নিজেকে ঠিক করে সামলে নেওয়ার চেষ্টাটুক করছে।

কেউ একজন যে মোহতা মিয়ে আনিসার দিকে তাকিয়ে আছে তার সেদিকে খেয়াল নেই।

শ্রেয়ানের গলা লেগে আসছিল। তবুও অস্পষ্ট কন্ঠে বলল,
"আনিসা।"

শ্রেয়ানের টের পেয়ে আনিসা পিছন ফিরে দ্রুত মাথার উপর কাপড় টেনে নেয়। তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
"আ আপনি?"
"....
"কখন এলেন?"
"তাড়াতাড়ি নিচে আসো খাবে।"
শ্রেয়ান হনহন করে ঘর থেকে বের হয়ে এলো। আনিসার খিদে পেয়েছে তাই সেও নিচে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিয়ে নিল।

টেবিলে আনিসা আর শ্রেয়ান মুখোমুখি বসে আছে। আনিসা মাথা নিচু করে আছে। শ্রেয়ান তাকে দেখছে।

আগে খেয়াল না করলেও এখন শ্রেয়ান খেয়াল করছে ফর্সা গায়ে মেরুন রং টা আনিসা কে বেশ মানিয়েছে। বেশ লাগছে পিচ্চি আনিসা কে।

টেবিলে এতো এতো খাবার রাখা। আনিসার সামনে ভাতের সাথে কি কি যেন প্লেটে সাজিয়ে রাখা আছে। আনিসা হয়তো এ গুলি কোনো দিন দেখেও নি। কি নাম তাও জানে না। আনিসা ফ্যালফ্যাল করে দেখছে। তবে খাবার গুলি দেখতে তার লোভনীয় লাগছে। সাথে একটা ছুড়ি কাটা চামচ। আনিসা সে গুলির দিকেও তাকিয়ে আছে।

ভাত কি কেউ কাটা চামচ ছুড়ি দিয়ে খায় নাকি? সে ভাবতে থাকে এ কেমন খাবার?

আনিসার চাওনি দেখে শ্রেয়ান বুঝতে পারছে আনিসা এই খাবার আগে দেখেনি। তাই এমন করে তাকিয়ে আছে। শ্রেয়ান আনিসার ভাব দেখে মনে মনে হাসে। মুখেও ঠোঁট চেঁপে রেখেছে।

আনিসার খুব খিদে লেগেছে কি করবে কি বলবে শ্রেয়ান কে বুঝতে পারছে না। ও দিকে খিদের ট্রেন তো ছুটেই চলছে।

আনিসা খিদের জ্বলায় কাঁপা হাতে ছুড়ি টা নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। কি করবে এটা দিয়ে কি ভাবে খাবে? আনিসা না পেরে ছুড়ি টা গোশতের উপর চালায়। কিন্তু সে পারছে না। কাটা চামচ নিয়ে গোশতের উপর বিঁধিয়ে দেয়। তা উপরে তুলে আবার দেখতে থাকে।

আনিসার এই কান্ড দেখে শ্রেয়ান দাঁত বের করে ফিক করে হাসি দেয়। তবে তেমন কোনো শব্দ করে না।

আনিসা হাত দিয়ে ভাত মুখে নেয় তারপর কাটা চামচে বিঁধ করা গোশত টেনে ছিঁড়ে। শ্রেয়ান আনিসার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে আর নিজের প্লেটে ছোট ছুড়ি দিয়ে গোশত আর মাছ পিস পিস করে কাটতে থাকে।

আনিসা খাচ্ছে তো খাচ্ছে। এক সুদর্শন পুরুষ যে তার সামনে আছে তার দিকে তাকিয়ে আছে সে দিকে তার খেয়াল নেই। সে হাত দিয়ে চামচে লাগিয়ে রাখা গোশত দাঁত লাগিয়ে খাওয়া শুরু করেছে।

শ্রেয়ান কিছু না বলে আনিসার প্লেট টা হাত দিয়ে সরিয়ে নেয়। আনিসা ভয়ে শ্রেয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।
শ্রেয়ান নিজের প্লেট আনিসার দিকে এগিয়ে দেয়। আনিসা মুচকি হাসে।

আনিসা আবার খাওয়ায় মন দিলে শ্রেয়ান উঠে দাঁড়ায়। আনিসা খাওয়া রেখে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। শ্রেয়ান অন্য দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে আসে। তারপর আনিসার দিকে তাকায়।

আনিসা শ্রেয়ানের হাসি তে ফেঁসে গেছে। শ্রেয়ানের হাসি দেখে সে হা হয়ে আছে। কি সুন্দর করে মানুষ টা হাসতে জানে।

শ্রেয়ান আনিসার দিকে একটু ঝুঁকে আনিসার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা ঝোল টা মুছে আবার নিজের জায়গায় বসে। আনিসা শ্রেয়ানের দিকে তাকিয়ে ঢুক গিলে।

"খেয়ে নাও।"
শ্রেয়ানের কথায় আনিসা সেই ঘোর থেকে ফিরে। শ্রেয়ানের দিকে তাকিয়ে ঘন চোখের পাঁপড়ি ফেলে।

তারপর চুপ করে খাওয়া শেষ করে নেয়।

"আমার পাশের রুমে গিয়ে শুয়ে ঘুমাও এখন।"
"....
"আনিসা। যাও।"
"হুম।"

শ্রেয়ানের কথায় আনিসা চুপ করে সেই রুমে চলে যায়। কিন্তু তার ঘুম আসে না। ধীর পায়ে ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে থাকে। তার মনে হাজার প্রশ্ন আর কষ্ট।
মা কে যে তার খুব মনে পারছে। উনি কত ভালোবাসত তাকে। নরপিশাচ বাবা কে মনে পরছে তার। কিন্তু সে মনে কারতে চায় না। সেই মানুষ টা কে একদম ভুলে যেতে চায় আনিসা।
যে কি না টাকার জন্যে তাকে বিক্রি করে দিয়েছে অন্য এক লোকের কাছে।

শ্রেয়ান? সেও বা কি চায়? তাকে কিনে এনে এতো যত্ন করছে কেন? যেন কিনে আনে নি। খুব আপন মানুষ তার। মনে মনে শ্রেয়ান কে খুব ভালো লাগে আনিসার। কিন্তু রাগ? সে তো রেগে গেলে এক জটিল মানুষে পরিণতি হয়ে যায়।

"আনিসা।"
শ্রেয়ানের ডাকে সে পিছন ফিরে।
"আপনি? আ আসুন।"
বলতে বলতে একটু এগিয়ে আসে সে।
"যাই হোক আনিসা পাখির মুখে বুলি ফুটেছে।"
"....
"তোমাকে না ঘুমাতে বলেছিলাম?"
"আ আসলে ঘুম আসছিল না।"
"ওও। ওকে। তো এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
"এমনি।"
"মন খারাপ?"
"....

আনিসা ফ্যালফ্যাল করে শ্রেয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।

"তোমার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে তোমার মন খারাপ।"
"না আ আসলে মা কে.."
"মা কে মিস করছিলে তাই তো?"
"হুম।"
"মা মিস করার মতোই একজন।"
"....
"জানো আমিও আমার মা কে মিস করি। খুব বেশি মিস করি। ঠিক কত টা বলে বুঝাতে পারব না।"

আনিসার এখন মনে হলো, সত্যিই তো উনার মা বাবা কোথায়? এত বড় বাড়ি তে না আছে মা না আছে বাবা আর না অন্য কেউ একজন। এই বাড়ি তে একা থাকতে উনার কি কষ্ট হয় না?

আনিসা ভাবছে শ্রেয়ান কে কি জিজ্ঞেস করবে তার বাবা মা কোথায়? পরে যদি রেগে যায়?

তাই আনিসা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
আনিসার পাশে ব্যালকুনিতে গিয়ে শ্রেয়ান আকাশের দিকে মুখ করে আছে। মাকে আজ সে আসলেই খুব মিস করছে।

চলবে....

Next part at 7 pm

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/186242700461183/?app=fbl
12/09/2022

https://www.facebook.com/100072263632091/posts/186242700461183/?app=fbl

আমার_নেশা_তুমি
Collected
পর্ব : ৫+৬


নীরবতা ভেঙ্গে শ্রেয়ান আনিসার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
"চুপ করে কি ভাবছো? এত বড় বাড়ি তে আমি একা কেন থাকি?"

আনিসা অবাক হয়। মানুষের মনের কথা বলতে পারার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে লোক টার মাঝে।

"আ আপনার মা বাবা.."
"নেই।"
"....
"মা নেই। বাবা থেকেও নেই।"

আনিসা ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। থেকেও নেই মানে? কৌতূহল নিয়ে বলেই দিলে,
"মানে?"
"মানে মা মারা গেছে সেই আমি ১০ বছরের সময়। বাবা কে হারিয়েছি তখন থেকেই। এমন না যে বাবা বেঁচে নেই।"

কথাটা শেষ করে শ্রেয়ান আনিসার দিকে তাকিয়ে মেকি এক হাসি দেয়। আনিসা বিষয় টা বুঝতে পারে না। শ্রেয়ান ব্যালকুনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আনিসাও তার কাছে গিয়ে দাঁড়ায় রেলিং এ হাত রেখে।

"আপনার কথা আমি বুঝালাম না।"
"বাবার ঝগড়া আর অশান্তির কারণে মা সুইসাইড করে। বাবা এখন তার নতুন ওয়াইফ কে নিয়ে বিদেশ থাকে। তাই আমি একা। নিঃসঙ্গ একা জীবন কাটাই।"

শ্রেয়ানের কথাটা আনিসার বুকে লাগে। তারমানে তার মতোই শ্রেয়ানও কষ্টে আছে। লোকটার তো আরো বেশি কষ্ট। এত বড় হয়েছে বাবা মা ছাড়া।

শ্রেয়ান রেলিং এ রাখা আনিসার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে করুণ সুরে বলে,
"কেউ নেই। আমার কেউ না। আমি একা। বড্ডা একা।"

আনিসার ভেতরে কেমন কেমন লাগে। শরীর কেমন হীম শীতল হয়ে আসছে। একে তার হাত এক টা ছেলের মুঠোয়। আরেক হলো শ্রেয়ানের করুণ মাখা কষ্টের কথায়। ভেতরে কিছু হচ্ছে আনিসা তা বুঝতে পারছে।

শ্রেয়ানের কল বেজে উঠলে শ্রেয়ান আনিসার হাত ছেড়ে দেয়।
"তুমি থাকো। কিছু লাগলে আমায় ডাক দিবে। আসছি।"

শ্রেয়ান ফোন রিসিভ করে কথা বলতে বলতে চলে গেল। আনিসার শরীর টা ভালো লাগছে না। ম্যাচম্যাচ করছে। তাই সে বিছানায় চলে যায়।

শ্রেয়ানের ডাকে তার ঘুম ভাঙ্গে সন্ধে সাত টায়।
"আনিসা আনিসা তাড়াতাড়ি নিচে এসো। নাস্তা খাবে।"
আনিসা উঠে হাত মুখ গুলি ধুয়ে নেয়। নিচ থেকে শ্রেয়ানের আবার ডাক শুনা যায়। তাই হাত মুখ না মুছেই নিচের দিকে ছুটে।

আনিসা তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে হুড়মুড়িয়ে শ্রেয়ানের উপর গিয়ে পরে।

শ্রেয়ান তখন সিঁড়ির ধারেই দাঁড়িয়ে আনিসা কে ডাকছিল।

আনিসা ছুটে আসতে গিয়ে পায়ের সাথে পা বারি খেয়ে গিয়ে পরে শ্রেয়ানের উপর। হঠাৎ তার উপর আনিসা চলে আসায় সে একটু বেতাল হয়ে যায়। যার ফলে আনিসা কে নিয়ে কয়েক পা পিছনে চলে যায়।

আনিসা ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে দাঁড়িয়ে আছে।

আস্তে করে চোখ খুলে দেখে শ্রেয়ান মাতাল করা চাওনি দিয়ে আবদ্ধ করে রেখেছে তাকে। শ্রেয়ান মারাত্মক মোহে পৌঁছে গিয়েছে। আনিসার মুখের উপর গুটাগুটা পানির কণা লেগে আছে। ঘন কালো চোখের পাঁপড়ি গুলি পানি তে এক হয়ে মিশে আছে। আনিসার সামনের ভেজা চুল গুলি কপালে ঠাই হয়ে আছে। ঠোঁট কাঁপছে। ভয়ার্তক মুখ খানি শ্রেয়ানের বুকে ঝড় তুলে দিচ্ছে।

আনিসা শ্রেয়ানের এই চাওনি দেখে চুপ করে আছে। ধুকবুক স্পন্দন হচ্ছে।

শ্রেয়ান কি করবে বুঝে পায় না। নিজেকে সামলে রাখাটা তার খুব দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার বুকে হাজারো ইচ্ছে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।
পরক্ষনে মনে একটাই কথার উদয় হলো, একটা অবিবাহিত মেয়ের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করা ঠিক হবে না।

শ্রেয়ান আনিসা কে ছেড়ে দিয়ে দূরে দাঁড়ায়। দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে বলল,
"আনিসা আর ইউ ওকে?"
"হুম।"
"চলো খাবে।"

শ্রেয়ান আর আনিসা নাস্তা করে নেয়। আনিসা টিভি তে কার্টুন দেখছিল। আর শ্রেয়ান ল্যাপটপে কাজ করছিল। আনিসা একা একাই মিটিমিটি হাসছে।
শ্রেয়ান আড়চোখে সেই মুক্তো ঝরা হাসি দেখছে। মেয়ে টার মাঝে আসলেই "নেশা" আছে। না হলে বার বার টানে কেন তাকে? এত টা কি অন্য কেও টানে। নিজেই কথা টা ভেবে শ্রেয়ানের রাগ হয়।

"না আর কারো নয়। ওর মাঝে শুধু শ্রেয়ানের বিচরণ চলবে। শুধু শ্রেয়ান চৌধুরীর।"

রাতে খাবার খেয়ে দুজন দুই রুমে চলে যায়। শ্রেয়ান তার নিজের রুমে আর আনিসা শ্রেয়ানের পাশের রুমে।

রাত তখন ১২ টা বাজে। আনিসার দরজায় টুকা পরে। আনিসা ভয় পেয়ে যায়। সে সজাগ ছিল। চোখে ঘুম নেই তাই ব্যালকুনিতে ছিল। এই বাড়ি তে তো সে আর শ্রেয়ান ছাড়া কেউ নেই। এত রাতে শ্রেয়ান ছাড়া আর কেউ ডাকবে না তাকে এটাই স্বাভাবিক। আনিসার ভয় বাড়তে থাকে। এত রাতে শ্রেয়ান তাকে ডাকবে কেন?

আনিসা কাঁপা হাতে দরজা খুলতেই শ্রেয়ান তার উপর এসে পরে। শ্রেয়ান ড্রিংক করেছে। আনিসা বেশ বুঝতে পারছে।

তার উপর শ্রেয়ান এই ভাবে পড়ায় আনিসার অস্বস্তি হচ্ছে আবার বেশ ভয়ও লাগছে। আনিসা শ্রেয়ান কে নিজের থেকে সড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু শ্রেয়ান তো তাকে ঝাপটে ধরে রয়েছে। আনিসা কিছুই বুঝতে পারছে না। কি করবে এখন?

তবুও ধাক্কা দিয়েই যাচ্ছে শ্রেয়ান কে। জোরছে এক ধাক্কা দিয়ে আনিসা শ্রেয়ান কে দূরে সরায়।

শ্রেয়ান বেতাল হয়ে দূরে ছিঁটকে যায়।

"আ আপনি এখানে কেন?"
".....
"আপনি ম মদ খেয়েছেন?"
"ইয়েস। হোয়াট'স ইউর প্রবলেম?"
"মানে আপনি নেশাখোর?"
"আমি নেশাখোর। আমি শুধু তোমার নেশা নিতে চাই। শুধু তোমার নেশা।"
".....

আনিসা বাকরুদ্ধ হয়ে শুধু শুনছে। লোকটা কি বলছে? নেশার ঘোরে বলছে টা কি উনি?

আনিসা নেশাখোর মানুষ কে অপছন্দ করে বড্ড অপছন্দ করে। শ্রেয়ান কেও বড্ড অপছন্দ করতে চাইছে কিন্তু কেন যেন পারছে না সে। তবুও তার ভালো লাগছে না এখন।

"আনিসা প্লিজ আমি তোমার নেশা চাই। প্লিজ।"
"কি বলছেন টা কি? আপনি আপনার রুমে যান।"
"নো।"
"কাল কথা হবে। আপনি যান।"

শ্রেয়ান নেশার ঘোরে আনিসার কাছে আসে। আনিসার দুই বাহু ধরে শক্ত করে।
"আনিসা তুমি আমার নেশা। দুনিয়ার সব চেয়ে বড় নেশা তুমি আমার।"

আনিসা হা হয়ে আছে। চুপ করে শ্রেয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। শ্রেয়ানও আনিসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
নেশার মাঝে থেকেও শ্রেয়ান আনিসা কে ছেড়ে দিয়ে দূরে চলে যায়।

আনিসার হাত টেনে আনে বিছানার দিকে।

আনিসা কে বিছানায় এনে বসায়। তারপর ধপ করে আনিসার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পরে গুটিশুটি হয়ে।

শ্রেয়ানের এহেন কাজে আনিসা বেশ হতবাক। আনিসার হাত টা শ্রেয়ান নিজের মাথার নিচে দিয়ে শুয়ে আছে। হাত শক্তে আকঁড়ে ধরে রেখেছে।

হঠাৎ শ্রেয়ান হুহু করে কেঁদে উঠে। আনিসার কোলে শুয়ে আনিসার হাত টা জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে।
"প্লিজ আমায় ছেড়ে যেও না। আমি বাঁচব না। প্লিজ।"

এমন কথা বলছে আর শ্রেয়ান কান্না করছে। বারবার ছেড়ে না যাওয়ার কথা বলে আনিসার হাত আরো শক্তে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে মানুষটা।

লোকটার মাঝে গভীরতায় টুইটুম্ভুর।

আনিসার কেমন লাগছে। নিঃসঙ্গতা থেকে কথা গুলি বলছে নাকি উনি তাই ভাবাতে থাকে আনিসা কে। শ্রেয়ানের প্রতি বড্ড টান অনুভব করছে। ব্ড্ড মায়া লাগছে আনিসার। অদৃশ্য এক অজানা টান যেন আনিসার হচ্ছে শ্রেয়ানের জন্যে।

আনিসা পলক হীন দেখে চলছে শ্রেয়ান কে। মানুষ টা আসলেই মোহনীয়।
একজন পুরুষ কে এই ভাবে কখনোই দেখা হয় নি আনিসার। আনিসা শ্রেয়ান কে ঘুটিয়ে ঘুটিয়ে দেখতে লাগল।

কিন্তু শ্রেয়ানের এই মদ খাওয়া টা আনিসার বেশ রুচি তে লাগে। বিষয়টা তার একদমই ভালো লাগেনি।

তবুও যেন সে শ্রেয়ানের মাঝে কিছু একটা খুঁজে চলছে।



সকালের ঘুম ভাঙ্গতেই শ্রেয়ান মিটিমিটি তাকায়।

চোখ মেলে দেখতে পায় আনিসার মুখ টা। খাটে হেলান দিয়ে বসে ঘুমাচ্ছে। তার এক হাত শ্রেয়ানের মাথার নিচে আরেক হাত মাথার উপরে।

শ্রেয়ান এবার খেয়াল করল সে আনিসার রুমে। বড় কথা আনিসার কোলে শুয়ে আছে। তার মানে সারা রাত সে এখানেই ছিল?
কাল রাতে খুব বেশি ড্রিংক করেছিল। আনিসার মুখ চোখের সামনে ভাসছিল আর একটা একটা গ্লাস শেষ করছিল সে।

তার পর কি হয়ে ছিল তার মনে নেই। তবে কি আনিসার সাথে কিছু..

শ্রেয়ান কিছু একটা ভেবে তাড়াতাড়ি করে উঠে যায়। তারপর খেয়াল করে দেখে না সব কিছু ঠিকঠাক আছে। কিছু অগোছালো নেই। এটা দেখে শ্রেয়ান একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ে।

তারপর তার নজর যায় আনিসার দিকে। বিছানার মাথায় কিভাবে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। তার জন্যে হয়তো ভালো করে ঘুমাতেও পারল না সারারাত। শ্রেয়ান হা হয়ে দেখছে। বেশ বিস্মিত লাগছে আনিসা কে। শ্রেয়ান আনিসার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।

তারপর আলতো হাতে আনিসা কে বিছানায় শুয়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

শ্রেয়ান আনিসার পাশে এক হাত রেখে তার দিকে ঝুঁকে বসে আছে। চোখের পাতা না পড়া দৃষ্টি দিয়ে দেখছে।

আনিসা একটু নড়েচড়ে শুয়ে শ্রেয়ানে হাত গলার সাথে মিশিয়ে ধরে। শ্রেয়ান জানে এটা সে ঘুমের ঘোরে করেছে। তবুও তার মাঝে এক অন্য রকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি জাগে। আনিসার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে হাসি দেয়।

হঠাৎ আনিসা হুড়মুড়িয়ে উঠে। শ্রেয়ানের থেকে দূরে গিয়ে জড়সড় হয়ে বসে পরে।
আনিসার ভয় পাওয়া দেখে শ্রেয়ান বলল,
"চিল। আমি অন্য কেউ নয়। ঘাবড়িও না।"
"......

শ্রেয়ান একটু চুপ থেকে আনিসার দিকে তাকিয়ে বলল,
"ওকে তুমি ঘুমাও। আমি চলে যাচ্ছি।"

শ্রেয়ান চুপচাপ চলে যায়। আনিসা ভয়ে গুটিয়ে পড়ে। চোখ মেলে শ্রেয়ান কে দেখে ভয়ে সে লাফিয়ে উঠেছিল।

শ্রেয়ান এলোমেলো চুল নিয়ে হাই তুলতে তুলতে নিচে নামছিল। হঠাৎ কেউ একজন তাকে ঝাপটে ধরে। শ্রেয়ান অবাক হয়। ভালো করে চোখ মেলে দেখে এনা।

শ্রেয়ানের রাগ হয় মনে হলো দিন টাই নষ্ট হয়ে গেছে।

এনা ঝাপটে রেখেছে শ্রেয়ান কে। আর শ্রেয়ান বারবার এনার থেকে দূরে যেতে চাইছে। তবুও এনা জড়িয়ে ধরছে।

"হচ্ছে কি এনা। ছাড়ো।"
"....
"এনা ছাড়তে বললাম তো।"
"না ছাড়ব না।"

দুজনের কথা কাটাকাটি শুনে আনিসা নিজের রুম থেকে চোখ ডলতে ডলতে এলো।
এসে দেখে ড্রয়িংরুমে দুজন জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তা বললে ভুল হবে আনিসা দেখতে পাচ্ছে শ্রেয়ান ছাড়াতে চাইছে কিন্তু মেয়ে টা নিলজ্জ্বের মতো জড়িয়েই রেখেছে। আনিসা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখের পাতাও ফেলছে না। তবে কোথায় একটা তার বড্ড টান পরছে। কোথাও যেন তীব্র একটা কষ্ট উঁকি দিচ্ছে।

"লিভ মি এনা। হোয়াট আর ইউ ডোয়িং রাবিশ? জাস্ট লিভ মি।"

শ্রেয়ান এক ঝাটকায় এনা কে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এনা বেহায়ার মতো হেসে আবার কাছে আসতে চাইলে তার চোখ যায় আনিসার দিকে।

এলোমেলো আনিসা কে দেখে তার রাগ উঠে। শক্ত গলায় বলে,
"শ্রেয়ান ও কে?"

এনার কথায় শ্রেয়ান পিছন ফিরে। ছলছল চোখে আনিসা দাঁড়িয়ে আছে।

"হো ইজ শী শ্রেয়ান?"
"তুমি আমায় প্রশ্ন করছো? তুমি জানো না প্রশ্ন শুনতে আমার ভালো লাগে না? আর তুমি বেশ জানো এটাতে আমি রেগে যাই।"
"প্লিজ টেল মি শ্রেয়ান হো ইজ শী?"

এনা চিৎকার দিয়ে কথাটা বললে শ্রেয়ান শান্ত গলায় বলে,
"শী ইজ মাই ডিয়ার।"
".....
"ইজ দ্যাট ক্লিয়ার? নাও গো।"
"হোয়াট আর ইউ সেয়িং নাউ শ্রেয়ান? ইউ ডোন্ট নো আই লাইক ইউ। লাভ ইউ শ্রেয়ান।"
কথাটা এনা শ্রেয়ানের কাছে এসে তার বুকের টিশার্ট টা জড়িয়ে ধরে বলল।

এনার কথা গুলি আনিসার মরিচ লাগছিল। যেন তীরের মতো তার মাঝে বিঁধছিল। স্তব্ধ হয়ে শুধু দেখছিল আর শুনছিল। বড় কথা ভেতরটা কেন যেন তার খুব জ্বলছিল।

এবার শ্রেয়ান ভীষণ রেগে যায়। এনার থেকে নিজের টিশার্ট টা ছাড়িয়ে এনা কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে জোরে বলে উঠে,
"আর ইউ ক্রজি এনা? আই হেট ইউ। প্লিজ লিভ মি। লিভ মি এলোন। নাউ গো।"

এনা জানে শ্রেয়ান রেগে গেছে। রাগলে কি করে তাও জানে। শ্রেয়ান কে না রাগিয়ে এনা আনিসার দিকে রাগি লুক দেয়। তারপর কান্না করতে করতে চলে যায়।

শ্রেয়ান একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে পিছন ফিরে আনিসার দিকে তাকায়। আনিসার চোখ পানি তে ঝলঝল করছিল। শ্রেয়ান কিছু না বলেই উপরে উঠে যায়।

আনিসার বড্ড খারাপ লাগে। তখন এনার সাথে শ্রেয়ান কে দেখে আনিসা যেন পুড়ে যাচ্ছিল। আর এখন শ্রেয়ান তাকে একটি কথাও না বলে চলে যাওয়াতে ভেতরটা তার খা খা করছে। এক অন্যরকম কষ্ট লাগছে বুকের গহীনে। শ্রেয়ান যদি একটু কিছুও তাকে বলত, যদি এটাও বলত, 'ফ্রেশ হয়ে নাও ব্রেকফাস্ট করবে।' তবুও যেন আনিসা একটু শান্তি পেত। মনটা একটু হলেও ভালো হতো। কিন্তু এখন যে বড্ড পুড়ছে। অশান্ত হয়ে উঠেছে তার মন।

শ্রেয়ান চুপ করে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
তখন আনিসার টলমল করা চোখ গুলির দিকে তাকালে তার বুক টা ধক করে উঠে। বুকের বা পাশের মাংস পিন্ডটায় বড্ড টান লাগে। সেখানে চিন চিন করা একটা কষ্ট পায় শ্রেয়ান।

সেই কষ্ট টায় শ্রেয়ান কথা বলতে পারছিল না। তার গলা টাও কেমন ট্রাফিকজ্যামের মতো হয়ে গিয়েছিল আনিসার চোখ দেখে। তাই একটা শব্দ করতে পারল না। কথা না বের করে চলে এসেছে। মন টা তার সাগরের পানির মতো উতালপাতাল করছে।

শ্রেয়ান শাওয়ারের নিচে দুই হাত দেওয়ালে ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেওয়ালে দুই হাত দিয়ে মাথা নিচু করে আছে। ঘাড়ে, মাথায় পরা পানি গুলি টলটল করে বেয়ে গড়িয়ে পরছে নিচে। শ্রেয়ান মনে মনে ভাবছিল,
"আনিসার চোখে জমে থাকা পানি গুলিও কি এই ভাবে গড়িয়ে পরত যদি সুযোগ পেত? তবে কি টলটল করে গড়িয়ে পানি পরার সুযোগ টা পায়নি? নাকি পর্যাপ্ত পানি ছিল না? কিন্তু যতটুক পানি ছিল তার কারণ কি? এনা কে দেখে? নাকি এনা কে আমার সাথে দেখে? বুঝতে পারছি না। কিন্তু এটা স্পষ্ট তার চোখের মাঝে কিছু ছিল। হয়তো.... আনিসা তোমারও কি নেশা হয়ে গেল নাকি শ্রেয়ান?"

আনিসা গিয়ে দরজা বন্ধ করে ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে আছে।

বুকের গভীর টা টগবগ টগবগ করছে। শরীর টাও ক্রান্ত লাগছে খুব। ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে মুখ করে আনিসা মনে মনে বলতে থাকে,
"লোক টা আমায় কেন কিনে আনল? যা ভেবে ছিলাম তা তো নয়। আমার কাছে আসারও চেষ্টা করেনি। না করেছে আমার সাথে কোনো রকম জোর। তাহলে কোন কারণে আমার দাম এক কোটি টাকা দিল? উনি আমাকে কিনেছে ধরতে গেলে উনি আমার মালিক। উনার সব কথা শুনতেই এখন আমি বাধ্য। উনি যদি আমার সাথে জোর করেই কিছু করতে চায় না চাইলেও আমি সব বিসর্জন দিতে বাধ্য। কিন্তু উনি তো তাও করে না। আমাকে কাছের একদম নিজের মানুষের মতো করে যত্ন করে রাখছে। নাকি...."

আনিসা আর কিছু ভাবতে পারল না। দরজার ওপাড়ে শ্রেয়ানের ডাক পরল। আনিসা কে ডাকছে।

অন্য সময় হলে হয়তো আনিসা শ্রেয়ানের ডাকে সাড়া দিত। কিংবা দরজা খুলে তার সামনে যেত। তার নেশাভরা চোখের দিকে তাকাত। কিন্তু এখন তার একটুও ইচ্ছা করছে না এসবে।

ওদিকে শ্রেয়ান ডেকেই চলছে।
"আনিসা আনিসা।"
"....
"আনিসা শুনতে পাচ্ছো? আনিসা দরজা খুলো।"
".....
"আনিসা ওপেন দ্যা ডোর।"
".....
"আনিসা প্রচন্ড রাগ উঠছে কিন্তু। সাড়া দিচ্ছো না কেন? আনিসা আনিসা কি করছো তুমি? ওপেন দ্যা ডোর ডেমেট। দরজা খুলো।"

শ্রেয়ান দরজা ধাক্কাচ্ছে আর তাকে ডাকছে।

আনিসা শ্রেয়ানের ডাকে কিছুই বলল না। একবার দরজার দিকে তাকিয়ে আবার মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের মনের সাথে কথা বলতে থাকে।

ওদিকে শ্রেয়ানের মারাত্মক রাগ হতে লাগল। সাথে খুব ভয়।

'একটা মেয়ে এত ডাকার পরেও কেন সাড়া দিবে না? এত ডাকার পরেও কি কেউ সাড়া না দিয়ে মৌন থাকতে পারে? কিছু হলো না তো?'
শ্রেয়ান কথাটা ভেবেই ভয় পায়।

সে ছুটে যায় নিজের রুমে। চাবি টা নিয়ে আসতে যায়।

"ভালোবাসার মানুষের জন্যে যদি ভয়ই না পায় তবে সেটা ভালোবাসা কিসের? ভালোবাসায় সামান্যা ভয় থাকতে হয়। আর সেই ভয় টা হতে হয় ভালোবাসার মানুষ কে হারানোর ভয়। হারানোর ভয় থাকলে আকঁড়ে রাখাটা প্রবল হয়। ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের কাছে আকঁড়ে রাখার ইচ্ছা টা চূড়ান্ত হয়। ফলশ্রুতি তে ভালোবাসায় ভালোবাসা জন্ম নেয়।"

চলবে.....

গঠনমূলক কমেন্ট করবেন।

Next part at 12 PM

Address

Dhaka
Banani Model Town

Telephone

+8801918216191

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Kaya posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category