15/03/2026
রমজানে ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা: খাদ্যাভ্যাসে সচেতন না হলে বাড়তে পারে ঝুঁকি
পবিত্র রমজান মাসে আমাদের খাদ্যসংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া, তেলসমৃদ্ধ খাবার, ফিরনি, পায়েস, শাহি জিলাপি, পুডিংসহ নানা রকম লোভনীয় পদ উঠে আসে। একই সঙ্গে বদলে যায় খাবারের সময়সূচিও। এই পরিবর্তনের ফলে ডায়াবেটিক রোগীদের শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)। আবার ইফতার ও সাহ্রির পর অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে গ্লুকোজ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। তাই রোজায় ওষুধের পাশাপাশি খাদ্য নির্বাচন ও পরিমাণ—দুটোতেই সচেতনতা জরুরি।
রোজায় যেসব ভুল বেশি দেখা যায়
* ইফতারে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, অনেক সময় একবারেই ১৫০০ কিলোক্যালরির বেশি।
* অতিরিক্ত শর্করাজাতীয় খাবার ও মিষ্টান্ন গ্রহণ।
* জিলাপি, হালুয়া, পুডিংসহ নানা মিষ্টি খাবারের আধিক্য।
* বিরিয়ানি, হালিম, স্ন্যাকস জাতীয় ভারী খাবার নিয়মিত খাওয়া।
* দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়ে যাওয়া।
* সাহ্রি বাদ দেওয়া বা খুব আগে খেয়ে নেওয়া।
* ভাজাপোড়া খাবারের আধিক্য।
* দৈনন্দিন কাজকর্ম কমে যাওয়া ও ঘুমের রুটিন এলোমেলো হওয়ায় ওজন বৃদ্ধি।
যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন
* ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করে পানিশূন্যতা রোধ করা।
* জিলাপি, চিনিযুক্ত শরবত, মিষ্টান্ন, কাবাব, পাকোড়া, পরোটা ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
* অতিমিষ্টি ফল সীমিত রাখা।
* শসা, খিরা, পেয়ারা, নাশপাতি, বরই, আমড়া, ডাবের পানি, লেবুর পানি ও অন্যান্য টকজাতীয় ফল পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা।
* সাহ্রি অবশ্যই করা এবং তা যতটা সম্ভব দেরিতে খাওয়া।
* সাহ্রিতে শর্করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আমিষ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি অন্তর্ভুক্ত করা।
* আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।
* চা, কফি ও কোলা জাতীয় পানীয় কমানো, কারণ এগুলো পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।
রোজা রাখার সময় সঠিক খাদ্যব্যবস্থাপনা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিমিতি, পরিকল্পনা ও সচেতনতা—এই তিনটিই হোক সুস্থ রমজানের মূলমন্ত্র।
ইসরাত জাহান ডরিন
ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান
বিডিএন তেজগাঁও ডায়বেটিস সেন্টার
Operated by গ্লোবাল হেলথ কেয়ার