20/12/2025
বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা: ২০৫০ সালের মানুষ দেখতে আজকের মানুষের মতো নাও হতে পারে,
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন—বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাপনের ধরণ যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে ২০৫০ সালের মানুষের শারীরিক গঠন, ভঙ্গি ও চেহারা আজকের মানুষের মতো থাকবে না। এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারা এবং কৃত্রিম সৌন্দর্যচর্চা।
দীর্ঘ সময় মোবাইল, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস ইতিমধ্যেই মানুষের শরীরে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিচের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ঘাড় ধীরে ধীরে সামনে ঝুঁকে যাচ্ছে, যাকে বিজ্ঞানীরা “টেক্সট নেক” বলছেন। এর সঙ্গে কাঁধ গোল হয়ে যাওয়া এবং মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বাঁক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। শুরুতে এটি শুধু অস্বস্তি মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থায়ী ব্যথা, পেশি দুর্বলতা এবং চলাফেরার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
চোখের ক্ষেত্রেও প্রভাব কম নয়। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ আগেভাগেই দেখা দিতে পারে। চোখের চারপাশে বলিরেখা, কালচে দাগ ও ক্লান্ত চেহারা—এসব এখন আর শুধু বয়সের সঙ্গে যুক্ত বিষয় নয়, বরং প্রযুক্তির সরাসরি প্রভাব।
এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কৃত্রিম সৌন্দর্যচর্চা। বোটক্স, ফিলার এবং নানা ধরনের কসমেটিক চিকিৎসার অতিরিক্ত ব্যবহার মুখের স্বাভাবিক গঠনকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে করলে মুখের পেশি অলস ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ত্বক পাতলা ও অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়ে, এবং চেহারার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে চোখের নিচে অস্বাভাবিক ফোলাভাব, কৃত্রিম অভিব্যক্তি ও ত্বকের গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই অভ্যাসগুলো যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে ২০৫০ সালের গড় মানুষ এমন একটি প্রজন্মে পরিণত হবে—যাদের শরীরের ভঙ্গি হবে ঝুঁকে থাকা, মুখের গঠন হবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম সৌন্দর্যের প্রভাবে পরিবর্তিত, আর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও শারীরিক ভারসাম্য হবে প্রশ্নের মুখে। এটি আর কল্পবিজ্ঞান নয়; বরং বর্তমান আচরণের স্বাভাবিক পরিণতি।
এই সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়, বরং সচেতন করা। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে, কিন্তু তার ব্যবহারে ভারসাম্য না রাখলে এর মূল্য দিতে হবে শরীর ও স্বাস্থ্যের মাধ্যমে। নিয়মিত বিরতি নিয়ে স্ক্রিন ব্যবহার, সঠিক ভঙ্গিতে বসা, চোখের যত্ন নেওয়া এবং সৌন্দর্যচর্চায় সংযম—এই ছোট সিদ্ধান্তগুলোই ভবিষ্যতের মানুষকে আজকের মানুষের মতো স্বাভাবিক রাখতে পারে।
World Vision (বিশ্ব দর্শন)–এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চেহারা নির্ধারণ করবে আজকের অভ্যাস। তাই প্রশ্নটা এখনই—আমরা প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করবো, নাকি প্রযুক্তিই আমাদের গঠন বদলে দেবে?
-collected