24/08/2021
💥আমরা কেন এমন করি 🥺🥺🥺
৮ম বার ব্লাড দিয়েছিলাম সিজার রোগীকে।তার ছেলে বাচ্চা হয়েছিলো।
আমি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম ১১ টার সময়,হাসপাতালে ১টার সময় গিয়েছি।
ব্লাড নিয়েছে ২টার সময়,
দুপুরে না খেয়ে ব্লাড দিলাম।
ব্লাড নিয়ে রোগীর লোক হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলে ভাই ভালো থাকবেন।
ঐ ২ ঘন্টার রাস্তায় রুগির লোক কম করে হলেও ৫০ বার ফোন দিয়েছে,
ভাই কোথায় আছেন, একটু তাড়াতাড়ি আসেন।
যেখানে আমার ১৮০ টাকা গাড়ি ভাড়া গিয়েছিল।
পরে রাতে জানতে পারলাম,
তার পরিবারে প্রথম ছেলে বাচ্চা তাই এলাকায় ৪০ কেজি মিষ্টি বিতরণ করেছে।
ঐরাত থেকে আমার জ্বর শুরু, ৭দিন জ্বর ছিলো, ৩দিন ডিউটিতে যেতে পারি নাই, ৩ দিনে আমার ১৫০০ টাকা কেটে রেখেছিল।
এখন কথা হলো
রোগীর পরিবার এলাকায় ৪০ কেজি মিষ্টি বিতরণ করলো
আমার কি একটা মিষ্টি পাওয়ার অধিকার ছিলো না?
আচ্ছা মিষ্টি না খেলাম,
গাড়ি ভাড়া তো ঠিক মতো দিতে পারতো?
আচ্ছা গাড়ি ভাড়াও না হয় বাদ দিলাম,,
ব্লাড নেওয়ার আগে তো ৫০ বার ফোন করেছে,
ব্লাড নেওয়ার পড়ে বাড়িতে ঠিক মতো আসলাম কি না ১মিনিট ফোন করে তো খবর নিতে পারতো তাই না???
৪০ কেজি মিষ্টি বিতরণ করার মতো মানুষ পেলো
ঐ ৪০ কেজি মিষ্টি খাওয়া লোকদের মাঝে কি একজন ব্লাড দেওয়ার মানুষ পেল না???
--- রোগীর লোক দের উদ্দেশ্যে বলি -ব্লাড দেওয়ার পড়ে রক্তদাতাদের মূল্যহীন বানাবেন না, যথাসাধ্য মতো রক্তদাতাদের পজেটিভ রাখার চেস্টা করুন❣️
#লেখাটি_একজন_রক্তদাতার
🟥কাউকে ব্লাডের জন্য কল দেওয়ার আগে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখবেন।
১- ডোনারের যাতায়াত খরচ,
২- যে বেলায় ব্লাড দিবে ঐ বেলার খাওয়ার খরচ,
৩- ডাব,স্যালাইন জল,কিছু ফলমূল কিনে দেওয়ার খরচ দেয়াটা কমনসেন্সের ব্যাপার....
এবং
পরবর্তী ২৪ ঘন্টা ডোনারের খোঁজ খবর রাখবেন।
পারলে কোন এক সময় বাসায় আমন্ত্রন দেবেন। 💕
💠যারা ব্লাড দেয় তারা বেশিরভাগই যুবকবয়সের- স্টুডেন্ট,পড়াশুনা করে। তারা প্রতিনিয়ত ব্লাড দেয়। অনেক সময় দেখা যায় পরের দিন এক্সাম তবুও ব্লাড দেয়।
👉আবার, যারা ব্লাড খুজে দেয় তারাই জানে ১ব্যাগ ব্লাড খুজে বের করা কতটা কষ্টের। সময়, শ্রম দিয়ে ডোনারকে খুজে বের করতে হয়। অনেকেই তো সেগুলা জানেন ই না। এগুলা হাইড স্টোরি থাকে।
✴️কিন্তু রোগীর রিলেটিভদের ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিবেকহীনতার পরিচয় দেয়। কোনো খোজ খবরই নিতে চায়না যে চরম এই বিপদের সময় এই রক্ত কোথা থেকে এলো। একজনকে বলে দেয়, তারপর মনে হয় সব দায়ভার ঐ বেচারার। নিজের সম্মান রক্ষার জন্য হলেও ঐ বেচারা ডোনারকে কেয়ার করে। অনেক ডোনার জবও করেনা। হয়তো আত্মীয় স্বজন, না হয় পরিচিত, নতুবা মানবতার জন্য মানুষের বিপদে এগিয়ে যায়।
নামীদামী হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেন,একদিনে ৩/৪ হাজার টাকা করে কেবিন ভাড়া দিতে পারেন। কিন্তু যে মানুষটা তার সবথেকে মূল্যবান জিনিস দিয়ে আপনাকে হেল্প করছে,তার কদর করবেন না, তা হতে পারেনা।
যে দেশে ৫০০মিলি জলের বোতলও কিনে খেতে হয়,সে দেশে বিনা টাকায় ৩৫০ মিলি রক্ত দাতাকে সম্মান করা আপনার কর্তব্য।🙏 # #
( copy post)