25/02/2026
“অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, এটি ভিন্নভাবে পৃথিবীকে দেখার এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি।”
আপনার সন্তানের সম্ভাবনা আছে।
আপনার ভূমিকা শক্তিশালী।
আপনার ভালোবাসা সবচেয়ে বড় থেরাপি।
“আমার বাচ্চা কি কখনও কথা বলবে !?”
এই প্রশ্নটা আমি অসংখ্যবার শুনেছি এবং শুনছি!
২০১২ সাল থেকে ছোট শিশুদের সাথে কাজ করতে করতে আমি একটি দৃশ্য বারবার দেখেছি—
রিপোর্ট হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকা মা।
বাবার মুখে নীরবতা, কিন্তু চোখে অজস্র ভয়।
যখন আমি বলি, আপনার সন্তানের মধ্যে Autism spectrum disorder-এর পূর্ণ অথবা আংশিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে—ঘরটা কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
আমি জানি, ওই মুহূর্তে বাবা–মায়ের মনে কী চলে—
“আমার ভুলে হলো?”
“এখন কী হবে?”
“সে কি অন্য বাচ্চাদের মতো হবে?”
ইত্যাদি ইত্যাদি …
প্রথমেই আমি একটা কথা বলি—
না, এটা আপনার বা আপনাদের দোষ নয়।
অটিজম কোনো খারাপ লালন-পালনের ফল নয়। এটি মস্তিষ্কের বিকাশের একটি ভিন্ন পথ।
আমার চেম্বারে এমন অনেক শিশু এসেছে—প্রথম দিন চোখে চোখ রাখত না, নাম ডাকলে ফিরেও তাকাত না।
কেউ কয়েক দিন অথবা কেউ আবার কয়েক মাস পর সেই একই শিশু মায়ের হাত ধরে নিজে থেকে কিছু চাইছে, বলছে।
কেউ প্রথমবার “মা” বলেছে থেরাপি রুমে।
কেউ প্রথমবার ১০ মিনিট বসে কাজ শেষ করেছে।
আমি কোন অলৌকিক পরিবর্তন দেখি না।
আমি বাস্তব পরিবর্তনের কথা বলছি.!
২ থেকে ৬ বছর বয়স—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় মস্তিষ্ক শেখে দ্রুত। যদি আমরা নিয়মিত থেরাপি, ঘরে সঠিক ইন্টারঅ্যাকশন এবং ধারাবাহিক অনুশীলন করি—তাহলে উন্নতি হয়। ধীরে হয়, কিন্তু হয়।
আমি বাবা–মাকে সবসময় বলি—
“আপনার সন্তানের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু সম্ভাবনাও আছে। আমরা সীমাবদ্ধতার দিকে তাকিয়ে থেমে থাকবো না, সম্ভাবনার দিকে কাজ করবো।”
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—অনেক পরিবার ডায়াগনোসিস শুনেই ভেঙে পড়ে।
কিন্তু আমি দেখেছি, যে পরিবার বাস্তবতা মেনে নিয়ে কাজ শুরু করে, তারাই ফল দেখে।
আজ যদি আপনার শিশুর অটিজম বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে—
ভয় পাবেন, কাঁদবেন—এগুলো স্বাভাবিক।
কিন্তু থেমে যাওয়া যাবে না।
কারণ ডায়াগনোসিস শেষ নয়।
এটা একটি নতুন, পরিকল্পিত শুরুর নাম।
আপনার সন্তানের যাত্রায় আপনি একা নন।
আমরা প্রফেশনালরা আছি, থাকবো, এবং একসাথে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ..!
মো: আব্দুর রহমান
ক্লিনিকাল স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপিস্ট
চীফ কনসালটেন্ট, ব্রেইন জিম বাংলাদেশ