25/03/2026
এই লেখাটার সত্যতা কতটুকু, কেউ জানলে জানাবেন প্লিজ🙏🙏
যেসব জুলাই যোদ্ধা দায়মুক্তি নিচ্ছেন, তারা কি জানেন!
দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি মানে এই নয় যে, আপনি নির্দোষ! এর অর্থ হলো, দায়মুক্তি সনদ গ্রহণের সময় আপনি স্বীকার করে নিলেন যে, আপনি অপরাধি! পুলিশ হত্যা, সাধারণ নাগরিকদের হত্যা, শিশু হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, গনহত্যা, থানা লুট, সরকারি অস্ত্রাগার লুট, মেট্রোরেল সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেয়া, ধর্ষন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন করে নানাবিধ মানবতাবিরোধী ও মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে আপনি যুক্ত ছিলেন। এসব অপরাধের কথা স্বীকার করে “দায়মুক্তির সনদ” নিতে হবে আপনাকে। অর্থাৎ সরকারের খাতায় আপনার নাম কিন্তু “অপরাধী” হিসেবেই লেখা থাকবে স্থায়ীভাবে।
জাতিসংঘ ঘোষিত আইনে যেসব অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো বিধান নেই, সেসব অপরাধের বিচারের রাস্তা কিন্তু খোলা থাকে সবসময়। কয়েক হাজার সাধারণ নাগরিককে হত্যা এবং তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের হত্যা আন্তর্জাতিক আইনে গনহত্যার সংজ্ঞাতেই পড়বে। তখন সেই বিচারের মূল ভিত্তি হবে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশনের নিয়মে। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, হাসপাতাল বা স্কুল ধ্বংস, মানবিক ত্রাণে বা চিকিৎসায় বাধা, বন্দীদের উপর আক্রমণ বা নির্যাতন, এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারও এধরনের অপরাধের আওতাভুক্ত। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে পারে। সরকার যতই দায়মুক্তি দিক, যে কোনো নাগরিক আপনাদের বিচার দাবি করে আন্তর্জাতিক আদালতে বা জাতিসংঘের দ্বারস্থ হতে পারে। তা যদি হয়, তাহলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অধ্যায় ৭-এর অধীনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালও গঠন হতে পারে। অর্থাৎ, তোমাদের মুক্তি নেই। বিচার একদিন তোমাদের হবেই হবে।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতি অনুযায়ী গণহত্যার (Genocide) মতো গুরুতর অপরাধে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া যায় না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যা কোনো বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশ দ্বারা মওকুফ অযোগ্য। যদিও বাংলাদেশে অতীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনায় দায়মুক্তি আইন জারি করা হয়েছিল, কিন্তু গণহত্যা সর্বদা বিচারযোগ্য।
আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য মূল বিষয়সমূহ:
(১) আন্তর্জাতিক আইন: জেনোসাইড কনভেনশন ১৯৪৮ অনুযায়ী গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
(২) বিচারহীনতা: ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার এড়ানোর সুযোগ দেওয়া হলে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করে।
(৩) আইনি অবস্থান: আধুনিক আইনব্যবস্থায় গণহত্যার মত নিকৃষ্টতম অপরাধের বিচার চিরকাল ধরে চলে, এমনকি অপরাধের অনেক বছর পরেও।
(৪) প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতায় দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, আইন বিশ্লেষকদের মতে গণহত্যার কোনো আইনি দায়মুক্তি সম্ভব নয়।
সংক্ষেপে, গণহত্যার কোনো ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি হয় না, এবং আন্তর্জাতিক আইনে এটি বিচারের দাবি রাখে।
তাছাড়া সবাই জানে, ফৌজদারি অপরাধ কখনো তামাদী হয় না। হত্যার কোনো দায়মুক্তি হয় না। পুলিশ হত্যা এবং ছাত্র জনতা হত্যার বিচার একদিন না একদিন হবেই। ৫২ বছর পরে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কিন্তু করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ, ইনডেমনিটি থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরও বিচার কিন্তু করেছে আওয়ামী লীগ, ইনশাআল্লাহ এই জুলাই যোদ্ধাদের বিচারও একদিন হবে বাংলার মাটিতে। যারা বুক ফুলিয়ে নিজেদেরকে জুলাই যোদ্ধা বলছেন, নিশ্চিত থাকুন, বিচার আপনাদের হবেই হবে। অপরাধ যখন করেছেন, এবং যেহেতু বিপ্লবী সরকার গঠন না করে সাংবিধানিক সরকার গঠন করেছেন, তাই আপনাদের বিচার কেউ আর বন্ধ করতে পারবে না।
খান শওকত
লেখক ও রাজনীতিবিদ
(১৯৯০ সাল থেকে নিউইয়র্ক প্রবাসী)
(এই লেখাটি শেয়ার করুন প্লিজ)