15/02/2026
সিফিলিস (Syphilis) সম্পর্কে বিস্তারিত
সিফিলিস একটি যৌনবাহিত সংক্রমণ (Sexually Transmitted Infection – STI)। এটি Treponema pallidum নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
🔹 সিফিলিস কীভাবে ছড়ায়
সাধারণত নিচের উপায়ে সংক্রমণ হয়ঃ
অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক (যোনি, পায়ুপথ বা মুখমেহন)
আক্রান্ত ব্যক্তির ঘা বা ক্ষতের সরাসরি সংস্পর্শে
গর্ভবতী মা থেকে শিশুর শরীরে (Congenital syphilis)
খুব বিরল ক্ষেত্রে রক্তের মাধ্যমে
👉 হাত মেলানো, একসাথে খাওয়া বা সাধারণ স্পর্শে ছড়ায় না।
🔹 সিফিলিসের ধাপ ও লক্ষণ
১️⃣ প্রাথমিক ধাপ (Primary Stage)
যৌনাঙ্গ, মুখ বা পায়ুপথে ছোট ঘা (Chancre) হয়
সাধারণত ব্যথাহীন
৩–৬ সপ্তাহে নিজে থেকেই শুকিয়ে যেতে পারে
⚠️ কিন্তু রোগ শরীরে থেকে যায়।
২️⃣ দ্বিতীয় ধাপ (Secondary Stage)
শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
হাতের তালু ও পায়ের পাতায় দাগ
জ্বর, গলা ব্যথা
চুল পড়া
দুর্বলতা
৩️⃣ সুপ্ত ধাপ (Latent Stage)
কোনো লক্ষণ থাকে না
কিন্তু জীবাণু শরীরে সক্রিয় থাকে
৪️⃣ শেষ ধাপ (Tertiary Stage)
চিকিৎসা না করলে বহু বছর পরে দেখা দেয়ঃ
হৃদযন্ত্রের সমস্যা
স্নায়ুর ক্ষতি
চোখের সমস্যা বা অন্ধত্ব
মস্তিষ্কের জটিলতা
🔹 গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি
গর্ভবতী মায়ের সিফিলিস থাকলে শিশুর মধ্যে জন্মগত সমস্যা, মৃত সন্তান বা গুরুতর অসুস্থতা হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
🔹 পরীক্ষা (Diagnosis)
রক্ত পরীক্ষা (VDRL, RPR, TPHA ইত্যাদি)
ডাক্তারের পরামর্শে সহজেই শনাক্ত করা যায়।
🔹 চিকিৎসা
অ্যান্টিবায়োটিক (সাধারণত Penicillin ইনজেকশন) সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা
যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হবে, তত ভালো ফল পাওয়া যায়
চিকিৎসার সময় যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলা উচিত
🔹 প্রতিরোধের উপায়
নিরাপদ যৌন সম্পর্ক (কনডম ব্যবহার)
একাধিক যৌন সঙ্গী এড়িয়ে চলা
নিয়মিত STI পরীক্ষা
আক্রান্ত হলে উভয় সঙ্গীর চিকিৎসা করা
🔹 কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
যৌনাঙ্গে অস্বাভাবিক ঘা বা দাগ হলে
অজানা কারণে শরীরে ফুসকুড়ি হলে
ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্কের পরে