11/02/2026
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের কী ক্ষতি হয়? জেনে নিন বিস্তারিত
আমাদের শরীরের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশই পানি দিয়ে গঠিত। কোষের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, খাবার হজম, রক্ত সঞ্চালন এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে পানির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যাই। এই সামান্য অবহেলাই শরীরে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
নিচে পানি কম খাওয়ার ফলে শরীরে যে ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ক্লান্তি ও শক্তির অভাব: শরীরে পানির অভাব হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে কোষে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে দেরি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের ওপর এবং আমরা দ্রুত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করি।
২. মাথাব্যথা ও মানসিক মনোযোগ হ্রাস: ডিহাইড্রেশন বা পানির ঘাটতি হলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এর ফলে ঘন ঘন মাথাব্যথা, কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
৩. হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য: খাবার সঠিকভাবে হজম করার জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। শরীরে পানি কম থাকলে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং মল শক্ত হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সৃষ্টি করে।
৪. ত্বকের উজ্জ্বলতা হারানো: পানি আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে সতেজ ও আর্দ্র রাখে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়।
৫. প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন: শরীরে পানির ঘাটতি বোঝার অন্যতম সহজ উপায় হলো প্রস্রাব। পানি কম খেলে প্রস্রাব কম হওয়া এবং এর রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া ডিহাইড্রেশনের প্রধান লক্ষণ।
৬. কিডনির ওপর বাড়তি চাপ: কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু পানি কম খেলে কিডনি এই কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে কিডনি স্টোন এবং কিডনি জনিত জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
৭. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও হৃদস্পন্দন: পানি ঘামের মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পানির অভাবে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রক্তের পরিমাণ কমে গেলে হৃদপিণ্ডকে রক্ত সঞ্চালনের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, ফলে হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তচাপের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
কখন সতর্ক হতে হবে? শরীরে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনার দ্রুত পানি পান করা প্রয়োজন:
• প্রচণ্ড তৃষ্ণা পাওয়া।
• দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া।
• অতিরিক্ত দুর্বলতা অনুভব করা।
• বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা।
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত? সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।
উপসংহার: তৃষ্ণা পাওয়ার আগেই পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সচল ও সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানির কোনো বিকল্প নেই।
রেফারেন্স: এই তথ্যগুলো World Health Organization (WHO), National Health Service (NHS), Mayo Clinic, Cleveland Clinic, Harvard Health Publishing এবং National Kidney Foundation-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।