Dr. Iqbal Mahmud

Dr. Iqbal Mahmud MBBS , BCS
MD(Cardiology), MACP (USA)
Fellowship on Interventional Cardiology,Fortis New Delhi,India

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া হল এমন একটি ক্লিনিক্যাল অবস্থা যেখানে হার্ট ফেইলিউরের কারণে শরীরের পুষ্টি-শোষণে সমস্যা, হজমের সমস...
30/11/2025

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া হল এমন একটি ক্লিনিক্যাল অবস্থা যেখানে হার্ট ফেইলিউরের কারণে শরীরের পুষ্টি-শোষণে সমস্যা, হজমের সমস্যা ও ক্ষুধামন্দার কারণে পেশী ও ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া।

সাধারণত এক বছরের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কমপক্ষে ১০% ওজন কমে গেলে এটি কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

✍কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া কতটা সাধারণ?

দীর্ঘস্থায়ী হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত প্রায় ৫% থেকে ২০% রোগীর মধ্যে এই জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী ২ কোটিরও বেশি মানুষ হার্ট ফেইলিউরে ভুগছে, যাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্যাশেক্সিয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

✪ লক্ষণ ও কারণ ✪

লক্ষণগুলো কী কী?

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো—

-ওজন কমানোর চেষ্টা না করে এক বছরের মধ্যে ৫% বা তার বেশি ওজন কমে যাওয়া
- পেশী ভর ও শক্তি কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা
- খাবারের আগ্রহ কমে যাওয়া

✍কারণগুলো কী?

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া সাধারণত একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হয়। যেমন—

- বিপাকীয় পরিবর্তন
- পর্যাপ্ত প্রোটিন বা ক্যালরি গ্রহণ না করা
- পুষ্টি শোষণে সমস্যা
- শারীরিক সক্রিয়তার অভাব

☢ সম্ভাব্য জটিলতা

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার কারণে দেখা দিতে পারে—

- সারকোপেনিয়া (পেশী হ্রাস)
- পেশীতে দাগ বা ক্ষতি
- চরম দুর্বলতা, পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়া
- ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
- অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি
- রোগের অগ্রগতি ও জীবন-ঝুঁকি বৃদ্ধি

🔍 রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকেরা ওজন হ্রাসের পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, ইকোকার্ডিওগ্রাম, এলবুমিনের পরিমাণ নির্ণয় ও পুষ্টি এসেসমেন্টের বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করেন। কারণ হার্ট ফেইলিউরে শরীরে তরল জমে থাকার কারণে প্রকৃত ওজনের হিসাব ঠিকভাবে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যায়।

🩺 চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার চিকিৎসা বহুমুখী। শুধু বেশি খাবার খাওয়ানোই যথেষ্ট নয়।

১. ব্যায়াম

অ্যারোবিক ব্যায়াম পেশী ক্ষয় রোধে কার্যকর। কার্ডিয়াক রিহ্যাব প্রোগ্রাম—

✅ জীবনমান উন্নত করে
✅ হাসপাতালে ভর্তি কমায়
✅ আয়ু বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে

২. হাসপাতাল পরিচর্যা

যদি রোগী দুর্বলতা বা কম রক্তচাপে ভুগে, তাহলে কয়েকদিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত হলে রোগী বাড়ি ফিরতে পারেন।

৩. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

- কার্ডিওলজিস্ট ও পুষ্টিবিদ সমন্বয়ে
কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার বহুস্তরীয় চিকিৎসা করা হয়। কেবল বেশি খাবার খাওয়ালে সমস্যার সমাধান হয় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম এবং সঠিক কার্ডিয়াক পুনর্বাসন রোগীর শক্তি, সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন সম্পূরক, অল্প অল্প বার বার হাইএনার্জী জাতীয় খাবার খাওয়া রোগীর অবস্থার উন্নতি করতে পারে।

হার্ট ফেইলরের গাইড লাইন ডিরেক্টেড থেরাপী এই চিকিৎসার মূল ভিত্তি।

যদিও কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার পরিণতি সাধারণত ভালো নয়,তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর অবস্থা অনেকটাই উন্নত হতে পারে। গবেষণা বলছে, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। তবে চিকিৎসা না পেলে অনেক রোগী অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন।

ডায়াবেটিসের প্রথম আঘাত আসে হার্টে। তবুও প্রতিরোধ সম্ভব, নিয়মিত ফলোআপ আর সচেতন জীবনযাপনেই সমাধান। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে ত...
14/11/2025

ডায়াবেটিসের প্রথম আঘাত আসে হার্টে। তবুও প্রতিরোধ সম্ভব, নিয়মিত ফলোআপ আর সচেতন জীবনযাপনেই সমাধান। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে তাই কর্মস্থল ও পরিবার—সবখানেই গড়ে তুলুন ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতার পরিবেশ। সুস্থ হার্টের জন্য আজই শুরু হোক ছোট ছোট যত্নের অভ্যাস।










বিশ্ব যেথা এগিয়ে চলে,আমরা যাই পিছে.... #বাঁচতে_হলে_জানতে_হবেচট্টগ্রামসহ সারাদেশে কিছু  সেন্টার চালু হয়েছে, যারা দাবী করছ...
13/11/2025

বিশ্ব যেথা এগিয়ে চলে,
আমরা যাই পিছে....

#বাঁচতে_হলে_জানতে_হবে

চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কিছু সেন্টার চালু হয়েছে, যারা দাবী করছে যে তারা EECP নামের এক বিশেষ পদ্ধতিতে রিং বা বাইপাস ছাড়া শরীরের সকল রক্তনালীর ব্লক খুলে দেন। যেটা ১০০% ভুয়া এবং অবৈজ্ঞানিক।
তাদের ব্যানারে দেখা যায়, তারা EECP কে বলেছে রিং,বাইপাস ছাড়া হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে,হার্টের কিছু রোগী থাকে যাদের হার্টের রক্তনালী ব্লকের পর পর্যাপ্ত ঔষুধ,রিং বা বাইপাস করার পরও তাদের ব্যথা যায় না।ঔষধ,রিং,বাইপাসের পরও এই ব্যথা যদি তিনমাসের বেশি থাকে তবে তাদের জন্য কিছু থেরাপীর ট্রায়াল বিশ্বজুড়ে চলছে।

যেগুলোর কোনটাই এখনও পুরোপুরি সর্বজন কার্যকর না। তার মধ্যে একটা হচ্ছে এই EECP।

★তাহলে EECP কি দরকার নাই? থাকলে কাদের কে দিব?

দরকার আছে,যাদের আর কিছুই করার নাই।"নানীকে মা ডেকে দিন কাটানোর" মত তাদেরকে EECP দেয়া যেতে পারে।

✴️কাদের কে দিব?
-যাদের হার্টে ব্লক আছে
-তিনমাস কোন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত সঠিকভাবে ঔষধ খেয়েছে,
-হার্টে রিং বা বাইপাস করা হয়েছে,
-অথবা হার্টে ব্লক থাকার পরও তার অন্যান্য জটিলতা যেমন কিডনী ফেইল,হার্টে ব্লক এতই বেশি যে রিং বা বাইপাস করা যাচ্ছে না।
-এতকিছুর পরও হার্টের ব্যথা যাচ্ছে না।

তাদের জন্য যখন কিছুই করার নাই তখন এই EECP।

কিন্তু এসব সেন্টারের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে মানুষ হার্টের ঔষুধ,রিং,বাইপাস বাদ দিয়ে EECP এর দিকে ঝুঁকছে।

যে রোগীর রিং দরকার,যার বাইপাস দরকার সে এগুলো না করে EECP নেয়া হবে খুনের শামিল।

যে সব রোগীকে তারা এই থেরাপী দিচ্ছে,আসলে কি তাদের এই থেরাপীর প্রয়োজন আছে কিনা সেটা কে নির্ধারণ করবে?

এটা অবশ্যই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে হতে হবে।
এসব সেন্টারের কি কোন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আছে?

ইন্ডিয়াতে EECP এর অনেক সেন্টার আছে কিন্তু কোনটাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শের বাইরে চলে না।

ওখানে এসব চিন্তায় করা যায় না।কারো মন চাইলো আর রাস্তার মোড়ে নামকাওয়াস্তে একটা হার্ট সেন্টার বানিয়ে ফেলল।

EECP এর খরচ,১ লাখ ২০ হাজার টাকা অথচ এর চেয়ে কম টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে উন্নত মানের রিং বা বাইপাস অপারেশন করা যায়।সুতরাং সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।

কোন সেন্টার কে যদি EECP চালাতে হয়, তবে
১/ তাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারনা বন্ধ করতে হবে
২/ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যতীত কাউকে EECP দেয়া যাবে না।
৩/ EECP দিতে গিয়ে কোন ইমার্জেন্সী হলে তা ম্যানেজের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, মানুষের অজ্ঞনতাকে কাজে লাগিয়ে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন নাই এমন রোগীকেও তারা EECP দিচ্ছে।

বিষয়টি বিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, সিভিল সার্জন অফিস,বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির হস্তক্ষেপ আশা করছি।

EECP কখনোই হার্টের ঔষধ, রিং বাইপাসের বিকল্প নয়। এটা সিলেকটিভ কিছু রোগীর জন্য হার্টের চিকিৎসার একটা পদ্ধতি যেটা শুধুমাত্র হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নেয়া উচিত। কারা এই থেরাপী থকে উপকৃত হবেন তা আমি লিখেছি।

না জেনে বিভ্রান্ত হবেন না, টাকাও যাবে জীবন ও হারাবেন।
---
ডাঃইকবাল মাহমুদ
এমবিবিএস,বিসিএস
এমডি (কার্ডিওলজি)
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

হৃদরোগ এখন শুধু বয়সের রোগ নয় — অল্প বয়সেই অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, বা হার্ট অ্যাটাকে। কিন্তু প্র...
11/11/2025

হৃদরোগ এখন শুধু বয়সের রোগ নয় — অল্প বয়সেই অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, বা হার্ট অ্যাটাকে। কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই আপনি আপনার হার্টকে অনেক বেশি সুরক্ষিত রাখতে পারেন। চেম্বারে প্রতিনিয়ত রোগীদের খাবারের ব্যাপারে সচেতন হতে বলি। অনেকেই জিজ্ঞেস করেন হার্ট ফ্রেন্ডলি খাবার কোনগুলো। চলুন জানি, হার্টবান্ধব খাবারগুলো কী কী থাকা উচিত আপনার বাজারের তালিকায় 👇

🐟মাছ
বাংলাদেশে সহজলভ্য মাছ যেমন — রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙাশ, টেংরা, শোল, তেলাপিয়া ও ছোট মাছ— এগুলোতে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তে ক্ষতিকর চর্বি কমায় এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে।

👉 সপ্তাহে অন্তত দুইবার মাছ খান, ভাজা নয় — সিদ্ধ বা ঝোলে রান্না করা ভালো।

🌰 বাদাম ও বীজ
কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, আখরোট, তিল, তিসি (ফ্ল্যাক্সসিড), চিয়া সিড বা কুমড়ার বীজে থাকে “ভালো ফ্যাট” ও ফাইবার, যা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে।
👉 তবে মনে রাখবেন, বাদাম ও বীজে ক্যালোরি বেশি — তাই অল্প পরিমাণে (১ মুঠো) খাওয়া যথেষ্ট।

🍎 ফল
আপেল, কলা, কমলা, পেয়ারা, ডালিম, জামরুল, আমলকি, পেঁপে — এগুলোর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালী পরিষ্কার রাখে ও হার্টকে শক্তিশালী করে।
👉 প্রতিদিন অন্তত ২ বেলার খাবারে একটি ফল রাখুন।

🥦 সবজি
লাল (টমেটো, বিট), সবুজ (পালং, লালশাক, কলমিশাক), হলুদ (গাজর, মিষ্টি আলু), বেগুনি (বেগুন) — এই সবজিগুলো রক্তপ্রবাহ উন্নত করে ও কোলেস্টেরল কমায়।
👉 প্রতিদিনের প্লেটে অর্ধেকটা সবজি রাখুন।

🌾 গোটা শস্য ও ডাল
লাল চাল, গমের রুটি, ওটস, ছোলা, মসুর ডাল, মুগ ডাল, রাজমা, কালাই ডাল — এগুলো শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
👉 ভাতের পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েকদিন ডাল বা রুটি খাবার রাখুন।

🧄 রসুন ও আদা
রসুন ও আদায় থাকা যৌগ রক্তনালী প্রসারিত করে, রক্তচাপ কমায় এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে।
👉 প্রতিদিনের রান্নায় সামান্য কাঁচা রসুন বা আদা ব্যবহার করুন।

🫖 চা ও গ্রিন টি
হার্টের জন্য চায়ের মধ্যে সবচেয়ে উপকারী গ্রিন টি। গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালী পরিষ্কার রাখে, প্রদাহ কমায় এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি পোড়াতে সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
👉 দিনে ১–২ কাপ গ্রিন টি ও রঙ চা পান করতে পারেন, চিনি বা দুধ ছাড়া খাওয়া সবচেয়ে ভালো। চা পানের সময়ের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ — খাবারের ৩০ মিনিট পর পান করাই শ্রেয়।

🧂 লবণ কমান, পানি বাড়ান 💧
অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
👉 তাই প্রতিদিনের খাবারে লবণ সীমিত রাখুন — বিশেষত আচার, ফাস্টফুড, চিপস, সস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা লুকানো সোডিয়াম এড়িয়ে চলুন।
অন্যদিকে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে রক্ত ঘন হয় না এবং হৃদপিণ্ড সহজে কাজ করতে পারে।
👉 দিনে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করুন (গরমে বা ব্যায়ামের পর আরও বেশি)।

💡হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকতে বাংলাদেশের জীবনযাপনে ছোট পরিবর্তনেই বড় ফল বয়ে আনে -

✅ প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন
✅ ধূমপান ও ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করুন
✅ পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখুন

মানুষের হার্টে চারটি ভালভ থাকে। দুইটা বাম দিকে ও দুইটা ডান দিকে।আমাদের হার্ট প্রতি মিনিটে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শরীরের প্...
09/11/2025

মানুষের হার্টে চারটি ভালভ থাকে। দুইটা বাম দিকে ও দুইটা ডান দিকে।

আমাদের হার্ট প্রতি মিনিটে অক্লান্ত পরিশ্রম করে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় হার্টের ভালভের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এগুলো রক্ত প্রবাহের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণ করে—যেন রক্ত এক দিক থেকে অন্য দিকে সঠিকভাবে প্রবাহিত হয় এবং উল্টো দিকে ফিরে না আসে।

কিন্তু কখনও কখনও এই ভালভগুলোর এক বা একাধিক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তখন হার্টের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

চিকিৎসার মাধ্যমে ভালভ মেরামত করা না গেলে শেষ উপায় হিসেবে হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন (Heart Valve Replacement) করা হয়—

একটি জীবনরক্ষাকারী সার্জারি যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে নতুন জীবন দিয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিস্কারগুলোর মধ্যে হার্ট ভালভ রিপ্লেসমেন্ট অন্যতম।

🫀 হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন কী?
হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন হলো একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভের পরিবর্তে নতুন একটি ভালভ বসানো হয়। এই ভালভ দুটি ধরণের হতে পারে:

💉 জৈবিক (Biological) ভালভ
এগুলো গরু, শূকর বা মানুষের টিস্যু দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে এগুলি সময়ের সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে, ফলে ভবিষ্যতে আবার প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে।

⚙️ যান্ত্রিক (Mechanical) ভালভঃ
এগুলো ধাতব পদার্থ বা কার্বন দিয়ে তৈরি হয় এবং আজীবন স্থায়ী। তবে রক্তে জমাট বাঁধা রোধ করার জন্য আজীবন রক্ত পাতলা করার ওষুধ (Anticoagulant) নিতে হয়।

⚕️ কেন হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হতে পারে?

হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন সাধারণত নিচের সমস্যাগুলোর জন্য করা হয়:

✅ অ্যাওর্টিক ভালভ রোগ (Aortic Valve Disease) – হার্ট থেকে শরীরে রক্ত প্রবাহের প্রধান দরজায় বাধা সৃষ্টি হলে।

✅ মাইট্রাল ভালভ রোগ (Mitral Valve Disease) – ফুসফুস থেকে হার্টে রক্ত প্রবাহে সমস্যা হলে।

✅ ট্রাইকাস্পিড ও পালমোনারি ভালভ রোগ – তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে জন্মগত ত্রুটি বা সংক্রমণের কারণে হতে পারে।

✅ জন্মগত হার্ট রোগ (Congenital Heart Defect) – জন্ম থেকেই ভালভে ত্রুটি থাকলে।

এই অবস্থাগুলিতে হার্ট কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে প্রতিস্থাপনই একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

🔍 অস্ত্রোপচারের ধরণঃ

বর্তমানে হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন দুইভাবে করা যায়:

🩺 ওপেন হার্ট সার্জারি (Open-Heart Surgery)

সাধারণত বুক কেটে সরাসরি হার্টে অপারেশন করা হয়।সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: যেমন-

সার্জিক্যাল অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন (SAVR)

ট্রান্সক্যাথেটার বা আধুনিক পদ্ধতিঃ এটি হার্টের রিং লাগানোর মতই পায়ের রক্তনালি দিয়ে ক্যাথেটারের সাহায্যে করা হয়। এটি তুলনামূলক নিরাপদ, দ্রুত আরোগ্য লাভ সম্ভব এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তবে এটা ব্যয়বহুল। একটা ভালভ রিপ্লেসমেন্ট করকে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়।

এর মধ্যে রয়েছে:

ট্রান্সক্যাথেটার অ্যাওর্টিক ভালভ প্রতিস্থাপন (TAVR)

ট্রান্সক্যাথেটার মাইট্রাল ভালভ প্রতিস্থাপন (TMVR)

ট্রান্সক্যাথেটার পালমোনারি ভালভ প্রতিস্থাপন (TPVR)

⚠️ সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সতর্কতা

যদিও হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন সাধারণত নিরাপদ, তবুও কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন:

সংক্রমণ বা রক্তপাত

হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিউর

কিডনি ফেইলিউর

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

রক্ত জমাট বা এম্বোলিজম

🩸 ভালভ রিপ্লেসমেন্টের পর নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:

জ্বর, ঠান্ডা লাগা বা ক্ষতস্থানে পুঁজ

পায়ে ফোলাভাব বা ব্যথা

অস্বাভাবিক রক্তপাত বা মাথা ঘোরা

হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট

🌿 মানসিক স্বাস্থ্যঃ

অনেক সময় এই বড় অস্ত্রোপচারের আগে রোগীরা ভয় বা উদ্বেগে ভোগেন—এটি স্বাভাবিক। চিকিৎসা দলের সহায়তায় ধীরে ধীরে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া যায়। পরিবার ও প্রিয়জনের সহযোগিতাও এই সময় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

মনে রাখবেন, প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন এই অস্ত্রোপচার অনেক বেশি নিরাপদ ও সফল। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ সফলভাবে নতুন হার্ট ভালভ নিয়ে সুস্থ জীবনযাপন করছেন।

💖 উপসংহার

হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন শুধু একটি সার্জারি নয়—এটি জীবনের নতুন সূচনা।
সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই অস্ত্রোপচার জীবনকে আবার ছন্দে ফিরিয়ে আনতে পারে।

আপনার বা আপনার প্রিয়জনের যদি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ থাকে, তাহলে দেরি না করে কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আপনার যত্নই হতে পারে আপনার হার্টের প্রতি সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। ❤️

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিতে অনেক প্রসিডিওর হয়। আমরা সাধারণত এনজিওগ্রাম,স্ট্যান্টিং ( রিং লাগানো), পেসমেকার, কেউ কেউ ইলেকট...
26/10/2025

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিতে অনেক প্রসিডিওর হয়। আমরা সাধারণত এনজিওগ্রাম,স্ট্যান্টিং ( রিং লাগানো), পেসমেকার, কেউ কেউ ইলেকট্রোফিজিওলজি করি।

মেডিকেল সায়েন্সে বায়োপসি ( Biopsy) নামে একটা পরীক্ষা আছে। যেটা দিয়ে সাধারণত কোন জায়গায় কোষের ধরণ দেখে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ ডায়াগনোসিসে ব্যবহার করা হয়।

এটার সাথে কম বেশি সবাই পরিচিত।

তো কার্ডিয়াক বায়োপসি নামেও একটা পরীক্ষা আছে।
যেটাতে হার্টের মাংস, শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে হার্ট থেকে মাংস নিয়ে সেটা পরীক্ষা করা হয়।

সব সাবজেক্টে কিছু থিওরী থাকে যেগুলো পাশের জন্য জানতে হয়,এই পরীক্ষা টাও কার্ডিওলজিতে তেমন মনে হতো। বইয়ে পড়েছি, যতটুকু জানি এটা আমাদের দেশে হয় না।

এটা এতই রেয়ার যে, কখনো করা তো অনেক দূর, দেখার সুযোগ হবে এমন চিন্তাই মাথায় আসে নি।

দিল্লীতে যাওয়ার পর দেখি আমাদের ইউনিটে এই পরীক্ষা টা হয়। ফর্টিসের একটা সৌন্দর্য হচ্ছে এখানে হার্টের এ টু জেড সব হয়,এমনকি হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টও হয়।

মূলত এই পরীক্ষা টা আমরা ট্রান্সপ্লান্টেড হার্টের কোষের বিরুদ্ধে রোগীর শরীর কোন বিরুপ আচরণ ( ট্রান্সপ্লান্ট ইম্যুউনিটি)) করছে কিনা সেটা দেখার জন্য করে থাকি।

যেহেতু হার্টটা অন্য মানুষের সুতরাং যার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে সে এটাকে অপরিচিত বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়ে নষ্ট করে দিতে চায়।সেরকম কিছু হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য আমরা এই পরীক্ষাটা করা হয়।

গত সপ্তাহেও একটা কার্ডিয়াক বায়োপসি কেস ছিল। আগেরবার করার সময় কনসালটেন্ট আমাকে এই পরীক্ষার প্রসিডিওর নিয়ে ব্রিফ করছিলেন। এবারের রোগীর হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে কিছুদিন আগে, ডিসচার্জের সময় বায়োপসির জন্য আমাদের এখানে পাঠানো হয়েছে।
কার্ডিয়াক বায়োপসি নেয়ার কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ আমার কাছে আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতো। আমরা মোট ছয়টা স্যাম্পল নিয়েছিলাম। অসাধারণ থ্রিলিং আর ফিলিংস্।

Just beyond imagination। একটা ট্রেনিংয়ের পূর্ণতা এখানেই।
বই কেনা আমার একটা রোগ,আমি প্রচুর বই কিনি। কার্ডিওলজির এত বই আমার আছে যে আমি ঢাকায় বই কিনতে গেলে দোকানদার ভাবতো পাগলটা আসছে যা পারি গছায় দি। সেও দিতো, আমিও কিনতাম। বই কিনার পিছনে আমার লজিক, ১০০০ টাকার বই থেকে যদি ১০ লাইন শিখতে পারি তাহলে টাকা উসুল।

জমানো গুছানো চেম্বার ছেড়ে ফর্টিসে একবছরের জন্য যাওয়ার উসুল হচ্ছে কার্ডিয়াক বায়োপসি।

প্রয়োজন পড়লে এই পরীক্ষা আমরা করতে পারি। সমস্যা হচ্ছে কার্ডিয়াক টিস্যুর হিস্টোপ্যাথলজি কে করবে,কোথায় করবে? কবে যে দেশে এসব এভেলেবল হবে।

19/10/2025

একজন সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার পথে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট পেলাম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। খবরটি শুনে সবাই শোকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। উনার প্রোফাইলে গিয়ে দেখলাম মাত্র গতরাতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন —

"আল্লাহ মালুম, কোন দিকে যাচ্ছি। স্ট্রেসে বুকের ব্যথাটা বেড়ে যায়।"

একটি সরল, হয়তো অসহায় বাক্য, কিন্তু সেটিই ছিল মৃত্যুর আগের সতর্কবার্তা।

আমরা চিকিৎসকরা চেম্বারে, হসপিটালে রোগীদের স্বজনদের বারবার বলি — এ ধরনের বুকে ব্যথা কখনও হালকাভাবে নেবেন না, চেপে রাখবেন না। বিশেষ করে যদি ব্যথা বুকের মাঝখানে হয়, ঘাড়ে বা হাতে ছড়িয়ে পড়ে, ঘাম আসে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা মাথা ঘোরে — তাহলে সেটি হার্টের সতর্ক সংকেত হতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত হসপিটালে যেতে হবে।

আল্লাহ চাইলে এই ধরনের বুকে ব্যথার কারণ যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ অবস্থা থেকেও জীবন বাঁচানো সম্ভব। এখনকার চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রাইমারি পিসিআই (Primary PCI) বা জরুরি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির মাধ্যমে ব্লক করা ধমনী খুলে দেওয়া যায় মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই। এতে রোগীর হার্টের ক্ষতি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়, এবং তিনি সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—আমরা অনেক সময় “অল্প ব্যথা” ভেবে সহ্য করি, “কিছু হবে না” ভেবে অপেক্ষা করি, আর তাতেই হারিয়ে যায় সেই মূল্যবান সময়, যেটা জীবন বাঁচাতে পারত।

👉 স্মরণ রাখুন:

✅ বুকে ব্যথা মানেই গুরুত্ব দিন।
✅২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
✅ নিকটস্থ হার্ট সেন্টারে পৌঁছাতে দেরি করবেন না।
✅ ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ – এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করুন।

এই শিক্ষকের মৃত্যু আমাদের জন্য এক বেদনাদায়ক শিক্ষা — জীবন কত ভঙ্গুর, আর সচেতনতা কত মূল্যবান।

আপনার চারপাশে কেউ এমন উপসর্গে ভুগলে দেরি নয়, এখনই পদক্ষেপ নিন। সময়ই জীবন।

🧠 সিনকোপ (Syncope) কী?সিনকোপ বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (ইংরেজিতে fainting বা passing out) এমন একটি অবস্থা, যাতে ব্যক্তি হ...
14/10/2025

🧠 সিনকোপ (Syncope) কী?

সিনকোপ বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (ইংরেজিতে fainting বা passing out) এমন একটি অবস্থা, যাতে ব্যক্তি হঠাৎ করে জ্ঞান হারান এবং সাধারণত কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য স্থায়ী হয় এবং এরপর ব্যক্তি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এটি ঘটে যখন মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ সাময়িকভাবে কমে যায়, ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিনকোপ ক্ষণস্থায়ী এবং বিপজ্জনক নয়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদরোগ, স্নায়বিক সমস্যা বা অন্যান্য জটিল রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।

সিনকোপের আগে অনেকেই প্রি-সিনকোপ নামক উপসর্গগুলো অনুভব করেন — যেমন মাথা ঘোরা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, কানে শব্দ বা শুনতে অসুবিধা, দুর্বল লাগা, ঘাম হওয়া বা হঠাৎ ঠান্ডা লাগা। আবার অনেক সময় কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ করে চেতনা হারিয়ে ফেলেন।

💓 সিনকোপের মূল কারণ

সিনকোপের প্রধান কারণ হলো মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহের ঘাটতি, এবং এটি মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায় 👇

❤️ ১. কার্ডিয়াক সিনকোপ (Cardiac Syncope)

এটি সবচেয়ে গুরুতর ধরনের সিনকোপ, যা হৃদপিণ্ড বা রক্তনালীর সমস্যার কারণে ঘটে। সাধারণত এটি কোনো সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ ঘটে এবং বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রধান কারণসমূহ:

⚡ অ্যারিথমিয়া (Arrhythmia) – হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়, ফলে হার্ট সঠিকভাবে ব্রেনে রক্ত পাম্প করতে পারে না।

💔 কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Cardiomyopathy) – হৃদপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

🚫 অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস – মানুষের হৃদপিণ্ড ও শরীরের সবচেয়ে বড় ধমনী (যাকে মহাধমনী বলা হয়) এর মাঝখানে একটা ভাল্ভ থাকে, এই ভালভ সরু হয়েও সিনকোপ হয়। এসব রোগীরা সাধারণত পরিশ্রমের সময় সংজ্ঞা হারান।

💥 অ্যাওর্টিক ডিসেকশন – হৃদপিণ্ড থেকে শরীরে রক্তবহনকারী প্রধান ধমনীর ছিঁড়ে যাওয়া, যা জীবনহানিকর।

যদি ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে যান। অতিরিক্ত গরম, ডিহাইড্রেশন বা হঠাৎ দাঁড়ানোর কারণে না হয়, তাহলে এটি হৃদজনিত সমস্যা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

💫 ২. রিফ্লেক্স সিনকোপ (Reflex Syncope)

এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরণের সিনকোপ, যা ব্রেনের রিফ্লেক্স বা প্রতিক্রিয়ার কারণে ঘটে। এতে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন ধীর হয়ে যায় বা রক্তনালী প্রশস্ত হয়, ফলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্ত যাওয়া বন্ধ হয়।
রিফ্লেক্স সিনকোপের ধরন:

💧 ভ্যাসোভাগাল সিনকোপ (Vasovagal Syncope) — সবচেয়ে সাধারণ রূপ। যা কোন অস্বাভাবিক বিষয় যেম রক্তক্ষরণ দেখা, ব্যথা, মানসিক চাপ, ইনজেকশন নেওয়া, রক্তদান, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা অতিরিক্ত গরমে হতে পারে।

⚙️ সিচুয়েশনাল সিনকোপ (Situational Syncope) — কাশি, হাঁচি, হাসি, খাবার গেলার সময় , প্রস্রাব বা মলত্যাগের সময় হঠাৎ রক্তচাপ কমে ঘটে।

🧣 ক্যারোটিড সাইনাস সিনকোপ (Carotid Sinus Syncope) — ঘাড়ে চাপ, শক্ত কলার বা টাই পরা বা ঘাড় ঘোরানোর সময় ধমনীর উপর চাপ পড়লে হয়; সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায়।

এই ধরনের সিনকোপ সাধারণত জীবনহানিকর নয়, তবে এটি ঘন ঘন হলে ট্রিগার চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

📉 ৩. অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Hypotension)

বসা থেকে দাঁড়ানোর সময় রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সিনকোপ হয়।

এটি বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং প্রায়ই ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত গরম, হাইপ্রেসারের ঔষধ বা ডায়ুরেটিকস জাতীয় ঔষধের এর কারণে ঘটে।

পোস্টারাল অর্থোস্ট্যাটিক ট্যাকিকার্ডিয়া সিনড্রোম (POTS) নামের এক বিরল অবস্থায় দাঁড়ালে হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায়, যার ফলে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া ঘটতে পারে।

🩺 সিনকোপ হলে কী করবেন?

যদি কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়, তখন 👇

তাকে শুইয়ে দিন যাতে পা সামান্য উঁচু থাকে — এতে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ে।

জামাকাপড় ঢিলা করুন ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন।

দ্রুত চেতনা না ফিরলে CPR শুরু করুন এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।

ঘন ঘন সিনকোপ হলে অবশ্যই রক্তচাপ, ইসিজি, ও হৃদপিণ্ডের পরীক্ষা করানো জরুরি।

💬 শেষ কথা

সিনকোপ অনেক সময় সাময়িক বা ক্ষতিকর নয়, কিন্তু ঘন ঘন হলে এটি হৃদপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র বা রক্ত সঞ্চালনের জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই অজ্ঞান হওয়াকে কখনও অবহেলা করবেন না। কারণ, কখনও কখনও একটি সাধারণ অজ্ঞান হওয়া জীবন রক্ষার সতর্ক ঘণ্টা হতে পারে।

হৃদরোগ বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ আমাদের দেশে দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় হার্টের ধমনীতে কোলেস্টেরল বা প্লাক জমে রক্তনা...
06/10/2025

হৃদরোগ বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ আমাদের দেশে দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় হার্টের ধমনীতে কোলেস্টেরল বা প্লাক জমে রক্তনালী সরু হয়ে যায়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এই অবস্থায় রোগী বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এমনকি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

হার্টের প্রধান রক্তনালীতে (Left Main) ব্লক ৫০% এর বেশি ও অন্যান্য রক্তনালী ৭০% এর বেশি হলে প্রচলিত চিকিৎসায় ধমনীর ব্লক খুলে সেখানে আমরা রিং বসাই যাকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বলা হয়। এতে একটি বেলুন দিয়ে ধমনীর ব্লক প্রসারিত করা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেখানে একটি স্টেন্ট ( সরু কোবাল্ট,ক্রোমিয়াম বা প্লাটিনাম ধাতু দিয়ে তৈরি) বসানো হয় যাতে ধমনী পুনরায় সংকীর্ণ না হয়। এই চিকন ধাতুর তারের মধ্যে এক ধরনের ঔষুধ দেওয়া থাকে যে ওষুধটি রক্তনালীর ভিতরে পুনরায় ব্লক আসার প্রবণতা রোধ করে।

তবে সব ক্ষেত্রে স্টেন্ট বসানো সম্ভব হয় না বা কিছু ক্ষেত্রে স্টেন্ট বসানোর পরও সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে চিকন বা সরু রক্তনালীতে, আগে বসানো রিংয়ের ভিতর নতুন করে ব্লক হলে এসব জায়গায় আবার রিং করলে নতুন আবারো রিংয়ে ব্লক আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই এসব জায়গায় ড্রাগ কোটেড বেলুন (DCB) নামে একটি আধুনিক ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে এসেছে।
---

ড্রাগ কোটেড বেলুন কী?

ড্রাগ কোটেড বেলুন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের বেলুন,যাতে আমাদের ব্যবহৃত রিংয়ে যে ধরনের ঔষুধ থাকে তা এই বেলুনের গায়ে লাগানো থাকে। ফলে এই বেলুন দিয়ে ধমনী প্রসারিত করার সময় বেলুনের গায়ে থাকা ওষুধ (সাধারণত অ্যান্টি-প্রোলিফারেটিভ ড্রাগ) সরাসরি ধমনী প্রাচীরে পৌঁছে যায়। এই ওষুধ ধমনীতে অপ্রয়োজনীয় কোষের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, ফলে পুনরায় ব্লক বা সংকীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
---

কখন DCB ব্যবহার করা হয়?

★ছোট আকারের ধমনীতে ব্লক থাকলে যেখানে স্টেন্ট বসানো কঠিন।

★স্টেন্ট বসানোর পর পুনরায় ব্লক (In-stent restenosis) হলে।

কিছু বিশেষ ধমনী ব্লক যেখানে ধাতব স্টেন্ট দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
---

ড্রাগ কোটেড বেলুনের সুবিধা

✅ ধমনীতে স্থায়ী কোনো ধাতব বস্তু (স্টেন্ট) রাখতে হয় না।
✅ পুনরায় ব্লক হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
✅ বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেন্টের চেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।
✅ ভবিষ্যতে আবার প্রয়োজনে চিকিৎসা করা সহজ হয়।
---

সীমাবদ্ধতা

- সব ধরনের ব্লকে ব্যবহার করা যায় না।
- দক্ষ কার্ডিওলজিস্ট ও আধুনিক ক্যাথল্যাব দরকার।
- কিছু ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
---

সচেতনতার বার্তা

হার্টের রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুস্থ জীবনযাপন – নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, ধূমপান পরিহার, ডায়াবেটিস-চাপ নিয়ন্ত্রণ। তবে যদি ধমনীতে ব্লক ধরা পড়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতি, যেমন ড্রাগ কোটেড বেলুন রোগীর জন্য জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

👉 তাই, বুকে চাপ বা অস্বাভাবিক ব্যথা অবহেলা করবেন না। দ্রুত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

গত ২৪-২৫ তারিখ ছিল SCAI( Society of Cardiovascular Angiography and intervention) এ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। SCAI পর...
27/09/2025

গত ২৪-২৫ তারিখ ছিল SCAI( Society of Cardiovascular Angiography and intervention) এ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। SCAI পরিচালিত হয় আমেরিকা থেকে। এই কনফারেন্স বাংলাদেশ ও আমেরিকান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আয়োজন করা হয়।

কনফারেন্সে আমার নিজের করা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটা কেস আমি দেখাই। যেটাতে রোগীর রক্তনালি ফুটা হয়ে গেলে নতুন ইনোভেটিভ উপায়ে আমি সেটা বন্ধ করি। ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামে সুযোগ সুবিধা যন্ত্রপাতি কম, এরকম জটিল কেস হেন্ডেল করাও কঠিন।

সরকারী হাসপাতালে একদিকে গরীব রোগী অন্যদিকে অপ্রতুল জিনিস। এরকম একটা ছিদ্র বন্ধ করতে ৭০০০০-৮০০০০ টাকার জিনিস প্রয়োজন পড়ে আবার অনেক সময় করাও যায় না। ফলে অনেক রোগী মারাও যান। গরীব জায়গায় মিনিমাম খরচে ( যেটা করতে আমাদের মাত্র ৭০০০ টাকা দামের একটা বেলুন লেগেছে) কিভাবে এই কাজ টা করা যায় যেটা আমি দেখিয়েছি।

কেস শেষে ফ্যাকাল্টি ডিনারে আমি ফলো করি, এরকম একজন প্রফেসর আমাকে বলেছেন তোমার জিনিসটা নতুন শিখলাম, ভালো প্রেজেন্ট করছো।

আয়োজকদের একজন আমেরিকার নেভাদার একটা হাসপাতালের হেড প্রফেসর চৌধুরী এইচ আহসান ও আমাকে ইমপ্রেসিভ লিখে টেক্সট করেন।

এই কেস কম্পিটিশনে আমি 3rd Best Case এর পুরস্কার জিতি।

এছাড়াও উপস্থিত কার্ডিওলজিষ্টদের মধ্যে কুইজ কম্পিটিশনে দ্বিতীয় পুরস্কার পাই।

একটা সেশনে এই প্রথমবারের মতো প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

দারুণ এক্সপেরিয়েন্স। আলহামদুলিল্লাহ।

SCAI তে সুযোগ করে দেয়ার জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিকট আমি কৃতজ্ঞ, একই সাথে কৃতজ্ঞতা আমার সকল শিক্ষক ও রোগীর প্রতি, যারা আমাকে প্রতিদিন শিখাচ্ছেন।

হার্ট আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। তাই হার্ট...
12/09/2025

হার্ট আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। এটি শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। তাই হার্টে সামান্য সমস্যা হলেও তা পুরো শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেক সময় রোগীরা বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসেন। আবার কেউ কেউ নিয়মিত চেকআপের জন্যও হার্টের পরীক্ষা করাতে চান।
তখন প্রেসক্রিপশনে আমরা প্রায়ই দেখি—ECG, ECHO, ETT,রক্তে গ্লুকোজ ও চর্বির পরিমাণসহ বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষার নাম লেখা থাকে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই সব পরীক্ষা কেন দরকার বা হার্টের সমস্যা নির্ণয়ে কি কি পরীক্ষা করা প্রয়োজন?

এর উত্তর হলো—প্রতিটি পরীক্ষার মাধ্যমে হার্টের ভিন্ন ভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য।

রক্ত পরীক্ষা সবচেয়ে সহজ এবং প্রাথমিক পরীক্ষা। যখন হার্ট অ্যাটাকের মতো অবস্থায় হার্টের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন কিছু নির্দিষ্ট পদার্থ রক্তে নির্গত হয়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সেসব পদার্থ শনাক্ত করা যায় এবং বোঝা যায় হার্টের পেশী কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কোলেস্টেরল, গ্লুকোজের মাত্রাও জানা যায়, যা ভবিষ্যতে হার্টের রোগের ঝুঁকি নিরুপনে সাহায্য করে।

ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি হার্টের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করে। এর মাধ্যমে হার্টবিটের ছন্দ, হার্ট অ্যাটাক, রক্তনালীতে ব্লকের চিহ্ন কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা যায়।

ইকোকার্ডিওগ্রাম বা হার্টের আলট্রাসাউন্ড যা দিয়ে ভালভ, চেম্বার এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা বোঝা যায়।

আরেকটি প্রচলিত পরীক্ষা হলো ইটিটি (ETT) যেখানে ট্রেডমিল বা সাইকেল চালানোর সময় ইসিজি রেকর্ড করা হয়। এতে ডাক্তাররা দেখতে পান সক্রিয় অবস্থায় হার্ট কেমন কাজ করছে।

আরও উন্নত পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে নিউক্লিয়ার কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট, করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম,সিটি করোনারী এনজিওগ্রাম, কার্ডিয়াক এমআরআই। প্রতিটি পরীক্ষার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তবে এগুলো স্পেশ্যাল কেইসে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞগণ প্রেসক্রাইব করে থাকেন।

নিউক্লিয়ার কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্টে রক্তে একটি হালকা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইনজেক্ট করা হয়। বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে তখন দেখা যায় বিশ্রাম এবং ব্যায়াম উভয় অবস্থায় হার্টের পেশীতে রক্ত কেমন প্রবাহিত হচ্ছে। এই পরীক্ষা বিশেষ করে তখন করা হয় যখন ডাক্তার সন্দেহ করেন যে রোগীর হার্টে ব্লকেজ রয়েছে কিন্তু সাধারণ ইসিজি বা ইকো থেকে বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।

করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাম অনেকটা হার্টের ভেতরের সরাসরি চিত্র দেখার মতো। এতে একটি ক্যাথেটার ধমনীতে প্রবেশ করিয়ে বিশেষ ঔষধ বা কনট্রাস্ট এজেন্ট ব্যবহার করে এক্স-রে ইমেজ তৈরি করা হয়। এতে ধমনীতে কোথায় ব্লক হয়েছে, কতটা সংকীর্ণতা আছে, এমনকি রক্তপ্রবাহ কীভাবে ব্যাহত হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনেক সময় এই পরীক্ষার সাথেই চিকিৎসা (যেমন স্টেন্ট বসানো) করা হয়।

হার্ট এমআরআই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হার্টের ৩-ডি ছবি তৈরি করে। এটি কেবল গঠনই নয়, বরং রক্তপ্রবাহ, টিস্যুর ক্ষতি, এমনকি পূর্বে অজানা থেকে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের চিহ্নও শনাক্ত করতে সাহায্য করে। যাদের জটিল হার্ট ডিজিজ রয়েছে বা পূর্বে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এমআরআই বিশেষভাবে কার্যকর।

করোনারি সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাম (CCTA) হলো তুলনামূলকভাবে সহজ এবং নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা। এতে শরীরে কোনো যন্ত্র প্রবেশ করানো লাগে না। উন্নতমানের সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে করোনারি ধমনীগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপকারী যাদের বুকে ব্যথা আছে কিন্তু প্রচলিত পরীক্ষায় সঠিক কারণ ধরা পড়ছে না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিটি পরীক্ষার আলাদা উদ্দেশ্য রয়েছে এবং ডাক্তাররা রোগীর উপসর্গ, ঝুঁকি এবং অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। এগুলো হয়তো শুনতে জটিল মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলিই হার্টের রোগের প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
তবে বেসিক টেস্ট হিসেবে ECG, echocardiography, ETT, RBS, Fasting Lipid profile করা যায়।

হার্টের কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করান। সুস্থ হার্টই একটি প্রাণবন্ত জীবনের মূলভিত্তি।

হৃদরোগের পর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ব্যায়াম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ শুধু শক্তি ...
25/08/2025

হৃদরোগের পর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ব্যায়াম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ শুধু শক্তি ও উদ্যমই বাড়ায় না, বরং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০% পর্যন্ত কমাতে পারে।

তবে অনেক রোগী হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য হৃদরোগের পর ব্যায়াম শুরু করতে ভয় পান বা দ্বিধায় ভোগেন—কোথা থেকে শুরু করব? কতটা ব্যায়াম নিরাপদ?

এই নির্দেশিকাটি হৃদরোগীদের ধাপে ধাপে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ্‌।

🏥 কার্ডিয়াক পুনর্বাসনের (Cardiac Rehab) ভূমিকাঃ

কার্ডিয়াক রিহ্যাব হলো একটি বিশেষায়িত প্রোগ্রাম যা আপনাকে নিরাপদে শারীরিক কার্যকলাপ শুরু করতে ও স্বাস্থ্যকর জীবনযা পন করতে সহায়তা করবে।

রিহ্যাব টিমে সাধারণত থাকেন:
✅ কার্ডিওলজিস্ট
✅ ফিজিয়াট্রিস্ট
✅ ফিজিওথেরাপিস্ট
✅ ডায়েটিশিয়ান
✅ সাইকোলজিস্ট

তারা একসাথে কাজ করে আপনাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবেন। যদি আপনার এলাকায় রিহ্যাব সেন্টার না থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতেই নিরাপদ প্রোগ্রাম অনুসরণ করতে পারেন।

🚶‍♂️ ব্যায়াম শুরু করা – হাঁটা দিয়ে শুরু করুন

অনেকের জন্য হাঁটা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম। শুরুতে ছোট পরিসরেই হাঁটুন – যেমন হলওয়ে, বাসার আঙিনা, বা নিকটবর্তী রাস্তা। ধীরে ধীরে সময় ও দূরত্ব বাড়ান।

হাঁটার প্রোগ্রাম যেভাবে পরিকল্পনা করবেন -

সপ্তাহ ১: প্রতি দ্বিতীয় দিন, ১০ মিনিট সহজ হাঁটা
সপ্তাহ ২: ৫ মিনিট ওয়ার্ম আপ + ১০ মিনিট দ্রুত হাঁটা + ৫ মিনিট রেস্ট নেয়া।
সপ্তাহ ৩: সপ্তাহে ৪ দিন, ১৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা
সপ্তাহ ৪: সপ্তাহে ৪ দিন, ২০ মিনিট দ্রুত হাঁটা
সপ্তাহ ৫–৬: সপ্তাহে ৫ দিন, ২৫–৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সামান্য উঁচু পথে চেষ্টা করুন।

প্রতিবার ব্যায়ামের আগে ৫–১০ মিনিট ওয়ার্ম আপ এবং শেষে স্ট্রেচিং করুন।

📏 F**T নীতি – সঠিক ব্যায়ামের নিয়ম

আপনার ব্যায়াম কার্যকরী ও নিরাপদ রাখতে F**T নীতি অনুসরণ করুন:

🔹 F – Frequency (বারবার): সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন ব্যায়াম করুন
🔹 I – Intensity (তীব্রতা): হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ে;যতটুকু পরিশ্রম করলে শ্বাস দ্রুত হবে তবে কথোপকথন চালানো সম্ভব হবে
🔹 T – Time (সময়): প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট
🔹 T – Type (ধরন):

- অ্যারোবিক: হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার, এটি আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে, যা আপনার হৃদয়, ফুসফুস এবং রক্তসংবহনতন্ত্রকে কর্মক্ষম করে।

- স্ট্রেচিং বা নমনীয়তা ব্যায়াম আপনার পেশীগুলিকে শিথিল রাখে এবং আপনার জয়েন্টগুলিকে সচল রাখে।

⚠️ আপনার শরীরের কথা শুনুন

ব্যায়ামের সময় নিচের অনুভূতি স্বাভাবিক:
✔️ হালকা ক্লান্তি
✔️ শ্বাস দ্রুত হওয়া কিন্তু শ্বাসকষ্ট নয়
✔️ সামান্য ঘাম
✔️ শরীর শিথিল লাগা

কিন্তু নিচের উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যায়াম বন্ধ করুন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন:
❌ বুকে ব্যথা বা চাপ (এনজাইনা)
❌ মাথা ঘোরা বা বমি ভাব
❌ তীব্র শ্বাসকষ্ট
❌ অতিরিক্ত দ্রুত হৃদস্পন্দন
❌ ঠান্ডা ও আঠালো ঘাম

হৃদরোগের পর ব্যায়াম শুরু করা চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে, তবে সঠিক দিকনির্দেশনা ও ধাপে ধাপে অগ্রগতি আপনাকে সুস্থ ও সক্রিয় জীবন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই নতুন ব্যায়াম শুরু করবেন না।

Address

94/103, Katalganj Road, Panchlaish
Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Iqbal Mahmud posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram