Cure Pharma

Cure Pharma কখনো মিথ্যা কথা বলো না। সদা সত্য কথা বলিবে।

কাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা উচিত?মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِي...
07/04/2026

কাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা উচিত?
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ ربهم بِالْغَدَاةِ وَ الْعَشِىِّ يُرِيْدُوْنَ وَجْهَه.

অর্থ মুবারক: আপনি নিজেকে ঐ সকল ব্যক্তি উনাদের ছোহবত বা সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল-সন্ধ্যায় উনাদের রব তা’য়ালা উনাকে ডাকেন, উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য। (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ-২৮)

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবূ জুহাইফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অভিজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করো, আলিমদের সাথে মুহব্বত রাখো এবং বৃদ্ধদের সাথে উঠাবসা করো। (কানযুল উম্মাল, হাকীম)

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নবী ও রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি ওহী মুবারক করেছিলেন যে, “হে আমার সম্মানিত নবী ও রসূল আলাইহিস সালাম! কয়েক প্রকার লোকের ছোহবত ইখতিয়ার করলে কয়েক প্রকার তাছীর পয়দা হয়ে থাকে। যেমন-

১. হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত পয়দা হয় এবং দুনিয়া বা গাইরুল্লাহর মুহব্বত দূর হয়।

২. যাহিরী আলিমদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে ইলিম অর্জন হয় কিন্তু হাক্বীক্বতে পৌঁছা যায় না। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মা’রিফত মুবারক হাসিল করা সম্ভব হয় না।

৩. হাকীম বা অভিজ্ঞদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে প্রত্যেক বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা পাওয়া যায়।

৪. বৃদ্ধদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং দুনিয়াবী অভিজ্ঞতা পয়দা হয়।

৫. রাজা-বাদশাহদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে অহংকার পয়দা হয়।

৬. আমীর-উমরাহদের ছোহবত ইখতিয়ার করলে দুনিয়ার প্রতি আসক্তি পয়দা হয়।

The Simplest Media

প্রশ্নঃ পহেলা বৈশাখ পালন করা কেন হারাম ??উত্তরঃ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পর মদীনা শরীফ গিয়ে ঐ ...
06/04/2026

প্রশ্নঃ পহেলা বৈশাখ পালন করা কেন হারাম ??
উত্তরঃ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের পর মদীনা শরীফ গিয়ে ঐ এলাকাবাসীর দুটি উৎসব বন্ধ করেছিলেন। একটি হচ্ছে, বছরের প্রথম দিন উদযাপন বা নওরোজ; অন্যটির নাম ছিলো ‘মিহিরজান’। এ উৎসবের দুটির বিপরীতে চালু হয় মুসলমানদের দুই ঈদ। (তাফসিরসমূহ দেখতে পারেন) মূলত: নওরোজ বা বছরের প্রথম দিন পালন করার রীতি ইসলামে নেই, এটা পার্সী মজুসীদের (অগ্নিউপাসক) অনুকরণ। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে: “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের দলভুক্ত।” তাই যে কোন নওরোজ সেটা থার্টি ফাস্ট নাইট হোক, পহেলা নববর্ষ হোক কিংবা পহেলা মুহররম হোক, বিজাতীয় রীতি হিসেবে প্রতেকটি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে

(১) ইমাম ফখরুদ্দীন উসমান বিন আলী আয যাইলায়ী বলেন: * “নওরোজ ও মেলার নামে কিছু দেয়া নাজায়েয। এ দুই দিনের নামে প্রদত্ত হাদিয়া হারাম; বরঞ্চ কুফর”। (গ্রন্থ – তাবইনুল হাকায়েক : ৬/২২৮)

(২) ইমাম হাফস কবীর রহমতুল্লাহি বলেন:
*(ক) “নওরোজ বা বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে, তবে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলে তা বরবাদ হয়ে যাবে”
*(খ) “যে ব্যক্তি নওরোজের দিন এমন কিছু খরিদ করল যা সে পূর্বে খরিদ করত না, এর মাধ্যমে সে যদি ঐ দিনকে সম্মান করতে চায় তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে।”
(৩) হাম্বলি মাযহাবের ফিকাহর গ্রন্থ ‘আল- ইকনা’ তে বলা হয়েছে- “কাফিরদের উৎসবে যোগদান করা, সেই দিন উপলক্ষে বেচা- বিক্রি করা ও উপহার বিনিময় করা হারাম”।

নববর্ষ উদযাপন করে আমরা যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছি, তারা প্রকৃতপক্ষে আমাদের শত্রু। তারা কখনো আমাদের বন্ধু হবে না, যাবত আমরা আমাদের দীন ত্যাগ করে তাদের ধর্মের অনুসরণ না করি। তারা আমাদের দীন ও নবীকে নিয়ে উপহাস করে।ইরশাদ :হচ্ছে ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭﺍْ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﭐﺗَّﺨَﺬُﻭﺍْ ﺩِﻳﻨَﻜُﻢۡ ﻫُﺰُﻭٗﺍ ﻭَﻟَﻌِﺒٗﺎ ﻣِّﻦَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃُﻭﺗُﻮﺍْ ﭐﻟۡﻜِﺘَٰﺐَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻜُﻢۡ ﻭَﭐﻟۡﻜُﻔَّﺎﺭَ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺎٓﺀَۚ ﻭَﭐﺗَّﻘُﻮﺍْ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢ ﻣُّﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ٥٧﴾ ] ﺍﻟﻤﺎﺉ ﺩﺓ : ٧ ]

অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যারা তোমাদের দীনকে উপহাস ও খেল- তামাশারূপে গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে ও কাফিরদেরকে। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক”।

অন্যত্র ঘোষণা দিচ্ছেন, যে তাদের দিকে ধাবিত হবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। ইরশাদ হচ্ছে : ﴿ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺨِﺬُﻭﺍْ ﭐﻟۡﻴَﻬُﻮﺩَ ﻭَﭐﻟﻨَّﺼَٰﺮَﻯٰٓ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺎٓﺀَۘ ﺑَﻌۡﻀُﻬُﻢۡ ﺃَﻭۡﻟِﻴَﺎٓﺀُ ﺑَﻌۡﺾٖۚ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَﻮَﻟَّﻬُﻢ ﻣِّﻨﻜُﻢۡ ﻓَﺈِﻧَّﻪُۥ ﻣِﻨۡﻬُﻢۡۗ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳَﻬۡﺪِﻱ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡَ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ٥١﴾ ] ﺍﻟﻤﺎﺋﺪﺓ : ٥١ ]
অর্থ: হে মুমিনগণ, ইহুদি ও নাসারাদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ জালিম কওমকে হিদায়াত দেন না”

অতএব তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া, তাদের সমর্থন জানানো কিংবা কোন ধরণের সহায়তা করা নিজের দীনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। উপরক্ত দলিল দেখলে এটা সহজেই বুঝা সম্ভব, থার্টি ফাস্ট নাইট, পহেলা নববর্ষ, পহেলা মুহররম শুধু পালন করা হারাম নয়, বরং ঐ দিবস উপলক্ষে কাউকে শুভেচ্ছা জানানো, কিংবা ঐ দিবস গুলো উপলক্ষে কোন অফার দিলে সেটা গ্রহণ করা, ঐ দিবস উপলক্ষে কেনাবেচা করা, খাদ্য গ্রহণ করা হারাম ও ক্ষেত্র বিশেষে কুফরী।

পহেলা বৈশাখ অনেকেরই বিভিন্ন প্রকার ধর্মীয় পূজা উৎসব রয়েছে।
যেমন,
১) হিন্দুদের ঘটপূজা
২) হিন্দুদের গণেশ পূজা
৩) হিন্দুদের সিদ্ধেশ্বরী পূজা
৪) হিন্দুদের ঘোড়ামেলা
৫) হিন্দুদের চৈত্রসংক্রান্তি পূজা-অর্চনা
৬) হিন্দুদের চড়ক বা নীল পূজা বা শিবের উপাসনা ও সংশ্লিষ্ট মেলা
৭) হিন্দুদের গম্ভীরা পূজা
৮) হিন্দুদের কুমীরের পূজা
৯) হিন্দুদের অগ্নিনৃত্য
১০) ত্রিপুরাদের বৈশুখ
১১) মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব
১২) চাকমাদের বিজু উৎসব
(ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজাউৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি)
১৩) হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা
১৪) মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ
১৫) হিন্দুদের বউমেলা
১৬) হিন্দুদের মঙ্গলযাত্রা
১৭) হিন্দুদের সূর্যপূজা

এখন যেসকল মুসলমান নামধারীরা পহেলা বৈশাখ পালন করে তাদের কাছে প্রশ্ন এখানেতো সব বির্ধমী দের পুজা মুসলমানদের জন্য কিছু আছে কি ?

যদি মুসলমান থাকতে চান তবে এখনি পহেলা বৈশাখ পালন থেকে বিরত থাকুন…….

(কালেক্টেড)

06/04/2026

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পরিচিতি ও মর্যাদা মুবারক



মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পরিচিতি ও মর্যাদা মুবারক
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষের হিদায়েতের জন্য যেভাবে যুগে যুগে হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেন ঠিক তেমনি সর্বশেষ নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বিছাল শরীফ গ্রহণের পর উনার স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি হিসেবে শতাব্দী কালের ব্যবধানে যে সকল আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদেরকে প্রেরণ করেন উনাদেরকে বলা হয় মুজাদ্দিদ। সাধনা-কোশেশ করে যেরূপ নবী ও রসূল হওয়া যায় না তদ্রƒপ মুজাদ্দিদ হওয়াও যায়না। অর্থাৎ নবী, রসূল ও মুজাদ্দিদ হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার একান্ত ইচ্ছা ও মনোনয়ন। তিনি যাকে ইচ্ছা কেবল তাকেই উক্ত নিয়ামত ও মর্যাদা মুবারক হাদিয়া করেন। এক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ফায়ছালা মুবারকই যথেষ্ট ও চূড়ান্ত।

হযরত মুজাদ্দিদ আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আগমনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান পঞ্চদশ শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ হলেন মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اللهُ اَعْلَمُ حَيْثُ يَـجْعَلُ رِ‌سَالَتَهُ ۗ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি সমধিক জ্ঞাত তিনি উনার রিসালাত মুবারক কোথায় বা কাকে দিবেন। ” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৪)

অর্থাৎ রিসালাত, নুবুওওয়াত ও মুজাদ্দিদিয়াত এ নিয়ামতসমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতেই ফায়সালা বা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فِيْمَا اَعْلَمُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَاِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْعَثُ لِـهٰذِهِ الْاُمَّةِ عَلـٰى رَأْسِ كُلّ ماِئَةِ سَنَةٍ مَنْ يـُّجَدّدُ لـَهَا دِيْنَهَا.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সর্বাধিক অবগত যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক জাল্লা শানুহূ তিনি প্রতি একশ বছরের মাথায় এ উম্মতের হিদায়েতের জন্য দ্বীন ইসলাম উনার তাজদীদকারী ওলীআল্লাহ অর্থাৎ মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন। ”(আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)

স্মরণীয় যে, যিনি যামানার মুজাদ্দিদ হন তিনি উনার যামানার কেন্দ্রীয় ও সার্বিকভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল হয়ে থাকেন। সহজ ভাষায় যামানার যিনি মুজাদ্দিদ তিনি উনার যামানার শ্রেষ্ঠতম ওলীআল্লাহ। হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে যামানার মুজাদ্দিদগণ উনারাই হতেন উক্ত নিয়ামত মুবারকের সমধিক হক্বদার। বিশেষ করে সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি কেবল যামানার মুজাদ্দিদই নন; বরং তিনি হচ্ছেন মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম। বিষয়টি এমন যেমন সমস্ত ফক্বীহ ও ইমাম উনাদের মধ্যে ইমামকুল শিরমণি হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অবস্থান তেমনি সমস্ত মুজাদ্দিদ উনাদের মধ্যে মুজাদ্দিদকুল শিরমণি হলেন হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অধিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, তিনি আগত-অনাগত সমস্ত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং সমস্ত হযরত মুজাদ্দিদীনে কিরাম উনাদের জামি’। অপরদিকে তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ও নূরানী বংশধর তথা আওলাদ আলাইহিস সালাম।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ হওয়ার বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে খাছভাবে মনোনীত। এটা এমন এক সম্মানিত বিষয়; যাকে সম্মান করা সমস্ত সৃষ্টির জন্য ফরয-ওয়াজিব। কেননা এ সম্মান কুল মাখলুক্বাতের নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قُل لَّا اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرً‌ا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْ‌بٰـى ۗ

অর্থ: হে আমার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। (বস্তুতঃ উম্মতের পক্ষে প্রতিদান দেয়াও সম্ভব নয় তাই প্রতিদান চাওয়ারও প্রশ্ন উঠেনা। আর উম্মতের জন্য যেহেতু নাজাত ও কামিয়াবী লাভের বিষয় রয়েছে) কাজেই তারা যেনো আমার ঘনিষ্টজন অর্থাৎ আহলু বাইত শরীফ ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত ও সম্মান করে। (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

احبوا اهل بيتى لـحبى

অর্থ :“আমার মুহব্বত হাছিল করার জন্য আমার আহলু বাইত শরীফ বা আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো। ”(তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, আমার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়। উক্ত কিশতীতে যারা আরোহন করেছিলেন শুধুমাত্র উনারাই পরিত্রাণ পেয়েছিলেন। আর যারা কিশতীতে আরোহন করেনি তারা ধবংস হয়ে গেছে। তদ্রƒপ হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে যারা মুহব্বত ও সম্মান করবে কেবল তারাই পরকালে নাজাত ও কামিয়াবী লাভ করবেন আর যারা উনাদের বিরোধিতা করবে তারা পরকালে কঠিন আযাব-গযবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাই বিশ্ববরেণ্য আলিম রঈসুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাসসিরীন, ফখরুল ফুক্বাহা, বাহরুল উলম, কুতুবুল আলম হযরত মাওলানা আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপুরী (পীর ছাহিব ক্বিবলা যাত্রাবাড়ী) রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার প্রধান খলীফা মুজাদ্দিদে আ’যম আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে বলেন, যে ব্যক্তি উনার বিরোধিতা করবে, উনার সাথে বেয়াদবী করবে তার ঈমান নষ্ট হয়ে বেঈমান অবস্থায় মারা যাওয়া ছাড়া কোন পথ নেই। নাঊযুবিল্লাহ!

সাধারণভাবেই মহান আল্লাহ পাক উনার যারা সত্যিকার ওলী উনাদের যারা বিরোধিতাকারী তাদের বিরুদ্ধে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি জিহাদ ঘোষণা করেন। যেমন হাদীছ-এ কুদসী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

من عاد لى وليا فقد اذنته بالـحرب

অর্থ :“যে ব্যক্তি আমার কোন ওলী উনার সাথে শত্রুতা পোষণ করে তার বিরুদ্ধে আমি জিহাদ ঘোষণা করি। ”(বুখারী শরীফ)

সাধারণ ওলীআল্লাহ উনাদের সাথে শত্রুতা বা বিরোধিতা করলে যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সাথে জিহাদ ঘোষণা করেন তাহলে সুলত্বানুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুল আউলিয়া এবং লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ উনাদের বিরোধিতা করলে পরিণাম ফল কত কঠিন হবে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।

হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী-সম্মান অপরিসীম। সাধারণ মানুষের চিন্তা ভাবনার অনেক উর্র্ধ্বে। কেননা পবিত্র হাদীছ-এ কুদসী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان اوليائى تـحت قبائى لايعرفهم غيرى الا اوليائى

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমার ওলীগণ আমার কুদরতি জুব্বা মুবারক উনার নীচে অবস্থান করেন। আমি এবং আমার ওলীগণ ব্যতিত উনাদেরকে কেউই চিনেনা। ”(রাহাতুল মুহিব্বীন)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের হাক্বীক্বী মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই সম্যকরূপে অবগত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদেরকে উনাদের সম্পর্কে অবহিত করান তিনি ততটুকুই জানেন। এছাড়া অন্য সকলেই উনাদের মযার্দা-মর্তবা সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে বেখবর, অনবহিত থাকে।

যার কারণে সাধারণের বোধগম্যের জন্য উনাদের মর্যাদা-মর্তবা অনুযায়ী উনাদের লক্বব বা উপাধি মুবারক প্রকাশ করা হয়; তবে লক্বব মুবারকের দ্বারাই যে উনাদের চূড়ান্ত বা যথার্থ মাক্বাম বা মর্যাদা বুঝা বা অনুধাবন করা যাবে তা নয়; বরং সুন্নত মুবারক হিসেবে লক্বব মুবারক উনার ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। যার কারণে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার অগণিত লক্বব মুবারকসমূহের মধ্যে সামান্য সংখ্যক লক্বব মুবারক এখানে উল্লেখ করা হলো।

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সুলত্বানুল আওলিয়া, মাখযানুল মা’রিফাহ, খযীনাতুর রহমাহ, মুঈনুল মিল্লাহ, লিসানুল উম্মাহ, তাজুল মুফাসসিরীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল মুজতাহিদীন, মুহইস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, ছাহিবুল ইলহাম, রসূলে নুমা, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, সুলত্বানুল ‘আরিফীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বীন, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত, কুতুবুল ‘আলম, আল গওছুল আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইয়্যুল আউওয়াল, ইমামুল আইম্মাহ, ইমামুশ শরী‘য়াহ ওয়াত তরীক্বাহ, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামি‘উল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাইশী ওয়াল হানাফী ওয়াল ক্বাদিরী ওয়াল চীশতী ওয়ান নকশবন্দী ওয়াল মুজাদ্দিদী ওয়াল মুহম্মদী ওয়াল উম্মিয়্যী রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

উল্লেখ্য, লক্বব মুবারকের ক্ষেত্রে গওছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড় পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বওল শরীফ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি গউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে যামান, কতুবুল আলম, সুলত্বানুল আরিফীন সম্পর্কে জনৈক প্রশ্নকারীর উত্তরে তাকে বলেছিলেন, হে ব্যক্তি! তুমি কি আমার সম্পর্কে আর কিছুই শোননি বা জাননা? তুমি যা শুনেছো বা জেনেছো তার চেয়ে বহু উর্ধ্বে আমার মাক্বাম বা মর্যাদা। সুবহানাল্লাহ!

ঠিক যামানার মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই।

তারপরও সাধারণের উপলব্ধির জন্য বলতে হয় যে, বর্তমান যামানায় আসমানের নীচে যমীনের উপরে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিলায়েতের উজ্জ্বল রশ্নি মুবারক মাশরিক থেকে মাগরিব, শিমাল থেকে জুনূব পর্যন্ত বিস্তৃত। যমীনে, মরুভূমিতে, পর্বতের গুহায়, জঙ্গলে, শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে যত কুতুব, আবদাল, আওতাদ, নাজীব-নুজাবা, নাকীব-নুকাবা রয়েছেন সকলেই উনার উসীলায় ফয়েজপ্রাপ্ত।

তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নায়িব বা স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যমীনে দ্বীনি খিদমতের আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে উনার দামান মুবারক স্পর্শ করা এবং উনার তরীক্বায় দাখিল হওয়া সৌভাগ্যের কারণ। কেননা তিনি হচ্ছেন বর্তমান শতাব্দীর লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল এবং মুজাদ্দিদ আ’যম আলাইহিস সালাম। শত্রু-মিত্র নির্বিশেষ সকলেই উনার বিলায়েতের ছত্রছায়ায় বসবাস করছে। এমনকি তাদের খাদ্য পানিয় উনারই উছীলাতেই মিলছে। এটা কেউ বিশ্বাস করুক অথবা নাই করুক তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকে খোশখবরী প্রাপ্ত। শুধু তাই নয়, উনার বিলায়েত মুবারক এবং উনার খিলাফত মুবারকও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই হাল যামানায় উনার থেকে বিমুখ হওয়া এবং উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার অর্থই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার গযবে ও লা’নতে পতিত হওয়ার কারণ এবং ঈমান বরবাদী হওয়ার লক্ষণ।

কারো যদি অন্তর চক্ষু খোলা থাকে তবে সে যেনো দেখে নেয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দরবারে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কত মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে।

উনার সম্পর্কে এই অধমের কিঞ্চিত জানার সুযোগ হয়েছে তাই উনার সম্পর্কে আমি সঠিক আক্বীদা পোষণ করি এবং উনার প্রতি বিশুদ্ধ ও খালিছ মুহব্বত রাখি, উনার বহু ওয়াজ মাহফিলে আমি অংশগ্রহণ করেছি। নিকটে ও দূরে থেকে উনাকে দেখেছি এমনকি উনার সুন্নতি মসজিদে এবং খানকা শরীফে উনার মুরিদানদের মজলিসেও অংশগ্রহণ করেছি। উনার প্রতিটি মজলিস আমার কাছে মনে হয়েছে রহমতে খাছ ও রূহানী ফায়েজে ভরপুর। উনার ইলমি বয়ান ও হাক্বীক্বতের বর্ণনা মুবারক শ্রবণ করে কখনো কখনো আমার অন্তরে উদয় হয়েছে, সম্ভবত আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা বুঝি এভাবেই বয়ান মুবারক করতেন। উনার বেমেছাল বুযুর্গী ও সুন্নত মুবারক উনার দৃঢ় পাবন্দী প্রমাণ করে যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে এ যামানার উম্মতের প্রতি রহমত স্বরূপ। উনার পবিত্র দর্শন মুবারক ও ছোহবত মুবারক মানুষের জন্য কিমিয়া সদৃশ। কাজেই হাল যামানার সকলের জন্য দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে গিয়ে স্বীয় অস্তিত্ব বিলীন করে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার তরীক্বায় দাখিল হয়ে স্বীয় পরকাল ও আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করা উচিত।

কেন চুপ থাকা শ্রেয়? হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামেদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ...অনিষ্টের বিবেচনায় কথা মোট ৪প্র...
05/04/2026

কেন চুপ থাকা শ্রেয়?

হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামেদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ...অনিষ্টের বিবেচনায় কথা মোট ৪প্রকার—
১. এমন কথা, যার মধ্যে কেবল অকল্যাণ ও ক্ষতিই নিহত
২. এমন কথা, যা সর্ব বিবেচনায় মানুষের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী
৩. এমন কথা, যার মধ্যে উপকার ও অপকার উভয়ই নিহিত
৪. এমন কথা, যার মধ্যে কোনো ক্ষতিও নাই, উপকারও নাই।

প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে চুপ থাকা আবশ্যক।
তৃতীয় প্রকারের মধ্যে যদি উপকারের তুলনায় ক্ষতি বেশি হয়, তবে এক্ষেত্রেও নীরব থাকতে হবে।
চতুর্থ প্রকার কথা কেবল অকারণে সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই না।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কথার সমষ্টির কেবল এক চতুর্থাংশ বলার যোগ্য, আর তিন চতুর্থাংশই বর্জনীয়।

আবার, দ্বিতীয় প্রকারে যা বলার যোগ্য, তাতেও পদে পদে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। কেনোনা, সে কথা বলার ক্ষেত্রেও মানুষ অবচেতন মনে এমন কিছু গর্হিত উপসর্গ এসে তার সাথে যুক্ত হয় যে, অনেক সময় মানুষ তার উপস্থিতি টেরও পায় না। যেমন, রিয়া, গীবত, শেকায়েত, পরণীন্দা, আত্মপ্রীতি ইত্যাদি বিষয় সমূহ অতি সূক্ষ্মভাবেই মানুষ ভালো কথার সাথে মিশে তা মন্দ ও গর্হিত কথায় পরিণত করতে পারে। সুতরাং, কথা বলার অর্থই যেনো বিপদ নিয়ে খেলা করা।

— জবানের ক্ষতি, হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

03/04/2026

🌙 কুরআনের বাণী, জীবনের দিশা 🌙
📖
بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ۝ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
বাংলা অর্থ: “বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও,
অথচ আখিরাতই উত্তম এবং স্থায়ী।” — (সূরা আল-আ'লা: ১৬–১৭)।।

✨ গভীরভাবে উপলব্ধির বিষয়:
আমরা দুনিয়ার স্বল্প সময়ের সুখ, আরাম, টাকা-পয়সা ও আনন্দকে কত বেশি গুরুত্ব দিই!
অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন—
👉 আখিরাতের জীবনই আসল জীবন
👉 দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী
👉 দুনিয়ার মোহে পড়ে কখনোই আখিরাতকে ভুলে যাওয়া যাবে না!!

🤲 দোয়া:
আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে হিদায়েত দান করুন। ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারাম ইত্যাদি পার্থক্য বোঝার তাওফিক দিন এবং আমাদের সবাইকে নেক আমলে মশগুল থাকার সৌভাগ্য দান করুন। আমিন। 🤍
#কুরআনের_বাণী #আখিরাত #হিদায়েত

01/04/2026

নারীকে তর্কে মানায় না, নারীকে হতে হবে শান্ত স্বভাবের ও বিনয়ী!

নারীর সৌন্দর্য শুধু তার মুখমণ্ডলে নয়, বরং তার আচরণ, কথাবার্তা ও ব্যবহারে ফুটে ওঠে। একজন নারী যত বেশি শান্ত, ধৈর্যশীল ও বিনয়ী হন, তত বেশি তিনি শ্রদ্ধার যোগ্য হয়ে ওঠেন। সমাজে পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র-সব জায়গায় একজন নারীর নম্রতা ও সংযম তার প্রকৃত শক্তি হিসেবে কাজ করে। অথচ আজকাল অনেক নারী "স্বাধীনতা" আর "আত্মপ্রকাশ" এর নামে অহেতুক তর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা সম্পর্ক ও মর্যাদা-দুটোই নষ্ট করে ফেলে।

নারী ও তর্ক: সম্পর্কের ভারসাম্য হারায় বাব

তর্ক স্বাভাবিকভাবে উত্তেজনা বাড়ায়। বিশেষ করে দাম্পত্য বা পারিবারিক সম্পর্কে নারী যদি অহেতুক তর্কে জড়িয়ে পড়েন, তা সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২২ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, ৬৭% স্বামী বলেন তাঁদের স্ত্রীর অতিরিক্ত তর্ক ও আবেগপ্রবণতা পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে। তর্কের সময় নারী সাধারণত আবেগের বশে কথা বলেন, আর পুরুষরা যুক্তি দিয়ে উত্তর দিতে চান। এই দুই মনস্তাত্ত্বিক পার্থক্যই সংঘাত সৃষ্টি করে।

মনোবিজ্ঞানী ড. শবনম ফেরদৌস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ) তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, "যেসব নারী ধৈর্য ধরে, নম্রভাবে নিজের মত প্রকাশ করেন, তাদের সংসার জীবনের সুখ ও মানসিক স্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি।"

শান্ত ও বিনয়ী নারীর শক্তি

বিনয় কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি এক ধরনের মহত্ত্ব। শান্ত স্বভাবের নারী শুধু পরিবারের নয়, সমাজেরও স্থিতির প্রতীক।

বাংলাদেশ গার্হস্থ্য জীবন গবেষণা কেন্দ্র (২০২১)-এর এক রিপোর্টে দেখা যায়,

"যেসব নারী সংযত ও বিনয়ী আচরণ করেন, তাঁদের পরিবারে মানসিক চাপ ৪৫% কম থাকে, আর সন্তানরাও বেশি ভারসাম্যপূর্ণভাবে বড় হয়।"

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও শান্ত স্বভাবের নারীকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে। ইসলামে বলা হয়েছে-"সবচেয়ে উত্তম নারী সে, যে তার স্বামীর প্রতি বিনয়ী ও শ্রদ্ধাশীল থাকে।" (তিরমিজি শরীফ)

বিনয় নারীর সৌন্দর্যের মূলে

একজন নারী যত বেশি জেদি ও তর্কপ্রবণ হন, তত দ্রুত তাঁর সামাজিক ও মানসিক সৌন্দর্য ক্ষয় হয়। অপরদিকে, বিনয়ী নারী চারপাশে এমন এক প্রশান্তি তৈরি করেন যা কথায় প্রকাশ করা যায় না। মনোবিজ্ঞানী ড. তানভীর আহমেদ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) এক গবেষণায় বলেন,

"নরম স্বরে কথা বলা, শ্রবণশীল মনোভাব ও সহমর্মিতা-এই তিনটি গুণের মাধ্যমে নারী সহজেই অন্যের মন জয় করতে পারেন।"

অর্থাৎ, বিনয় ও শান্ত স্বভাব নারীকে দুর্বল নয়, বরং পরিপূর্ণ ও প্রভাবশালী করে তোলে।* তর্কে জয়ী হয়ে কেউ শ্রদ্ধা পায় না, কিন্তু বিনয়ে সবাই মুগ্ধ হয়। নারী যদি শান্ত স্বভাব ও বিনয় বজায় রাখেন, তবে সংসার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্র-সব জায়গায় তিনি আলোকিত হয়ে উঠবেন।

আজকের দিনে নারীর স্বাধীনতা মানে উত্তেজিত হওয়া নয়, বরং নিজের মানসিক স্থিরতা ধরে রাখা। কারণ, শান্ত নারীই সবচেয়ে শক্তিশালী নারী।

তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, "গার্হস্থ্য সম্পর্ক ও পারিবারিক শান্তি", প্রতিবেদন ২০২২।

ড. শবনম ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, "নারীর মনস্তত্ত্ব ও পারিবারিক স্থিতি", ২০২১।

বাংলাদেশ গার্হস্থ্য জীবন গবেষণা কেন্দ্র, "সংযমী নারীর পারিবারিক প্রভাব", বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩।

ড. তানভীর আহমেদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, "নারীর আচরণ ও মানসিক স্থিরতা", গবেষণা জার্নাল, ২০২২।

হাদিস: তিরমিজি শরীফ, অধ্যায় ১১৫, নারী সম্পর্কিত হাদিস।

29/03/2026

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:

عَنْ حَضْرَتْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ اِنْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهٗ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهٖ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهٗ.

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: মানুষ যখন ইন্তিকাল করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ব্যতীত। যথা:

১. ছদক্বায়ে জারিয়া,
২. ফায়দাদানকারী ইলিম,
৩. নেক সন্তান, যিনি কবরবাসী পিতা-মাতার জন্য দোয়া করেন। সুবহানাল্লাহ!

(সূত্র: সহিহ মুসলিম/৯৫৫)।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি।হযর...
25/03/2026

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি।

হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, পবিত্র খন্দকের জিহাদের দিনে আমরা কাতারবন্দী হয়ে বসেছিলাম। আমাদের শত্রু পবিত্র মক্কা শরীফ উনার কাফির-মুশরিকগং তাদের দল-বলসহ একদিকে ছিলো, বিপরীত দিকে ছিলো পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বনী কুরায়জা গোত্রের ইহুদীগং। তাদের দ্বারা আমাদের আহাল-পরিজনের আক্রান্ত হবার প্রবল আশঙ্কা ছিলো। আর সে রাতের মত এমন রাতও আমি কখনো দেখিনি। ভীষণ অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিলো সে রাত। ক্ষণে ক্ষণে বাতাসের ঝাপটা আসছিলো প্রবল বেগে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো এবং বজ্র গর্জন হচ্ছিলো। এমন অন্ধকার যে নিজের আঙ্গুলটি পর্যন্ত লোকজন দেখতে পারছিলো না। নিজ নিজ ঘর-বাড়ী অরক্ষিত থাকার ছুতা-নাতায় মুনাফিকরা সটকে পড়েছিলো।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘুরে ঘুরে পর্যায়ক্রমে আমাদের একেকজনের দিকে তাশরীফ মুবারক নিচ্ছিলেন। আমাদের সংখ্যা ছিলো প্রায় তিন শতের মত। তিনি একসময় আমার পাশ অতিক্রম করছিলেন। এসময় আমার কাছে একটি ঢাল পর্যন্ত ছিলো না। আমার শরীরে একটি চাদর বৈ কিছুই ছিলো না। সেটি দিয়ে আমার আপাদমস্তক ঢাকাও যাচ্ছিলো না। আমি হাটু গুটিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসেছিলাম।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে এখানে? আমি খিদমত মুবারকে আমার পরিচয় পেশ করলাম এবং অত্যন্ত তাযীম-তাকরীমের সাথে দাড়িয়ে গেলাম। তিনি বললেন “কাফির-মুশরিকদের সংবাদ নিতে হবে। তারা কি শলা-পরামর্শ করছে তাও জেনে আসতে হবে।”

হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, সবার মধ্যে আমি একমাত্র নিজেকেই অত্যন্ত দুর্বল মনে করতাম। এছাড়া সে রাতে ছিলো প্রচ- শীত যা রীতিমত অসহনীয়। এরপরও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারকের সাথে সাথেই আমি রওয়ানা দিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই বলে আমার জন্য দোয়া মুবারক করলেন, “আয় আল্লাহ পাক! ডান-বাম, সম্মুখ-পশ্চাত, উপর-নিচ সর্বদিক হতেই আপনি হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হিফাযত করুন।” শুধু এতটুকুই! এতেই আমার ভয়-ভীতি, শীত-জড়তা সব কিছু যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেলো। সে সবের লেশমাত্রও যেন আমার মধ্যে কখনো ছিলো না। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতে গোয়েন্দা কৌশল অবলম্বন করা উপরোক্ত ঘটনা থেকেও প্রমাণিত হয়। এছাড়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ মুবারক বিনা চু-চেরা, কিল-কালে মেনে নিতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের অন্তরে যে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না- তারই ঈমানদীপ্ত অনন্য প্রমাণ মুবারক রাখলেন হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি যথাযথভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী মুশরিক বাহিনীর মধ্যে ঢুকে গোয়েন্দা সেজে সকল খবরা-খবর সংগ্রহ করেছিলেন; যদিও বাহ্যিক দৃষ্টি থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি ঊনার প্রতিকূলে ছিলো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরিসীম মুহব্বত এবং ঊনার আনুগত্যের প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকার ঈমানদীপ্ত মনোভাবের কারণেই সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই উনার জন্য অনুকূল হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!

24/03/2026

জ্বর হলে কেউ যদি এই ভুলটি করেন তাহলে হঠাৎ মৃত্যু! কিন্তু কি সেই ভয়ংকর ভুল? যে ভুলটি লোকজন প্রায়ই করে থাকেন-
# যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অকালে মারা পড়েন। এই আকস্মিক বিপদে পড়তে পারেন যে কেউ।

তাই আজকের প্রতিবেদনে সেই নির্মম রহস্যটি উন্মোচন করা হবে। আসুন, এক গভীর অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমরা ঠিক পৌঁছে যাব সত্যের উপান্তে। সত্য তথা সম্যক জ্ঞান-ই আমাদেরকে দিতে পারে অটল সুরক্ষা।

এই প্রতিবেদনে ৬টি অধ্যায় আছে, যেমন
(১) প্রাথমিক ধারণা:
(২) ভাইরাসের উপকারিতা:
(৩) জ্বর কেন হয়?
(৪) জ্বর বেশি হলে মানুষের কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?
(৫) জ্বর হলে মানুষ মারা যেতে পারেন, কিন্তু কেন? কি সেই ভুল?
(৬) মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে জ্বর নিরাময়ের বিশেষ পদ্ধতি: পুনরায় জ্বর ফিরে আসবে না-

এই ৬টি অধ্যায় একে অন্যের সাথে একই যোগসূত্রে গ্রথিত। অতএব যদি সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি আপনি পড়তে পারেন, তাহলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা গুপ্ত রহস্য জেনে আপনি যেমন বিস্মিত হবেন তেমনই উপকৃত হবেন। চলুন, শুরু করা যাক।

(১) প্রাথমিক ধারণা:

সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন হলে আমাদের শরীরে জ্বর হয়। কিন্তু আপামর জনগণ একটি ধারণা পোষণ করেন যে- জ্বর হল খারাপ রোগ। কিন্তু বাস্তবে জ্বর কোনো রোগ-ই নয়, বরং রোগ থেকে মুক্তির মহৌষধ। জ্বর এক অনন্য উষ্ণতা, যে দহন করে দেহের রোগ-জীবাণুকে।

আমাদের শরীরে কোনো দুষ্ট ভাইরাস অনুপ্রবেশ করলে, তাকেই বলে ভাইরাল ইনফেকশন। এই ভাইরাল ইনফেকশন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ ভাইরাস ছড়িয়ে আছে পরিবেশে যত্রতত্র তথা সর্বত্র- যেমন জলে, স্থলে, ভূতলে, বায়ুমণ্ডলে। তাই যেকোন সময়ে ভাইরাস অনুপ্রবেশ করতে পারে যেকোন প্রাণীর দেহে। সেই প্রাণীটি হতে পারে কীট-পতঙ্গ, পশু, পাখি, মৎস্যাদি বা মনুষ্য।

ভাইরাস হলো একটা অণুজীব বা ক্ষুদ্র জীবাণু। জীবজগতে ভাইরাসের মোট সংখ্যা হয়তো অসংখ্য। তবুও বিজ্ঞানীদের মতে আনুমানিক সংখ্যাটা হলো ১×১০^৩১ (almost ten nonillion). আসলে আমাদের চারপাশে এত বিপুল ভাইরাস ছড়িয়ে আছে যে, আমরা যেন ভাইরাসের সমুদ্রে ডুবে আছি, কিন্তু আমরা সুস্থ ও জীবিত- আসলে এটি মোটেও আশ্চর্যজনক নয়, বরং চিরন্তন সত্য। কারণ, জীবাণুরা আদৌ মারাত্মক নয়, অর্থাৎ তারা কখনোই মানুষকে বা কোন প্রাণীকে মেরে ফেলে না। পরন্তু, জাগতিক জীবনচক্রে জীবাণুদের চিরন্তন উপস্থিতি যেন এক অপরিহার্য সত্তা।

(২) ভাইরাসের উপকারিতা:

ভাইরাস বা জীবাণু হল জীবদেহের এক নিত্য সহচর, জীবজগতের পরম বন্ধু। জৈবিক বাস্তুতন্ত্রে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা জীবনের অস্তিত্ব ও ভারসাম্য রক্ষার্থে সহায়ক। যেমন,
নবজাতক শিশুটি জন্মের শুভলগ্ন হতে অসংখ্য জীবাণুর সহিত গভীরভাবে সম্পৃক্ত ও অভিযোজিত।
এক প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন, এবং ৩৮০ ট্রিলিয়ন ভাইরাস। (১ ট্রিলিয়ন= ১০০০০০০০০০০০০ কোটি)।
অর্থাৎ মানবদেহের অবকাঠামো জুড়ে বা তার জৈবিক অস্তিত্বের মূলে আছে জীবাণু।

মানবদেহের এই জীবাণু সমূহকে বলা হয় "হিউম্যান মাইক্রোবায়োম" বা "হিউম্যান ভাইরোম" (Human Microbiome/ Human Virome). এরা আমাদের শরীরের জৈবিক কার্যকলাপ ত্বরান্বিত করে। যেমন

এক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পেটের মধ্যে প্রায় ১.৫ কেজি জীবাণু উপস্থিত থাকে, এরা যেমন খাদ্য হজমে বা কঠিন গ্লুকোজ সংশ্লেষণে সাহায্য করে, তেমনই আমাদের স্নায়ুসূত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আদান প্রদান করে।
মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী এই জীবাণুরা (Gut Microbiota) মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখে। এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে "মাইক্রোবায়োটা-অন্ত্র-মস্তিষ্ক অক্ষ" (Microbiota-Gut-Brain Axis) বলা হয়।
এটি দ্বিমুখী (Bidirectional) যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মস্তিষ্ক অন্ত্রকে প্রভাবিত করে, এবং অন্ত্রের জীবাণুগুলিও মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ জীবাণুর সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত আমাদের শরীর, স্নায়ু ও চেতনা।

বিশেষজ্ঞরা এপর্যন্ত ১৬০০০ প্রজাতির ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। এদের মধ্যে মাত্র ২১৯ প্রকার ভাইরাস দুষ্টুমি করে বেড়ায়। এই ভাইরাস গুলোই আমাদের শরীরে অনুপ্রবেশ করলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
জ্বর, শরীরে বেদনা, শারীরিক দুর্বলতা, সর্দি, কাশি বা স্থানীয় উপসর্গ। কিন্তু এটি কোনো রোগব্যাধি নয়। এই ভাইরাসগুলো আদৌ ভয়ানক নয়, মারাত্মকও নয়। বরং মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করলেও এই জীবাণুরা সাধারণত মাত্র ২-৩ দিনের মধ্যে মারা পড়ে।

(৩) মানবদেহে কিভাবে সৃষ্টি হয় জ্বর?

মানবদেহের গড় তাপমাত্রা ৯৮°- ৯৯° ফারেনহাইট। যদি এই তাপমাত্রা কমপক্ষে ১০১° ফারেনহাইটে পৌঁছে যায়, তবে জ্বর বলে গণ্য করা হয়।

যখন আমাদের শরীরে কোনো জীবাণু যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যাথোজেন অনুপ্রবেশ করে, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, এবং জীবাণু গুলোকে শনাক্ত করে ফেলে ইমিউন কোষ- যেমন ম্যাক্রোফেজ (Macrophages) ও ডেনড্রাইটিক কোষ (Dendritic cells)। এরপর তারা নিঃসরণ করে সাইটোকাইন (Cytokine IL-1, IL-6), এই সাইটোকাইন উচ্চ উষ্ণতার সংকেত বহন করে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পৌঁছে যায় মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে (Hypothalamus). হাইপোথ্যালামাস আমাদের শরীরে তাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। হাইপোথ্যালামাস তখন থার্মোরেগুলেটরি সেট পয়েন্টকে (Thermoregulatory set point) বাড়িয়ে দেয় ১০৩°, ১০৪° ফারেনহাইটে। যা কিনা শারীরিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এক সংকেত বা নির্দেশ।

তখন প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একযোগে উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রয়াস করে। বিশেষত
* কঙ্কাল পেশীর সংকোচন- কম্পন Shivering..
* ত্বকের রক্তনালীর সংকোচন- Vasoconstriction..
* লিভারের উচ্চ বিপাকক্রিয়া- Hypermetabolism..
এই কারণে শরীরে তাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলত তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ১০৩°, ১০৪° ফারেনহাইটে; সাধারণত এটাই হলো জ্বর, যার মূল উদ্দেশ্য জীবাণুকে নষ্ট করা।
(ভাইরাল ইনফেকশন ছাড়াও প্রায় ১৮ প্রকারের জ্বর হতে পারে- এই প্রসঙ্গে আলোচনা করা হবে পরবর্তী এক প্রতিবেদনে)

# সংক্রমণকারী ভাইরাস বা জীবাণু মারা পড়ে কিভাবে?

আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংক্রমণকারী ভাইরাস বেঁচে থাকে এবং বংশ বৃদ্ধি করে। কিন্তু মানবশরীর জ্বরের মাধ্যমে প্রায় ৩° থেকে ৬° ফারেনহাইট তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তখন এই উচ্চতাপ সহ্য করতে না পেরে ভাইরাসগুলো মারা পড়ে। অতঃপর আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠেন। অতএব, জ্বর মানে রোগ নয়, বরং আরোগ্যকারী উষ্ণতা।

এখন একটি প্রশ্ন-
* জ্বরের উচ্চতাপে যদি অনুপ্রবেশকারী ক্ষতিকারক ভাইরাসগুলি মারা পড়ে, তাহলে শরীরের মধ্যে উপস্থিত থাকা কোটি কোটি উপকারী ভাইরাস গুলোও মারা যেতে পারে?
এর উত্তর হল-
i) আমাদের শরীরে যে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসগুলো থাকে, তারা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের শরীরে সহ-অবস্থান করে বিবর্তিত হয়েছে। অর্থাৎ তারা আমাদের শরীরের তাপমাত্রার তারতম্যের সাথে পরিচিত ও অভিযোজিত। তারা বহু বছর ধরে জ্বরের সঙ্গে উচ্চতাপের পরিপ্রেক্ষিতে সহনশীলতা অর্জন করেছে।
ii) জ্বরের তাপে সংক্রমণকারী ভাইরাসের প্রোটিন নষ্ট হয়, কিন্তু আমাদের শরীরে অবস্থিত উপকারী ভাইরাস বা ব্যাকটেরিওফাজ গুলোর প্রোটিন কাঠামো খানিকটা মজবুত যা জ্বরের উচ্চতাপেও অক্ষত থাকে।
iii) মানুষের অন্ত্রে বা পেটের মধ্যে থাকা উপকারী অনুজীবগুলো নিঃসরণ করে এক ধরনের আঠালো তরল EPS (Extracellular Polymeric Substances). আঠালো EPS দ্বারা জীবাণু-কলোনির চারপাশে গড়ে ওঠে যে প্রতিরক্ষামূলক আবরণ Biofilm, সেটি তাপ প্রতিরোধ করে।
মোটামুটি এই তিনটি উপায়ে আমাদের শরীরের উপকারী জীবাণুরা তীব্র জ্বরের সময়েও সুরক্ষিত থাকে। তবে হ্যাঁ, কিছু সংখ্যক উপকারী অনুজীব ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মারা যেতে পারে। কিন্তু জ্বর সেরে যাওয়ার পরে তারা খুব দ্রুত পুনরুৎপাদন বা বংশবিস্তার করে ফেলে।

(৪) জ্বর বেশি হলে মানুষের কোনো ক্ষতি হতে পারে কি?

না, আদৌ নয়। কারণ, জ্বরের সময় শরীরে উচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিক বলে পরিগণিত হয়, তার পূর্বে হাইপোথ্যালামাস যেহেতু থার্মোরেগুলেটরি সেট পয়েন্ট বাড়িয়ে রাখে প্রায় ১০৪°-১০৫° ফারেনহাইট সীমানায়, অর্থাৎ ওই পরিস্থিতিতে উচ্চ তাপমাত্রাও শরীরের পক্ষে সহনশীল।

বস্তুতপক্ষে মানবশরীর কোনো নির্বোধ যন্ত্র নয়- কেবল অস্থি, চর্ম, মাংস দ্বারা সুসজ্জিত কাঠামো নয়। বরং সে এক বুদ্ধিদীপ্ত সত্তা। মানবশরীরে যত কিছু ক্রিয়া কলাপ ঘটে তা স্বতঃনিয়ন্ত্রিত ও সদর্থক, যা কিনা আমাদেরকে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা প্রদান করে।

জ্বর খুব বেড়ে গেলে শরীরে ক্ষণস্থায়ী কিছু কষ্ট হতে পারে। কিন্তু এই সামান্য কষ্ট আসলে রোগীকে আসন্ন তীব্রতর কষ্টের হাত থেকে মুক্তি দেয়, অর্থাৎ রোগী নিরাপদে আরোগ্য লাভ করেন।
কিন্তু এখানে একটা গভীর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব আছে। যেহেতু পূর্বে থেকেই আমাদের ধারণা ও বিশ্বাস হল যে- জ্বর একটা খারাপ রোগ, কষ্টদায়ক। মনের এইরকমই ভ্রান্ত ও ভীতিজনক ধারণা থেকে শরীরে বেশি কষ্ট অনুভূত হয়।

এমতাবস্থায় জ্বর হলো শরীরের একটি সদর্থক উপসর্গ বা প্রতিরক্ষা মূলক প্রতিক্রিয়া। অথচ চিকিৎসা কারবারিরা জ্বরকে রোগ বলে গণ্য করে এবং জ্বর নিবৃত্ত করার নিমিত্তে মেডিসিন তথা কেমিক্যাল পদার্থ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি বাস্তবে মেডিকেল-সাইন্সের অন্তর্গত নাকি এটি কেবল মেডিকেল-ইন্ডাস্ট্রির ছলনা?

আসলে চিকিৎসা-ব্যবসায়ীদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো- সুস্থ মানুষকে রোগী বানানো, মেডিসিন বিক্রি করা- এই কৌশলটি হল Disease Mongering. এভাবেই মেডিসিন ও মেডিকেল পণ্য বিক্রির বাজারকে বৃহত্তর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কেবল অর্থের লালসা থেকে জন্ম নিয়েছে যে চিকিৎসা-ব্যবস্থা, তার দ্বারা কখনো রোগীর কল্যাণ হতে পারে কি?

জ্বর কোনো রোগ না হওয়া সত্ত্বেও রোগ হিসাবে ট্রিট করা হয়। একই ভাইরাল ইনফেকশন, কিন্তু তার হরেক রকম শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে, যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, কালাজ্বর ইত্যাদি। এটি হলো রোগের বাণিজ্যিক শ্রেণীবিভাগ। হয়তো ভিন্ন রূপের ভাইরাস আমাদের শরীরে সংক্রমণ করতে পারে, কিন্তু তাদের চরিত্র একই। সবই এক ধরনের সংক্রমণ, যাকে বলা হয় Flu বা I.L.I- influenza-like illness, আবার বহুল প্রচলিত নামটি হল ভাইরাল ইনফেকশন।
তাই ম্যালেরিয়া হোক, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া অথবা যেকোন ভাইরাল ইনফেকশন হোক না কেন; প্রতিটি ক্ষেত্রে একই উপসর্গ দেখা যায়- যেমন জ্বর, গায়ে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, তৎসহ কফ কাশি সর্দি হাঁচি থাকতে পারে, এছাড়া স্থানীয় উপসর্গ। যা সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যেই সেরে যায়, এতে কারোর মৃত্যু হয় না। মৃত্যুর কোন প্রশ্নই নেই।

তাহলে, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যান কিভাবে? আপনি যদি এর উত্তর জানতে চান, তবে চলুন পরবর্তী অধ্যায়ে-

(৫) জ্বর হলে মানুষ মারা যেতে পারেন, কিন্তু কেন? কি সেই ভুল?

জ্বরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় অনেক মেডিসিন। কিন্তু বাস্তবে যা হলো ক্ষতিকারক কেমিক্যাল্স। যেমন
Antipyretics, Analgesics (Paracetamol, Naproxen, Ibuprofen). Antihistamines (Cetirizine, Fexofenadine, Desloratadine). Cough Syrups, Decongestants (Dextromethorphan, Guaifenesin, Oxymetazoline). Antiviral drugs, Antibiotics.. ইত্যাদি। প্রায় ১৫-২০ প্রকারের কেমিক্যাল পদার্থ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়, যা কিনা রোগীকে খাওয়ানো হয় এবং ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সরাসরি রোগীর রক্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এগুলোর মারাত্মক সাইড এফেক্ট আছে। যার ফলে রোগীকে গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। যেমন-

শরীরের অভ্যন্তরে অস্বাভাবিক তাপ হ্রাস- Hypothermia. আমরা জানি যে, বেঁচে থাকার জন্যে প্রতিটি প্রাণীর দেহে বা তার রক্তে ন্যূনতম উষ্ণতা বজায় থাকা জরুরী। আসলে এই তাপশক্তি হলো শরীরের প্রাণশক্তির মূল প্রেরণা। এমতাবস্থায় যদি মেডিসিন তথা ক্যামিকেল পদার্থ ব্যবহার করে জ্বর কমিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে

* রোগীর শরীরের Thermal system বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি ভেঙ্গে পড়ে, জীবনদায়ী তাপমাত্রার স্তর নিচে নেমে যায়। যাকে বলা হয় Hypothermia. এটি প্রাণহানিকর পরিস্থিতি বা হঠাৎ Cardiac arrest জনিত মৃত্যু হতে পারে।

অন্যদিকে, জ্বরের সময়ে ভাইরাসকে মারতে, শরীরের ব্যথা কমাতে এবং অন্যান্য উপসর্গ দূর করতে ব্যবহৃত মেডিসিনের সাইড এফেক্টের ফলে রোগীকে মারাত্মক বিপদে পড়তে হয়, যেমন

* লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
* অন্ত্রে ও পাকস্থলীতে ঘা বা আলসার সৃষ্টি হয়, রক্তপাত ঘটে।
* ইমিউন সিস্টেম ভেঙ্গে পড়ে, রক্তের হিমোগ্লোবিন নষ্ট হয়।
* ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস প্রশ্বাস ক্ষীণ হয়ে আসে। তখন শরীরের কোষগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না- একে বলে Hypoxia.
* অতঃপর রোগীর বুকে নেমে আসে অন্য এক ব্যাধি- Pneumonia.
* স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়- মূর্ছা যাওয়া বা খিঁচুনি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
* হৃদপিণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে Arrhythmia বা Electrocution এর মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এভাবে রোগী মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়েন- একে বলা হয় Iatrogenic Deaths. অর্থাৎ রোগব্যাধির ফলে রোগীর মৃত্যু নয়, কেবলমাত্র চিকিৎসা জনিত কারণেই মৃত্যু। যেমন-

জ্বর বা ভাইরাল ইনফেকশন নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ মারা যান। আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার এবং ভারতে প্রায় ২ লক্ষ। এই মৃত্যুচক্র আবর্তন করে বছরের পর বছর, ফলত কোটি কোটি মানুষ অকালে হারিয়ে যান- রোগে নয় বরং আধুনিক চিকিৎসার প্রকোপে-
বন্ধু, এই নির্মম সত্যটিকে অনুভব করলে হয়তো আপনার হৃদয় হয়ে উঠবে বিদ্রোহী অথবা বিষণ্ণ।

অথচ মেডিকেল কারবারিরা নিজেদের দোষ ঢাকতে বলে যে, "এই মৃত্যুর কারণ হলো ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, নিউমোনিয়া এবং অজানা জ্বর কিংবা কোনো ভাইরাল ইনফেকশন"। এমনই অসত্য বা বিকৃত বিবৃতি পরিবেশন করা হয় চিকিৎসা বিদ্যার পরিভাষায়। যার ফলে আপামর জনগণ মেডিকেল-কারবারীদের প্রতিটি ছলনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন।
অন্যদিকে ফার্মাকোম্পানির প্রযোজিত প্রতিটি মেডিকেল এজেন্ডার সাথে যুক্ত সরকারি স্বাস্থ্য মন্ত্রক, WHO, CDC, ICMR ও বড় বড় স্বাস্থ্য সংস্থা কেবলমাত্র অর্থের লালসায়। এই স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো কখনোই জনস্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না, বরং ফার্মা-কোম্পানির অনুচর হিসেবে কাজ করে।

বন্ধু একবার ভাবুন তো- জ্বরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে মানুষের এভাবে মৃত্যুর আসল কারণ কি? কোনো জীবাণু নাকি অন্য কিছু?
আজ এই জিজ্ঞাসাটি জেগে উঠুক সবার চিন্তনে। কারণ একটি যৌক্তিক জিজ্ঞাসাই জন্ম দিতে পারে সম্যক সচেতনতা। যে সচেতনতা এনে দেয় ভ্রান্তি থেকে মুক্তি কিংবা বিপত্তি থেকে নিরাপত্তা।

* প্রতিটি নবজাতক শিশু জন্মের শুভলগ্ন হতে অসংখ্য জীবাণুর সহিত গভীরভাবে সম্পৃক্ত ও অভিযোজিত। এমনকি, এক পূর্ণাঙ্গ মানবদেহ প্রায ৪২০ ট্রিলিয়ন জীবাণুকে ধারণ করে সুস্থ থাকে এবং জীবনের আয়ুষ্কাল পূর্ণ করে।
* আসলে, এই জগতে একটিও প্রাণহানিকর ভাইরাস বা জীবাণু নেই। বরং জীবনের বাস্তুতন্ত্রে জীবাণু এক অপরিহার্য অস্তিত্ব।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, ভাইরাসের সংক্রমণে যদি মানুষের মৃত্যু না হয় তাহলে কোভিড, স্প্যানিশ ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, HIV aids এর মতো মহামারী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? এবং তাতে কোটি কোটি মানুষ কিভাবে মারা গিয়েছিলেন? বন্ধু, এর পিছনেও আছে বীভৎস রহস্য! সেই রহস্যের ব্যাখ্যা করা হবে পরবর্তী পর্বে।

তাহলে, জ্বর হলে আমাদের কি করা উচিত? এর প্রকৃত সমাধান কি?

হ্যাঁ বন্ধু, একটি কার্যকর সরল সমাধান আছে-

মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে জ্বর নিরাময়ের বিশেষ পদ্ধতি: পুনরায় জ্বর ফিরে আসবে না: আদা ও গরম জল ব্যবহার করেই এটা সম্ভবপর। এছাড়া আরও ২টি সরল উপায় আছে। সেই প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ইতিপূর্বে প্রকাশিত অন্য এক প্রতিবেদনে, যে নির্দিষ্ট প্রতিবেদনটি পোস্টের তালিকা থেকে বেছে এখনই আপনি পড়তে পারেন।

পরিশেষে আমরা একটি সতর্কতামূলক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে-
শারীরিক সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সর্বদা কেমিক্যালপ্যাথি থেকে দূরে থাকতেই হবে। আজও প্রচলিত আছে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি; যেমন আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি, ন্যাচারোপ্যাথি ইত্যাদি।

Medical Disclaimer:
এই প্রতিবেদনে প্রদত্ত তথ্য কেবলমাত্র শিক্ষামূলক ধারণা, কিন্তু এটি কোন চিকিৎসার বিকল্প নয়। অতএব সর্বদা আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

Address

House-71/C, Road-12A, Sector-10, Uttara
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Cure Pharma posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram