04/01/2026
প্রশ্ন: সহীহ মুসলিমে আছে, “বদ নজর (এর খারাপ প্রভাব) সত্য এমনকি যদি কোন বস্তু ত্বাকদীরকে অতিক্রম করত তবে বদ নজর তা অতিক্রম করত। সুতরাং তোমাদেরকে(বদনজরদানকারীকে) যখন (এর প্রভাবমুক্ত হওয়ার জন্যে) গোসল করতে বলা হয়(এবং এই পানি তাকে দেয়া যার ওপর বদনজর পতিত হয়েছে) তখন তোমরা গোসল করো।
এর অর্থ কি এই যে কারো কাছে অযুর পানি চাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংকোচ বোধ না করা? আপনি এই ব্যাপারে কি পরামর্শ দিবেন তার ক্ষেত্রে যার কাছে চাওয়া হয়েছে?
উত্তর: বদনজরদানকারীকে যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়, তার শরীরের কিছু অঙ্গ ধৌত করতে হবে এবং এই ধৌত করা পানি বদনজর কৃত ব্যক্তিকে দেয়া হবে গোসল করার জন্য কিংবা পান করার জন্য। অন্যদিকে কেউ যদি নিজের ব্যাপারে বুঝতে পারে তার বদনজর অন্যের ওপর পড়ার সম্ভাবনা আছে তখন সে দৃষ্টি পতিত হবার সাথে সাথেই দু'আ করবে, মা শা আল্লাহ, লা হাউলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়বে। আর যদি বদনজর পতিত হয়েই যায় সে যার ওপর বদনজর দিয়েছে তার উপর নাফছ করবে, এবং শরীরের অঙ্গ ধুয়ে সেই পানি তার ওপর ঢেলে দিবে।
যদি বদনজরদানকারী ব্যক্তির কাছে পানি চাওয়া হয়, তাহলে রাগান্বিত হওয়া যাবে না। যদিও সে বুঝতে পারে তার কোনো বদনজর লাগে নি। কারণ কিছু সময় বদনজর পতিত হয় ইচ্ছাকৃতভাবে, তাছাড়াও বদনজর অনবগত অবস্থায়ও পতিত হয়, বা অনিচ্ছাকৃত ভাবেও নিজ সন্তান, অর্থ সম্পদের ওপরেও পতিত হয়, যার পর ব্যক্তি তা অনুধাবন করে ও অনুশোচনা করে।
অসাবধানবশত বা ভুলক্রমে ব্যক্তির নিজের বদনজরও নিজের ওপর পতিত জতে পারে। পিতার বদনজর তার সন্তানের ওপর পতিত হতে পারে, স্ত্রী কিংবা সন্তানের ওপরও পতিত হতে পারে।
ওয়াল্লাহু আ'লাম।
- ফাতাওয়া আজ জাহবিয়্যাহ