01/02/2026
ছেলেদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সক্ষমতার কথা উঠলে দুটি পরীক্ষার নাম সবার আগে আসে— Testosterone Hormone এবং Semen Analysis (বীর্য বিশ্লেষণ)। ল্যাবরেটরি মেডিসিনে কাজ করার সময় আমি অনেক পুরুষকে দেখেছি যারা এই দুটি পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ আলাদা মনে করেন। কিন্তু সত্য হলো, এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং একটি ছাড়া অন্যটি প্রায় অসম্পূর্ণ।
আজ একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে আমি আপনাদের জানাবো, এই দুই পরীক্ষার সম্পর্ক এবং কেন এগুলো পুরুষদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
টেস্টোস্টেরন এবং সিমেন অ্যানালাইসিসের সম্পর্ক
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, টেস্টোস্টেরন হলো একটি 'জ্বালানি' আর সিমেন বা শুক্রাণু হলো সেই জ্বালানির 'ফলাফল'।
১. শুক্রাণু উৎপাদন: অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়াটি সরাসরি টেস্টোস্টেরন হরমোনের ওপর নির্ভর করে। যদি রক্তে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় (Low T), তবে শুক্রাণুর সংখ্যা (S***m Count) এবং গুণগত মানও কমে যায়।
২. যৌন ইচ্ছা ও সক্ষমতা: টেস্টোস্টেরন হরমোন যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যদিকে সিমেন অ্যানালাইসিস প্রজনন ক্ষমতা নিশ্চিত করে। একটির ঘাটতি থাকলে অন্যটির ওপর তার প্রভাব পড়ে।
৩. বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়: যখন কোনো দম্পতি সন্তান নিতে সমস্যায় পড়েন, তখন সিমেন অ্যানালাইসিসে যদি শুক্রাণু কম পাওয়া যায়, তবে তার কারণ খুঁজতে আমরা টেস্টোস্টেরন হরমোন পরীক্ষা করি।
কেন এই পরীক্ষাগুলো করা জরুরি?
প্রজনন ক্ষমতা যাচাই: আপনি বাবা হতে পারবেন কি না বা শুক্রাণুর গতিশীলতা ঠিক আছে কি না, তা জানতে সিমেন অ্যানালাইসিস একমাত্র পথ।
শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন: হরমোন কমে গেলে অকারণে ক্লান্তি, পেশি কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়। টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব।
যৌন স্বাস্থ্য: লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা বা যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ হরমোনাল নাকি মানসিক, তা এই ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।
আমার প্রফেশনাল পরামর্শ:
১. সিমেন অ্যানালাইসিসের নিয়ম: সঠিক রিপোর্টের জন্য পরীক্ষার আগে অন্তত ৩ থেকে ৫ দিন সহবাস বা বীর্যপাত থেকে বিরত থাকতে হবে। আবার ৭ দিনের বেশি দেরি করাও ঠিক নয়।
২. হরমোন টেস্টের সময়: টেস্টোস্টেরন হরমোন পরীক্ষার জন্য সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে রক্ত দেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এই সময় শরীরে হরমোনের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে।
ল্যাবরেটরিতে আমরা দেখি, অনেক পুরুষ সংকোচে এই পরীক্ষাগুলো করতে চান না। কিন্তু মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে।
আপনার কি প্রায়ই অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগে বা প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে? সংকোচ না করে কমেন্টে জানাতে পারেন। পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় পোস্টটি শেয়ার করুন।