Community Health Care Initiatives

Community Health Care Initiatives Community Health Care Initiatives in Bangladesh like Community Clinic activities, Community Participation in Health Care services is the main area.

আপনি অসুস্থ হলে কী করেন?যতক্ষণ সহ্যসীমার মধ্যে থাকে ততক্ষণ চুপ থাকেন,  পরিবারের কারো সাথে পরামর্শ করেন, বন্ধু বা কলিগের ...
02/12/2025

আপনি অসুস্থ হলে কী করেন?
যতক্ষণ সহ্যসীমার মধ্যে থাকে ততক্ষণ চুপ থাকেন, পরিবারের কারো সাথে পরামর্শ করেন, বন্ধু বা কলিগের সাথে, কিংবা নিজেই সিদ্ধান্ত নেন, ফার্মেসি তে যান, নাকি ডাক্তার দেখান? নাকি কবিরাজ, ওঝা- বৈদ্য বা ধর্মীয় হীলার?
কোন ধরনের চিকিৎসা সেবা নিতে আপনি কোথায় যান এবং সেবা গ্রহণে সিদ্ধান্ত নিতে কোন কোন প্রভাবক কাজ করে, আমি জানতে চাই। কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
অগ্রীম ধন্যবাদ 💝🌹

02/12/2025
কমিউনিটি ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সেবাঃ মায়েদের মানসিক অসুস্থতা প্রতিরোধ“বিষয়টি আইসিডিডিআর’বি কতৃক প্রণীত কমিউনিটি ভিত্ত...
29/11/2025

কমিউনিটি ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সেবাঃ মায়েদের মানসিক অসুস্থতা প্রতিরোধ

“বিষয়টি আইসিডিডিআর’বি কতৃক প্রণীত কমিউনিটি ভিত্তিক প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্যাকেজ (CBPMHC) এর আলোকে প্রণীত মাঠপযায়ে কমরত সেবাদানকারীদের জন্য সহায়িকা(খসড়া)”---- ১ম অংশ

সম্পাদনাঃ মোহাঃ শামীম রেজা, প্রশিক্ষণ কমকতা, সিবিএইচসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ভূমিকাঃ মানসিক অসুস্থতা শুধুমাত্র রোগের অনুপস্থিতি দ্বারা নিণয় করা সম্ভব নয় বরং আনুসাঙ্গিক আর্ সামাজিক, জৈবিক ও পরিবেশগত বিষয়াবলী এর সাথে যুক্ত। গভকালীন সময় এবং বাচ্চা জন্মের এক বছর পযন্ত সময়ে মায়েরা যে বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে তাদেরকে একসঙ্গে মায়েদের (পেরিনেটাল) মানসিক সমস্যা বলা হয়। এর মধ্যে উদ্বেগ এবং বিষন্নতা খুবই প্রকট। একারনে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি প্রাথমিক পযায় থেকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কমিউনিটি পযায়ে বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য কমী প্রদত্ত মাতৃস্বাস্থ্য সেবার সঙ্গেই যদি প্রাথমিক মানসিক স্বাস্ত্য সেবা প্রদান করা যায় তাহলে অনেকাংশেই বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নিয়মিত মাতৃস্বাস্থ্য সেবা প্রদানকালীন সময়ে সেবাপ্রদানকারীগণ খুব সহজেই মায়েদেরকে মানসিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন। কিন্তু এখন পযন্ত তাদের জন্য কোন নিদ্দিষ্ট নিদেশিকা বা গাইডলাইন নেই। তাই স্বাস্থ্য কমীদের জন্য একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা জরুরী যাতে করে তারা নিয়মিত মাতৃস্বাস্ত্য সেবার সাথে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করতে পারেন। এর ফলে মায়েদের গভকালীন এবং গভপরবতী সময়ে মানসিক রোগ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে বলে আশা করা যায়।এই সহায়িকায় গভকালীন, প্রসবকালীন, প্রসব-পরবতী, বাচ্চার যত্ন, মায়েদের সাধারণ মানসিক রোগ ও মনো-সামাজিক সহায়তা সম্পকে বননা করা হয়েছে। (খুব শিগ্রী icddr,b এটি চুড়ান্ত করবে)। আশা করি ধৈয্য সহকারে পড়বেন।

১.১ মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্পকিত এ সহায়িকা ব্যবহারকারী:
এই লেখাটি মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ নন (নন-স্পেশালিস্ট) এমন সেবাপ্রদানকারী এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকমীগণ যারা মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন তাদের জানার জন্য। এটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি বাড়ীতে মাতুস্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সময়্র কাজে লাগবে। যাদের উদ্দেশ্যে এ গাইডলাইন বা সহায়িকা তুলে ধরছি তারা হলেনঃ
-কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)
-স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ)
-পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ)
- কমিউনিটি স্কিলড বাথ এটনডেন্ট (সিএসবিএ)
-পরিবার কল্যাণ পরিদশিকা (এফডব্লিউভি)
-অন্যান্য কমিউনিটি স্বাস্থ্য কমী (বেসরকারী/এনজিও)
-উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও)

১.২ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেঃ
প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাযক্রম এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মায়েদের পেরিনাটাল পিরিয়ডে মানসিক সমস্যা প্রতিরোধ করে সুষ্ঠুভাবে প্রসব প্রক্রিয়া পরিচযা এবং শিশুর মনো-সামাজিক বিকাশ ঘটানো।দেশের প্রতিথযশা মনোবিজ্ঞানী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সিটিটিউট একাযক্রমের সাথে যুক্ত আছেন।
উদ্দেশ্যসমূহঃ
I. কমিউনিটি পযায়ের স্বাস্থ্যকমীগণকে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পকে ধারণা দেওয়া;
II. যথাসময়ে সঠিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য কমিউনিটির মায়েদের প্রাথমিকভাবে রোগ চিহিৃত করতে পারার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা;
III. কমিউনিটির জনসাধারণের মধ্যে মায়েদের পেরিনেটাল পিরিয়ডের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পকে সচেতনতা তৈরি করা;
IV. কমিউনিটির জনসাধারণের মধ্যে মা ও শিশুস্বাস্থ্যের উপর জ্ঞানের মাত্রা ও সচেতনতার উন্নয়ন ঘটানো;
V. কমিউনিটিতে মায়েদের পেরিনেটাল পিরিয়ডে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর মধ্যে সুসম্পক স্থাপন করা।

২. মায়েদের গভকালীন এবং সন্তান জন্মদান সম্পকিত তথ্য
২.১ গভবস্থাকে মানিয়ে নেওয়ার উপায়
• মায়েদেরকে বুঝতে সহায্য করুন যে গভধারণ কোন অসুখ নয় এটা একটা স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় ঘটনা;
• গভকালীন সময়ে মায়েদের শরীরে এবং মনে কিছু পরিবর্ন আসে;
• ইতিবাচক প্রসব ফলাফলের জন্য মানসিক ও শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে;
• গভকালীন সময়ের প্রত্যেকটা মুহুতকে আনন্দদায়ক করার জন্য পরিবারের সকলকে অন্তভূক্ত করার জন্য পরিবারের সদস্যদেরকে কাউন্সেলিং করা;
• নিজের এবং গভস্থ শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য কাউন্সিলিং করা;
• অনাগত শিশুর লিঙ্গ নিয়ে উৎকন্ঠিত না হতে সাহায্য করা এবং বোঝাতে চেষ্টা করা যে ছেলে এবং মেয়ে উভয়ই সমান মূল্যবান;
• তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার সকল প্রশ্নের সঠিক তথ্য দিতে চেষ্টা করা।
২.২ নিয়মিত গভকালীন সেবা (ANC)নেওয়ার জন্য সহায়তা করুন

গভকালীন সেবা প্রথম ভিজিট ৪ মাসের মধ্যে
দ্বিতীয় ভিজিট ৬-৭ মাসের মধ্যে
তৃতীয় ভিজিট ৮ মাসের সময়
চতুথ ভিজিট ৯ মাসের সময়
নোটঃ প্রথম ভিজিটের সময় পরবতী ভিজিট কবে সেটা নিশ্চিত করুন
নিম্নোক্ত বিষয়গুলি নিশ্চিত করুনঃ

• মায়ের গভকালীন সময়ে তার নিজের যত্ন নেওয়ার উপর প্রয়োজনীয় উপদেশ দিন;
• মায়েদের গভকালীন সময়ে এবং বাচ্চা জন্মদানের সময় যে কয়টি বিপদচিহৃ আছে তা জানান (কমপক্ষে পাঁচটি)
• সন্তান প্রসবকালীন প্রস্তুতি (জন্ম/প্রসব পরিকল্পনা) এবং জরুরী মুহুতে করণীয় সম্পকে প্রয়োজনী কাউন্সেলিং করুন;
• প্রসবের বিভিন্ন উপসগ/চিহৃ এবং সম্ভাব্য জটিলতা সম্পকে যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করুন;
• জরুরী প্রয়োজনে (ডেলিভারী বা জটিলতার ব্যবস্থাপনা) স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য যথাযথ যানবাহন ও অথের ব্যবস্থা রাখার জন্য বলুন;
• ডেলিভারীর সময় প্রসব সহকারী (স্কিলড বাথ এটেনডেন্ট) বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দাইয়ের সহায়তা নিতে বলুন

২.৩ নিয়মিত ডেলিভারী পরবতী সেবা (PNC)নেওয়ার জন্য সহায়তা করুন

গভকালীন সেবা
প্রথম ভিজিট প্রসবের ১ সপ্তাহের মধ্যে (৩য় দিনে উত্তম)
দ্বিতীয় ভিজিট প্রসবের ৭-১৪ দিনের মধ্যে
তৃতীয় ভিজিট প্রসবের ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে

নোটঃ সেবা প্রদানকারী ডেলিভারীর পর প্রসব পরবতী সেবা (PNC)এর একটি সিডিউল তৈরি করবেন।

এসময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করুনঃ
• সন্তান প্রসবের পরে মায়েদের নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপদেশ দিতে হবে;
• নবজাতকের অতি প্রয়োজনীয় সেবার জন্য বলতে হবে;
• মায়ের এবং নবজাতকের সকল বিপদচিহৃগুলো সম্পকে সুস্পষ্ট ধারনা দিন;
• সন্তান জন্মদানের পরে শুধুমাত্র বুকের দুধ দেওয়ার উপদেশ দিন
• সন্তান জন্মের পর যথাযথ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নেওয়ার জন্য কাউন্সেলিং করুন।

৩. মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য (Perinatal mental health)
একজন মা গভধারণ করার সাথে সাথে কিছু স্বাস্থ্যগত পরিবতন দেখা যায়, কিছু মানসিক এবং কিছু শারীরিক পরিবতন; নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক উদ্বিগ্নতা এবং চাপ বোধ, বতমান গভের বাচ্চার জন্মদান এবং গভসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার ঘটনা ইত্যাদি। গভবতী মায়েদের শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা নবজাতকের জন্মদানকে আরো ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয়। ফলে অনেক সময় মায়েদের জন্মদান পরবতী মানসিক অসুস্থতা এবং শিশুর সঠিক যত্ন না নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মা গভবতী হতে পারে অথবা একজন গভবতী মায়ের পূবে মানসিক রোগের ইতিহাস থাকতে পারে। আবার যখন কোন মা প্রথমবার গভধারণ করে তখন বিভিন্ন ধরণের মানসিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তাই এসব মানসিক রোগ প্রতিরোধ করতে বা তীব্রতা রোধ করার জন্য প্রাথমিক পযায়েই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। গভকালীন সময়ে এবং সন্তান জন্মদান পরবতী সময়ে মায়েদের বিষন্নতা (depression) এবং উদ্বিগ্নতা (anxiety) হরহামেশাই দেখা যায়। এছাড়া পোস্টপাটাম ব্লু হচ্ছে অন্য একটি সাধারণ মানসিক সমস্যা যেটা বেশীর ভাগ মায়েদের সন্তান জন্মদানের পরপরই দেখা যায়।

৩.১ মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে এমন নিয়ামক সমূহঃ
• অপরিকল্পিত গভধারণ
• বাচ্চার জন্মদান ও নবজাতক সম্পকিত জ্ঞানের অভাব
• পূবে জটিলতা হয়েছিলো এমন প্রসবের ইতিহাস বা অভিজ্ঞতা (মিসক্যারেজ/এবরশন)
• স্বামীদের গভকালীন দায়িত্ব বা ভূমিকা
• গভকালীন সময়ে পরিবারের সদস্যদের সাপোট
• নিদ্দিষ্ট লিঙ্গের সন্তান কামনা
• মায়ের বর্মান মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা (চিকিৎসাসহ বা ছাড়া)
• মায়েদের মানসিক অসুস্থ থাকার ইতিহাস
• সাম্প্রতিক সময়ে কোন দূঘটনা (যেমন, নিকটস্থ কারো মৃত্যু বা পারিবারিক সম্পক বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা)
• বৈবাহিক সম্পক
• পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পক
• শিশুর জন্মদান এবং লালন পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অথের সংকুলান
• প্রথম গভধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিষয়সমূহ-
-মা হওয়ার কারনে নিজের ভূমিকায় কিছু পরিবতন আসা
-পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পকের পরিবতন
-একজন ভালো মা হতে পারার চিন্তা
-গভসংক্রান্ত জটিলতা ও বাচ্চা জন্মদানের ভয় এবং অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে দুঃচিন্তা
-কোন সহায়তা না পাওয়ার ভয় এবং নিজেকে একা মনে করা

৩.২ মায়েদের পেরিনাটাল পিরিয়ডে উদ্বিগ্নতা (Anxiety disorders)
উদ্বিগ্নতা (Anxiety disorders)হচ্ছে কয়েকটি সম্পকযুক্ত অবস্থায় সমন্বয় এবং যাদের প্রত্যেকের স্বতন্ত্র উপসগ আছে। সাধারন উদ্বেগ রোগের মধ্যে আতংকগ্রস্থতা (panic disorder) এবং ভতি প্রবণতা (phobia)বেশী দেখা যায়। প্্যানিক ডিজঅডার হচ্ছে অযৌক্তিক ভয়ে আতংকগ্রস্থ হওয়া। যেমন কোন সংকেত ছাড়া হঠাৎ করে বারবার ভয়ে আতংকিত হওয়া। এর কারনে শরীরে কিছু আকস্কিক উপসগ দেখা যায় যেমন: বুকে ব্যাথা; হাপানী অনুভব হওয়া, মাথা ঘোরা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া পেটে ব্যাথা অনুভব করা ইত্যাদি। ফোবিয়া হচ্ছে নিদ্দিষ্ট কোন স্থান, ঘটনা, এবং পরিস্থিতিকে অধিক পরিমানে অযৌক্তিক ভয়। গভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে উদ্বিগ্নতার নিম্নোক্ত এক বা একাধিক লক্ষণ বা উপসগ তদখা দিতে পারে-
আবেগজনিত উপসগ
আশংকা এবং ভীতির অনুভূতি
উত্তেজনাপূন এবং ভয়ে লাফানোর মতো অনুভূতি
অস্থিরতা অথবা উত্তেজিত অবস্থা
খারাপ কিছু ঘটনা পারে এমন অনুভব করে বিভিন্ন বিপদচিহৃ সম্পকে সতক থাকা
শারীরিক উপসগ ঘনঘন শ্বাস নেওয়া এবং হৃদপিন্ড ধকধক করার মত অনুভূতি
ঘেমে যাওয়া কাঁপুনি হওয়া এবং শরীরে হঠাৎ টান অনুভব করা
মাথা ব্যাথা, ক্লান্তি অনুভব এবং ঘুম না হওয়ার মতো অনুভুতি
পেটে ব্যাথা, ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া অথবা ডায়রিয়া হওয়া

৩.৩ মায়েদের বিষন্নতা রোগ (Depressive disorders)
বিষন্নতা রোগ যা অহরহ বিষন্নতা নামে পরিচিত, তা হচ্ছে দুঃখ অনুভবের চেয়ে একটু বেশী কিছু অথবা একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া। এটি জীবনের খারাপ সময় পার করার জন্য হয়ে থাকে অথবা এমন আরো কিছুর জন্য ঘটে থাকে। কিন্তু এটি বারবারও ঘটতে পারে। বিষন্ন হওয়ার কারনে কেউ যদি দুই সপ্তাহের বেশী সময়ব্যাপী অথবা দিনের পর দিন কারো দৈনন্দিন কাজকম সঠিকভাবে না করতে পারেন, তাহলে সে বিষন্নতা রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
বিষন্নতা রোগের কিছু সাধারণ উপসগঃ
• কোন কাজে আগ্রহ না পাওয়া
• মেজাজ খারাপ অনুভব করা
• ঘুমে পরিবতন আসা
• খাদ্যভাসে পরিবতন আসা
• কোন কাজে মনোযোগ কমে আসা
• কাজে কম শক্তি অনুভব করা
• আশা হারানো অথবা অপরাধ বোধ কাজ করা
• কাজকম এবং চলাফেরা কমে যাওয়া
• শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা এবং ব্যাথা করা
• আত্মহত্যার চিন্তা

৩.৪ জন্মদান পরবতী মেজাজ খিটখিটে রোগ (postpartum mood disorders)
সন্তান জন্মদানের পরপরেই অনেক মা পোস্টপাটাম ব্লু এবং পোস্টপাটাম ডিপ্রেসন (বিষন্নতা) রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। পোস্টপাটাম ব্লু কে বেবী ব্লু (Baby blue) বা ম্যাটারনিটি ব্লু (maternity blue) ও বলা হয়, যা মূলত সন্তান জন্মদানের এক থেকে তিন দিনের মধ্যে সাধারণভাবে হয়ে থাকে। এটাকে অনেকে হরমোনের পরিবতন বলে মনে করেন এবং এটাকে প্রভাবিত করে সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং অনৈতিক বিভিন্ন নিয়ামক।
পোস্টপাটাম ব্লু এর উপসগঃ
• হঠাৎ করে মেজাজ খারাপ হওয়া
• হঠাৎ করে কান্না পাওয়া
• বিরক্ত হওয়া এবং অধৈয্য হওয়া
• ঘুম কম হওয়া
• মাঝে মাঝে কান্না পাওয়া
• বিষন্নতা
• একাকিত্ব অনুভব হওয়া
• দূবল অনুভব হওয়া

পোস্টপাটাম ব্লু এর ক্ষেত্রে সাধারণতঃ ঔষধের প্রয়োজন হয়না, কিছু মানসিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করলে এটি নিবারণ করা যায়। যদি শুরুতেই কারণসহ পোস্টপাটাম ব্লু চিহিৃত করা যায় তাহলে মনো-সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে সম্পূনভাবে দূর করা সম্ভব, নতুবা বিষন্নতা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় যা গভপরবতী বিষন্নতা বা পোস্টপাটাম ডিপ্রেশন নামে পরিচিত।
পোস্টপাটাম ডিপ্রেশন বা বিষন্নতাঃ এটা পোস্টপাটাম ব্লু থেকেও বেশী মারাত্মক এবং দীঘস্থায়ী হতাশা। মায়েদের সন্তান জন্মদানের পরেই হরমোন জনিত সমস্যা, সামাজিক বিষয় ইত্যাদি কারনে পোস্টপাটাম বিষন্নতা রোগ দেখা দেয়। এর উপসগগুলি গভবতী মায়েদের বিষন্নতার মতো অনেকটা। মায়েদের গভকালীন সময়ে বিভিন্ন নিয়ামকের জন্য এই বিষন্নতা রোগ হয়ে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
অধিকমাত্রায় হতাশা এবং কখনো অতিউৎফুল্লতা একই সাথে হতে পারে আবার যেকোন একটার কারণেও হতাশা হতে পারে, এটি একটি জটিল মানসিক অসুস্থতা (bipolar disorder)
পূবে পোস্টপাটাম বিষন্নতা রোগের ইতিহাস
মানসিক চাপ জনিত ঘটনা, যেমন: গভকালীন জটিলতা এবং দীঘস্থায়ী রোগ
সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর কোন স্বাস্থ্য সমস্যা অথবা অন্যান্য বিশেষ কিছুর অভাব
বুকের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে কোন সমস্যা
মাকে যথাযথ সহায়তা প্রদান না করা
পোস্টপাটাম বিষন্নতা রোগের জন্য মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের পরামশ মোতাবেক চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা না নিলে মায়ের সঙ্গে পরিবারের এমনকি সন্তানের মধ্যকার সম্পক ভেঙ্গে পড়ে এবং এর ফলে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বিঘ্নিত হয়।

৩.৫ প্রসব পরবতী সাইকোসিস (Postpartum psychosis)
পোস্টপাটাম বা প্রসব পরবতী সাইকোসিস একটি মারাত্মক ধরণের মানসিক অসুস্থতা, যার ফলে মায়েরা নিজের এবং নিজের সন্তানের প্রতি উদাসিন হয় এমনকি ক্ষতি করার চেষ্টা করে থাকে। পোস্টপাটাম সাইকোসিস প্রসবের এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে হঠাৎ করেই হতে পারে, এমনকি অনেক সময় সন্তান জন্মদানের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেও হতে পারে। এটি একটি জরুরী অবস্থা, যা হলে সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য বিশেষায়িত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে রেফার করতে হবে। পোস্টপাটাম সাইকোসিসের প্রকৃত কারণ এখন্ও জানা যায়নি, তবে নিচের বিষয়গুলো নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে।
• ডেলিভারী হওয়ার পর মায়ের হরমোনের পরিবতন
• পূবে যদি কারো মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস থাকে
• পরিবারের কোন সদস্যের যদি মানসিক রোগের ইতিহাস থাকে
• গভকালীন সময়ে বিষন্নতা রোগ
• যে সমস্ত নারীদের (bipolar disorder থাকে
• প্রথমবার সন্তান জন্মদানকারী

প্রসব পরবতী সাইকোসিস (Postpartum psychosis) হচ্ছে এমন একটি জরুরী চিকিৎসা, যা হলে সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য বিশেষাযিত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে রেফার করতে হবে।

প্রসব পরবতী সাইকোসিস (Postpartum psychosis) এর কিছু সাধারণ উপসগঃ
• অলিক (Hallucinations)কিছু দেখা বা শোনা যা প্রকৃত নয় বা কোন অস্তিত্ব নেই;
• ভ্রান্তি (Delusions), এমন কিছুতে বিশ্বাস করা যার অস্তিত্ব এখন আর নেই;
• অতিমাত্রায় ঝগড়া করা বা উদ্বিগ্ন থাকা
• সন্দেহ বা ভয় অনুভব করা;
• আত্মহত্যা করার চিন্তা করা বা করতে যাওয়া;
• দ্বিধা এবং বিভ্রান্তি;
• নবজাতকের জন্য কম অনুভুতি দেখানো এবং প্রয়োজনীয় যত্ন না নেওয়া
• নিজের সন্তানের ক্ষতি বা হত্যার চিন্তা করা;
• দ্রুত মেজাজ খারাপ হওয়া
• খাওয়া এবং ঘুম না আসা বা অনিচ্ছা প্রকাশ করা;
• মুখের অভিব্যক্তি ফ্যাকাশে দেখানো

Oral Rehydration Therapy (ORT) In Bangladeshখাবার স্যালাইন (ORS)বাংলাদেশে ডায়রিয়া চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন এর ব্যবহার শুর...
14/05/2022

Oral Rehydration Therapy (ORT) In Bangladesh
খাবার স্যালাইন (ORS)

বাংলাদেশে ডায়রিয়া চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন এর ব্যবহার শুরু হয় ১৯৮৩ সাল হতে। আশির দশকের বিভিন্ন গবেষকের গবেষণায় দেখা যায় তৎকালীন সময়ের মায়েদের মধ্যে শিশুর ডায়রিয়া চিকিৎসায় খাবার স্যালাইন এর ব্যবহার বিষয়ে ব্যাপক অজ্ঞতা ছিল এবং তারা খাবার স্যালাইন প্রত্যাখান করেছিলো। যদিও সরকারীভাবে জাতীয় পর্যায় হতে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার চিকিৎসায় খাবার স্যালাইনের ব্যবহার প্রমোট করে যাচ্ছিল। এসময় হতে সরকারীভাবে প্রতিটি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে খাবার স্যালাইন বিতরণের জন্য সরবরাহ করা হয়। প্রতি বছর কয়েক লক্ষ প্যাকেট খাবার স্যালাইন সরকারীভাবে উৎপাদন করা হয়। বাড়ীতে নিরাপদ পানিতে চিনি/গুড় িএবং লবন মিশিয়ে কিভাবে ঘরে তৈরি খাবার স্যালাইন বানাতে এবং ব্যবহার করতে হয় তা শেখানো ছিলো প্রথম সারির সেবাদানকারীদের মূল কাজ।

গবেষকগণ দেখেছিলেন, বেশীরভাগ মা খাবার স্যালাইন কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সে বিষয়ে অজ্ঞ ছিলো। ডায়রিয়া যেটা বাংলাদেশে বরাবরই একটি প্রাদুর্ভাব প্রবন রোগ হওয়ার পরও কিছু মা মনে করতেন এটা কোন অসুস্থতা নয়। বরং এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং প্রত্যাশিত যা নতুন দাঁত ওঠা কিংবা বেড়ে ওঠার সময় ঘটে। কেউ কেউ বিশ্বাস করে ডায়রিয়া থামিয়ে দেয়া একটি বিপৎজনক বিষয় এতে দেহের মধ্যে আটকে থাকা তাপ মাথা দিয়ে বের হয় এবং জ্বর আসে।

অন্যেরা শিশুদের ডায়রিয়াকে প্রচলিত লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী নির্মিত অসুস্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে। যেমন: নজর লাগা (বদ নজর), জ্বীন-ভূতের আছড় লাগা অথবা “সুত লাগা” ----যার কারণে শিশু মায়ের দুধ চুষে খেতে পারে না। তাদের মতে এর চিকিৎসা ঐতিহ্যগত ঔষধ এবং প্রথাগত নিরাময়কারী দ্বারা সম্ভব, ওআরটি ছাড়া। প্রচন্ড পানিশূণ্যতায় তারা শিশুর কপালে এবং মাথার চাঁদিতে বিভিন্ন উপকরণ লাগিয়ে রাখে।

অনেক মা ডায়রিয়াকে “গরম” অসুখ হিসেবে দেখে যার জন্য প্রয়োজন “ঠান্ডা” চিকিৎসা। যেমন: অসুস্থ শিশুকে স্বাভাবিক তাপে আনতে মায়ের খাবারে পরিবর্তন, বিশেষ খাবার গ্রহণ, শিশুকে নির্দিষ্ট খাবার ও ভেষজ সেবন/প্রদান করে থাকে। তারা এ্যালোপেথিক ঔষধকে শ্রেণীবিভাগ করে, যেমন: এন্টিবায়োটিকস এমনকি ভিটামিন হচ্ছে ”গরম” ঔষধ যার ফলে তা ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্য মানানসই নয়। কেউ কেউ এমনকি মনে করে খাবার স্যালাইনের লবন ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

এখন কি এমন মানুষিকতার মা পাওয়া যায় নাকি?

18/11/2020

সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য এবং অসুস্থতা

নৃতত্ত্ব অধ্যয়নের মাষ্টার্স পর্বে চিকিৎসা নৃবিজ্ঞান (মেডিকেল এ্যানথ্রোপলজি) কোর্স পড়ার সময় মনুষ্য সমাজে অসুস্থতা, রোগ তথা স্বাস্থ্য ভবানার সাথে প্রথম পরিচিত হই। পরবর্তীতে সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে কর্মজীবন শুরু করি পাবলিক হেলথ এর একজন প্রশিক্ষক হিসেবে। গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষের মাঝে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ভবনা বিষয়ে সম্যক অবগত হওয়ার সুযোগ হয়। স্বাস্থ্য বিষয়ে আমার পেশাগত জীবনের বাস্তব জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করেছে পাবলিক হেলথ এ (ইপিডেমিওলজি) মাষ্টার্স ডিগ্রি। বিষয়গত জ্ঞান এবং বিগত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে পাবলিক হেলথ এ কাজ করার সুযোগে যে অভিজ্ঞতা ও অর্ন্তদৃষ্টি লাভ করেছি তা জীবনের এ পর্যায়ে এসে লিখে যেতে চাই। যা হয়ত স্বাস্থ্য খাতে কর্মরত পেশাজীবি, স্বাস্থ্যকর্মী, অধ্যয়নরত ছাত্র, গবেষণারত গবেষকদের কিংবা উৎসাহী পাঠকের কাজে লাগতে পারে।

আমার পড়াশোনা যেহেতু নৃবিজ্ঞান এবং পাবলিক হেলথ তাই লেখার বিষয়বস্তু জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আপাত বিবাদমান মনে হতে পারে। নৃবিজ্ঞান মূলত মনুষ্য সমাজ এবং সংস্কৃতি তথা মানুষের সংস্কৃতিজাত আচরণ ও ক্রিয়াকর্ম অধ্যয়ন করে। এরই প্রেক্ষিতে বলা যায় নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি মানে সব ইভেন্টের সাথে সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক ফ্যাক্টরগুলোর যোগসুত্র খুঁজে বের করা। জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে নৃবিজ্ঞান সব সময় হলিষ্টিক এপ্রোচ এ কাজ করে। এজন্য স্বাস্থ্য বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গিও হবে সামগ্রিক। এখানে উল্লেখ্য যে সংস্কৃতিক উপাদানসমূহকে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে প্রকাশ করা কঠিন এজন্য পরিসংখ্যান কিংবা জৈব পরিসংখ্যানের কাছে এ ফ্যাক্টরগুলো তেমন গুরুত্ব পায় না বললেই চলে।
স্বাস্থ্য বিষয়ে আমার ভাবনা অলোচনার শুরুতেই আমি দুটি প্রত্যয়কে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তা হলো, সংস্কৃতি এবং স্বাস্থ্য। এ দুটি বিষয়কে কোন একক সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা সহজ নয়। ( আলাদা একটি অধ্যায়ে তা আলোচনার ইচ্ছে রইল)

আজকে আমি বিভিন্ন রোগের রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মানুষের সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানের যে প্রভাব বা সম্পর্ক রয়েছে তা খুব সংক্ষেপে আলোচনা করব।

রোগের রোগতত্বে সাংস্কৃতিক ক্রিয়ানক (ফ্যাক্টরসমূহ)

যেকোন দেশ অঞ্চল বা সমাজে ঐ সংস্কৃতির ফ্যাক্টরগুলো অসুস্থ স্বাস্থ্যের কারণ, সহায়ক কিংবা প্রতিরোধের সাথে সর্ম্পকযুক্ত। আলোচনার এ অংশে আমি এইসকল সাংস্কৃতিক ফ্যাক্টরগুলো লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করব। এই তালিকা সামগ্রিক কিছু নয়, তবে রোগতত্ত্ববিদ এবং নৃতাত্ত্বিকগণ যে সকল ফ্যাক্টরগুলোকে সাধারণত বিচার বিশ্লেষণ করেন সেগুলোকেই নির্বাচন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ সকল ফ্যাক্টরগুলোর সাথে সর্ম্পকিত কিছু কেস হিস্ট্রি এ অধ্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে।

১। অর্থনৈতিক অবস্থাঃ
এই বিষয়টি সমাজে সম্পদের সুষম বন্টনের সাথে সর্ম্পকিত,
-যেখানে সমাজের অন্যান্য অংশের চেয়ে কোন গ্রুপ দরিদ্র অথবা ধনী।
-খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে আয় যথেষ্ট কিনা;
-সম্পদ, দারিদ্রতা, কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের সাথে সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ;
-সম্পদ অর্জন, ভোগ এবং বন্টনের ক্ষেত্রে কে মৌলিক অর্থনৈতিক একক (ব্যক্তি, পরিবার অথবা বৃহৎ যৌথ);

২। পরিবার কাঠামোঃ
পরিবারের কোন ধরণটি কর্তৃত্বশীল তার সাথে এ বিষয়টি সম্পর্কিত (যেমন: একক পরিবার, বর্ধিত পরিবার, যৌথ পরিবার অথবা এক সদস্য বিশিষ্ট পরিবার);
- পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার , একত্রে থাকার প্রবণতা এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মাত্রা;
- ব্যক্তিক অর্জনের চেয়ে পরিবারিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয় কিনা; এবং
- পরিবারের সদস্যগণ সন্তান লালন পালন, বয়স্কদের খাবার প্রদান ও যত্ন, অসুস্থতা এবং মূত্যু শোকের মতো বিষয়কে ভাগ করে নেয় কি না।

৩। লৈঙ্গিক ভূমিকাঃ
এই বিষয়টি বিভিন্ন লিঙ্গের মধ্যে শ্রম বিভাজনের সাথে সম্পর্কিত, বিশেষতঃ কে কাজ করে, কে ঘরে থাকে, কে খাবার তৈরি করে এবং কে শিশুর যত্ন করে।
-এই দুটি (কোন ক্ষেত্রে ৩ টি)লৈঙ্গিক ভূমিকার সাথে সম্পর্কিত সামাজিক অধিকার, দায়-দায়িত্ব এবং প্রত্যাশা;
-প্রত্যেক লিঙ্গের যথাযথ আচরণের সাংস্কৃতিজাত বিশ্বাস (যেমনঃ পুরুষের ক্ষেত্রে মদ্যপান, ধূমপান এবং প্রতিযোগিতা মূলক আচরণ স্বাভাবিক মনে করা হলেও, নারীদের ক্ষেত্রে নয়);
-প্রত্যেক লিঙ্গের ডাক্তার দেখানোর শারীরিক অথবা মনো সীমা বা প্রবেশযোগ্যতা; এবং
-নারীর জীবন চক্র নিয়ে “মেডিকেলাইজেশন” এর মাত্রা।

৪। বিবাহের ধরণসমূহঃ
এ বিষয়ের অর্ন্তভুক্ত হচ্ছে সমাজে একক বিবাহ, বহু বিবাহ নাকি বহুস্বামী বিবাহ কোনটি প্রচলিত।
-মৃত স্বামীর ভাইকে বিবাহ (লেভিরেট) কিংবা মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহের (সরোরেট) চর্চা আছে কিনা এবং অন্তঃগোত্র বিবাহ (যেখানে কেউ নিজ গোত্র, বংশ, সামাজিক বা ধর্মীয় দল, পরিবার, নিকট রক্তসম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহ করে) অথবা বহিঃগোত্র বিবাহ (যেখানে কাউকে অবশ্যই তার নিজ গোত্র, বংশ কিংবা নিকট আত্মীয়ের বাইরে বিবাহ করতে হয়);
-অন্তঃগোত্র বিবাহের ক্ষেত্রে প্রছন্ন বৈশিষ্ট সম্পন্ন জীন পরবর্তী প্রজম্নে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বংশগত রোগ যেমন, হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া মেজর, সিসটিক ফিব্রোসিস এবং জেনেটিক ডিসঅর্ডার (চে সাকস্) ইত্যাদির হার অনেক বেড়ে যায়।

৫। যৌন আচরণঃ
এই বিষয়ের সাথে যুক্ত আছে সমাজে অবাধ যৌনাচার, বিবাহপূর্ব কিংবা বিবাহ বর্হিভূত যৌন সর্ম্পক চর্চার প্রচলন অথবা নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা।
- এ সমস্ত যৌন মূল্যবোধগুলো পুরুষ, নারী অথবা উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা;
- সমাজের মধ্যে বিশেষ কিছু গ্রুপের মধ্যে (নান/যাজিকা অথবা যৌনকর্মী) বিশেষ কোন যৌন মূল্যবোধ (যৌন কর্ম হতে বিরত থাকা অথবা বাছবিচারহীন যৌনাচার) প্রযোজ্য কিনা;
- সমাজে টাকার বিনিময়ে যৌনকর্ম (পতিতাবৃত্তি) গ্রহণযোগ্য অথবা গ্রহণযোগ্য নয়;
- পুরুষ কিংবা নারীদের সমকামীতা মেনে নেওয়া হয় নাকি নিষিদ্ধ;
- নির্দিষ্ট কোন যৌন চর্চা ( যেমন: পায়ু পথে সঙ্গম) গ্রহণযোগ্য অথবা নয়;
- বাচ্চা জন্মের ছয় মাস পর পর্যন্ত, বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো অবস্থায়, মাসিক র্্তুচক্র চলার সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় যৌনমিলনের উপর কোন ধরণের ট্যাবু আরোপিত আছে কিনা।

৬। জন্মনিয়ন্ত্রণের ধরণসমূহঃ
কোন সমাজে জন্মনিয়ন্ত্রন এবং গর্ভপাতের প্রতি সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে এ বিষটি সম্পর্কিত।

-এই দুটি বিষয়ের উপর আরোপিত ট্যাবুসমূহ পরিবারের আকার নির্ধারণ করে এবং কখনো কখনো মাতৃস্বাস্থ্যের উপর খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
-কিছু জন্মনিয়ন্ত্র পদ্ধতি অথবা গর্ভপাত মাতৃস্বাস্থ্যের জন খুবই বিপদজনক হতে পারে।
-কনডম ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যৌনবাহিত রোগ যেমন; হেপাটাইটিস বি কিংবা এইচআইভ/এইডস ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৭। জনসংখ্যা নীতিঃ
এই বিষয়টি পরিবারের সবচেয়ে পছন্দনীয় আকার (যেমন, চীনের একসন্তান নীতি) এবং শিশুর লিঙ্গ সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের সাথে যুক্ত।
-ভ্রুণ/নবজাতক হত্যা এবং অবৈধ কিংবা স্বেচ্ছায় গর্ভপাত এই বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত;
ব্রাজিলে টেনেটেহারা ইন্ডিয়ানরা এই বিশ্বাস করে যে, একজন নারীর তিনটির বেশী সন্তান থাকা ঠিক নয় এবং সেই সন্তানগুলো কখনই একই লিঙ্গের হবে না। যদি কোন মহিলার দুটি কন্যা সন্তান থাকে এবং পরবর্তীতে আবারও কন্যা সন্তান হয় তাহলে তাকে হত্যা করা হয়। সুদীর্ঘ সময় ধরে এই ধরণের বিশ্বাস ঐ কমিউনিটির আকার ও গঠনের উপর প্রভাব বিস্তার করছে।

৮। গর্ভকালীন এবং সন্তান জন্মদানের চর্চাসমূহঃ
এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বিষয় হচ্ছে গর্ভকালীন সময়ে খাদ্য, পরিধেয় এবং আচরণগত পরিবর্তনসমূহ; সন্তান জন্মদানে ব্যবহৃত কৌশলসমূহ এবং সন্তান জন্মদানে সহযতাকারী ধাত্রীর প্রকৃতি; প্রসবকালীন সময়ে মায়ের আসন/অবস্থান; নাড়ী কাটার ব্যবস্থা/পরিচর্যা (কোন কোন সংস্কৃতিতে নাড়ী শুকানোর জন্য গোবর ব্যবহার করা হয় এজন্য নবজাতকের ধনুস্ট্রংকার এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়); সন্তান জন্মদানের ছয়মাস পর্যন্ত কিছু আচার প্রথা মেনে চলা যেমন নবজাতকসহ মাকে আলাদা রাখা অথবা বিশেষ কোন ট্যাবু; শিশুর জন্য মায়ের দুধ কিংবা কৃত্রিম খাবার (যেমন গুড়ো দুধ) কোনটি পছন্দ করা হয়।

৯। সন্তান লালন পালনের চর্চাসমূহঃ
এই বিষয়টি সন্তান লালন পালনের আবেগজনিত আবহের সাথে সম্পর্কিত যেখানে তা অনুমতিসূচক অথবা কর্তৃত্বপূর্ণ;
-শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক আচরণ উৎসাহিত করা হয় কি না ( যেগুলো শিশুর পরবর্তী জীবনে মানসিক অসুস্থতা, আত্মহত্যা প্রবণতা এবং ’এ’ টাইপ হৃদরোগের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ গড়ে ওঠার জন্য দায়ী)
-সমাজ কর্তৃক শিশুর প্রতি শারীরিক ও আবেগগত অসদাচরণ স্বাভাবিক বলে গণ্য হয় কিনা;
-শিশু জন্মের পর এবং বয়ঃসন্ধিকালে কোন আচার প্রথা পালন করা হয় কিনা (যেমন, খাৎনা কিংবা অঙ্গসজ্জা)

১০। শরীরের ইমেজ পরিবর্তনঃ
এই বিষয়টি শরীরের বহুরুপীকরণ অথবা পরিবর্তনে সাংস্কৃতিক অনুমোদনের সাথে সম্পর্কিত যেমন: পুরুষ কিংবা নারীর খাৎনা, চামড়া কেটে অংকন, ট্যাটু করা, কান/নাক/ঠোঁঠ ফুটানো এবং বিভিন্ন ধরণের কসমেটিক সার্জারি (হতে পারে মুখমন্ডলের ম্যামোপ্লাস্টি অস্ত্রপোচার)। উপরন্তু, নির্দিষ্ট শারীরিক আকৃতির অনুমোদন কিংবা নিরুৎসাহিতকরণে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসমূহ, যেমন: মেদহীন শরীর (স্লিম), লম্বাটে অথবা স্থুলতা; বিশেষ করে মহিলাদের মাঝে।

১১। খাদ্যঃ
কিভাবে খাদ্য প্রস্তুত, মজুত এবং সংরক্ষণ করা হয় তার সাথে এই বিষয়টি সম্পর্কিত।
-খাদ্যদ্রব্য রান্না এবং মজুতের জন্য কোন ধরণের তৈজষপত্র বা বাসন ব্যবহার করা হয়;
-খাদ্যদ্রব্য নিয়মিয় দূষিত হয় কিনা (যেমন: আফলাটক্সিন বা ছত্রাকজনিত দূষণ)
- সমাজে খাদ্যদ্রব্যকে পুষ্টিমান ব্যতিরেকে প্রতীকিভাবে শ্রেণীকরণ করে কিনা (যেমন: খাদ্য এবং অখাদ্য; পরিত্র এবং অপবিত্র খাদ্য; গরম এবং ঠান্ডা খাবার ইত্যাদি)
-আমিষগ্রহণ (বিশেষ করে মাংস) অথবা নিরামিশাষী কোনটি নিয়ম;
-গর্ভাবস্থায়, মাতৃদুগ্ধ দান কালে, মাসিক চলাকালে কিংবা অসুস্থতায় বিশেষ খাবারের প্রচলন আছে কিনা;
-সমাজে খাবার নিয়ে খামখেয়ালীপনা কিংবা ফ্যাশন অতি সাধারণ কিনা; এবং
-অ-পশ্চিমা সমাজে আধুনিকায়নের নামে পশ্চিমা খাদ্যদ্রব্য (উচ্চ লবনযুক্ত, উচ্চ চর্ব্বি এবং পরিশোধিত শর্করা) প্রচলিত আছে কি না।

১২। পোষাক পরিচ্ছদঃ
এ বিষয়টির সাথে যুক্ত আছে নারী এবং পুরুষের কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য কোন ধরণের পোষাক যথাপোযুক্ত সে ব্যাপারে সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাপত্র।
- পোষাক পরিচ্ছদে ফ্যাশন বিদ্যমান আছে কিনা (যেমন: আঁট-সাটো কিংবা ঢিলেঢালা পোষাক; হাইহিল কিংবা সমতল পাটাতনের জুতা)—যেগুলো নির্দিষ্ট কোন রোগ কিংবা আঘাত-দূর্ঘটনার কারণ হতে পারে এবং শরীরের অলংকরণ যেমন: প্রসাধনী, গহনা, সুগন্ধি কিংবা চুল রং করা বিভিন্ন ধরণের চর্ম রোগের কারণ হতে পারে।
- লম্বা পোষাক যার মাধ্যমে দেহের বেশীরভাগ অংশ ঢাকা থাকে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু রোগপ্রবণতা দেখা দিতে পারে; উদাহরণ সরূপ, ইয়েমেনের নারীরা একধরণের লম্বা পোষাক এবং নেকাব পরিধান করে এবং ‘হেরেম’ এর মধ্যে আবদ্ধ জীবন যাপন করে তাদের মধ্যে অস্ট্রিওম্যালাসিয়া, যক্ষা এবং রক্তশূণ্যতা ইত্যাদির হার বেশী। যুক্তরাজ্যে এশীয় নারীদের মধ্যে সূর্যালোকের স্বল্পতার সাথে নিরামিশাষী খাদ্যাভাস, গৃহে আবদ্ধতা এবং দেহের বেশীরভাগ অংশ আবৃত পোষাক ব্যবহারের কারণে অস্ট্রিওম্যালাসিয়া’র হার বেশী।

১৩। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাঃ
এই বিষয়ের সাথে যুক্ত আছে সমাজে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা অবহেলিত নাকি আগ্রহের
-কখন কিংবা নিয়মিত (প্রায়শই) চুল, দাড়ি ধোঁয়া বা কাঁটা হয় কিনা;
-কত বিরতিতে পোশাক পরিচ্ছদ বদল/পরিবর্তন করা হয়;
-নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন ধৌতকরণ এবং বিশুদ্ধকরনের আচার পালন করা হয় কিনা;
-গোসল করার ব্যবস্থা কি ব্যক্তিগত না গণ।

১৪। বাসস্থানের ধরণঃ
বাসস্থানের নির্মাণ, বসা/শোবার ব্যবস্থা এবং ভিতরের ভাগসমূহ এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।
-এই বাসস্থানে একই পরিবার/গোত্রভুক্ত সদস্যরা ব্যবহার করে কিনা;
-প্রতি কক্ষ, বাড়ী অথবা কুঁড়েতে কতজন বসবাস করে (এই বিষয়টি সংক্রামক রোগ বিস্তারকে প্রভাবিত করে; এবং
-বছরের বিভিন্ন র্্তুতে বাসস্থানকে কিভাবে গরম কিংবা ঠান্ডা রাখা হয়।

১৫। পয়ঃনিস্কাশনের ধরণঃ
মনুষ্য সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণের প্রকরণ এই বিষয়ের সাথে যুক্ত।
-কে/কারা বর্জ্য অপসারণ করে;
-তারা কি নিয়মিত ভাবে অপসারিত বর্জ্য মাটি চাপা/প্রক্রিয়াজাত করে কিংবা করে না;
-এই বর্জ্য কি বসতবাড়ী, খাদ্য উৎপাদন স্থলের কাছে , গোসল করার জায়গায় অথবা পানির উৎসের কাছে অপসারণ করা হয় কিনা।

১৬। পেশাসমূহঃ
এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত আছে সমাজে নারী এবং পুরুষ সাদৃশ্যপূর্ণ পেশা অথবা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ পেশায় যুক্ত কিনা।
-সমাজে কোন নিদষ্টি পেশাসমূহ বিশেষ কোন ব্যক্তি, পরিবার বা দলের জন্য সংরক্ষিত থাকে কিনা (যেমন ভারতে ঐতিহ্যগত বর্ণ প্রথা অথবা সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ);
-কিছু সমাজে কোন নির্দিষ্ট পেশা উচ্চ সম্মানিত এবং উচ্চ সম্মানী বিশিষ্ট কিনা (যেমন: পশ্চিমা সমাজে ’এ’ টাইপ নির্বাহী)
-জীবিকার তাগিদে কিছু কৌশলের ব্যবহার যেমন; ঐহিত্যগত পদ্ধতিতে শিকার, মৎস আহরণ, কৃষিকাজ অথবা খনিজ আহরণ যে কাজগুলো আঘাত-দূর্ঘটনা জনিত মৃত্যু, ট্রমা অথবা সংক্রামক রোগ বিস্তারের সাথে সম্পর্কিত, অথবা
-কিছু আধুনিক শিল্প কারখানার পেশাসমূহ যেগুলো কিছু নির্দিষ্ট রোগের সাথে সম্পর্কিত (যেমন; কয়লা খনি শ্রমিকদের মধ্যে নিউমোকোনিওসিস, রং শ্রসিকদের মধ্যে ব্লাডার ক্যান্সার, ধাতু শ্রমিকদের মধ্যে সিলিকোসিস অথবা এ্যসবেসটস শ্রমিকদের মধ্যে মেসোথেলিওমাস ইত্যাদি)

১৭। ধর্মঃ
এর সাথে যুক্ত বিষয় হচ্ছে কোন একটি ধর্ম আসঞ্জনশীল, সাত্বনাদায়ক বিশ্বদৃষ্টি দ্বারা বৈশিষ্টমন্ডিত কিনা।
-এই ধর্মগুলোর ধর্মীয় চর্চা আবশ্যক কিনা যেমন ; উপবাস/রোযা, খাবারের উপর বিভিন্ন ধরণের ট্যাবু, বিসর্জন প্রথা, সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোজ, খাৎনা, নিজেকে আঘাত/রক্তাত্ত করা, আতশবাজী, আগুনের উপর দিয়ে হাটা, অথবা গণ তীর্থযাত্রা (ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কোথাও গমণ), প্রতিটি বিষয়ই রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত।

১৮। মৃহদেহ সৎকারের রীতিঃ
এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বআরোপ করে কিভাবে, কখন এবং কার দ্বারা মৃতদেহের সৎকার করা হয়।
-মৃতদেহ তাড়াতাড়ি কবর দেওয়া অথবা দাহ করা হয় নাকি মানুষকে দেখানোর জন্য কিছৃ সময় প্রদর্শন করা হয় (যেটি সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে সহযোগিতা করতে পারে); এবং
-মৃতদেহ প্রদর্শন, কবর দেওয়া অথবা পোড়ানোর স্থানটি কোথায় এবং এগুলো বসতবাড়ী, খাবার কিংবা পানি সরবরাহের কাছে কিনা।

১৯। সংস্কৃতিজাত বিষন্নতাঃ
কোন সংস্কৃতি‘র মূল্যবোধ, লক্ষ্য, সম্মানের উচ্চক্রম,আদর্শ, ট্যাবুসমূহ, এবং প্রত্যাশাসমূহ সংস্কৃতিজাত বিষন্নতা এবং নসিবো প্রভাব হলো উদ্ভব অথবা প্রকোপ, অথবা স্থায়ীশীল হয়
-সংস্কৃতি কোন বিষয়কে উৎসাহ দেয়, কঠোর কর্মময়তা নাকি দৈনন্দিন জীবনের প্রতি অধিক ভাবলেশহীনতা/আরামপ্রিয়তা; এবং
-একটি প্রজন্ম এবং তার পরবর্তী প্রজন্মের সাথে সামাজিক প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে কিনা।

২০। অভিবাসী অবস্থঃ
এ বিষয়ের সাথে যুক্ত আছে যে অভিবাসন কেমন করে ঘটেছিল, স্বেচ্ছায় (পুল ফ্যাক্টর) নাকি জোড়পূর্বক (পুশ ফ্যাক্টর) যেমন; শরণার্থী অবস্থা।
-অভিবাসীরা আচরণ, ভাষা, এবং পোষাক পরিচ্ছদের দিক দিয়ে নতুন সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে কিনা;
-বাস্তভিটা থেকে উচ্ছেদকৃত এসকল মানুষজন আশ্রয়গ্রহণকারী দেশ/অঞ্চলের স্থানীয়দের দ্বারা কোন হয়রানি, বর্ণবাদী আচরণ এবং শোষণ বঞ্চনার শিকার হচ্ছে কিনা;
-অভিবাসনের পর তাদের পারিবারিক কাঠামো এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি অবিকৃত থাকে কিনা; এবং
-অভিবাসীদের প্রতি আশ্রয় দানকারী দেশ/অঞ্চলের স্থানীয় সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গি কেমন।

২১। র্্তুভিত্তিক ভ্রমণঃ
এর সাথে যুক্ত আছে নিয়মিত, মৌসুমভিত্তিক বৃহৎ অভিবাসনের ধরণসমূহ, যারা ভ্রমনকারী পর্যটক, তীর্থ/ধর্মীয় যাত্রা (যেমন; হজ্ব), যাযাবর সমাজের মানুষ অথবা প্রবাসী শ্রমিক (স্থানীয় ভাবে অভিবাসী শ্রমিকসহ);
-যেখানে যাযাবরগণ সাধারণত সম্প্রদায়ভিত্তিক অভিবাসন করে, পর্যটক কিংবা অভিবাসী শ্রমিকগণ প্রায়শই একক ভাবে অথবা ছোট সামাজিক দলে ভ্রমণ করে থাকে;
-উভয় ক্ষেত্রেই নিজের পরিবার, সমাজ অথবা বাড়ী থেকে দূরে থাকার কারণে অ্যালকোহল বা নেশাদ্রব্য গ্রহণ প্রবণতা, এবং/অথবা যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যেমন; এইচআইভি/এইডস অথবা হেপাটাইটিস বি)

২২। ’রাসায়নিক উপশমকারীর’ ব্যবহারঃ
এই বিষয়টিতে বিশেষভাবে যুক্ত আছে ধুমপান, মদ্যপান, চা-কফি পান, নস্যি/গুল, ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখিত অথবা বাইরে ঔষধ এবং মস্তিকে হ্যালুশিয়েসন এবং মোহগ্রস্থতা সৃষ্টিকারী মাদকদ্রব্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসমূহ।
-শিরায় মাদক গ্রহণের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের উপসংস্কৃতি (সাব-কালচার) তৈরি এবং এই দলের নেশাদ্রব্য, সুই-সিরিঞ্জ ভাগাভাগিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে (বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি এবং এইচআইভি/এইডস)।

২৩। অবসর যাপনঃ
এর সাথে যুক্ত আছে বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা, বিনোদন এবং পর্যটন।
-এই বিষয়গুলি শারীরিক ব্যায়াম এর সাথে সম্পর্কযুক্ত অথবা নয়;
-এই বিষয়গুলো কি প্রতিযোগিতামূলক অথবা নয়; এবং
- এই বিষয়গুলি আঘাত-দূর্ঘটনা অথবা কোন রোগের সাথে সম্পর্কিত কিনা।

২৪। গৃহপালিত পশু পাখিঃ
এর সাথে যুক্ত হচ্ছে গৃহপালিত পশুসম্পদ এবং পোষা প্রাণীর ধরণ ও সংখ্যা।
-এসব পশুপাখিকে বাসার মধ্যে নাকি বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হয়, এবং
-এসব প্রাণীর সাথে কোন ব্যক্তি সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শে আসে কিনা;
-বিভিন্ন ভাইরাস জনিত সংক্রমণ এসব গৃহপালিত প্রাণীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক আছে; যেমন: লিম্ফোরেটিকোলোসিস ( বিড়াল আঁচড় জ্বর) এবং সিটাকোসিস (তোতা জ্বর) এবং বিভিন্ন প্রোটোজোয়া ঘটিত রোগ যেমন; টক্সোপ্লাজমোসিস, যা বিড়ালের মলমূত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।

২৫। স্ব চিকিৎসা কৌশল এবং লে থেরাপীসমূহ (স্বতন্ত্র অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে)

08/05/2020

Address

BMRC Bhaban (1st Floor), Mohakhali
Dhaka
1212

Telephone

01718507368

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Community Health Care Initiatives posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Community Health Care Initiatives:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram