MyHealth

MyHealth One-stop cloud-based prescription management service
which covers Telemedicine via Audio/Video, Appointment Management, EHR with AI Technology.

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের কী ক্ষতি হয়? জেনে নিন বিস্তারিতআমাদের শরীরের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশই পানি দিয়ে গঠিত। কোষের ন...
11/02/2026

পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের কী ক্ষতি হয়? জেনে নিন বিস্তারিত

আমাদের শরীরের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশই পানি দিয়ে গঠিত। কোষের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, খাবার হজম, রক্ত সঞ্চালন এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে পানির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যাই। এই সামান্য অবহেলাই শরীরে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

নিচে পানি কম খাওয়ার ফলে শরীরে যে ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ক্লান্তি ও শক্তির অভাব: শরীরে পানির অভাব হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে দেরি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের ওপর এবং আমরা দ্রুত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করি।

২. মাথাব্যথা ও মানসিক মনোযোগ হ্রাস: ডিহাইড্রেশন বা পানির ঘাটতি হলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন মাথাব্যথা, কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৩. হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য: খাবার সঠিকভাবে হজম করার জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। শরীরে পানি কম থাকলে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং মল শক্ত হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সৃষ্টি করে।

৪. ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানো: পানি আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ ও আর্দ্র রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়।

৫. প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন: শরীরে পানির ঘাটতি বোঝার অন্যতম সহজ উপায় হলো প্রস্রাব। পানি কম খেলে প্রস্রাব কম হওয়া এবং এর রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া ডিহাইড্রেশনের প্রধান লক্ষণ।

৬. কিডনির ওপর বাড়তি চাপ: কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু পানি কম খেলে কিডনি এই কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে কিডনি স্টোন এবং কিডনি জনিত জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

৭. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও হৃদস্পন্দন: পানি ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পানির অভাবে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রক্তের পরিমাণ কমে গেলে হৃদপিণ্ডকে রক্ত সঞ্চালনের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, ফলে হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তচাপের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

কখন সতর্ক হতে হবে? শরীরে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনার দ্রুত পানি পান করা প্রয়োজন:

• প্রচণ্ড তৃষ্ণা পাওয়া।

• দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া।

• অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করা।

• বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

উপসংহার: তৃষ্ণা পাওয়ার আগেই পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সচল ও সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানির কোনো বিকল্প নেই।

রেফারেন্স: এই তথ্যগুলো World Health Organization (WHO), National Health Service (NHS), Mayo Clinic, Cleveland Clinic, Harvard Health Publishing এবং National Kidney Foundation-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

এপিলেপসি বা মৃগী রোগ: প্রয়োজন সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক এপিলেপসি দিবস। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের...
09/02/2026

এপিলেপসি বা মৃগী রোগ: প্রয়োজন সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা

৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক এপিলেপসি দিবস। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সোমবার এই দিবসটি পালন করা হয়। আমাদের সমাজে মৃগী রোগ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা ও কুসংস্কার প্রচলিত আছে। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়।

মেটাবলিক ইনফ্লেক্সিবিলিটি: হৃদরোগের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা এক নিরব ঘাতকসাধারণত হৃদরোগকে একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা হয়...
05/02/2026

মেটাবলিক ইনফ্লেক্সিবিলিটি: হৃদরোগের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা এক নিরব ঘাতক

সাধারণত হৃদরোগকে একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে এর মূলে রয়েছে আমাদের শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ার একটি গভীর ত্রুটি, যা মেটাবলিক ইনফ্লেক্সিবিলিটি বা বিপাকীয় নমনীয়তার অভাব নামে পরিচিত। আমাদের শরীরের কোষগুলো যখন প্রয়োজন অনুযায়ী শর্করা এবং চর্বি থেকে শক্তি সংগ্রহের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

নিচে মেটাবলিক ইনফ্লেক্সিবিলিটি কীভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগেই শুরু হয় হৃদরোগের বাহ্যিক লক্ষণগুলো যেমন বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার বহু বছর আগেই শরীরের বিপাকীয় পরিবর্তন বা 'মেটাবলিক সুইচিং' প্রক্রিয়াটি বিকল হতে শুরু করে। ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তনালীতে বড় কোনো পরিবর্তনের আগেই শরীরের শক্তির প্রোফাইল বদলে যায়। খাবার খাওয়ার পর বা ইনসুলিনের উপস্থিতিতে শরীর যদি যথাযথভাবে বিপাকীয় পরিবর্তন করতে না পারে, তবে তা হৃদরোগের একটি বড় পূর্বলক্ষণ।

২. হৃদপিণ্ড যখন জ্বালানি সংকটে পড়ে একটি সুস্থ হৃদপিণ্ড অত্যন্ত নমনীয়; এটি প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো চর্বি আবার কখনো চিনি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। কিন্তু মেটাবলিক ইনফ্লেক্সিবিলিটি থাকলে হৃদপিণ্ড এই জ্বালানি পরিবর্তনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত হার্ট ফেইলিউরের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

৩. রক্তনালীর নিয়ন্ত্রণ হারানো রক্তনালীর ভেতরের স্তরে যখন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, তখন এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ 'নাইট্রিক অক্সাইড' সংকেত কমিয়ে দেয়। এই সংকেত কমে যাওয়ার ফলে রক্তনালীর নমনীয়তা নষ্ট হয় এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

৪. ক্ষতিকারক চর্বির আধিক্য ও প্রদাহ যখন শরীর চর্বিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে বা পোড়াতে পারে না, তখন রক্তনালীতে সিরামাইড এবং ডিএজি-র মতো ক্ষতিকারক উপাদানের আধিক্য ঘটে। এটি রক্তনালীর ভেতরের স্তরে প্রদাহ তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৫. পেশীর ভূমিকা এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আমাদের কঙ্কাল পেশীগুলো যদি রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করা কমিয়ে দেয়, তবে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই বাড়তি ইনসুলিন সরাসরি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং হৃদপিণ্ডের মাইটোকন্ড্রিয়াল স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। মেটাবলিক ইনফ্লেক্সিবিলিটির কারণে হৃদপিণ্ডের কোষগুলোতে ফাইব্রোসিস বা টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে।

৬. চিকিৎসার ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটির মাত্রা দেখে বোঝা সম্ভব কেন একই ধরণের হৃদরোগে আক্রান্ত দুজন ব্যক্তি একই চিকিৎসায় ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পান। যার মেটাবলিক স্বাস্থ্য ভালো, তার চিকিৎসায় সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

হৃদরোগ প্রতিরোধের দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন বড় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কেবল "কখন রোগ দেখা দেবে" তার অপেক্ষা না করে, আমাদের নজর দেওয়া উচিত "কখন শরীরের মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি হারিয়ে যাচ্ছে" সেদিকে। শরীরের শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল স্বাস্থ্য রক্ষা করাই হতে পারে হৃদরোগ থেকে বাঁচার অন্যতম কার্যকর উপায়।

Sources: Taken from Dr. Abhilasha Singh's LinkedIn profile

তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে হৃদরোগ? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকারএক সময় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাককে কেবল "বয়স্কদের রোগ" হিসেবে গণ্য...
03/02/2026

তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে হৃদরোগ? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

এক সময় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাককে কেবল "বয়স্কদের রোগ" হিসেবে গণ্য করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে এই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। আজকাল ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক ও গবেষকদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতসহ সারাবিশ্বেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নিচে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার প্রধান কারণগুলো এবং এর থেকে বাঁচার উপায়গুলো আলোচনা করা হলো:

কেন তরুণরা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে?

১. আধুনিক ও অলস জীবনযাত্রা (Sedentary Lifestyle): বর্তমান যুগে তরুণরা দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করে এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের সুযোগ পায় না। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরে মেটাবলিক ডিজঅর্ডার দেখা দেয়, ওজন বৃদ্ধি পায় এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।

২. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং তেলযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। এই কোলেস্টেরল ধমনীতে জমা হয়ে ব্লকেজ তৈরি করে, যা পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের কারণ হয়।

৩. মানসিক চাপ ও স্ট্রেস: কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, পরীক্ষা, আর্থিক উদ্বেগ এবং সামাজিক চাপের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রেসের মাত্রা অনেক বেশি। এই মানসিক চাপ শরীরের রক্তচাপ ও হার্ট রেট বাড়িয়ে দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করে।

৪. ধূমপান ও মাদক সেবন: সিগারেট, ই-সিগারেট বা ভেপিং এবং বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রক্তনালীর চরম ক্ষতি করে এবং ব্লকেজ তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ঘাস বা কান্নাবিস ব্যবহার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

৫. অতিরিক্ত ওজন ও ডায়াবেটিস: ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। এই সমস্যাগুলো উচ্চ রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা তৈরি করে হৃদরোগের পথ প্রশস্ত করে।

৬. কোভিড-১৯ ও জেনেটিক কারণ: সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, COVID-19 পরবর্তী সময়ে অনেক তরুণের হৃদপেশীতে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন দেখা দিয়েছে। এছাড়া যদি পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তবে জিনগত কারণেও তরুণ বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

---

হৃদরোগ প্রতিরোধে করণীয়

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে তরুণদের নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা জরুরি:

· নিয়মিত চেক-আপ: রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।

· ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে।

· স্বাস্থ্যকর খাবার: খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল রাখতে হবে এবং চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

· মানসিক প্রশান্তি: স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা পছন্দের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার: জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপই তরুণদের হার্টের প্রধান শত্রু। তবে সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এই অকাল হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুস্থ হার্টই দীর্ঘ ও সুন্দর জীবনের চাবিকাঠি।

Sources: HealthCentral, NDTV, Cooper Health, Dignity Health, The Guardian

কেন বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা আপনার জীবনের সেরা বিনিয়োগ?আমরা সাধারণত অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের কাছে যেতে চ...
29/01/2026

কেন বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা আপনার জীবনের সেরা বিনিয়োগ?

আমরা সাধারণত অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের কাছে যেতে চাই না। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, অসুস্থ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই হলো সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। বছরে অন্তত একবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Annual Health Check-up) অনেক প্রাণঘাতী রোগ আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারে এবং জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। আজকের ব্লগে আমরা জানব কেন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা আমাদের প্রত্যেকের জন্য অপরিহার্য।

১. নীরব ঘাতক রোগগুলো শনাক্ত করা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা কিডনি সমস্যার মতো অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো বিশেষ উপসর্গ দেখায় না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এই রোগগুলো শুরুতেই ধরা পড়ে, ফলে চিকিৎসা অনেক সহজ ও কম খরচে সম্পন্ন করা যায় এবং বড় কোনো জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

২. হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস বর্তমানে শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যেও হার্ট ডিজিজ বা হৃদ্‌রোগের প্রবণতা বাড়ছে। বছরে একবার রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

৩. মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বর্তমান ব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস, ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত চেক-আপের মাধ্যমে চিকিৎসকরা আপনার ঘুম, মানসিক চাপ ও জীবনযাপনের ধরণ মূল্যায়ন করতে পারেন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলো আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

৪. চিকিৎসা খরচ কমানো রোগ যখন দেরিতে ধরা পড়ে, তখন চিকিৎসা অনেক জটিল হয়ে যায় এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়া রোগের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী। তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষা আসলে আপনার টাকা সাশ্রয় করে।

৫. দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনার শরীরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয় এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়। এটি আপনার কর্মক্ষমতা ও জীবনমান উন্নত করে দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে সাহায্য করে, যা বিশেষ করে কর্পোরেট ও কর্মজীবী মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

৬. পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখা মানে হলো আপনার পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করা এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও হঠাৎ আসা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে আনা।

বছরে একবার যে পরীক্ষাগুলো করা জরুরি:

· রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা (Diabetes) পরীক্ষা।

· কোলেস্টেরল ও BMI (ওজন) পরিমাপ।

2 / 2

· চোখ ও দৃষ্টি পরীক্ষা।

· প্রয়োজন অনুযায়ী ECG, আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য স্ক্রিনিং।

উপসংহার মনে রাখবেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি প্রয়োজন। বছরে মাত্র একটি দিন নিজের স্বাস্থ্যের জন্য ব্যয় করে আপনি একটি সুস্থ, দীর্ঘ ও নিশ্চিন্ত জীবনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারেন। আজ সুস্থ থাকাই আগামী দিনের সেরা বিনিয়োগ।

তথ্যসূত্র (References):

· World Health Organization (WHO) – Preventive Health Care and Early Disease Detection.

· Centers for Disease Control and Prevention (CDC) – Importance of Regular Health Check-ups.

· Mayo Clinic – Health Screenings and Preventive Care.

· Harvard Medical School – Why Annual Checkups Matter.

· National Health Service (NHS, UK) – Routine Health Checks and Screening.

27/01/2026
স্থূলতা কি কেবল ব্যক্তিগত অবহেলা? আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ওজনের বৈষম্যআজকের বিশ্বে স্থূলতা বা ওবেসিটি একটি জটিল ও ক্রমব...
21/01/2026

স্থূলতা কি কেবল ব্যক্তিগত অবহেলা? আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ওজনের বৈষম্য

আজকের বিশ্বে স্থূলতা বা ওবেসিটি একটি জটিল ও ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণ ধারণায় ওবেসিটিকে কেবল অলসতা বা অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের ফল হিসেবে দেখা হলেও, প্রকৃত চিত্রটি আরও অনেক বেশি গভীর। গবেষণা এবং তথ্যের আলোকে দেখা যায় যে, স্থূলতার ফলাফল (Obesity Outcomes) ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হওয়ার পেছনে অনেকগুলো সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং কাঠামোগত কারণ দায়ী থাকে।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কেন স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করা কেবল ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তির বিষয় নয়।

১. স্বাস্থ্যবর্ধক সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং আর্থিক সক্ষমতা

একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সম্পদের প্রয়োজন হয়, যা সমাজের সবার জন্য সমান নয়। মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা সরাসরি ওজনের ওপর প্রভাব ফেলে। যেমন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলো অনেক সময় বাধ্য হয়ে সস্তা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করে, যা দ্রুত স্থূলতা বাড়ায়।

২. সময়ের সীমাবদ্ধতা: একটি অলক্ষিত বাধা

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্ষেত্রে অনেক সময় একাধিক চাকরিতে ব্যস্ত থাকতে হয়, যার ফলে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা বা নিয়মিত ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, সময় এখানে একটি অত্যন্ত সীমিত সম্পদ।

৩. আমাদের চারপাশের পরিবেশ (Built and Social Environment)

আপনি কোথায় বাস করছেন, তা আপনার স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। স্থূলতা প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো হলো:

· সবুজ পার্ক ও নিরাপদ হাঁটার পথ (Green space & safety): শরীরচর্চার জন্য নিরাপদ পরিবেশ জরুরি।

· স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা: এলাকাভিত্তিক পুষ্টিকর খাবারের অভাব মানুষের খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে।

· সামাজিক সংহতি: প্রতিবেশীদের মধ্যে বিশ্বাস ও সুসম্পর্ক মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ও মানসিক স্বাস্থ্য

2 / 2

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস এবং অতীত অভিজ্ঞতা ওজনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সমর্থন ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া শৈশবের প্রতিকূল ঘটনা (Adverse childhood events) পরবর্তী জীবনে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

৫. সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য (Stigma and Discrimination)

স্থূল ব্যক্তিরা প্রায়ই সামাজিক অমর্যাদা এবং বৈষম্যের শিকার হন। এমনকি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যেও ওজন নিয়ে এক ধরণের পক্ষপাত কাজ করে। এই ধরণের সামাজিক কলঙ্ক ও বিরূপ পরিবেশ মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

৬. স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, সঠিক রোগ নির্ণয় বা কার্যকরী ওষুধের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকেন। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ কম থাকায় সবার জন্য কার্যকর সমাধান পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থূলতা কোনো একক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। স্থূলতা কমাতে হলে শুধু ব্যক্তিগত ডায়েট বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের চারপাশের পরিবেশের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করা জরুরি।

---

তথ্যসূত্র (References):

· Source Infographic: "Disparities in obesity outcomes" chart.

· Kumanyika, S. K., et al. (2014). Community strategies for obesity prevention. American Journal of Preventive Medicine.

· Swinburn, B. A., et al. (2011). The global obesity pandemic. The Lancet.

· Puhl, R., & Heuer, C. (2009). The stigma of obesity: a review and update. Obesity.

· Beyond the Scale: Socioeconomic Dimensions of Obesity

প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ৮টি খাবারডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে...
19/01/2026

প্রাকৃতিক উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ৮টি খাবার

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং কী পরিমাণে খাচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

নিচে এমন ৮টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যা আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত:

১. সবুজ শাকসবজি: পালং শাক, ব্রকলি, ফুলকপি ও লাল শাকের মতো সবজিগুলো কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবারে সমৃদ্ধ। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করতে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

২. সম্পূর্ণ শস্য (Whole Grains): ওটস, লাল চাল, আটার রুটি এবং বার্লিতে উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে। এটি কার্বোহাইড্রেটের শোষণকে ধীর করে দেয়, যার ফলে খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।

৩. ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: মসুর ডাল, ছোলা ও রাজমা উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চমৎকার উৎস। এগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ার কারণে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

৪. বাদাম ও বীজ: কাঠবাদাম, আখরোট এবং চিয়া বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। এগুলো ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং হার্টের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

৫. চর্বিমুক্ত প্রোটিন: সামুদ্রিক মাছ, মুরগির বুকের মাংস এবং ডিমের সাদা অংশ রক্তে শর্করার ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না। এগুলো শরীরের পেশী শক্তিশালী রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৬. টক দই (Unsweetened Yogurt): টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক হজমশক্তি উন্নত করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অবশ্যই চিনি ছাড়া দই বেছে নিতে হবে।

৭. ফলমূল: আপেল, নাশপাতি, পেয়ারা এবং বেরি জাতীয় ফলে প্রচুর ফাইবার থাকে এবং এগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে কম। পরিমিত পরিমাণে এই ফলগুলো খেলে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

2 / 2

৮. দারুচিনি ও হলুদ: দারুচিনি শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, হলুদে থাকা 'কারকিউমিন' উপাদানটি শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। বরং একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন—এই তিনটির সমন্বয়ই হলো সফল ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র (References):

· American Diabetes Association. Nutrition and Diabetes

· World Health Organization (WHO). Healthy diet

· Harvard T.H. Chan School of Public Health. Healthy Eating for Type 2 Diabetes

· Mayo Clinic. Diabetes diet: Create your healthy-eating plan

ধূমপান ছাড়ার ৩০ দিন: আপনার শরীরের সুস্থ হয়ে ওঠার গল্পধূমপান একটি মারাত্মক কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি। ...
17/01/2026

ধূমপান ছাড়ার ৩০ দিন: আপনার শরীরের সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প

ধূমপান একটি মারাত্মক কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি। সিগারেটের প্রতিটি ধোঁয়ার সাথে আমাদের শরীরে প্রায় হাজারের বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করে, যা হৃদযন্ত্র, ফুসফুস এবং মস্তিষ্কসহ শরীরের প্রায় সব অঙ্গকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে আশার কথা হলো, আপনি ধূমপান ছাড়ার পর মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই আপনার শরীর অবিশ্বাস্যভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করতে শুরু করে।

প্রথম ২৪ ঘণ্টার ম্যাজিক ধূমপান ছাড়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই আপনার হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্ত থেকে ক্ষতিকর কার্বন মনোক্সাইড বের হয়ে যায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমতে শুরু করে।

প্রথম সপ্তাহের পরিবর্তন (২-৭ দিন) এই সময়ে আপনার শরীর থেকে নিকোটিন পুরোপুরি বের হতে থাকে। ফলে আপনার স্বাদ ও গন্ধ নেওয়ার ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়। ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা বা মিউকাস পরিষ্কার হতে শুরু করায় কাশি ও শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসে। তবে এই সময় শরীর থেকে নিকোটিন চলে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে মাথাব্যথা, বিরক্তি বা অস্থিরতা কাজ করতে পারে, যা মূলত সুস্থ হওয়ার একটি লক্ষণ।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের উন্নতি ধূমপান ছাড়ার ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে শরীরের রক্ত সঞ্চালন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সময়ে হাঁটাচলা বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় আপনার হাঁপ ধরা কমে আসবে এবং শারীরিক শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

৩০ দিনের মাইলফলক: শরীর যখন নতুন রূপ পায় এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ধূমপানের কারণে হওয়া ক্ষতিগুলো শরীর কাটিয়ে উঠতে শুরু করে। এ সময় যে পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হয়:

· ফুসফুসের কার্যকারিতা ১০–৩০% পর্যন্ত উন্নত হয়।

· দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা প্রায় দূর হয়ে যায়।

· হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক গুণ কমে যায়।

· ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ার কারণে মুখের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে এবং দাঁতের দাগ ও মুখের দুর্গন্ধ কমতে শুরু করে।

· মানসিক স্থিতি ও ঘুমের মান অনেক উন্নত হয়।

কেন আজই ধূমপান ছাড়বেন? ধূমপান ছাড়ার জন্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই, বরং আজই সেরা সময়। শরীরকে সুস্থ করার এই সুযোগটি দিলে সে অত্যন্ত দ্রুত নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে। নিজের জন্য এবং পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ধূমপান ত্যাগের সিদ্ধান্তটি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা উপহার।

তথ্যসূত্রসমূহ (References): 1. World Health Organization (WHO). To***co and health 2. Centers for Disease Control and Prevention (CDC). Health Effects of Cigarette Smoking 3. American Heart Association. Benefits of Quitting Smoking 4. National Health Service (NHS, UK). What happens when you stop smoking.

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন যে ৭টি অভ্যাস গড়ে তুলতেই হবে সুস্থ জীবন কোনো হঠাৎ পাওয়া বিষয় নয়—এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের...
15/01/2026

সুস্থ থাকতে প্রতিদিন যে ৭টি অভ্যাস গড়ে তুলতেই হবে

সুস্থ জীবন কোনো হঠাৎ পাওয়া বিষয় নয়—এটি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের ফল। আধুনিক জীবনে অনিয়মিত খাওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব আমাদের ধীরে ধীরে অসুস্থ করে তোলে। তবে কিছু সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই—সুস্থ থাকতে প্রতিদিন যে ৭টি অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

Shape

১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
এতে—

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ থাকে

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে

হাঁটা, সাইক্লিং, হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম—যেকোনো একটি অভ্যাস করলেই উপকার পাওয়া যায়।

Shape

২. সুষম ও সময়মতো খাবার গ্রহণ করুন

সুস্থ থাকার মূল ভিত্তি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
প্রতিদিনের খাবারে থাকতে হবে—

শাকসবজি ও ফল

পরিমিত প্রোটিন

পূর্ণ শস্য (Whole grains)

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম।

Shape

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন

পানি শরীরের সব কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে।
পানি কম খেলে—

ক্লান্তি

মাথাব্যথা

কোষ্ঠকাঠিন্য

কিডনির সমস্যা

দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে দিনে ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Shape

৪. প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন

ঘুম শরীর ও মনের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে।
ভালো ঘুম—

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করে

মানসিক চাপ কমায়

অনিয়মিত বা কম ঘুম দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়।

Shape

৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের জন্য নীরব ঘাতক।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন—

ধ্যান বা নামাজ

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস

পছন্দের কাজ বা বই পড়া

প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শারীরিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Shape

৬. ধূমপান ও ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মাদক—

ক্যানসার

হৃদ্‌রোগ

ফুসফুসের রোগ

এর প্রধান কারণগুলোর একটি। এসব অভ্যাস ত্যাগ করাই সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত।

Shape

৭. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান

অনেক রোগ শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখায় না।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায়—

ডায়াবেটিস

উচ্চ রক্তচাপ

কোলেস্টেরল

প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব, যা চিকিৎসাকে সহজ ও কার্যকর করে।

Shape

উপসংহার

সুস্থ জীবন কোনো জটিল বিষয় নয়—বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট সঠিক অভ্যাসের সমষ্টি। এই ৭টি অভ্যাস যদি নিয়মিত অনুসরণ করা যায়, তাহলে দীর্ঘদিন সুস্থ, কর্মক্ষম ও মানসিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। আজ থেকেই একটি অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন—ধীরে ধীরে বাকিগুলো যুক্ত করুন।

Shape

রেফারেন্স

World Health Organization (WHO). Healthy Living Guidelines

Centers for Disease Control and Prevention (CDC). Healthy Lifestyle

Harvard Medical School. The Foundations of a Healthy Lifestyle

National Institutes of Health (NIH). Sleep, Nutrition, and Physical Activity

14/01/2026

জরায়ু মুখ ক্যান্সার সচেতনতা মাস: জানুন, সচেতন হোন, জীবন বাঁচান

প্রতি বছর জানুয়ারি মাসকে বিশ্বজুড়ে জরায়ু মুখ ক্যান্সার (Cervical Cancer) সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। নারীদের জন্য এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি হলেও, সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং পদক্ষেপ নিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আজকের ব্লগে আমরা জানবো এই রোগটি কী এবং কীভাবে আমরা নিজেদের ও প্রিয়জনদের সুরক্ষিত রাখতে পারি।

জরায়ু মুখ ক্যান্সার কী এবং কেন হয়?

জরায়ুর নিচের অংশকে বলা হয় জরায়ু মুখ বা সার্ভিক্স (Cervix)। এই অংশের কোষগুলোতে যখন অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে জরায়ু মুখ ক্যান্সার বলা হয়। এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ, যা প্রধানত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি সাধারণত খুব ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, তাই আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঝুঁকির কারণ ও লক্ষণসমূহ কিছু বিশেষ কারণ এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যেমন:

অল্প বয়সে যৌন জীবন শুরু করা এবং একাধিক যৌন সঙ্গী থাকা।

HPV টিকা গ্রহণ না করা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং না করা।

ধূমপান এবং দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রোগ বাড়লে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত অথবা সহবাসের পর রক্তপাত।

দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।

তলপেটে বা কোমরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।

প্রতিরোধের উপায়: টিকা ও স্ক্রিনিং ভালো খবর হলো, জরায়ু মুখ ক্যান্সার সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। এর জন্য প্রধান দুটি হাতিয়ার হলো:



১. HPV টিকা: ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মেয়েদের জন্য এই টিকা সবচেয়ে কার্যকর, তবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীরাও চিকিৎসকের পরামর্শে এটি নিতে পারেন।



২. নিয়মিত স্ক্রিনিং: প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) বা HPV DNA টেস্টের মাধ্যমে ক্যান্সার হওয়ার অনেক আগেই কোষের পরিবর্তন ধরা পড়ে, যা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে।

এছাড়া নিরাপদ জীবনযাপন, নিরাপদ যৌন আচরণ এবং ধূমপান পরিহার করার মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।



আমাদের করণীয় লজ্জা বা ভয় নয়, বরং সচেতনতাই পারে একটি জীবন বাঁচাতে। এই সচেতনতা মাসে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—নিজে সচেতন হওয়া এবং পরিবারের অন্য নারীদেরও নিয়মিত স্ক্রিনিং ও টিকার বিষয়ে উৎসাহিত করা। মনে রাখবেন, একটি সঠিক পরীক্ষা এবং একটি টিকা হাজারো জীবন রক্ষা করতে পারে।

জরায়ু মুখ ক্যান্সার কোনো অভিশাপ নয়, বরং সঠিক তথ্য ও সময়ে নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি জয় করা সম্ভব।



একটি ছোট উদাহরণ: জরায়ু মুখ ক্যান্সারের স্ক্রিনিং অনেকটা বাড়িতে 'ফায়ার অ্যালার্ম' বা আগুনের সতর্কবার্তা লাগানোর মতো। আগুনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠার আগেই যেমন অ্যালার্ম ধোঁয়া দেখে আমাদের সতর্ক করে দেয়, তেমনি স্ক্রিনিং টেস্টও শরীরে ক্যান্সার পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই কোষের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো ধরিয়ে দেয়, যাতে আমরা সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারি।





Reference: WHO, CDC, NCI, ACS, IARC

12/01/2026

ডায়াবেটিস কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়—এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করলে প্রায় ৭০% ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের অনেকেরই অলসতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ধীরে ধীরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন

🎙️ প্রফেসর বিশ্বজিৎ ভৌমিক।
ডায়াবেটোলজি অধ্যাপক ও প্রকল্প পরিচালক, সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ (CGHR), বারডেম (BADAS)

আজই সময় জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার—
নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য।
ভিডিওটি দেখুন, জানুন এবং অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করে সচেতনতা ছড়িয়ে দিন।

#ডায়াবেটিস #ডায়াবেটিসসচেতনতা #ডায়াবেটিসপ্রতিরোধ #স্বাস্থ্যসচেতনতা #সুস্থজীবন

Address

House 151 Road No 22, Mohakhali DOSH
Dhaka
1213

Opening Hours

Monday 10:00 - 19:00
Tuesday 10:00 - 19:00
Wednesday 10:00 - 19:00
Thursday 10:00 - 19:00
Saturday 10:00 - 19:00
Sunday 10:00 - 19:00

Website

https://myrx.health/

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MyHealth posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to MyHealth:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram