01/04/2022
Oh God! Help Me to Save one More Life...
একজন ডাক্তারের জন্য আসলেই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে পৃথিবীতে সমস্ত ডাক্তার চিকিৎসা পেশাকে সেবার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কেউ কেউ এই এই মানবসেবার মহান পেশাকে নৃশংসতার চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন Dr.Josef Mengale..যিনি মানব সভ্যতার ইতিহাসে " Angel of Death" নামে বেশি পরিচিত। তিনি দ্বিতীয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাজার হাজার যুদ্ধবন্দী ও ইহুদিদের উপর নৃশংস পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ছিলেন। চলুন আজ তার সম্বন্ধে জেনে নি --------
Dr.Josef Mengale...তিনি জন্মগ্রহণ করেন জার্মানির উলমের কাছে গুজ্নবার্গে। তিনি ছিলেন কৃষি সরঞ্জাম তৈরিকারী Carl Mengale এর জ্যেষ্ঠপুত্র। প্রথম জীবন স্বাভাবিক ভাবে কাটে। ১৯৩৫ সালে তিনি শারীরিক নৃবিজ্ঞানে University of Munich থেকে স্নাতকোত্তর লাভ করেন। । ১৯৩৭ সালের জানুয়ারিতে, তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টের ইনস্টিটিউট ফর হেরিটেরি বায়োলজি অ্যান্ড রেসিয়াল হাইজিনে ডক্টর ওটমার ভন ভার্চুয়ারের সহকারী হন। ভার্চুয়ার ছিলেন একজন নেতৃস্থানীয় বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্ব যিনি যমজ সন্তান নিয়ে গবেষণার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত।
Auschwitz আগে Mengale
মেঙ্গেল ১৯৩৭ সালে নাৎসি পার্টিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৩৮ সালে তার মেডিকেল ডিগ্রি লাভ করেন, একই বছর তিনি এসএস -এ যোগ দেন । মেঙ্গেলকে ১৯৪০ সালের জুন মাসে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে তিনি ওয়াফেন - এসএস (সশস্ত্র এসএস) এর চিকিৎসা সেবার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। এই সময় এবং ১৯৪৩ সালের প্রথম দিকে মেঙ্গেলের কার্যকলাপ সম্পর্কে খুব কম (এবং প্রায়শই পরস্পরবিরোধী) ডকুমেন্টেশন পাওয়া যায়। তবে এটা স্পষ্ট যে, তিনি প্রথম ১৯৪০ সালের গ্রীষ্মে সেন্ট্রাল ইমিগ্রেশন অফিস উত্তর-এ রেস অ্যান্ড সেটেলমেন্ট মেইন অফিসের জন্য একজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছিলেন। পূর্বে পোসেন (আজ পজনান)। তারপরে তিনি এসএস ডিভিশন "উইকিং" (এসএস পাইওনিয়ার ব্যাটালিয়ন V) এর সাথে একজন মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করেছিলেন, যার সাথে তিনি পূর্ব ফ্রন্টে পদক্ষেপ দেখেছিলেন।
Mengale এবং Aushwitz
১৯৪৩ সালে রাশিয়াতে যুদ্ধে আহত হওয়ার পর তিনি পুনরায় জার্মানিতে ফিরে আসেন। তিনি নৃবিজ্ঞান, মানব জেনেটিক্স এবং ইউজেনিক্সের জন্য কাইজার উইলহেম ইনস্টিটিউটে (কেডব্লিউআই) কাজ শুরু করেন, যা তার প্রাক্তন পরামর্শদাতা ফন ভার্সচুয়ার পরিচালিত। ১৯৪৩ সালের এপ্রিলে, তিনি এসএস ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান। এই পদোন্নতি শীঘ্রই মেঙ্গেলের Auschwitz- এ স্থানান্তরের আগে , ৩০ মে, ১৯৪৩-এ। যেখানে রচিত হয়েছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসের ঘৃণ্যতম এবং নারকীয় হত্যাকাণ্ড ও অত্যাচারের কলংকজনক ইতিহাস। যেখানে তার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ "অবদান " ছিল।
Auschwitz এ Mengele এর "EXPERIMENT"
রেনেট গুটম্যান
তার বর্বরতার একজন শিকার ছিল এই ছোট্ট মেয়ে ওতার জমজ ভাই রেনি।তারা তাদের বাবা-মা সহ প্রাগে থাকতেন। যমজ সন্তানের জন্মের কিছুদিন আগে, রেনেটের বাবা-মা ইহুদিদের বিরুদ্ধে নাৎসি সরকারের নীতি থেকে বাঁচতে জার্মানির ড্রেসডেন থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। চেকোস্লোভাকিয়ায় বসবাস করার জন্য জার্মানি ছেড়ে যাওয়ার আগে , রেনেটের বাবা হারবার্ট আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় কাজ করতেন। তার মা ইতা ছিলেন একজন হিসাবরক্ষক।
রেনেটের পরিবার প্রাগের ২২ ট্রলি লাইন এর একটি ছয়তলা অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে বসবাস করতেন।সবকিছু হারিয়ে চলে আসার পর। তাদের দিনগুলো প্রায়ই পাশের পার্কে খেলা করে কেটে যেত। ১৯৩৯ সালের মার্চ মাসে জার্মান সেনাবাহিনী প্রাগ দখল করে এবং তার সাথে শুরু হয়
তাদের জীবনে সবচেয়ে ভয়ানকতম অধ্যায়।
রেনেটের বয়স 6 বছর হওয়ার ঠিক আগে, তার পরিবারকে থেরেসিয়েনস্ট্যাড ঘেটো থেকে আউশভিটজে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তার নম্বর ছিল ৭০৯১৭ যেটা তার হাতে খোদিত করে দেওয়া হয়।তাকে তার ভাই এবং মায়ের থেকে আলাদা করা হয়েছিল এবং তাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাকে একটি টেবিলে বেঁধে ছুরি দিয়ে গলায় কেটে ফেলা হয়েছিল। সে এমন ইনজেকশন পেয়েছিল যা তার বমি এবং ডায়রিয়া হয়। রেনেটকে যখন ইনজেকশনের পরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, তখন রক্ষীরা তাকে হত্যা করার জন্য আসে।কিন্তু একজন নার্স তার নিজের জীবন বাঁজি রেখে তার জীবন বাঁচান।
রেনেট এবং তার ভাই বেঁচে গিয়েছিলেন এবং 1950 সালে আমেরিকায় পুনরায় মিলিত হন। কিন্তু তারা তাদের বাবা মা কে আর কোনদিন দেখতে পাননি। সে ওতার ভাই ছিল কুখ্যাত "Mengale's Twin" গবেষণার অন্যতম জনপ্রিয় উদাহরণ। এরকম আরও শত শত শিশু কিশোর কে শিকার হতে হয়েছিল তার তথাকথিত " Experiment" এর।
Heterochromia এবং Mengale
তার বিভিন্ন ধরনের গবেষণার আগ্রহ ছিল। এর মধ্যে হেটেরোক্রোমিয়ার প্রতি মুগ্ধতা ছিল, এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তির চোখের আইরিস বিভিন্ন রঙের হয়। আউশউইৎজে থাকাকালীন, Mengale সেখানের Gas Chamber এ হত্যাকরা নিরীহ "ইহুদি" দের চোখগুলো সংগ্রহ করতেন এবং সেগুলোর উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন। কখনো কখনো জীবিত ব্যক্তিদের চোখও উপড়ে নেয়া হতো অথবা তাদের চোখের মধ্যে বিভিন্ন রঙের ডাই দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো। স্বাভাবিকভাবেই তার কারণে সেই ব্যক্তিটি তার তার দৃষ্টিশক্তি হারাতো। সেসময় সেখানে বন্দিরা জীবিত থেকেও নরকের যন্ত্রনা ভোগ করত। Mengale তার সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতি এবং ফলাফল অত্যন্ত যত্নসহকারে এবং বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করতেন।Aushwitz এ মেনগেলের কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা প্রথম জানতে পারি Dr.Miklos Nyiszli কাছ থেকে , একজন বন্দী-চিকিৎসক যিনি মেঙ্গেলকে চাপে পড়ে তাকে সহায়তা করতে। Nyiszli তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন, প্রাথমিকভাবে তার স্থানীয় হাঙ্গেরিয়ান ভাষায়,১৯৪৬ সালে। তার কাজ Auschwitz: A Doctor's Eyewitness Account ১৯৬০ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়।
কিন্তু নিয়তির এক নির্মম পরিহাস তার অত্যাচার এর কোন বিচার হয়নি। তিনি প্রথমে আর্জেন্টিনা এবং পরবর্তীতে ব্রাজিলে পালিয়ে যান।আন্তর্জাতিক বিচার আদালত তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলো তারা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তার মৃত্যু ঘটে।