15/01/2026
জ্বিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষার জন্য সহায়ক কিছু উপায়।
১) যেকোনো খাবার খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই 'বিসমিল্লাহ্' বলে খাবার খাওয়া। কেননা আল্লাহর নাম ব্যতীত কেউ যখন খাবার খেতে শুরু করে তখন সেই খাবারে শয়তান শরিক হয় এবং ওই খাবার খেয়ে মানুষের সাথে থাকা শয়তান হৃষ্টপুষ্ট হয়। সুতরাং শয়তানকে দূর্বল করতে খাবার শুরুতে 'বিসমিল্লাহ্' বলে খাবার খেতে হবে।
¤ আল আদাবুল মুফরাদ/১০৯৬।
২) যদি কেউ খাবার শুরুতে 'বিসমিল্লাহ্' বলতে ভুলে যায় তবে যখনই মনে পড়বে তখনই এই দুয়াটা পড়বে,
بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ.
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আ'খিরাহু।
¤ জামি তিরমিযি ও আবু দাউদ, রিয়াদুস সলিহীন, কিতাব নং ৩, হাদিস-৭২৯।
৩) 'বিসমিল্লাহ্' বলে ডান পা দিয়ে বাসায় প্রবেশ করা। কেননা যদি 'বিসমিল্লাহ্' বলা ব্যতিত কেউ বাসায় প্রবেশ করে তবে সেই বাসায় শয়তানও তার সাথে প্রবেশ করতে পারে এবং থাকতে পারে।
¤ আল আদাবুল মুফরাদ/১০৯৬।
৪) বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে দিয়ে বের হওয়া এবং সাথে 'বিসমিল্লাহ্' সহ এই দুয়াটা পড়বে,
بسم الله توكلت على الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্।
এতে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর থাকবে, হেফাজতে থাকবে, তার উপর আক্রমণ প্রতিহত করা হবে।
¤ তিরমিযি ও আবু দাউদ, রিয়াদুস সলিহীন কিতাব নং ১, হাদিস নং ৮৩।
৫) পোশাক পাল্টাবার আগে 'বিসমিল্লাহ্' বলা। কারণ 'বিসমিল্লাহ্' বলার দ্বারা মানুষের সতর ও জ্বিনদের দৃষ্টির সামনে পর্দা সৃষ্টি হয়ে যায়। যদি 'বিসমিল্লাহ্' না বলা হয় তবে জ্বিন মানুষদের দিকে দৃষ্টি দিতে পারে এবং সহজেই আকৃষ্ট হয়ে যেতে পারে।
¤ জামি তিরমিযি - ৬০৬।
৬) ওয়াশরুমে ও টয়লেটে প্রবেশের আগে দুয়া পড়া, কারণ এসব নোংরা জায়গায় সাধারনত খবিস জ্বিন থাকে। ওয়াশরুমে ও টয়লেটে প্রবেশের দুয়াঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস।
ওয়াশরুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা, বেশিক্ষণ না থাকা। বের হয়ে غوفراناكا 'গুফরানাকা' পড়া। ওয়াশরুমে একা একা কথা না বলা। অনেক সময় এই কথা বলার মধ্যে জ্বিন শরিক হয়।
¤ জামি তিরমিযি ৬০৬।
৭) দরজা, জানালা 'বিসমিল্লাহ্' বলে খোলা ও বন্ধ করা, কেননা যে দরজা বা জানালা বন্ধ করার সময় আল্লাহর নাম নেয়া হয় সে দরজা শয়তান খুলতে পারে না।
¤ সুনান আবু দাউদ ৩৭৩১।
৮) খাবার 'বিসমিল্লাহ' বলে ঢেকে রাখা, এমনকি একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখবেন এবং এর উপর আল্লাহর নাম নিবেন। একইভাবে পানির পাত্রের মুখও বন্ধ করে দিবেন আল্লাহর নাম নিয়ে। কারণ যে পাত্রের মুখ এভাবে আল্লাহর নাম নিয়ে ঢাকা থাকে তা শয়তান উন্মুক্ত করতে পারে না।
¤ সুনান আবু দাউদ ৩৭৩১।
৯) রাতে ঘরের বাতি নেভানোর সময় 'বিসমিল্লাহ্' বলে নিভাবে। গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার থাকলে সতর্কতার সাথে 'বিসমিল্লাহ্' বলে বন্ধ করে দিবেন।
¤ সুনান আবু দাউদ ৩৭৩১।
১০) যথাযথভাবে পর্দা করা। কারণ জ্বিনেরাও মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বাসার নিরাপত্তা তো হলো কিন্তু বাহিরে যেতে পর্দা সহকারে বের না হলেও জ্বিন দ্বারা আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে।
১১) মুশরিক/কাফিরদের উপসনালয় থেকে দূরে থাকা। কারণ এসব শির্কের আস্তানায় শয়তানের আনাগোনা হয় খুব বেশি। অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় এরকম কোন উপসনালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার/গমণের পর জ্বিন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন ‘তোমরা মুশরিকদের উপাসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ, সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে গজব নাজিল হতে থাকে।’
¤ বায়হাক্বী।
১২) বাসায় সুরা বাকারাহ্ তিলাওয়াত করা। শয়তান এমন ঘরে প্রবেশ করে না যাতে সুরা বাকারাহ তিলাওয়াত করা হয়।
¤ জামি তিরমিযি,খন্ড ৫/কিতাব ৪২/হাদীস ২৮৭৭।
বিশেষ করে সুরা বাকারার শেষ ৩ আয়াত পড়া। এটা পড়া দ্বারা বাসা থেকে শয়তান দূর হয়।
¤ সুনান আবু দাউদ/১৩৯৭, সুনান ইবনু মাজাহ।
১৩) বাসায় কোন প্রকার প্রানীর ছবি না রাখা। দরকারে যেহেতু ছবি তুলতে হয় সেহেতু ছবি উন্মুক্ত জায়গায় রাখবেন না। কারণ এমন ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে।
¤ সুনান আন-নাসায়ী ৫৩৪৭ সহিহ।
১৪) বাসায় কোনো প্রকার প্রানীর মূর্তি বা মূর্তিজাতীয় কিছু না রাখা।
¤ সহিহ বুখারী ৩২৩৮, সুরা মুদ্দাসসির ১-৫।
১৫) বাসায় কুকুর না রাখা।
¤ সুনান আন-নাসায়ী ৫৩৪৭,সহিহ।
১৬) বাসায় পর্দাহীনতা যেন না হয় তা খেয়াল রাখা। যেমন টিভিতে, পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে এরকম কিছু থাকলে তা বন্ধ করা, ঢেকে রাখতে হবে। ভাল হয় এসবের উৎস বন্ধ করতে পারলে।
১৭) গোসল ফরজ হলে দ্রুত গোসল করে নেয়া। কারণ জুনুব ব্যক্তি যে ঘরে থাকে তাতেও ফেরেশতা প্রবেশ করে না মর্মে হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে।
¤ সুনান আন-নাসায়ী খন্ড ১/কিতাব ১/ হাদীস ২৬২।
আবার অপবিত্র অবস্থায় থাকার জন্য জ্বিনদের আক্রমন করাও সহজ হয়ে যায়।
১৮) অধিক রাগ, শোক ও খুশির অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না হওয়া। বিশেষ করে রাগের সময়। এই সময় মানুষ জ্বিনের দ্বারা আক্রমনের শিকার হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই রাগ উঠলেই 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তনির রজিম' পড়তে হবে বার বার।
১৯) বাচ্চাদের মাগরিবের ১০/১৫ মিনিট আগে ও পরে বাইরে বিচরণ করতে না দেয়া। কেননা এই সময়ে জ্বিনরা খুব বেশি বিচরণ করে থাকে।
এই লেখাটায় সব উপায়ই আনা হয়েছে তা নয়। আরো পয়েন্ট থাকতে পারে, এগুলো ছাড়া কারো কিছু জানা থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। এছাড়াও হাদিসে বর্ণিত সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ ও হেফাজত থাকতে মাসনুন আমলগুলো নিয়মিত স্থায়ীভাবে করতে হবে।
নিরাপত্তা ও হেফাজতের জন্য মাসনুন আমলের লিংকঃ
https://www.facebook.com/share/p/19iTg9NsVE/
মহান রাব্বে কারিম আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে উল্লিখিত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন এবং সর্বদা জ্বিন ও শয়তান সহ সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন, আমীন।
Raqi Kamrul Haider
Raqi Kamrul Haider
01677-440419
➖➖➖➖➖➖