02/02/2026
ভয়ের ভেতর জন্ম নিয়ে মানসিক ভাবে মানিয়ে নেওয়ার এক অনুভূতির নাম হল Stockholm Syndrome.
যখন ভয় আর অসহায়তার মধ্যে মানুষের মন বাঁচার রাস্তা খোঁজে, আঘাতকারীই ধীরে ধীরে নিরাপত্তার আশ্রয় হয়ে ওঠে।
যখন মানুষ অন্যের থেকে কষ্ট পায় সেই মানুষকেই বোঝার চেষ্টা করে, তার খারাপ আচরণের ন্যায় সঙ্গত কারণ খুঁজে, নিজের যন্ত্রণাকে ছোট করে দেখার প্রচেষ্টা করে, সেখান থেকেই এই মানসিক বন্ধন তৈরি হতে থাকে। এটি মানুষের মস্তিষ্কের survival response।
Stockholm Syndrome-এ আক্রান্ত মানুষ প্রায়ই বলে-
“ও আসলে খারাপ না”,
“আমি ওকে না বুঝলে কে বুঝবে”,
“ও না থাকলে আমার অবস্থা আরও খারাপ হতো।”
এই কথাগুলোর পেছনে ভালোবাসা কম,
ভয় আর অভ্যাস বেশি কাজ করে।
এ ধরনের সম্পর্ক সমান থাকে না। ক্ষমতা থাকে একদিকে, আর অন্যদিকে থাকে মানিয়ে নেওয়া, চুপ থাকা, নিজেকে দোষ দেওয়া।
নিজেকে বোঝাতে বোঝাতে মানুষ একসময় সত্যিকারের যন্ত্রণাটাই ভুলে যায়।
এই মানসিক বন্ধন ভাঙা কঠিন, কারণ আঘাতকারীই যখন পরিচিত আর “নিরাপদ” মনে হয়, তখন দূরে সরে যাওয়ার মধ্যে অজানা ভয় কাজ করে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে-
যে সম্পর্ক আপনাকে ছোট করে, ভয় দেখায়, নিয়ন্ত্রণ করে, সেটা ভালোবাসা নয়, সেটা মানসিক বন্দিত্ব।
সুস্থ হওয়া শুরু হয় তখনই,
যখন আপনি বুঝতে পারেন-
ভালোবাসা মানে ভয় পাওয়া না, ভালোবাসা মানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়।
সুস্থ হওয়ার শুরুটা অনেক সময় নীরব ও ধীর হয়।
Stockholm Syndrome থেকে বেরিয়ে আসা মানে হঠাৎ করে কাউকে ছেড়ে চলে যাওয়া না, বরং ধীরে ধীরে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা।
যেখানে মানুষ বুঝতে শিখে ভয় আর ভালোবাসা এক জিনিস নয়। নিয়ন্ত্রণ আর যত্নের মধ্যে আকাশ–পাতাল পার্থক্য আছে।
এই উপলব্ধি আসতে সময় লাগে, কারণ যে জায়গাটা দীর্ঘদিন “নিরাপদ” মনে হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা মানে শুধু সম্পর্ক ছাড়াই না-
পুরোনো বিশ্বাস, আত্মদোষ, আর মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাসকেও বিদায় দেওয়া। এটা মানসিকভাবে ক্লান্তিকর, ভীতিকর, কিন্তু একই সাথে নিজের প্রতি সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ কাজ।
নিজেকে দোষ না দিয়ে, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়াই Stockholm Syndrome থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী ধাপ।
কাউন্সেলিং সেবা নিতে যোগাযোগ করুনঃ 01888-143330 (সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা)