29/05/2021
ফিজিওথেরাপি’র ইতিহাস : বিজ্ঞানের সবকটি শাখার উন্নতির ধারাবাহিকতায় থেমে নেই চিকিৎসা বিজ্ঞানও । একসময় মানুষ সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার অভাবে মারা যেত , কষ্ট পেত কিংবা পঙ্গু হয়ে মানবতার জীবনযাপন করত । কিন্তু বর্তমান আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞানের অবদানে আজ মানুষ অসম্ভব কে করেছে সম্ভব , ফিরে পাচ্ছে মুখের হাসি ও চলমান স্বাভাবিক জীবণ । চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যে শাখাটি আবিস্কারের জন্য আজ মানুষ পঙ্গুত্ব কে করেছে জয় , সে সঙ্গে কাটাচ্ছে বাত - ব্যথা মুক্ত সুস্থ স্বাভাবিক জীবণ সেই শাখাটির নাম ফিজিওথেরাপি | আসুন এবার জেনে নেই , চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক এই শাখাটির আদ্যপাত্ব । ফিজিওথেরাপি একটি ইংরেজী শব্দ । এখানে ফিজিও অর্থ শারীরিক আর থেরাপি অর্থ চিকিৎসা পদ্ধতি অর্থাৎ ফিজিওথেরাপি অর্থ হচ্ছে বিশেষ ধরনের শারীরীক চিকিৎসা পদ্ধতি । ১৯১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের একদল স্বাস্থ্য কর্মী প্রথম তাদের দেশে চিকিৎসা সেবায় প্রথমবারের মত ফিজিওথেরাপি সেবা দেয়া শুরু করে । ঠিক এর পরের বছর ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশেও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা দেয়া আরম্ভ করে । এরপর শুরু হয় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি কাজে নানা গবেষণা । ১৯২১ সালে যুক্তরাষ্টের চিকিৎসক মেরি এমসি মিলান ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট এসােসিয়েশন গঠন করেন এবং ঘােষণা দেন এখন থেকে পঙ্গুদের পুনবার্সনের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক শাখাটির নাম ফিজিওথেরাপি । ১৯২৪ সালে জিওরজিয়া ওয়ার্ম স্পিং ফাউন্ডেশন পােলিও রােগ নিয়ে কাজ শুরু করে , এক পর্যায়ে ফাউন্ডেশনটির অন্যতম কর্মী সিস্টার কিননি পােলিও চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অন্তভুক্ত করেন । এরপর ফিজিওথেরাপি হয়ে উঠে পােলিও রােগীর পুনবার্সন ও চিকিৎসার মুল চিকিৎসা পদ্ধতি । মােট কথা এটাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায় এরপর ১৯৫০ সালে পঙ্গুত্ব ও বাত ব্যথা প্যারালাইসিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন হাসপাতালে নিউরােলজি , অর্থোপেডিকস ডিপার্টমেন্টের পাশাপাশি স্থান করে নেয় । তারপর বিজ্ঞানের অবদানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ধীরে ধীরে সংযুক্ত হতে থাকে হাইড্রোথেরাপি , ক্রায়ােথেরাপি , কাইনেশিওলজি । এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বাত ব্যথা ও প্যারালাইসিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিতে যােগ করেন ইলেক্ট্রিকাল স্টিমুলেশন , শর্টওয়েভ ডায়াথেরামি , আন্ট্রাসাউন্ড ওয়েভ , মাইক্রো ওয়েভ ইনফ্রারেড রেডিয়েশন , আন্ট্রাভায়ােলেট রেডিয়েশন , ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ওয়েভ , ওয়াক্স বাথসহ ফেরাডিক , গ্যালভানিক কারেন্ট । ফিজিওথেরাপিতে এ অংশটির নাম দেয়া হয় ইলেক্ট্রোথেরাপি । ১৯৯০ সালে ফ্রেডি কেলর্টেনবর্ন নামের একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ম্যানুয়াল থেরাপির বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করে রােগীকে সুস্থ করে তােলার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীতে আলােড়ন সৃষ্টি করে এভাবেই একটু একটু করে সাফল্য অর্জনের মধ্য দিয়ে ফিজিওথেরাপি বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ও স্পাের্টস ইনজুরির চিকিৎসাসহ পঙ্গুদের পুনবার্সনে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্যতম শাখা হিসেবে স্থান করে নেয় । উন্নত বিশ্বের মতাে বাংলাদেশেও বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি বর্তমানে বাত ব্যাথ প্যারালাইসিস ও স্পাের্টস ইনজুরির চিকিৎসায় অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে । বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে , বাত ব্যথা চিকিৎসায় কিছু ভিটামিন ছাড়া যে সব ব্যথার ঔষুধ ব্যবহার করা হয় এর পার্শ্বপ্রতিত্রিয়ায় পেপটিক আলসারসহ কিডনি ডেমেজ হয়ে যায় । একারনে এসব ঔষুধ দীর্ঘদিন সেবন করা যায় না । তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাত ব্যথা ও প্যারালাইসিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিই বর্তমানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত একমাত্র উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি । অসংক্রামক রােগের চিকিৎসায় ফিজিক্যাল থেরাপির ভূমিকাঃ চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি গুরুত্ব , ফিজিক্যাল থেরাপিষ্টদের ভূমিকা ও অবদান চিকিৎসা সংশিষ্ট ও সাধারন মানুষের মাঝে পৌছানাের লক্ষ্যে ১৯৫১ সালে থেকে প্রতি বৎসর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হচ্ছে । ১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় দিবসটির ব্যপকতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় । দিবসটি উপলক্ষে অন্যান্য দেশের মতাে বাংলাদেশে আমরাও যলি , সভা সেমিনারের আয়ােজন করে থাকি । ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ন শাখা যা অতি প্রাচীন কাল থেকেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ করে হাড় জোড়া , মাংস পেশী ও স্নায়ুর কর্মক্ষমতা হ্রাস বা লােপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূন ভূমিকা পালন করে আসছে । বর্তমানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় এসেছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও আধুনিকতা , ব্যপ্তি সর্বক্ষেত্রে । বিশেষ করে অসংক্রামক রােগের এর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন । জাতি সংঘের বিবৃতি বিশ্বে অসংক্রামক রােগের বিশেষ করে হৃদ রােগ , বক্ষব্যধি , ডায়াবেটিকস , এবং ক্যানসার রােগ , বক্ষব্যধি আশাংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি বিশ্বে স্বাস্থ্যের ঝুকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে । জাতি সংঘের মতে বিশ্বে প্রতি বছর ৩৫ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় শুধু মাত্র অসংক্রামক রােগের কারনে যা বিশ্বে মােট মৃত্যুও ৬০ % । রির্পোট মতে অসংক্রামক রােগের কারনে অক্ষমতা ও মৃত্যুও হার কমানাে ফিজিওথেরাপি এর মাধ্যমে সম্ভব । ফিজিওথেরাপিষ্টরা হিউম্যান মুভমেন্ প্রমটিং হেলথ , ফিটনেস এবং বিশেষজ্ঞ , ফলে ফিজিওথেরাপিষ্টরা লক্ষ লক্ষ মানুষ কে অক্ষমতা থেকে সক্ষমতায় আনতে ও মৃত্যুও হার কমাতে সাহায্য করতে পারে । অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপােট মতে ফিজিক্যাল ইনএ্যাকটিভিটি বিশ্বে মৃত্যুও অন্যতম প্রধান কারন এবং একারণে প্রায় ৩.২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয় বছরে , অন্যদিকে ফিজিক্যাল এ্যাকটিভিটি অসংক্রামক রােগের হার কমায় । অসংক্রামক রােগের ক্যান্সার ছাড়া অন্যান্য সব রােগ যেমন- হৃদ রােগ , বাত ব্যথা , বক্ষব্যধি , ডায়াবেটিকস সহ অন্যান্য অসংক্রামক রােগের অন্যতম কারন ফিজিক্যাল ইনএ্যাকটিভিটি এবং ফিজিক্যাল এ্যাকটিভািট এর মাধ্যমে প্রতিকার ও প্রতিরােধ করা যায় যা অনেক গবেষণার প্রকাশিত ।তাই ফিজিওথেরাপি নিন । সুস্থ জীবন গড়ুন ।