30/11/2022
প্রবীণ বান্ধব সমাজ চাইঃ
---------------------------------
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এক কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯ জন। মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত ১১ বছরের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির হার দেশের ধারাবাহিক জনশুমারির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি। এ বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা আরও চ্যালেন্জ্ঞের সন্মূখীন হবে। প্রবীণরা প্রতি মুহূর্তে সামাজিক, মানসিক, আর্থিক, আইনি ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। সরকারি উদ্যোগে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য 'সামাজিক নিরাপত্তা' চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল । পরিবার, দেশ ও দশের স্বার্থে এক সময় যারা জীবনকে উৎসর্গ করেছেন বার্ধক্যের সময় যথাযথ মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। আজকের সমাজ ও সভ্যতার কারিগর মূলত প্রবীণরাই। অথচ সামাজিক এ অবদানের স্বীকৃতি পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও তাঁরা উপেক্ষিত।
করোনা মহামারী কালে যা আমাদেরকে এ ভয়াবহতার নেতিবাচক অনেক উদাহরণের সন্মূখীন হতে হয়েছে।। প্রবীণের সংখ্যার এ বৃদ্ধি রাষ্ট্রের জন্য দিন দিন বোঝা হয়ে উঠছে।।
তাই আশু প্রয়োজন নিজের ও সর্বোপরি রাষ্ট্রের বার্ধক্য বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া-যা থেকে আমরা এখনও যোজন যোজন দূরে।। প্রবীণ বান্ধব সমাজ গঠনকল্পে বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল এসোসিয়েশন (বিজিএ) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স প্রোগ্রাম Gerontology and Geriatric Welfare (GGW) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোকিত প্রবীণ সংবর্ধনা ও GGW থার্ড রিইউনিয়ন গতকাল ২৫ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজ কল্যাণ গবেষণা ইন্সটিটিউট (সকগই) এর সম্মানিত পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম আযম, সংবর্ধিত প্রবীণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বয়ষ্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র(বপুক) এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনাব খতিব আব্দুল জাহিদ মুকুল, সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র (বপুক) এর সম্মানিত পরিচালক মাসুমা খাতুন লিপা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোকিত সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সাবেক মহাসচিব প্রফেসর ড. এএসএম আতীকুর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ নুরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মাহবুবা সুলতানা, প্রফেসর ড. ফজলে খোদা, প্রফেসর ড. হাফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএ'র মহাসচিব প্রফেসর ড. মোঃ রবিউল ইসলাম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখি আমি অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক, হিসাবে। সেখানে অনেকেই প্রবীণ বান্ধব সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন।। ঐদিন এজিএম এর মাধ্যমে বিজিএ ( বাংলাদেশ জেরোনট্রোলজিক্যাল এসোসিয়েশন) এর নতুন কমিটি গঠিত হয়, প্রবীণ বান্ধব সমাজ গঠনে এই এসোসিয়েশন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে - সকলেই তাই প্রত্যাশা করে।।