24/03/2026
জ্বর হলে কেউ যদি এই ভুলটি করেন তাহলে হঠাৎ মৃত্যু! কিন্তু কি সেই ভয়ংকর ভুল? যে ভুলটি লোকজন প্রায়ই করে থাকেন-
# যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অকালে মারা পড়েন। এই আকস্মিক বিপদে পড়তে পারেন যে কেউ।
তাই আজকের প্রতিবেদনে সেই নির্মম রহস্যটি উন্মোচন করা হবে। আসুন, এক গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমরা ঠিক পৌঁছে যাব সত্যের উপান্তে। সত্য তথা সম্যক জ্ঞান-ই আমাদেরকে দিতে পারে অটল সুরক্ষা।
এই প্রতিবেদনে ৬টি অধ্যায় আছে, যেমন
(১) প্রাথমিক ধারণা:
(২) ভাইরাসের উপকারিতা:
(৩) জ্বর কেন হয়?
(৪) জ্বর বেশি হলে মানুষের কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?
(৫) জ্বর হলে মানুষ মারা যেতে পারেন, কিন্তু কেন? কি সেই ভুল?
(৬) মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে জ্বর নিরাময়ের বিশেষ পদ্ধতি: পুনরায় জ্বর ফিরে আসবে না-
এই ৬টি অধ্যায় একে অন্যের সাথে একই যোগসূত্রে গ্রথিত। অতএব যদি সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি আপনি পড়তে পারেন, তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা গুপ্ত রহস্য জেনে আপনি যেমন বিস্মিত হবেন তেমনই উপকৃত হবেন। চলুন, শুরু করা যাক।
(১) প্রাথমিক ধারণা:
সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন হলে আমাদের শরীরে জ্বর হয়। কিন্তু আপামর জনগণ একটি ধারণা পোষণ করেন যে- জ্বর হল খারাপ রোগ। কিন্তু বাস্তবে জ্বর কোনো রোগ-ই নয়, বরং রোগ থেকে মুক্তির মহৌষধ। জ্বর এক অনন্য উষ্ণতা, যে দহন করে দেহের রোগ-জীবাণুকে।
আমাদের শরীরে কোনো দুষ্ট ভাইরাস অনুপ্রবেশ করলে, তাকেই বলে ভাইরাল ইনফেকশন। এই ভাইরাল ইনফেকশন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ ভাইরাস ছড়িয়ে আছে পরিবেশে যত্রতত্র তথা সর্বত্র- যেমন জলে, স্থলে, ভূতলে, বায়ুমণ্ডলে। তাই যেকোন সময়ে ভাইরাস অনুপ্রবেশ করতে পারে যেকোন প্রাণীর দেহে। সেই প্রাণীটি হতে পারে কীট-পতঙ্গ, পশু, পাখি, মৎস্যাদি বা মনুষ্য।
ভাইরাস হলো একটা অণুজীব বা ক্ষুদ্র জীবাণু। জীবজগতে ভাইরাসের মোট সংখ্যা হয়তো অসংখ্য। তবুও বিজ্ঞানীদের মতে আনুমানিক সংখ্যাটা হলো ১×১০^৩১ (almost ten nonillion). আসলে আমাদের চারপাশে এত বিপুল ভাইরাস ছড়িয়ে আছে যে, আমরা যেন ভাইরাসের সমুদ্রে ডুবে আছি, কিন্তু আমরা সুস্থ ও জীবিত- আসলে এটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়, বরং চিরন্তন সত্য। কারণ, জীবাণুরা আদৌ মারাত্মক নয়, অর্থাৎ তারা কখনোই মানুষকে বা কোন প্রাণীকে মেরে ফেলে না। পরন্তু, জাগতিক জীবনচক্রে জীবাণুদের চিরন্তন উপস্থিতি যেন এক অপরিহার্য সত্তা।
(২) ভাইরাসের উপকারিতা:
ভাইরাস বা জীবাণু হল জীবদেহের এক নিত্য সহচর, জীবজগতের পরম বন্ধু। জৈবিক বাস্তুতন্ত্রে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা জীবনের অস্তিত্ব ও ভারসাম্য রক্ষার্থে সহায়ক। যেমন,
নবজাতক শিশুটি জন্মের শুভলগ্ন হতে অসংখ্য জীবাণুর সহিত গভীরভাবে সম্পৃক্ত ও অভিযোজিত।
এক প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন, এবং ৩৮০ ট্রিলিয়ন ভাইরাস। (১ ট্রিলিয়ন= ১০০০০০০০০০০০০ কোটি)।
অর্থাৎ মানবদেহের অবকাঠামো জুড়ে বা তার জৈবিক অস্তিত্বের মূলে আছে জীবাণু।
মানবদেহের এই জীবাণু সমূহকে বলা হয় "হিউম্যান মাইক্রোবায়োম" বা "হিউম্যান ভাইরোম" (Human Microbiome/ Human Virome). এরা আমাদের শরীরের জৈবিক কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করে। যেমন
এক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পেটের মধ্যে প্রায় ১.৫ কেজি জীবাণু উপস্থিত থাকে, এরা যেমন খাদ্য হজমে বা কঠিন গ্লুকোজ সংশ্লেষণে সাহায্য করে, তেমনই আমাদের স্নায়ুসূত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আদান প্রদান করে।
মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী এই জীবাণুরা (Gut Microbiota) মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখে। এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে "মাইক্রোবায়োটা-অন্ত্র-মস্তিষ্ক অক্ষ" (Microbiota-Gut-Brain Axis) বলা হয়।
এটি দ্বিমুখী (Bidirectional) যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক অন্ত্রকে প্রভাবিত করে, এবং অন্ত্রের জীবাণুগুলিও মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ জীবাণুর সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত আমাদের শরীর, স্নায়ু ও চেতনা।
বিশেষজ্ঞরা এপর্যন্ত ১৬০০০ প্রজাতির ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। এদের মধ্যে মাত্র ২১৯ প্রকার ভাইরাস দুষ্টুমি করে বেড়ায়। এই ভাইরাস গুলোই আমাদের শরীরে অনুপ্রবেশ করলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
জ্বর, শরীরে বেদনা, শারীরিক দুর্বলতা, সর্দি, কাশি বা স্থানীয় উপসর্গ। কিন্তু এটি কোনো রোগব্যাধি নয়। এই ভাইরাসগুলো আদৌ ভয়ানক নয়, মারাত্মকও নয়। বরং মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করলেও এই জীবাণুরা সাধারণত মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে মারা পড়ে।
(৩) মানবদেহে কিভাবে সৃষ্টি হয় জ্বর?
মানবদেহের গড় তাপমাত্রা ৯৮°- ৯৯° ফারেনহাইট। যদি এই তাপমাত্রা কমপক্ষে ১০১° ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়, তবে জ্বর বলে গণ্য করা হয়।
যখন আমাদের শরীরে কোনো জীবাণু যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যাথোজেন অনুপ্রবেশ করে, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, এবং জীবাণু গুলোকে শনাক্ত করে ফেলে ইমিউন কোষ- যেমন ম্যাক্রোফেজ (Macrophages) ও ডেনড্রাইটিক কোষ (Dendritic cells)। এরপর তারা নিঃসরণ করে সাইটোকাইন (Cytokine IL-1, IL-6), এই সাইটোকাইন উচ্চ উষ্ণতার সংকেত বহন করে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পৌঁছে যায় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে (Hypothalamus). হাইপোথ্যালামাস আমাদের শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। হাইপোথ্যালামাস তখন থার্মোরেগুলেটরি সেট পয়েন্টকে (Thermoregulatory set point) বাড়িয়ে দেয় ১০৩°, ১০৪° ফারেনহাইটে। যা কিনা শারীরিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এক সংকেত বা নির্দেশ।
তখন প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একযোগে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রয়াস করে। বিশেষত
* কঙ্কাল পেশীর সংকোচন- কম্পন Shivering..
* ত্বকের রক্তনালীর সংকোচন- Vasoconstriction..
* লিভারের উচ্চ বিপাকক্রিয়া- Hypermetabolism..
এই কারণে শরীরে তাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলত তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ১০৩°, ১০৪° ফারেনহাইটে; সাধারণত এটাই হলো জ্বর, যার মূল উদ্দেশ্য জীবাণুকে নষ্ট করা।
(ভাইরাল ইনফেকশন ছাড়াও প্রায় ১৮ প্রকারের জ্বর হতে পারে- এই প্রসঙ্গে আলোচনা করা হবে পরবর্তী এক প্রতিবেদনে)
# সংক্রমণকারী ভাইরাস বা জীবাণু মারা পড়ে কিভাবে?
আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংক্রমণকারী ভাইরাস বেঁচে থাকে এবং বংশ বৃদ্ধি করে। কিন্তু মানবশরীর জ্বরের মাধ্যমে প্রায় ৩° থেকে ৬° ফারেনহাইট তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তখন এই উচ্চতাপ সহ্য করতে না পেরে ভাইরাসগুলো মারা পড়ে। অতঃপর আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠেন। অতএব, জ্বর মানে রোগ নয়, বরং আরোগ্যকারী উষ্ণতা।
এখন একটি প্রশ্ন-
* জ্বরের উচ্চতাপে যদি অনুপ্রবেশকারী ক্ষতিকারক ভাইরাসগুলি মারা পড়ে, তাহলে শরীরের মধ্যে উপস্থিত থাকা কোটি কোটি উপকারী ভাইরাস গুলোও মারা যেতে পারে?
এর উত্তর হল-
i) আমাদের শরীরে যে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসগুলো থাকে, তারা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের শরীরে সহ-অবস্থান করে বিবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ তারা আমাদের শরীরের তাপমাত্রার তারতম্যের সাথে পরিচিত ও অভিযোজিত। তারা বহু বছর ধরে জ্বরের সঙ্গে উচ্চতাপের পরিপ্রেক্ষিতে সহনশীলতা অর্জন করেছে।
ii) জ্বরের তাপে সংক্রমণকারী ভাইরাসের প্রোটিন নষ্ট হয়, কিন্তু আমাদের শরীরে অবস্থিত উপকারী ভাইরাস বা ব্যাকটেরিওফাজ গুলোর প্রোটিন কাঠামো খানিকটা মজবুত যা জ্বরের উচ্চতাপেও অক্ষত থাকে।
iii) মানুষের অন্ত্রে বা পেটের মধ্যে থাকা উপকারী অনুজীবগুলো নিঃসরণ করে এক ধরনের আঠালো তরল EPS (Extracellular Polymeric Substances). আঠালো EPS দ্বারা জীবাণু-কলোনির চারপাশে গড়ে ওঠে যে প্রতিরক্ষামূলক আবরণ Biofilm, সেটি তাপ প্রতিরোধ করে।
মোটামুটি এই তিনটি উপায়ে আমাদের শরীরের উপকারী জীবাণুরা তীব্র জ্বরের সময়েও সুরক্ষিত থাকে। তবে হ্যাঁ, কিছু সংখ্যক উপকারী অনুজীব ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মারা যেতে পারে। কিন্তু জ্বর সেরে যাওয়ার পরে তারা খুব দ্রুত পুনরুৎপাদন বা বংশবিস্তার করে ফেলে।
(৪) জ্বর বেশি হলে মানুষের কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?
না, আদৌ নয়। কারণ, জ্বরের সময় শরীরে উচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিক বলে পরিগণিত হয়, তার পূর্বে হাইপোথ্যালামাস যেহেতু থার্মোরেগুলেটরি সেট পয়েন্ট বাড়িয়ে রাখে প্রায় ১০৪°-১০৫° ফারেনহাইট সীমানায়, অর্থাৎ ওই পরিস্থিতিতে উচ্চ তাপমাত্রাও শরীরের পক্ষে সহনশীল।
বস্তুতপক্ষে মানবশরীর কোনো নির্বোধ যন্ত্র নয়- কেবল অস্থি, চর্ম, মাংস দ্বারা সুসজ্জিত কাঠামো নয়। বরং সে এক বুদ্ধিদীপ্ত সত্তা। মানবশরীরে যত কিছু ক্রিয়া কলাপ ঘটে তা স্বতঃনিয়ন্ত্রিত ও সদর্থক, যা কিনা আমাদেরকে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা প্রদান করে।
জ্বর খুব বেড়ে গেলে শরীরে ক্ষণস্থায়ী কিছু কষ্ট হতে পারে। কিন্তু এই সামান্য কষ্ট আসলে রোগীকে আসন্ন তীব্রতর কষ্টের হাত থেকে মুক্তি দেয়, অর্থাৎ রোগী নিরাপদে আরোগ্য লাভ করেন।
কিন্তু এখানে একটা গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে। যেহেতু পূর্বে থেকেই আমাদের ধারণা ও বিশ্বাস হল যে- জ্বর একটা খারাপ রোগ, কষ্টদায়ক। মনের এইরকমই ভ্রান্ত ও ভীতিজনক ধারণা থেকে শরীরে বেশি কষ্ট অনুভূত হয়।
এমতাবস্থায় জ্বর হলো শরীরের একটি সদর্থক উপসর্গ বা প্রতিরক্ষা মূলক প্রতিক্রিয়া। অথচ চিকিৎসা কারবারিরা জ্বরকে রোগ বলে গণ্য করে এবং জ্বর নিবৃত্ত করার নিমিত্তে মেডিসিন তথা কেমিক্যাল পদার্থ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি বাস্তবে মেডিকেল-সাইন্সের অন্তর্গত নাকি এটি কেবল মেডিকেল-ইন্ডাস্ট্রির ছলনা?
আসলে চিকিৎসা-ব্যবসায়ীদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো- সুস্থ মানুষকে রোগী বানানো, মেডিসিন বিক্রি করা- এই কৌশলটি হল Disease Mongering. এভাবেই মেডিসিন ও মেডিকেল পণ্য বিক্রির বাজারকে বৃহত্তর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কেবল অর্থের লালসা থেকে জন্ম নিয়েছে যে চিকিৎসা-ব্যবস্থা, তার দ্বারা কখনো রোগীর কল্যাণ হতে পারে কি?
জ্বর কোনো রোগ না হওয়া সত্ত্বেও রোগ হিসাবে ট্রিট করা হয়। একই ভাইরাল ইনফেকশন, কিন্তু তার হরেক রকম শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে, যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, কালাজ্বর ইত্যাদি। এটি হলো রোগের বাণিজ্যিক শ্রেণীবিভাগ। হয়তো ভিন্ন রূপের ভাইরাস আমাদের শরীরে সংক্রমণ করতে পারে, কিন্তু তাদের চরিত্র একই। সবই এক ধরনের সংক্রমণ, যাকে বলা হয় Flu বা I.L.I- influenza-like illness, আবার বহুল প্রচলিত নামটি হল ভাইরাল ইনফেকশন।
তাই ম্যালেরিয়া হোক, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া অথবা যেকোন ভাইরাল ইনফেকশন হোক না কেন; প্রতিটি ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায়- যেমন জ্বর, গায়ে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, তৎসহ কফ কাশি সর্দি হাঁচি থাকতে পারে, এছাড়া স্থানীয় উপসর্গ। যা সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যেই সেরে যায়, এতে কারোর মৃত্যু হয় না। মৃত্যুর কোন প্রশ্নই নেই।
তাহলে, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যান কিভাবে? আপনি যদি এর উত্তর জানতে চান, তবে চলুন পরবর্তী অধ্যায়ে-
(৫) জ্বর হলে মানুষ মারা যেতে পারেন, কিন্তু কেন? কি সেই ভুল?
জ্বরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় অনেক মেডিসিন। কিন্তু বাস্তবে যা হলো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল্স। যেমন
Antipyretics, Analgesics (Paracetamol, Naproxen, Ibuprofen). Antihistamines (Cetirizine, Fexofenadine, Desloratadine). Cough Syrups, Decongestants (Dextromethorphan, Guaifenesin, Oxymetazoline). Antiviral drugs, Antibiotics.. ইত্যাদি। প্রায় ১৫-২০ প্রকারের কেমিক্যাল পদার্থ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়, যা কিনা রোগীকে খাওয়ানো হয় এবং ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সরাসরি রোগীর রক্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এগুলোর মারাত্মক সাইড এফেক্ট আছে। যার ফলে রোগীকে গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। যেমন-
শরীরের অভ্যন্তরে অস্বাভাবিক তাপ হ্রাস- Hypothermia. আমরা জানি যে, বেঁচে থাকার জন্যে প্রতিটি প্রাণীর দেহে বা তার রক্তে ন্যূনতম উষ্ণতা বজায় থাকা জরুরী। আসলে এই তাপশক্তি হলো শরীরের প্রাণশক্তির মূল প্রেরণা। এমতাবস্থায় যদি মেডিসিন তথা ক্যামিকেল পদার্থ ব্যবহার করে জ্বর কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে
* রোগীর শরীরের Thermal system বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি ভেঙ্গে পড়ে, জীবনদায়ী তাপমাত্রার স্তর নিচে নেমে যায়। যাকে বলা হয় Hypothermia. এটি প্রাণহানিকর পরিস্থিতি বা হঠাৎ Cardiac arrest জনিত মৃত্যু হতে পারে।
অন্যদিকে, জ্বরের সময়ে ভাইরাসকে মারতে, শরীরের ব্যথা কমাতে এবং অন্যান্য উপসর্গ দূর করতে ব্যবহৃত মেডিসিনের সাইড এফেক্টের ফলে রোগীকে মারাত্মক বিপদে পড়তে হয়, যেমন
* লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
* অন্ত্রে ও পাকস্থলীতে ঘা বা আলসার সৃষ্টি হয়, রক্তপাত ঘটে।
* ইমিউন সিস্টেম ভেঙ্গে পড়ে, রক্তের হিমোগ্লোবিন নষ্ট হয়।
* ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষীণ হয়ে আসে। তখন শরীরের কোষগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না- একে বলে Hypoxia.
* অতঃপর রোগীর বুকে নেমে আসে অন্য এক ব্যাধি- Pneumonia.
* স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়- মূর্ছা যাওয়া বা খিঁচুনি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
* হৃদপিণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে Arrhythmia বা Electrocution এর মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
এভাবে রোগী মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়েন- একে বলা হয় Iatrogenic Deaths. অর্থাৎ রোগব্যাধির ফলে রোগীর মৃত্যু নয়, কেবলমাত্র চিকিৎসা জনিত কারণেই মৃত্যু। যেমন-
জ্বর বা ভাইরাল ইনফেকশন নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ মারা যান। আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার এবং ভারতে প্রায় ২ লক্ষ। এই মৃত্যুচক্র আবর্তন করে বছরের পর বছর, ফলত কোটি কোটি মানুষ অকালে হারিয়ে যান- রোগে নয় বরং আধুনিক চিকিৎসার প্রকোপে-
বন্ধু, এই নির্মম সত্যটিকে অনুভব করলে হয়তো আপনার হৃদয় হয়ে উঠবে বিদ্রোহী অথবা বিষণ্ণ।
অথচ মেডিকেল কারবারিরা নিজেদের দোষ ঢাকতে বলে যে, "এই মৃত্যুর কারণ হলো ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, নিউমোনিয়া এবং অজানা জ্বর কিংবা কোনো ভাইরাল ইনফেকশন"। এমনই অসত্য বা বিকৃত বিবৃতি পরিবেশন করা হয় চিকিৎসা বিদ্যার পরিভাষায়। যার ফলে আপামর জনগণ মেডিকেল-কারবারীদের প্রতিটি ছলনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন।
অন্যদিকে ফার্মাকোম্পানির প্রযোজিত প্রতিটি মেডিকেল এজেন্ডার সাথে যুক্ত সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রক, WHO, CDC, ICMR ও বড় বড় স্বাস্থ্য সংস্থা কেবলমাত্র অর্থের লালসায়। এই স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো কখনোই জনস্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না, বরং ফার্মা-কোম্পানির অনুচর হিসেবে কাজ করে।
বন্ধু একবার ভাবুন তো- জ্বরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মানুষের এভাবে মৃত্যুর আসল কারণ কি? কোনো জীবাণু নাকি অন্য কিছু?
আজ এই জিজ্ঞাসাটি জেগে উঠুক সবার চিন্তনে। কারণ একটি যৌক্তিক জিজ্ঞাসাই জন্ম দিতে পারে সম্যক সচেতনতা। যে সচেতনতা এনে দেয় ভ্রান্তি থেকে মুক্তি কিংবা বিপত্তি থেকে নিরাপত্তা।
* প্রতিটি নবজাতক শিশু জন্মের শুভলগ্ন হতে অসংখ্য জীবাণুর সহিত গভীরভাবে সম্পৃক্ত ও অভিযোজিত। এমনকি, এক পূর্ণাঙ্গ মানবদেহ প্রায ৪২০ ট্রিলিয়ন জীবাণুকে ধারণ করে সুস্থ থাকে এবং জীবনের আয়ুষ্কাল পূর্ণ করে।
* আসলে, এই জগতে একটিও প্রাণহানিকর ভাইরাস বা জীবাণু নেই। বরং জীবনের বাস্তুতন্ত্রে জীবাণু এক অপরিহার্য অস্তিত্ব।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ভাইরাসের সংক্রমণে যদি মানুষের মৃত্যু না হয় তাহলে কোভিড, স্প্যানিশ ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, HIV aids এর মতো মহামারী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? এবং তাতে কোটি কোটি মানুষ কিভাবে মারা গিয়েছিলেন? বন্ধু, এর পিছনেও আছে বীভৎস রহস্য! সেই রহস্যের ব্যাখ্যা করা হবে পরবর্তী পর্বে।
তাহলে, জ্বর হলে আমাদের কি করা উচিত? এর প্রকৃত সমাধান কি?
হ্যাঁ বন্ধু, একটি কার্যকর সরল সমাধান আছে-
মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে জ্বর নিরাময়ের বিশেষ পদ্ধতি: পুনরায় জ্বর ফিরে আসবে না: আদা ও গরম জল ব্যবহার করেই এটা সম্ভবপর। এছাড়া আরও ২টি সরল উপায় আছে। সেই প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ইতিপূর্বে প্রকাশিত অন্য এক প্রতিবেদনে, যে নির্দিষ্ট প্রতিবেদনটি পোস্টের তালিকা থেকে বেছে এখনই আপনি পড়তে পারেন।
পরিশেষে আমরা একটি সতর্কতামূলক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে-
শারীরিক সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সর্বদা কেমিক্যালপ্যাথি থেকে দূরে থাকতেই হবে। আজও প্রচলিত আছে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি; যেমন আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, ন্যাচারোপ্যাথি ইত্যাদি।
Medical Disclaimer:
এই প্রতিবেদনে প্রদত্ত তথ্য কেবলমাত্র শিক্ষামূলক ধারণা, কিন্তু এটি কোন চিকিৎসার বিকল্প নয়। অতএব সর্বদা আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।