22/01/2026
রহিমা আর ওমরের গল্প।
আমার চেম্বারে এসেছে, একদম প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে
বেচারিকে কোলে করে নিয়ে এসেছে আমার চেম্বারে, সম্পর্কে তারা নানি নাতি।
এক গাদা ফাইল পত্র, বড় বড় হাসপাতালের বড় বড় সব চিকিৎসকের ফাইল পত্র দেখে কিছুটা অবাক হলাম, চিকিৎসার কোন কারপণ্য করে নাই।
ফাইল ঘেটে যা বুঝলাম, বয়স্ক মহিলা, ষ্ট্রোক করেছে ৪-৫ বছর আগে, বাপ পাশ অবশ হয়ে গেছে। নাতি ছুটে বেরাচ্ছে, ডা থেকে ডা এর চেম্বারে, টাকা পয়সার দিকে না দেখে। দারিদ্র্যতা তাকে পিছিয়ে দেয় নি।
বেচারা নাতি এই অভাবেও নানির জন্য দৌড়ে বেড়াচ্ছে।
আমি ছেলেটাকে বললাম, বাবা রে, তোমার নানী তো ষ্ট্রোক করেছে, অনেক দিন হলো, তুমি কি জানো? এত দিন পরে এই অবশ হাত পা কাজ করার চান্স খুব কম।
ছেলেটার উত্তর,- জ্বি স্যার, জানি স্যার,
আমি প্রতিদিন কাজ থেকে রাতে ফিরলে নানি, আমার দিকে হাত বাড়িয়ে.... আ.. আ...আ..... শব্দ করে। হাত বাড়িয়ে, দেখিয়ে বোঝাতে চায়, হাতের জন্য তার কষ্ট হচ্ছে, ঠিক করে দিতে বলে।
এটা দেখার পর আমি ঠিক থাকতে পারি না, রাতে কামানো সব টাকা নিয়ে পর দিনই ছুটে যাই অন্য ডা এর কাছে, যদি নানী ভালো হয়ে যায়, আরাম পায়।
কি টান নানীর জন্য, তার ইমোশনের ডেপথ দেখার জন্য বললাম,
আজ কাল তো বাবা মা কেই কেউ এভাবে ডা এর কাছে আনে না, তুমি তো নাতি, কি দরকার অভাবের মধ্যে এত দোড়াদোড়ি করার, কি হবে এখন আর এসব করে? , ফেলে রাখেন, বাসার এক কোনায়।
ছেলেটা বলে, কি বলেন স্যার,
নানি আমার সব, আমি নানির কাছে বড় হইছি। আমার নানির ৫ মেয়ে, ৪ খালার মাঝে আমার মা শুধু মারা গেছে, বাকিরা বেচে আছে।
আমার মা আমার ছোট বেলায় মারা যাবার পর আমি নানির কাছে থেকে বড় হইছি।
নানি আমাকে কোনদিন কষ্ট পেতে দেয় নাই। অনেক আদর করছে মা মরা আমাকে।
খুব আদর করতো, কোনদিন চোখের আড়াল করে নাই।ভাত নিয়ে বসে থাকতো , আমি দূরে কাজে গেলেও রোদের মধ্যে হেটে হেটে আমাকে দেখে আসতো, কাজের মধ্যে আমার কষ্ট হচ্ছে কিনা, সেই নানির কষ্ট আমি দেখবো না এখন?
নানি এখন আর হাটতে পারে না, কথা বলতে পারে না, খেতে পারে না, আমি কোলে করে সব খানে নিয়ে যাই। যতদিন বেচে থাকবে, আমি আমার কাছে রাখবো, ডা এর কাছে নিয়ে যাবো, যদি নানি ভালো হয়ে যায়।
নানির প্রতি ভালোবাসা দেখে মনটা ভরে গেলো, কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না।
দোয়া করি নানি সুস্থ হয়ে যাক, দোয়া রইলো নাতির প্রতি।