16/01/2026
মানুষ জীবন নিয়ে যেভাবে স্বপ্ন দেখে তাদের ঐ স্বপ্নের ভাবনাই একটা ভুল পদ্ধতি। মানুষ স্বপ্ন দেখে সে বড় হবে, পড়াশোনা করে ভালো অর্থ উপার্জন করবে, বাড়ি-গাড়ি করে সুখের সংসার করবে। এই সুখের সংসারের জন্য অনেক টাকা দরকার, ফলে মানুষ দূর্নীতি করে, ডিপ্রেশনে ভোগে।
মানুষ চায় জীবনকে সে ভোগ করবে ফলে তারা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। কেউ আবার সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য নানান অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে, কারণ সে ভাবে এই সংসার তার আশ্রয়ের স্থল, আর্থিক নিরাপত্তা, সুখের চাবিকাঠি। এরই মাঝে সুখের পরিবর্তে মানুষ দুঃখের সাগরে ডুবে যায়।
তাহলে জীবনের লক্ষমাত্রা কেমন হওয়া উচিৎ ছিলো?
মুলত দুনিয়া তো সুখের জায়গা না, বরং পরীক্ষার জায়গা। পরীক্ষার হলে সুখের চিন্তা কিভাবে আসে? দুনীয়া তো লড়াই এবং যুদ্ধের ময়দান সেখানে প্রশান্তির চিন্তা কেন আসে?
কিন্তু লড়াইটা কার বিরুদ্ধে?
লড়াই হলো মিথ্যা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে, লোভী নফসের ভোগের বিরুদ্ধে। জীবন হলো জান্নাতের প্রত্যাশায় ত্যাগের সমষ্টি, স্রষ্টার ইবাদত ও আনুগত্যের সমষ্টি। ধর্মের পথে আপোষহীন। জীবন কোন সুন্দরী নারীর স্পর্শের লোভ আর যৌবনের বিলাসাতা নয়, জীবন কোন ভোগবিলাসিতা আর স্বর্নের বালা পড়া নয়।
অথচ আমরা নির্লজ্জের মতো ২য় বিয়ে করতে অনুমতি লাগবেনা সেই আনন্দেই মজে আছি, ২০ ভরি স্বর্ন ১০ লক্ষ মোহরানার দর-কষাকষিতে লেগে আছি।
অনিশ্চিত জীবনের জন্য আয়োজন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে নিশ্চিত চিরস্থায়ী জীবনের পথে শূন্য হাতেই পাড়ি দিই! ঐদিকে আওলাদরা সম্পদের বন্টন নিয়ে বিবাদে লেগে মৃত দেহের পচন ধরে।
আমি এইজন্য বলি জীবনের আদর্শ ওসমান হাদিময় হোক, যার দুনিয়া নামক স্থানে খ্যাতির অভাব ছিলো না, জীবনের সুখের অনেক উপকরণ ছিলো, সে যা চাইতো তাই পাইতো, মানুষ যা কিছুর জন্য স্বপ্ন দেখে মুখিয়ে থাকে সে তার সবকিছুকে তুচ্ছ করে সত্য, সততা, নীতি নৈতিকতাকে ধারণ করে জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে দুনিয়ার সুখকে তুচ্ছ করে আখেরাতের সফলতাকে আলিঙ্গন করেছে। তাইতো সে আজ উভয় জগতেই সফল।