07/11/2025
💕যারা এনজিওগ্রাম সম্পর্কে জানতে চান...
-----------------------------------------------------
১. এনজিওগ্রাম কি?
করোনারি এনজিওগ্রাম হলো হার্টের রক্তনালীগুলোকে দৃশ্যমান করার জন্য ব্যবহৃত একটি ডায়াগনস্টিক বা রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
২. এনজিওগ্রাম কেন করা হয়?
করোনারি এনজিওগ্রাম প্রধান উদ্দেশ্য হলো হার্টের রক্তনালী বা ধমনীতে ব্লক বা বাধা বা অস্বাভাবিকতা সনাক্ত করা।
৩. এনজিওগ্রাম কিভাবে করা হয়?
এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কুঁচকির বা কব্জির মাধ্যমে একটি ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে তা করোনারি ধমনীগুলিতে পৌঁছানো হয়। তারপর একটি কনট্রাস্ট ডাই ইনজেক্ট করা হয়, যা এক্স-রে ইমেজিং-এ ধমনীগুলিকে দৃশ্যমান করে তোলে।
৪. এনজিওগ্রাম করার আগে কি না খেয়ে থাকতে হয়?
রোগীদের প্রক্রিয়ার আগে কয়েক ঘন্টার জন্য উপোস থাকতে হয়।
৫. এনজিওগ্রাম করার সময় রোগীকে অজ্ঞান করা হয়?
এনজিওগ্রাম করার সময় রোগীকে অজ্ঞান করা হয় না। ক্যাথেটার প্রবেশস্থলে স্থানীয় এনেস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়, এবং রোগীকে শিথিল করতে মৃদু সেডেটিভ দেওয়া হতে পারে।
৬. এনজিওগ্রাম করা কি ঝুঁকিপূর্ণ?
সাধারণত এনজিওগ্রাম একটি নিরাপদ পদ্ধতি। তবুও কিছু ঝুঁকি রয়েছে যেটা খুবই নগ্ণ্য, যেমন রক্তপাত, সংক্রমণ, ডাইতে এলার্জিক প্রতিক্রিয়া এবং খুবই কম ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক।
৭. এনজিওগ্রাম করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
এই পদ্ধতিটি সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টার মধ্যে সময় নেয়, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বা স্টেন্ট বা রিং বসানোর প্রয়োজন হলে এটি দীর্ঘ হতে পারে।এনজিওগ্রামের জন্য হাসপাতালে একদিন ভর্তি থাকতে হয়। অনেক সময় পেশেন্ট স্টাবল থালে ৩-৪ ঘন্টা পর ডিসচার্জ দেয়া যায়।
৮. এনজিওগ্রাম ফলাফল কি?
এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হার্টের রক্তনালীতে ব্লকের উপস্থিতি, অবস্থান এবং তীব্রতা জানা যায়, যা ডাক্তারদের সেরা চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করতে সহায়তা করে, যেমন ওষুধ, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি/ রিং বা করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি।
৯. এনজিওগ্রাম করতে কত খরচ হয়?
এনজিওগ্রাম করতে সরকারি হাসপাতালে ৬-৭ হাজার টাকা এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়।
১০. সিটি এনজিওগ্রাম সাথে করোনারি এনজিওগ্রাম মধ্যে পার্থক্য কি?
সিটি এনজিওগ্রাম হাতে বা পায়ের ধমনিতে ফুটা করা লাগে না, হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। সিটি এনজিওগ্রাম রিপোর্ট কার্ডিওলজিস্ট করেন না, করেন রেডিওলজিস্টরা। তাই রিপোর্টিং এ অনেক ক্ষেত্রে মিসম্যাচ হয়। সিটি এনজিওগ্রাম যেটা ৫০% ব্লক, এনজিওগ্রাম করে দেখা যায় দেখা যায় ৭০% বা ৮০% ব্লক। বা উল্টোটা ও হতে পারে। আবার দেখা গেল, সিটি এনজিওগ্রাম ক্রিটিকাল ব্লক ( ৭০% এর ওপরে) থাকলে রিং পরানোর জন্য আল্টিমেটলি এনজিওগ্রাম করতে হয়।
১১. কোনটা বেশি ভালো? কোনটা কখন করব?
এটা আপনার ডাক্তার নির্ধারণ করবেন। রোগীর লক্ষ্মণ, ইসিজি , ইকো ইত্যাদি দেখে ডাক্তার যদি মনে করেন হার্টে ব্লক থাকার সম্ভাবনা বেশি সেক্ষেত্রে করোনারি এনজিওগ্রাম, আর যদি ব্লক থাকার সম্ভাবনা কম, সেক্ষেত্রে সিটি এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন।সবকিছু মিলিয়ে সিটি এনজিওগ্রাম এর থেকে করোনারী এনজিওগ্রাম এখনো পর্যন্ত সুপিরিয়র বা কার্যকরী।
-----------------------------------------------------
🩺ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (কার্ডিওলজি)
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
কনসালটেন্ট, কার্ডিওলজি বিভাগ
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।
এনজিওগ্রাম, হার্টে রিং, পেইসমেকার ও ডিভাইস প্রতিস্থাপনে
অভিজ্ঞ