29/03/2026
যখন হসপিটাল থেকে কোনো কাটা জায়গা সেলাই করে আনা হয় তখন উক্ত জায়গা স্পর্শ করলে পেশেন্টের কষ্ট হবে বা অত্যাধিক ব্যথা পেতে পারে এই আশংকায় উক্ত স্থান স্পর্শ করতে দেয়া হয় না।
আমাদের একজন পেশেন্ট আছেন যিনি এরকমই উনার মাথায় কাউকে স্পর্শ করতে দেয় না। মূলত যাদুর কারণে উনার মাথায় সবসময় প্রচন্ড যন্ত্রণা ও ব্যথা হতো। আর উনি ভয় পেতেন যে ধরলেই ব্যথা বাড়বে, যন্ত্রণায় অনেক কষ্ট হবে তাই কাউকে মাথায় স্পর্শ করতেই দিতেন না! যার কারণে ভোকাল রুকইয়াহর পাশাপাশি উনার মাথায় কখনো চাপ প্রয়োগ বা অন্য কোনো থেরাপী এপ্লাই করা সম্ভব হয় নি।
তবে সরাসরি এক সেশনে আইন ও হাসাদের রুকইয়াহ চলাকালীন উনার প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছিল, ব্যথায় অস্থির হয়ে যাচ্ছিলেন। তখন উনার মাহরাম কর্তৃক মাথার দুপাশে হাত রেখে মৃদু চাপ দেয়া হয় এবং মাথার পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য যেসব জায়গায় যাদুর কারণে রিয়্যাকশন হতো তাতে প্রেশার দেয়া হয়।
আল'হামদুলিল্লাহ, আল্লাহর ইচ্ছায় রুকইয়াহর বাকি অংশে পেশেন্টের রিয়্যাকশন অনেকটা কমে এসছিলো এবং রুকইয়াহ শেষে পেশেন্ট জানিয়েছিলেন যে, উনার মাথার ব্যথা তাৎক্ষনিক অনেকটাই কমে গিয়েছে আর অনেক হালকা লাগছে।
এই পেশেন্ট হিস্ট্রি ব্যাখ্যা করলে যে বিষয়টা লক্ষণীয় হবে যে, যাদুর প্রথম প্রভাবটা সৃষ্টি হয় ক্বলব থেকে অর্থাৎ যাদুর খাদেম শাইত্বন ক্বলব থেকে ভয় সৃষ্টি করে। সেই ভয় থেকেই যাদু এভাবে প্রটেকশন নেয় যে পেশেন্ট যাদুর স্থানে হাত দিতে দেয় না, স্পর্শ করতে চায় না। আবার কারো ক্ষেত্রে ভয়ে রুকইয়াহ করা বন্ধ করে দেয় এই ভেবে যে, রুকইয়াহ করলে তাকে মেরে ফেলা হবে। অর্থাৎ শাইত্বন একেকজনের অন্তরে একেকভাবে ভয়ের সৃষ্টি করে।
অথচ উক্ত স্থানে তাদমীর দিলে যাদু কিংবা যাদুর উপর থাকা আইন-হাসাদের গিটের শক্তি সহজেই নষ্ট করা সম্ভব হতো এবং যাদুর খাদেম জ্বীন দুর্বল হয়ে যেতো। কিন্তু পেশেন্ট সাধারণত ভয়ের কারণে এটা করতে দিতে চায় না। কিন্তু যখনই ভয়কে ভেঙে এটা করা হয় পেশেন্ট অনেকটা স্বস্তি পায়।
এজন্য যারা এইধরনের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের উচিত তাদমীর, হিজামা কিংবা অলিভ অয়েল ম্যাসাজ এপ্লাই করতে পারেন। আল্লাহ চাইলে খুব শীঘ্রই উপশম লাভ করবেন। আল্লাহ তা'আলা উত্তম তাওফিকদাতা!
©Prophetic Cure