12/12/2016
হঠাৎ শীতের সকালে বা স্নিগ্ধ বিকালে আও করে চিৎকার দিয়ে উঠলেন আপনি বা আপনার পাশে কেউ ঠাণ্ডা পানি বা গরম চা খাওয়ার সময়। শীতকালে এ সমস্যা আরে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় একটি দুটি দাঁত বা অনেকগুলো দাঁত হঠাৎ কখনো শির শির করতে পারে। এরকম দাঁত শির শির করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে...
যেমন অনেকেই আমাদের কাছে এসে বলেন-
আমার দাঁতটি শির শির করে, পানি খেতে পারি না, কেউবা বলেন চা খেতে পারি না, কেউবা আবার আইসক্রিম না খেতে পারার জন্য চোখের পানি ফেলেন। আবার কেউ বলেন, ঠাণ্ডা-গরম কিছুই খেতে পারি না, দাঁতে ধরে। অনেকে আবার বলেন, দাঁতের ব্যথা মাথা পর্যন্ত ধরে যায়, কষ্টের সীমা নাই।
কারন :
দাঁতের এই শির শির করার কারণ হচ্ছে দাঁতের উপরের সবচেয়ে শক্ত আবরন এনামেল ক্ষয় হয়ে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়া। আমরা জানি, একটি দাঁতের গঠন প্রক্রিয়ায় প্রথম আবরনটিই হচ্ছে এনামেল, এই এনামেল আমাদের শরীরের সবচেয়ে শক্ত অংশ অথচ এই এনামেল পর্যন্ত ক্ষয় হয়ে যায়। যখনই কোনো কারণে এনামেল ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তখন দাঁতের পরবর্তী অংশ ডেন্টিন বেরিয়ে আসে, যেহেতু ডেন্টিনের নিচের অংশেই নার্ভ, আর্টারি, ভেসেলস ইত্যাদি থাকে, সেহেতু দাঁতটি খুবই সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে এবং তখনই ঠাণ্ডা বা গরম কিছু তরল পদার্থ লাগার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁতটি শির শির করে এবং শীতকালে তা আবার দ্বিগুণ হতে দেখা যায়।
এই এনামেল ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে-
*দাঁত ভেঙে যাওয়া
*অতিরিক্ত দাঁত ব্রাশের ঘর্ষণে এনামেল ডেন্টিন ক্ষয় হয়ে যাওয়া।
*ডেন্টাল ক্যারিজের কারণে দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়া। * দাঁত থেকে মাড়ি সরে যাওয়া।
*নকল দাঁত বা ডেনচারের ক্রমাগত ঘর্ষণ লাগা। *ক্রাউন/ ক্যাাপ/ব্রিজ করার ক্ষেত্রে দাঁত কেটে ফেলা।
চিকিৎসা :
আজকাল এ ধরনের সমস্যার অতি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
প্রথমত: চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে প্রথমেই মাড়ি ও দাঁতের সংযোগস্থল থেকে সমস্ত পাথর বা ডেন্টাল প্লাক পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এ ধরনের কাজে সাধারণত : ডেন্টাল স্কেলিংয়ের মাধ্যমে করা হয় যেমন আলট্রাসনিক স্কেলিংয়ের মাধ্যমে সমস্ত দাঁতের গোড়া ও মাড়ি থেকে খাদ্য কণা পরিষ্কার করা। কারণ ডেন্টাল প্লাক জমা থাকলে ধীরে ধীরে দাঁত ও মাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
দ্বিতীয়ত : ক্ষয়ে যাওয়া অংশটুকু বা ভেঙে যাওয়া অংশটুকু আজকাল খুবই আধুনিক পদ্ধতি লাইট কিউর ফিলিং দিয়ে ভর্তি করে দেওয়া যাতে ক্ষয়ে যাওয়া এনামেল এবং ডেন্টিন আবার পূরণ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে গ্লাস আইনোমার ফিলিং দিয়েও দাঁতটি ভর্তি করা যায়।তবে অতিরিক্ত ক্ষয়ে যাওয়া বা গর্ত হয়ে যাওয়া দাঁতটিকে (পালপাইটিস বা দন্তমজ্জা আক্রান্ত হলে) রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর ক্রাউন(ক্যাপ) পরানো বর্তমানে একটি আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।
দাঁতের টুথপেস্ট :
সেনসিটিভ দাঁতের জন্য বিশেষভাবে কিছু পেস্ট তৈরী হয়, যেমন : মেডি প্লাস DS, SENSODYNE, PEPSODENT PRO SENSITIVE,
এগুলো ব্যবহার করা যায়। সামান্য শিরশিরানি থাকলে ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট( MEDI PLUS FLURIDE GEL নামে পাওয়া যায় বাজারে) দাঁতের ফাঁকে আঙ্গুল দিয়ে লাগিয়ে ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট রাখতে হবে। এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে করতে থাকবেন নিয়মিত।
দাঁতের ফ্রেকচার : যদি একটি দাঁতের অল্প পরিমাণ অংশ ভেঙে গিয়ে থাকে তবে সেই অংশ ফেলে দিয়ে সুন্দর লাইট কিউর ফিলিং দিয়ে পূরণ করা অথবা রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর ক্রাউন(ক্যাপ) পরানো হবে নিশ্চিত ব্যবস্থা।
প্রতিকার :
• নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের ফাঁকে কোনো জীবাণু তৈরি হতে পারবে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে নাশতা করার পরে দাঁত ব্রাশ করুন।
• ব্রাশ করবেন আস্তে আস্তে। দাঁতের ওপর বেশি চাপ দেবেন না। মনে রাখবেন আমরা দাঁত সাদা করার জন্য ব্রাশ করিনা, করি জমে থাকা খাবার বের করার জন্য। ৯০%, ৪০+ রোগীর শিরশির করার কারন জোরে ব্রাশ বা মাজন ব্যবহারের কারনে দাঁতের গোড়া ক্ষয়ে যাওয়া।
• হালকা কোমল শলাকার ব্রাশ ব্যবহার করবেন। মাজন বা পাউডার জাতীয় কিছু ব্যবহার করলে আজকেই ফেলে দিন, ওগুলো ঘষে এনামেল ক্ষয় করে দাঁত পরিষ্কার করবে ঠিক, সাথে আপনাকে দিয়ে যাবে মজাদার শিরশিরে অনুভূতি।।। 😜
• যেকোনো অ্যাসিডজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় সচেতন হোন। যেমন- ফলের জুস, ভিনেগার, কোমল পানীয়—এসব দাঁতের এনামেল নষ্ট করে। তাই এসব খাবার পরই দাঁত পরিষ্কার করে ফেলুন।
• দাঁতে দাঁত ঘষা বা দাঁত চেপে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এতেও এনামেলের ক্ষতি হয়।
• অনেকেই দাঁতের যে অংশ শিরশির করে, সে অংশটি ব্রাশ করতে চান না। কিন্তু এতে সমস্যা আরও বাড়ে।
তবে এসব কিছুর আগে রোগীর সমপূর্ণ ইতিহাস যেমন নেয়া জরুরী তেমনি পরীক্ষা নীরিক্ষাও অপরিহার্য। শুধুমাত্র ঔষধ দিয়ে বা টুথপেষ্ট পরিবর্তন করলেই যে রোগীর দাঁতের শিরশির কমে যাবে তেমন নয়। তাই প্রয়োজন মত তাকে যেমন মাড়ির শৈল চিকিত্সা দিয়ে মাড়িকে সুস্থ করা
Courtesy: dr tahmid.