09/03/2026
বাংলাদেশে মেয়ে হয়ে জন্মগ্রহণ করাটা যেন একটা দুর্ভাগ্যের বিষয়!!!!!
একটি মানুষ একটি হাত একটি আঙ্গুল রাজনৈতিক কোন মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেয়েটি চিৎকার করে বলছে আমি বাংলাদেশ শাসন করতে এসেছি...
ছবিটি সেই ভাইরাল ভিডিও রাবেয়া ইসলামের ,যিনি একটি গুরুতর মানসিক রোগ বাই পোলার মুড ডিসঅডারে (BMD) আক্রান্ত ছিলেন।
তার সব থেকে বড় অপরাধ ছিল তিনি একজন মানসিক রোগী ছিলেন!!!!
এর থেকেও বড় অপরাধ হলো তিনি একজন মেয়ে মানুষ!!!! ""
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই মানুষটিকে নিয়ে গত এক মাস আগে সবাই ট্রল করেছিল, টিক টক বানিয়েছিল, হাসি ঠাট্টা করেছিল। রাবেয়া ইসলামের গায়ে এপ্রোন ছিল দেখে ডাক্তার আপু ডাক্তার আপু বলে কত বিশ্রী কথা ব্যবহার করা হয়েছিল!!!!!!
আমরা মানসিকভাবে এতটা বিকৃত হয়ে গেছি যার জন্য একজন মানসিক রুগী আমাদের হাত থেকে ছাড় পায় না!!!! ৬ বছরের শিশু থেকে বৃদ্ধ বনিতা!!! বিকৃত মানসিকতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!!!!এর শেষ কোথায় বলতে পারেন?
অথচ ঐ একই রাজনৈতিক মঞ্চে আরেকজন পুরুষ মানুষ ঠিক একই কাজ করেছিল। কিন্তু তাকে নিয়ে কোনো ট্রল হয়নি।
কারণ সে পুরুষ মানুষ ছিল !!!!!!!!
রাবেয়া ইসলামকে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগে গত এক মাস আগে ভর্তি করাই।
আমাদের জুনিয়র ডাক্তাররা গত একটা মাস রাত দিন তার পিছনে পরিশ্রম করেন।
কখনো আমাদেরকে থুতু দিত, কখনো বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ, কখনো আবার গায়ে হাত তোলা, কখনো পেটে লাথি মারা সবই করেছে সে আমাদের সাথে।
কিন্তু আমাদের ডাক্তাররা দমে যায়নি। সকল কিছু সহ্য করে এই ভাইরাল ভিডিওর কেসটাকে আমরা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম।
আমরা সম্পূর্ণ সত্যটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।
আজ সেই দিন যেইদিন রাবেয়া ইসলামকে আমরা সম্পূর্ণ সুস্থ করে তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছি। রাবেয়া ইসলামের স্বামী ও তার শাশুড়ি গত একটা মাস একইভাবে হাসপাতালে পড়েছিল।
আজ একজন মা রাবেয়া ইসলাম সে ফিরে যাবে তার তিন সন্তানের কাছে। সে বারবার বলছিল আমার সন্তানেরা কেমন আছে!!!!!
আজ হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার আগে তার পরিবারের চোখে থেকে ঝর ঝর করে গড়িয়ে পড়া পানি গুলো গত এক মাসের আমাদের কষ্টকে সার্থক করেছে । চিকিৎসক হিসেবে এটাই ছিল আমাদের প্রাপ্তি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক রোগ বিভাগের জুনিয়র চিকিৎসকগণ রাবেয়া ইসলামের কেস টি সলভ করার মধ্য দিয়ে যে অপূর্ব উদাহরণ সৃষ্টি করল তা তাদের মানবিকতা ও ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার অনেক বড় পরিচয়।
তোমরা অনেক বড় ডাক্তার হবে, দেশ ও দেশের মানুষ তোমাদের অপেক্ষায় থাকবে।তোমাদের মত ডাক্তারদের কাছে আমরা নির্ভাবনায় দেশ ও দেশের মানুষকে রেখে যেতে পারবো অদূর ভবিষ্যতে।
আমি এর আগের ভিডিওতে কথা দিয়েছিলাম আমি বাংলাদেশের মানুষের সামনে রাবেয়া ইসলামের কেস এর সত্যতা তুলে আনবই।
এতে আমার কপালে যা হয় তাই হবে।
আমি কতটুকু তা করতে পেরেছি তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন!!!
মানসিক রোগের বিষয়ে সচেতন হোন, মনের যত নিতে শিখুন।
আর যারা মানসিক রোগীদের নিয়ে ট্রল করেন, হাসি ঠাট্টা করেন তাদের বলছি!! মানসিক রোগীদের জীবন যে কত কষ্টের তা যদি আপনারা জানতেন!!!!
আমি দোয়া করি, সেই মানসিক রোগীদের মতন জীবন যাতে আপনাদের আল্লাহ না দেয়, তাহলে সেই দিন বুঝবেন তারা ও তাদের পরিবার কত কষ্টে জীবন যাপন করে!!!
আবারো দেখা হবে!!!!
নতুন কোন কেস নিয়ে আবারও আসব আপনাদের সামনে ইনশাআল্লাহ।
Dr.Habibur Rahman Rajib