06/04/2022
#হোমিওপ্যাথিক_চিকিৎসা :
#কার্ডিওভাসকুলার_সিস্টেম :
#উচ্চ_রক্তচাপ : (Hypertension or High Blood Pressure)
যখন রক্তের চাপ ১৫০/৯০ মি.মি. of Hg. বেশি হয় তখন আমরা উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে বলি। এক্ষেত্রে ১৫০ মি.মি. of Hg. হল সিস্টোলিক চাপ (Systolic pressure) এবং ৯০ মি.মি. of Hg. হলে ডায়াস্টোলিক প্রেসার (diastolic pressure)।
উচ্চ রক্তচাপের কারণ :
৮০% – ৯০% ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে—
(১) ঘি, মাখন, দুধের সর, চর্বিযুক্ত মাংস ও ডিম ইত্যাদি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের কোলেস্টারল (Cholesterol) ও লিপিড বৃদ্ধি পেলে এবং তা শরীরের রক্ত-বাহী নালীতে জমে গিয়ে Athero-Sclerosis হয়ে এবং বিভিন্ন কারণে Arterio-sclerosis হয়ে রক্ত চলাচলে বাধার (Resistance) সৃষ্টি করে ও রক্তের চাপ বৃদ্ধি করে।
(২) যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা (Anxiety) করে বা সামান্য কারনেই টেনশন (tension) করে তাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
(৩) পরিবারে (Family history-তে) যাদের উচ্চ-রক্তচাপ হওয়ার প্রবণতা আছে সেক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(৪) যারা অতিরিক্ত নুন (Salt) খায় অনেক সময় তাদের উচ্চ-রক্তচাপ হতে পারে।
(৫) অনেকসময় কিডনির অসুখ থেকে ভ্যাসো-ডিপ্রেসর (Vaso depressor System) সিস্টেম খারাপ হলে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়।
(৬) এডরেনাল করটেক্স এর অসুখ থেকে কুসিং (Cushing Syn drome) সিনড্রম হলে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়।
(৭) শরীরের ওজন বৃদ্ধি ও খুব মোটা (fatty) হলে ও রক্তের শর্করা বৃদ্ধি পেলে বা ডায়াবেটিস্ হলে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যান্য অনেক কারণ থেকে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
রক্তের চাপ বৃদ্ধি পেলে নিম্নোক্ত যে কোন লক্ষণ (Symptoms) দেখা দিতে পারে—
(১) মাথা ঘোরা (Vertigo),
(২) মাথার যন্ত্রণা (Headache),
(৩) মাথা ঝিম্ ঝিম্ করা (Dizziness),
(৪) বুক ধড়ফড় করা (palpilation),
(৫) মাথার পেছনে ও ঘাড়ে যন্ত্রণা (Pain in neck), (৬) ঘুম ঠিকমত না হওয়া (Insomnia),
(৭) একটুতেই রেগে যাওয়া (Irritability),
(৮) সহজেই অবসাদ লাগা (Easily fatigue),
(৯) অনেকসময় অল্প পরিশ্রমে শ্বাস কষ্ট (Breathlessness) হয়,
(১০) সহজেই ভুলে যাওয়া, (Lack of memory) (১১) ঠিকমত মন-সংযোগ করতে পারে না (Lack of concentration) ইত্যাদি।
অনেকসময় পরবর্তীকালে উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের নানারকম শারীরিক উপসর্গ (complication) দেখা দেয় যেমন—
(১) সেরিব্রাল আর্টেরিও স্কেলেরোসিস (Cerebral Arterio Sclerosis) থেকে—
(ক) সেরিব্রাল হেমারেজ (Cerebral Haemorrhage),
(খ) সেরিব্রাল থ্রমবোসিস (Cerebral Thrombosis),
(গ) হাইপারটেনসিভ এনসেফালোপ্যাথি (Hypertensive Encephalo pathy) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(২) করোনারী আর্টেরিও স্কেলেরোসিস (Coronary Arterio sclerosis) থেকে—
(ক) অ্যানজাইনা পেকটোরিস (Angina Pectoris )
(খ) করোনারী থ্রমবোসিস (Coronary Thrombosis)
(গ) অ্যাকিউট লেফ্ট ভেন্টিকিউলার ফেলিওর (Acute left ventricular failure) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(৩) রেনাল আর্টেরিও স্কেলেরোসিস (Renal Arterio-sclerosis) থেকে—
(ক) ইউরেমিয়া (Uraemia),
(খ) হেমাচুরিয়া (Haematuria) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(৪) রেটিনাল আর্টেরিওস্কেলেরোসিস (Retinal Arterio-sclerosis) থেকে—
(ক) চোখে ঝাপসা দেখা (Dimness of Vision)
(খ) চোখে রক্তক্ষরণ (Haemorrhage)
(গ) পেপিলিডিমা (Papilloedema) হতে পারে।
(৫) হাতে বা পায়ের রক্তবাহী নালীতে আর্টেরিও স্কেলেরোসিস থেকে—
(ক) হাতে বা পায়ে কামড়ানো যন্ত্রণা (Ischaemic pain)
(খ) গ্যানগ্রিন (Gangrene) হয়ে হাতে বা পায়ে ঘা (Ulcer) হতে পারে। রক্তের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা জানবেন কিভাবে রক্তের চাপ মাপার যন্ত্রের (Sphigmomanometer) সাহায্যে রক্তের চাপ মাপলে বোঝা যাবে যে রক্তের চাপ কত আছে এবং বৃদ্ধি পেলে সঠিক চিকিৎসা করাতে হবে।
ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant hypertension) বলা হয় যখন রক্তের চাপ ২৫০/১২০ mm of Hg.-এর উপর হয়।
উচ্চ রক্তচাপ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় :
চিকিৎসা :
নিম্নোক্ত ওষুধ খাওয়ার সাথে সাথে রক্তের চাপ ৭-১৫ দিন অন্তর পরীক্ষা করাতে হবে এবং দেখতে হবে রক্ত-চাপ কমছে কিনা। একটি ওষুধ খেয়ে না কমলে, পরে অন্য একটি ওষুধ খেতে হবে। উচ্চ-রক্তচাপ থাকলে খাবার খাওয়ার সাথে কাঁচা নুন খাওয়া নিষেধ। শরীরে অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। অতিরিক্ত ঘি, মাখন, দুধের সর, ডিম, মাংস খাওয়া পরিহার করতে হবে।
(১) রক্তের চাপ খুব বেশি হওয়ার দরুন খুব মাথার যন্ত্রণা ও মাথা ঘোরায়, অনেক সময় হার্টে চিন্ চিন্ করে ব্যথা হয় ও শ্বাস কষ্ট হয়। সাধারণত আর্টেরিও স্কেলেরোসিস (Arterio-Sclerosis) হয়ে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Natrum Iodatum)
(২) উচ্চ রক্তচাপের দরুণ খুব মাথার যন্ত্রণা হয়, মাথা ঘোরে ও মাথায় খুব ভারীভাব লাগে। মাথা ঝিম্ঝিম্ করে এবং কানে (buzzing) আওয়াজ হয়। আর্টেরিও স্কেলেরোসিস হয়ে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়।এক্ষেত্রে ঔষধ (Baryta Mur)
(৩) আর্টেরিও স্কেলেরোসিস হয়ে রক্তচাপ খুব বৃদ্ধি পায়, মাথা ঘোরায় ও কানের মধ্যে গর্জন করার মত আওয়াজ বা শব্দ হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Adrenaline)
(৪) ক্রনিক নেফ্রাইটিস (কিডনির অসুখ) থেকে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দেয় এবং শরীর প্রচণ্ড দুর্বল লাগে। ক্রমশ শরীর রোগা হয়ে যায়। হাতে বা পায়ে মাঝে মাঝে খাল ধরে বা যন্ত্রণা (Cramp like pain) হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Plumbum Met)
(৫) সাধারণত পুরাতন হার্টের অসুখ থেকে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। শরীর খুব দুর্বল, মানসিক দিক থেকে খুব দুশ্চিন্তা হয় ও শারীরিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Arsenicum Iodatum)
(৬) খুব ভয় থেকে বা টেনশন থেকে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে। এক্ষেত্রে ঔষধ (Aconite Nap)
(৭) রক্তের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার দরুণ হৃৎপিণ্ডে ও মাথায় খুব চাপ বোধ হয় ও খুব বুক ধড়ফড় (palpitation) করে। হার্টে মাঝে মাঝে ব্যথা হয় এবং হার্ট খুব বড় (hypertrophy of heart) হয়। অসুখ থেকে আত্মহত্যা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্তচাপ থেকে হার্টের ফ্যাটি ডিজেনারেশন হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Aurum Met)
(৮) পুরাতন আর্টেরিও স্কেলেরোসিস থেকে উচ্চ রক্তচাপ হয়ে হার্টের ফ্যাটি ডিজেনারেশন (Fatty degeneration) হয় এবং লেফটভেন্টিকুলার ফেলিওর (Left ventricular failure) হয়ে পা ও শরীর ফোলে। এক্ষেত্রে ঔষধ (Strophanthus)
(৯) উচ্চ রক্তচাপের দরুন বুকে চিন্চি করে ব্যাথা হয় ও বুকে চাপ বোধ হয়। আর্টেরিও স্কেলেরিওসিস হয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Crataegues)
(১০) উচ্চ রক্তচাপের দরুন ঘুম হয় না বা ঘুম না হওয়ার দরুন রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় – এক্ষেত্রে ঔষধ (Passiflora)
(১১) উচ্চ রক্তচাপের দরুন মাথায় খুব দপ্দপ্ (Throbbing) করে যন্ত্রণা হয়। রোদের তাপ বা উনানের তাপ বা গরম সহ্য করতে পারে না। ঠাণ্ডা হাওয়ায় বা ঠাণ্ডা ঘরে আরামবোধ হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ (Glonoine)
(১২) উচ্চ রক্তচাপ অল্প থাকলে ঔষধ (Rauwolfia) বা ঔষধ (Amyl Nitrite) বা ঔষধ (Lycopus V) ও শক্তি ৫-১০ ফোঁটা বা বেশি, দিনে ২-৩ বার করে ১-২ সপ্তাহ বা বেশী দিন খেলে পেলিয়েটিভ (Palliative) বা উপশমের কাজ করে।
উপরোক্ত ঔষধ সেবন করে উচ্চ-রক্তচাপ না কমলে কনস্টিটিউশনাল (Constitutional) চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান। যেকোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। হোমিওপ্যাথিক যেকোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।
যেকোন প্রয়োজনে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সরাসরি ক্লিনিক/মোবাইল কল/ইনবক্সে যোগাযোগ করবেন।
পুর্ন হোমিও হল