19/06/2021
জেনে নিন, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের অবস্থা একটু গুরুতর হয়ে গেলে কী কী পরীক্ষা করাতে হয়?
***সতর্কবার্তা: চিকিৎসকদের পরামর্শও সরাসরি তত্ত্বাবধান ব্যতিরেকে নিচে বর্ণিত পরীক্ষাগুলো করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক রোগী প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো বাসায় চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হলেও অনেক রোগীকেই আবার নানা ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
বিশেষ করে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কারও অবস্থার উন্নতি না হলে বা কোন কারণে অবনতি হলে তার প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য নানা ধরণের টেস্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
১. সিবিসি
একজন রোগীর শরীরে যে কোন সংক্রমণ দেখার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। এই টেস্টের মাধ্যমে চিকিৎসকরা শরীর সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পান। এটি একটি টেস্ট প্রোফাইল। এর মধ্যে অনেকগুলো ধ্রুবক থাকে। ব্লাড সেল বা রক্ত কণিকার কাউন্ট বা পরিসংখ্যান দেখা হয় এর মাধ্যমে। রক্তের কণিকা কোন পর্যায়ে আছে সেটি বোঝার জন্য করোনায় আক্রান্তদের এ টেস্টের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
২. সিআরপি
শরীরে কোন চলমান সংক্রমণ আছে কি না সেটি বোঝার জন্য চিকিৎসকরা এ টেস্টের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (সিআরপি) পরীক্ষা ডাক্তারদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি নির্ধারণেও সাহায্য করতে পারে।
৩. প্রোক্যালসিটোনিন
করোনায় আক্রান্ত রোগীর অবস্থা অনেক সময় দ্রুত খারাপ হয়ে যায় মারাত্মক সংক্রমণের কারণে। জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে এমন মারাত্মক ধরণের ব্যাকেটরিয়াল ইনফেকশন বোঝার জন্য এই টেস্ট করা হয়।
৪. ফেরেটিন
রক্তে আয়রনের মাত্রা দেখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখার জন্য পরীক্ষার জন্য এ টেস্ট করা হয়। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের এক পর্যায়ে আয়রন ঘাটতি তৈরি হয়। সেটি বোঝার জন্যই চিকিৎসক এই টেস্টটি দিয়ে থাকেন।
৫. আরবিএস
কারও শরীরে ডায়াবেটিস আছে কি-না বা রক্তে সুগার লেভেল সম্পর্কে জানতে এই পরীক্ষা করা হয়।
৬. এস ক্রিয়েটিনিন
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয় করলে বোঝা যায় কিডনি কতখানি কর্মক্ষম আছে। ক্রিয়েটিনের মাত্রা নির্দিষ্ট লেভেলের উপরে হলেই বোঝা যায় তার কিডনি সমস্যা হয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের কিডনি নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেজন্য এ টেস্ট দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
৭. ডি ডাইমার
রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি মাপার আরেকটি একক হলো ডি-ডাইমার নামে একটি প্রোটিন। স্বাস্থ্যবান রোগীর রক্তে এটা দশক থেকে শ'য়ের হিসেবে মাপা হয়। কিন্তু কোভিড রোগীর দেহে এই স্তর ৬০, ৭০ বা ৮০,০০০ পর্যন্ত উঠতে দেখা গেছে। তাই রক্তে জমাট বাঁধছে কি-না সেটি বোঝার জন্য এই টেস্ট।
৮. এইচআর সিটি স্ক্যান
ফুসফুসের অবস্থা দেখার জন্য এটি করা হয়। এক রোগীর করোনা পরীক্ষায় দেখা গেল তিনি করোনা মুক্ত, কিন্তু উপসর্গ রয়েছে। পরে তাকে এইচআর সিটি স্ক্যান করোনো হলে দেখা গেল, তার নিউমোনিয়ার লক্ষণ রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি এই পরীক্ষাগুলোরও বিশেষ কার্যকারিতা আছে। এছাড়া বুকের এক্স রে-র মাধ্যমেও প্রাথমিকভাবে ফুসফুসে সংক্রমণ আছে কি না দেখা যায়। সাধারণভাবে প্রাথমিক অবস্থা বোঝার জন্য এক্স রে করা হয়।
৯. এবিজি
আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস বা এবিজি টেস্টের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। রক্তচাপ ও হার্ট রেট দেখার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
১০. আইএল-৬
মূলত ফুসফুসে সংক্রমণের মাত্রা বোঝার জন্য এই টেস্টটি করা হয়। এর মাধ্যমে ফুসফুস কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো তা চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন। এর আগে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইএল-৬ এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে কোভিড আক্রান্তদের মৃত্যুহারের সম্পর্ক আছে।
১১. আরটি পিসিআর
করোনার লক্ষ্মণ দেখা দিলে বা এমনকি কোন করোনা রোগীর সংস্পর্শে এলেই করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। আর করোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টেস্টটির নামই আরটি পিসিআর টেস্ট। কোভিড-১৯ ভাইরাসটির কারণে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কিনা সেটা বুঝতে গলার ভেতরে এবং নাকের গোড়ার কাছ থেকে তুলা দিয়ে লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। আর এই পরীক্ষাটির নাম হল 'রিয়াল টাইম পিসিআর' বা রিয়াল টাইম পলিমারেস চেইন রিঅ্যাকশন। পরে ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করে বোঝা যায় যে রোগী পজিটিভ নাকি নেগেটিভ।