27/10/2025
ডেংগু: এখনই সতর্ক হোন, সচেতন থাকুন
ডেংগু এখন শুধু মৌসুমি রোগ নয় — এটি আমাদের শহর, গ্রাম, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ডেংগু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে, আর অনেকের জীবন বিপন্ন হচ্ছে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে।
সময় এসেছে আমরা সবাই একটু বেশি সচেতন হওয়ার।
জ ডেংগু হয় এডিস মশার কামড়ে — এই মশা দিনের বেলা কামড়ায়, বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে।
এদের প্রজনন হয় ঘরের ভিতর বা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে — যেমন ফুলের টব, ফ্রিজের ট্রে, পানির বালতি, পুরনো টায়ার, ভাঙা বোতল ইত্যাদিতে।
যা করবেন:
✅ প্রতি ২–৩ দিনে একবার করে আশপাশের জমে থাকা পানি ফেলে দিন।
✅ জানালা ও দরজায় মশারি বা নেট ব্যবহার করুন।
✅ শিশু ও বয়স্কদের মশার কামড় থেকে রক্ষা করুন (মশারি, রিপেলেন্ট বা কয়েল ব্যবহার করুন)।
✅ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, গায়ে র্যাশ বা দুর্বলতা দেখা দিলে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
✅ বিশেষ করে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য জ্বরের ওষুধ (যেমন ব্রুফেন বা ডাইক্লোফেনাক) নিজে থেকে খাবেন না — এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডেংগু জ্বরে কীভাবে বিপদ হয়?
অনেক সময় প্রথম ২–৩ দিন জ্বর থাকে, তারপর জ্বর নেমে গেলেও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে — রক্তচাপ কমে যাওয়া, পেট ব্যথা, বমি, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
এগুলো গুরুতর ডেংগুর লক্ষণ, যা দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নির্দেশ করে।
সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হচ্ছে আমাদের সচেতনতা।
নিজের বাড়ি, অফিস, স্কুল—সব জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া মানেই ডেংগুর বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা।
প্রতিটি মানুষ যদি নিজের আশপাশ পরিষ্কার রাখে, তবে আমরা সবাই মিলে এই রোগকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব।
চলুন, আমরা সবাই মিলে বলি —
“আমার ঘর, আমার দায়িত্ব – ডেংগুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব আমরা।”