Yashfeen Hospital

Yashfeen Hospital Ensuring Shariah in Health Management.

Yashfeen Hospital is a distinguished healthcare institution dedicated to delivering high-quality, ethically grounded medical services. It strives to integrate modern medicine with Islamic ethical principles, offering comprehensive, compassionate care across a range of specialties. The hospital houses a specialized Psychiatry and Islamic Psychology Center, where conventional psychiatric treatments are harmonized with Islamic psychological methodologies. This center addresses mental health within a faith-based framework, combining clinical excellence with spiritual sensitivity. Yashfeen Hospital upholds the values of integrity, holistic healing, and patient-centered care, aiming to set a benchmark in Shariah-compliant healthcare services.

হাতে কলমে স্পিরিচুয়াল ইন্টারভেনশন শিখে নেওয়ার আরেকটি সুযোগ...
19/01/2026

হাতে কলমে স্পিরিচুয়াল ইন্টারভেনশন শিখে নেওয়ার আরেকটি সুযোগ...

বাংলাদেশে ইসলামিক সাইকোলজির পথচলা শুরু হয়ে গেছে আর স্পিরিচুয়াল ইন্টারভেনশন নিয়ে কাজ হবে না - তা কী সম্ভব?

তাই প্রথম ওয়ার্কশপ হিসেবে Bangladesh Islamic Psychology & Counselling Association-BIPCA নিয়ে আসছে “Spiritual Intervention in Islamic Psychotherapy & Counselling”

এই ওয়ার্কশপ ফ্যাসিলিলেটর হিসেবে থাকবেন:

🔹Prof. Dr. G. Hussein Rasool
▪️Honorary Founding Director, Bangladesh Islamic Psychology & Counselling Association-BIPCA
▪️Professor of Islāmic Psychology, Centre for Islāmic Studies & Civilisations, Charles Sturt University.
▪️Director of Academic Affairs & Consultant, Yashfeen Psychiatry & Psychotherapy.

📅 Date: 23rd January, 2025
🕘 Time: 9:00 AM to 5:00 PM
📍Venue: MEC Conference Room
965, 6th Floor, Rokeya Sarani, Shewrapara
(Opposite of Metro Pillar No. 306)

যারা সাইকোথেরাপিতে স্পিরিচুয়াল ইন্টারভেনশন শুধু তত্ত্বে নয়, বাস্তবে শিখতে চান, তারা কমেন্টে লিখুন “Interested”. আপনাকে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।

শীতের কুয়াশা চিরে পার হয়ে যাচ্ছে রিকশাটা। রাস্তায় মানুষ তেমন নেই। প্রফের ব্যস্ততম দিনগুলো আর স্বল্পপরিচিত শহর ছেড়ে ন...
18/01/2026

শীতের কুয়াশা চিরে পার হয়ে যাচ্ছে রিকশাটা। রাস্তায় মানুষ তেমন নেই। প্রফের ব্যস্ততম দিনগুলো আর স্বল্পপরিচিত শহর ছেড়ে নিজের পুরোনো শহরের দিকে যাচ্ছে তমা। বাড়ি ফেরার আনন্দের চেয়ে কোনো কিছুই এত মধুর লাগে না ওর। কিন্তু এবার ওর মন ভালো নেই।

দশ মিনিট পর রিকশা স্টেশনে পৌঁছাল। তড়িঘড়ি করে ট্রেনে উঠল তমা। ট্রেন ছাড়ল ঠিক ঠিক ছয়টায়। আশপাশের যাত্রীরা চাদরে আঁটসাঁট হয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শীতের সকালের কম্বলমুড়ি দেওয়া আরামের ঘুমটাকে কিছুটা হলেও যেন অনুভব করা যায়—তার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। কিন্তু তমার চোখে ঘুম নেই। অনেক রাতের ঘুম জমা আছে, কিন্তু ঘুম আসছে না।

মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়েছে আজ এক মাস। বাবা-হারা মেয়েটার মা-ই শেষ সম্বল। মা অবশ্য এসব নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত মনে হয় না। মেয়ে আসার খুশিতে কাল থেকে চিতই পিঠা বানানোর সরঞ্জামের ব্যবস্থা করছেন আয়েশ করে। চিতই পিঠা আর গরুর মাংস যে তার মেয়ের খুব প্রিয়।

আয়েশা ভাবেন, মৃত্যু তো প্রত্যেকেরই শেষ গন্তব্য। শুধু তিনিই যে মারা যাচ্ছেন, তা তো না। আমরা সবাই-ই তো মারা যাচ্ছি। আর আল্লাহ চাইলে সুস্থ হয়েও যেতে পারেন। এখন তো চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ উন্নত।

অবশ্য একটা বিষয় নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত। মহিলা সার্জন পেলে হয়। তমা অবশ্য বলেছে, মহিলা সার্জন আছেন। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে মহিলা সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া, তা কতটুকু পূরণ হবে—সে বিষয়ে নাকি সন্দেহ আছে। ওটির পরিবেশে নাকি এসব মেইনটেইন করা যায় না। ছোট বোনের সিজারের সময়ের কথা মনে পড়তেই চিন্তাটা আরও বাড়ল তার। নিজ চোখেই দেখেছিলেন—কী একটা অবস্থা!

তমা বলেছিল, অজ্ঞান করার ডাক্তারও নাকি অধিকাংশই পুরুষ। মহিলা ডাক্তার তেমন পাওয়া যায় না। ইস্! যদি এমন কোনো হাসপাতাল থাকত, যেখানে মহিলা ডাক্তার আর মহিলা স্টাফরাই মহিলাদের সেবা দিতেন—কত ভালোই না হতো!

মহিলাদের ইজ্জত-আবরুর হেফাজত কতই না সহজ হতো!

এখন প্রায় মধ্যরাত। বাসার সবাই যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়েছে। কয়েক মিনিট আগে মাথার ভেতর নানা চিন্তা ঘুরছিল। সব ঝেড়ে ফেলে বুক ভ...
16/01/2026

এখন প্রায় মধ্যরাত। বাসার সবাই যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়েছে। কয়েক মিনিট আগে মাথার ভেতর নানা চিন্তা ঘুরছিল। সব ঝেড়ে ফেলে বুক ভরে এক টা লম্বা শ্বাস নিতে যাব তখনই আবার সেই শব্দ!

শব্দ কানে আসার সাথে সাথেই বুকের ভেতর কেমন কেঁপে উঠলো। হাঁত কাপছে, নিঃশ্বাস আটকে আসছে যেন, মনে হচ্ছে আবারও সেই ঘটনা। কয়েক মুহুর্ত পরে সব শান্ত। কিন্তু বুকের ভেতর যেন একটা অ্যালার্ম এখনো বেজেই চলছে- আগের চেয়ে ধীরে, কিন্তু অবিরাম। একটু শান্ত হতে দেখলাম চোখ ভিজে উঠেছে।

“আর কি কখনো স্বাভাবিক ভাবে ঘুমাতে পারব না!” এতটুকু বলে থামলো জুবায়ের।

“ছেলেটা কত কষ্টের মধ্যে দিয়েই না যাচ্ছে!” তার বেদনা মাখা চেহারা দেখে আব্দুল্লাহ মনে মনে কিছু একটা ভাবলো। মুখে বললো “চলো ইয়াশফীনের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে দেখা করি।” জুবায়ের রাজি হয়ে গেল।

চিকিৎসক সব শুনে বললেন তিন মাস আগের মারাত্মক দুর্ঘটনাই তার বর্তমান মানসিক অবস্থার মূল কারণ। এজন্য গাড়ির হর্ণ কানে আসলেই সে স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এই অবস্থাকে বলা হয় Post-Traumatic Stress Disorder(PTSD).

PTSD এমন একটি মানসিক অবস্থা, যা ভয়াবহ কোন ঘটনা কিংবা মানসিক আঘাতমূলক কোন অভিজ্ঞতার পরে হতে পারে। যেমন— কোন দুর্ঘটনা, সহিংসতা, যুদ্ধ, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, মৃত্যুর মতো ভয়ংকর বা কষ্টদায়ক কোন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলে। এমনকি এ ধরনের ঘটনা স্বচক্ষে দেখলেও এমন হতে পারে। তখন সেই ব্যক্তি তার নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, বা অস্তিত্বের সংকটে ভোগে।

PTSD এর লক্ষণ সাধারণত মূল ঘটনার এক মাসের মধ্যে প্রকাশ পায়। কিছু ক্ষেত্রে, এক বা কয়েক বছর পরে কোন ট্রিগারের মাধ্যমে এটি বেরিয়ে আসতে পারে। PTSD এর কিছু সাধারণ লক্ষণ—

হঠাৎ সেই ভয়ংকর বা কষ্টদায়ক স্মৃতি মনে পড়া।
ঘুমের মধ্যে ট্রমার দৃশ্য বার বার দেখা।
ট্রমার ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোন শব্দ(গাড়ির হর্ণ, ব্যাড টাচ, মানুষের কন্ঠ, কারও হাসি বা কান্না), গন্ধ, দৃশ্য দ্বারা আতঙ্কিত হওয়া।

ট্রিগার এড়িয়ে চলা—মানুষ, জায়গা, শব্দ, আলোচনা অর্থাৎ ট্রমার ইঙ্গিত দেয় এমন যে কোন কনটেক্সট। যেমন: কেউ বিশ্বস্ত কারও দ্বারা হ্যারাসমেন্টের স্বীকার হলে সেই ব্যক্তি সম্পর্কিত সব কিছু এড়িয়ে চলা।
অকারণ রাগ, উদ্বেগ বা অপরাধবোধে ভোগা।
সহজে ভয় পাওয়া, এমনকি ছোট শব্দেও চমকে ওঠা।
ঘুম না আসা এবং ঘুমাতে ভয় পাওয়া।
সব সময় সতর্ক থাকা, যেন বিপদ এখনই আসবে।
মনোযোগ হারানো বা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া।
দ্রুত হৃদস্পন্দন, অতিতিক্ত ঘাম বা শারীরিক কান্তি।

আমরা তো কোন ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে নিজেদের মস্তিষ্ক কে ট্রমার পরে রিকভার করতে সচেতন হতে পারি। মস্তিষ্ককে নিরাপদ অনুভব করানো শিখতে পারি। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, ইমোশন ম্যানেজমেন্ট, ইতিবাচক চিন্তা, প্রিয়জনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, অন্যদের সাহায্য করার মাধ্যমে PTSD প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতে পারি। তবে উপরোক্ত লক্ষণগুলো বার বার দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরী। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে PTSD কাটিয়ে উঠতে এবং অবস্থার উন্নতিতে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে।

জুবায়ের বুঝতে পারছে নিয়মিত কাউন্সেলিং এর ফলে ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আল্লাহর ইচ্ছায় যে আবার স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছে। ইয়াশফীনে চিকিৎসা নেওয়া শুধু তার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিই করছে না, একইসাথে যেন ঈমানও শক্তিশালী হচ্ছে। আব্দুল্লাহ বরাবরের মতো ভালো পরামর্শ দিয়েছে তাকে। জীবনে ভালো বন্ধু থাকা প্রয়োজন যে বুঝতে পারে এবং আমাদের সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে।

নারী ডাক্তারের সুরক্ষা দেয় তো হাসপাতাল?ঘড়ির কাঁটায় তখন ৩টা বেজে ১৯ মিনিট। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে শুনশান নীরবতা, মাঝে মাঝ...
13/01/2026

নারী ডাক্তারের সুরক্ষা দেয় তো হাসপাতাল?

ঘড়ির কাঁটায় তখন ৩টা বেজে ১৯ মিনিট। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে শুনশান নীরবতা, মাঝে মাঝে শোনা যায় মনিটরের বিপ-বিপ শব্দ। নতুন ইন্টার্নশিপ শুরু হয়েছে ফাবিহার। চুপচাপ ডিউটি রুমে নোট লিখছিল সে। সেই নীরবতার মাঝেই দরজা আস্তে করে খোলা শুরু করে। চমকে ওঠে ফাবিহা।

কেউ একজন সামনে এসে দাঁড়ায়। অনুমতি ছাড়াই ঢুকে বলা শুরু করে, “আপা, একটু কথা ছিল…”

হাসপাতালের স্টাফ? অ্যাটেন্ড্যান্ট? বাইরের কেউ? ঠিক বুঝতে পারে না ফাবিহা। জিজ্ঞেস করে, “আপনি কি রোগীর লোক? কোনো সমস্যা হয়েছে পেশেন্টের?”

কোনো সদুত্তর না পেয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বাইরে যেতে বলল লোকটাকে। একটু ইতস্তত করে ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল লোকটি।

দ্রুত দরজা বন্ধ করল, ছিটকিনি দিল, কিন্তু মন শান্ত হলো না। ফজরের আজান দেওয়া পর্যন্ত চোখের পাতা আর এক করতে পারেনি সে।

হাসপাতালকে আমরা চিনি চিকিৎসার জায়গা, কষ্ট লাঘবের জায়গা হিসেবে। কিন্তু খুব কমই বলা হয় সেই মানুষগুলোর কথা—রাতের পর রাত জেগে যারা পাহারা দেন অন্যের জীবন। বহু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের একা রাতের ডিউটিতে সামলাতে হয় পুরো ওয়ার্ড। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে থেকে যায় অসংখ্য অনুচ্চারিত প্রশ্ন। এই কাঠামোগত ব্যর্থতায় দায়িত্ব আছে, কিন্তু সুরক্ষা নেই। এমতাবস্থায় প্রশ্ন ওঠে—নারী চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালে ন্যূনতম কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত?

প্রথমেই দরকার সুরক্ষিত পরিবেশ। প্রয়োজন অবকাঠামোগত সুব্যবস্থা, সিসিটিভি, সিকিউরিটি টহল, ইমার্জেন্সি সিকিউরিটি প্রটোকল।

নির্দিষ্ট সময়ের পরে, বিশেষত রাতে, অ্যাটেন্ডেন্ট প্রবেশের সীমাবদ্ধতা; ওয়ার্ডে অপ্রয়োজনীয় চলাচল রোধে বিধিনিষেধ; স্টাফ আইডি/ইউনিফর্মের ব্যবস্থা প্রয়োজন। নারী চিকিৎসকদের জন্য একা রাতের ডিউটি না রাখা, লোকবল সীমিত থাকলে এক ফ্লোরে কমপক্ষে দুজন ডিউটি ডাক্তার রাখা জরুরি। পরিশেষে নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে, যাতে অন্যের পর্দার প্রয়োজন রাখতে গিয়ে নিজেদের পর্দার লঙ্ঘন না হয়ে যায়।

“আমার চোখে কী যে সমস্যা ছিল! অনবরত পানি পড়ত। ডাক্তার দেখালাম, কোনো লাভ হলো না। শেষে এক কবিরাজের কাছে গেলাম। সে ঝাড়ফুঁক ক...
11/01/2026

“আমার চোখে কী যে সমস্যা ছিল! অনবরত পানি পড়ত। ডাক্তার দেখালাম, কোনো লাভ হলো না। শেষে এক কবিরাজের কাছে গেলাম। সে ঝাড়ফুঁক করল। ব্যস, সাথে সাথেই ঠিক হয়ে গেল! এখন আর কোনো সমস্যাই হয় না! কি আশ্চর্য ক্ষমতা তার!”

খাদিমা আপার আত্মবিশ্বাসী কথাগুলো শুনে খাদিজার কান খাড়া হয়ে গেল। খাদিজার আম্মুও গভীর মনোযোগ দিয়ে সবটা শুনছিলেন।

খাদিমা আপার ভঙ্গি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, এই ঝাড়ফুঁকের ভেতরে কুফরি কিছু থাকতে পারে, এমন চিন্তাই তার মাথায় আসেনি।

খাদিজার আম্মু কোমল কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
“সমস্যা থেমেছে এটা ঠিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কীভাবে থেমেছে?”

তারপর তিনি ধীরে ধীরে কথাটা খুলে বললেন:
“অনেক সময় শয়তান নিজেই কষ্ট দেয়। আবার নিজেই থেমে যায় যাতে মানুষ ভাবে, কবিরাজই তাকে রক্ষা করলো। অথচ এতে ভরসাটা আল্লাহর বদলে অন্যের দিকে চলে যায়।”

খাদিজার আম্মু নিয়মিত একটি তালিম হালাকাতে যুক্ত আছেন। পাশাপাশি তিনি উস্তাযদের কাছ থেকে দ্বীনের ইলম শিখে চলেছেন, মাশাআল্লাহ।

এবার তিনি সাহাবায়ে কিরামের একটি ঘটনা তুলে ধরে পুরো বিষয়টি খাদিমা আপাকে সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলেন।

তিনি বললেন:
‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী যাইনাব (রাদিআল্লাহু আনহা), ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিআল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণনা করেন,

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:

“নিশ্চয়ই জাদু, তাবিজ এবং অবৈধ প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শিরকের অন্তর্ভুক্ত।”

যাইনাব (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন,
“আমি বললাম, আপনি এসব কী বলেন? আল্লাহর কসম! আমার চোখ থেকে পানি পড়তো। আমি এক ইয়াহুদী ব্যক্তির কাছে ঝাড়ফুঁক করাতাম। সে ঝাড়ফুঁক করলে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যেতো।”

তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিআল্লাহু আনহু) বললেন,
"এগুলো শয়তানের কাজ। সে নিজ হাতে চোখে যন্ত্রণা দেয়। আর যখন ঝাড়ফুঁক করা হয়, তখন সে বিরত থাকে।"

এরপর তিনি বললেন:
"এর চেয়ে বরং তোমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল যেটা রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন,

اَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِيْ، لَا شِفَاءَ اِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاۤءً لَّا يُغَادِرُ سَقَمًا

'হে মানবজাতির রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার দেওয়া নিরাময়ই প্রকৃত নিরাময় যার পরে আর কোনো রোগ অবশিষ্ট থাকে না।'"

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৮৩)

শেষে খাদিজার আম্মু শান্ত কণ্ঠে বললেন:
ইসলাম যে রুকইয়াহ শার‘ইয়াহ বা বৈধ ঝাড়ফুঁকের অনুমতি দেয়, সেখানেও আমাদের নিয়ত স্পষ্ট রাখতে হবে, শিফা কেবলমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকেই আসে।

চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন প্রফেসর এবি সেলিম,“এই যে প্রেসক্রিপশনে দাগ দিয়েছিলাম এই ওষুধটা, এটা ...
08/01/2026

চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন প্রফেসর এবি সেলিম,

“এই যে প্রেসক্রিপশনে দাগ দিয়েছিলাম এই ওষুধটা, এটা খেয়েছেন?”

দীর্ঘদিন বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন রাহেলা বেগম। প্রফেসর সেলিমের অনেক নামডাক ও প্রশংসা শুনে ভরসা করে একমাস আগে দেখিয়েছিলেন। আজ এসেছেন ফলোআপ করতে।

“না স্যার। ফার্মেসির লোক বললো এটা ইন্ডিয়ান কোম্পানির ওষুধ, দামও বেশি। একই ওষুধের চেয়ে কম দামে আমাদের দেশের কোম্পানির আছে— বললো। ওটাই খেয়েছি”, স্তিমিত স্বরে উত্তর দিলেন রাহেলা।

বলা হলো না যেখানে একমাত্র ছেলের স্বল্প আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার চলে, সেখানে এত দামী ওষুধ বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়।

বেল চেপে অ্যাসিস্ট্যান্টকে ডাকলেন প্রফেসর।

“জাহিদ! এই জাহিদ! উনাকে নিয়ে যাও। আমার প্রেসক্রিপশন শতভাগ ফলো না করলে এমন রোগী আমি দেখি না। বাইরে বলে দাও— এমন আরও কেউ থাকলে যেন আমাকে আর দেখাতে না আসে। আমি যে কোম্পানির যে ওষুধ লিখি, ঠিক সেটাই ফলো করতে হবে। বুঝেছেন? যান এখন!”

রাহেলা বেগমের চোখে জল এলো। পাশ থেকে আরেকজন ফিসফিস করে বললো,

“আহারে আপা, জানেন না — স্যার একটু রাগী! কেন এমন করতে গেলেন? স্যারের কথামতো টেস্ট না করলে, ওষুধ না খেলে স্যার খুব মাইন্ড করেন। আজকে চলে যান আপা। পরে স্যারের কথামতো ওষুধ নিয়ে আরেকদিন আসলে স্যার আবার দেখবেন।”

এই ঘটনাটা কাল্পনিক। তবে এমন ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে, অসংখ্য চেম্বারে। যেখানে কিছু বিশেষ ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ডাক্তারের বিশেষ বোঝাপড়া চলে। কিছু সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে কতিপয় ডাক্তার রোগীদের বাধ্য করেন সেই বিশেষ কোম্পানির ওষুধ ব্যবহার করতে। এতে রোগীর অসুবিধা হলেও তা যেন ডাক্তার সাহেবের দেখার কোনো বিষয়ই নয়। বরং ব্যক্তিগত এবং সেই ব্র্যান্ড বা কোম্পানির লাভের পাল্লা ভারী করাই যেন ডাক্তার সাহেবের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ যেন এক ‘ওপেন সিক্রেট’।

কিন্তু এটাই কি একজন ডাক্তারের কাছে মুখ্য হতে পারে?

হিপোক্রেটিক ওথ বা শপথ নিয়ে একজন ডাক্তার যখন কর্মজীবন শুরু করেন, তিনি শপথ করেন— রোগীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণই পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। রোগীর যথাযথ সম্মানের মাধ্যমে বজায় থাকবে চিকিৎসা পেশার মহত্ব ও ঐতিহ্য।

একজন চিকিৎসকের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেক হলো তার আমানত। যেকোনো তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ লাভের জন্য যদি রোগীর অসুবিধা বা অকল্যাণ সৃষ্টি হয়, তবে আমানত রক্ষা ব্যর্থ হয়ে পড়ে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা সূরা আন-নিসায় বলেছেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।”

এবং দায়িত্বশীল পেশার জবাবদিহিতা নিয়ে আল্লাহ হুঁশিয়ার করেছেন —

“যেদিন তারা জিহ্বা, হাত ও পা দ্বারা নিজেদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে।”

কাজেই যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথা বন্ধ করতে ডাক্তারকেই সচেষ্ট হতে হবে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে শরিয়াহ হাসপাতাল — যার মূলনীতিই হলো শরিয়াহ অনুযায়ী ডাক্তার ও রোগী উভয়ের নিজ নিজ অধিকার লাভ এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণ।

শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে ডাক্তার নিজ পেশার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করবেন। এর জন্য হাসপাতাল আয়োজন করতে পারে নানাবিধ প্রশিক্ষণ ও সেমিনার।

ওষুধ কোম্পানি ও তাদের প্রতিনিধিদের কার্যবিধি নিয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ হাসপাতালের একটি বিশেষ দিক হতে পারে।

সর্বোপরি, রোগীর স্বাস্থ্য ও সম্মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় ডাক্তার ও হাসপাতাল পক্ষের বিশেষ আমানতদারিতার মনোভাব প্রয়োজন— যা শরঈ প্রয়োগের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

“আমি ঠিক কবে থেকে দরজার তালা বারবার চেক করা শুরু করলাম, মনে নেই…”প্রথম দিকে মনে হতো, ‘একবার বেশি দেখার ক্ষতি কী?’কিন্তু ...
05/01/2026

“আমি ঠিক কবে থেকে দরজার তালা বারবার চেক করা শুরু করলাম, মনে নেই…”

প্রথম দিকে মনে হতো, ‘একবার বেশি দেখার ক্ষতি কী?’

কিন্তু ধীরে ধীরে দশ মিনিট, পনের মিনিট ধরে একই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা স্বাভাবিক হয়ে গেল। তালা ঠিকমতো লেগেছে কিনা—এই ভয় যেন আমার মনে স্থায়ী বাসা বাঁধল।

প্রাথমিকভাবে এটা শুধু দরজার ওপর সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে OCD-এর প্রভাব আমার প্রতিদিনের জীবনে ঢুকে পড়ল।

সবাই জানত আমি ঘরে বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। কিন্তু অতিথি এলে চেয়ার, টেবিল, বোতল, সব যেন নতুন করে ধুতে হত।

বাচ্চারা এলোমেলো করলে তাদের খেলনা বা বই এক জায়গায় রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে ঘরে হুল্লোড় লেগে যেত। আমি ব্যাকুল হয়ে উঠতাম, হৃদয়টা অবিশ্বাস্যভাবে অস্থির হয়ে যেত।

নিজের পরিবারও আমার আচরণে বিরক্ত হয়ে উঠতে লাগল। তারা বলত, “এটা কী প্রয়োজন?”, কিন্তু আমি শোনার মতো মনোযোগ ধরে রাখতে পারতাম না।

ধীরে ধীরে OCD মারাত্মক রূপ নিল। আমি শুধু বারবার হাত ধোয়া বা দরজা চেক করা নয়, বরং ছোটখাট কাজের মধ্যেও ভয়াবহ আতঙ্কে ভুগতাম। আমার ঘর যেন চাপের কক্ষ হয়ে উঠল। শেষমেশ পরিবার আমাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল।

তিনি আমাকে বোঝালেন, আমি Obsessive Compulsive Disorder সংক্ষেপে OCD-তে ভুগছি।

OCD-তে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের অসমতা, Amygdala-Hippocampus Loop-এর overactivity, এবং Perfectionism + Uncertainty intolerance থাকে।

আমার দরজা চেক করা, অতিরিক্ত পরিশ্রুতির চেষ্টা, এবং এলোমেলো বাচ্চাদের নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাকুলতা—সবই Compulsion এবং Obsessive Thought এর ফল।

সাইকোলজিস্ট CBT (Cognitive Behavioral Therapy) এবং ERP (Exposure and Response Prevention) প্রয়োগ করা শুরু করলেন। এভাবে আমার ট্রিটমেন্ট চলতে থাকলো। আমি ধীরে ধীরে শিখতে শুরু করলাম, দরজা একবার চেক করলেই হবে, হাত ধোয়া সীমিত, এবং ঘর এলোমেলো থাকলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

ইসলামে এমন মনস্তাত্ত্বিক চাপকে বলা হয় ওয়াসওয়াসা — শয়তানের কুমন্ত্রণা। সাহাবাগণ কিংবা অনেক সালাফও এই আচরণের সাথে পরিচিত ছিলেন।

রসূল ﷺ বলেছেন: “শয়তান মানুষের কাছে এসে বলবে— এটা কে সৃষ্টি করলো? এটা ঠিক হলো কিনা?… তখন বলো, আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সহিহ বুখারি)

ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর কাছে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি ওযু করলেও মনে হয়নি ঠিক হলো কি না। ইমাম বলেছিলেন: “এটা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। একবার করেই বিশ্বাস করবে; বারবার করবে না।”

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) – Al-Wabil al-Sayyib – বলেছেন, “শয়তান ইবাদতে সন্দেহ সৃষ্টি করে, এবং এই সন্দেহের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে অন্তরকে প্রশান্ত রাখতে হবে।”

কুরআনেও নির্দেশ আছে:

“আল্লাহর স্মরণেই অন্তরে শান্তি লাভ হয়।” (সূরা রাদ ২৮)

অর্থাৎ, ইসলামও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানসিক চাপ বা পুনরাবৃত্তি শয়তানী কুমন্ত্রণা হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসা, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের সঙ্গে জিকির একসাথে করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

উপরের গল্পটি শুধু এক ব্যক্তির নয়, অনেকেরই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। OCD হল মনের পরীক্ষা ও শয়তানের কুমন্ত্রাণার সংমিশ্রণ।

আধুনিক সাইকোলজির মতে, OCD নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন চিন্তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াকরণ এবং অপ্রয়োজনীয় কাজ কমানো।

ইসলামী দিক থেকে আমরা শিখি আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তাআলার জিকির করা এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা অস্বীকার করা।

এই দুই পথের সমন্বয় করলে ইনশাআল্লাহ আমাদের মনে শান্তি ফিরে আসবে।

OCD ভয়ঙ্কর মনে হলেও সঠিক চিকিৎসা ও আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ সুস্থ হতে পারে।

Yashfeen এ অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট এবং সাইকোলজিস্ট নিয়মিত সার্ভিস প্রদান করছেন। আপনার যেকোনো মানসিক সমস্যার সাহায্যের জন্যে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, ইনশাআল্লাহ।

আজ নিশাতের মন বেশ প্রফুল্ল। অর্থডোন্টিক্সে সদ্য পোস্টগ্র্যাজুয়েশন শেষ করে একটি হাসপাতালে কাজ শুরু করেছে সে। প্রফেশনাল জী...
02/01/2026

আজ নিশাতের মন বেশ প্রফুল্ল। অর্থডোন্টিক্সে সদ্য পোস্টগ্র্যাজুয়েশন শেষ করে একটি হাসপাতালে কাজ শুরু করেছে সে। প্রফেশনাল জীবনের সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি এক সার্জারির টিম মেম্বার হিসেবে থাকার সুযোগ হয়েছিল এবার।

সেই হাসপাতালেই জন্ম নেয় এক নবজাতক, তবে ‘ক্লেফট লিপ প্যালেট’ নামক এক জন্মগত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুটি। খাওয়াতে গেলে নাকের মধ্য দিয়ে শ্বাসনালীতে খাবার ঢুকে যাওয়াসহ নানারকম সমস্যায় শিশুটির বেশ কষ্ট হচ্ছিল। অনেক দিন ধরে তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের দৌড়ঝাঁপ, দুশ্চিন্তা আর ভোগান্তির শেষ ছিল না। এর উপযুক্ত কোনো স্থায়ী সমাধান যেন কোথাও মিলছেই না!

অবশেষে সেই হাসপাতালেই বিভিন্ন স্পেশালিস্ট ডাক্তারের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে শিশুটির ঠোঁট ও তালু সার্জারি এবং মুখের অবয়ব ও দাঁতের ডেন্টিশন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসা পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে এবার টানা ৮–১০ ঘণ্টা সার্জারির পর ট্রিটমেন্টের প্রায় ৬০% সম্পন্ন হয় আপাত যাত্রায়।

অপারেশন সফল। ডাক্তারদের পুরো টিম, শিশুটির বাবা-মা—সহ সবাই বেশ খুশি। বরাবরই অর্থডোন্টিক্সে হারাম কোনো চিকিৎসায় যেন না জড়াতে হয়—এই চিন্তাটা নিশাতের মনে সবসময়ই কাজ করত। তবে আজ তার ক্লিনিক্যাল দক্ষতা দিয়ে সত্যি সত্যি সমস্যায় পড়া একটি পরিবারের কষ্ট দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারায় তার প্রচণ্ড ভালো লাগছে।

রবের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ঝাপসা চোখে মনে মনে তাসবিহ পড়তে থাকে সে।

“এমন অর্থপূর্ণ জীবনই তো চেয়েছিলাম, মাবুদ! তুমি সহজ করে দিয়েছ বলেই আজ সম্ভব হয়েছে।”

আজ বাসায় গিয়ে দুই রাকাত শুকরানার সালাত আদায় করতেই হবে।

এসব ভাবতে ভাবতে ফোনটা হাতে নিয়ে আজ তাদের সম্মিলিত সার্জারি নিয়ে একটি পোস্ট দিয়ে দিল সে ফেসবুকে।

নিশাতের ছোটবেলার বান্ধবী রাইয়ানা বেশ ফ্যাশন সচেতন। সম্প্রতি সুন্দর দেখানোর জন্য ভ্যাম্পায়ার দাঁত করানোর ব্যাপারে বেশ চিন্তাভাবনা করছে সে। ফোন স্ক্রল করতে করতে সামনে নিশাতের সার্জারির পোস্টটা চলে আসে। এরপর মনে মনে ভাবে,

“আরে, পেয়ে গিয়েছি সবচেয়ে বিশ্বস্ত মাধ্যম! আমার ফ্রেন্ড এত বড় ডেন্টাল সার্জন—তাকে ছাড়া আর কার কাছে গিয়ে স্বস্তি পাই!”

এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিশাতকে ইনবক্সে নক দিয়ে তার ইচ্ছার কথা জানায় রাইয়ানা। নিশাত এখনো নিজস্ব চেম্বার দেয়নি, আপাতত হাসপাতালে কাজ করছে। রাইয়ানা তাকে জিজ্ঞেস করে—কবে সে হাসপাতালে আসবে, কবে নিশাত তাকে সময় দিতে পারবে।

এদিকে নিশাত বারবার বলতে থাকে, তার ক্লিনিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স কম; তার চেয়েও অনেক বড় বড় ডেন্টিস্ট আছেন। কিন্তু রাইয়ানা মানতে নারাজ—নিশাতকেই চাই সে।

বহুদিন পর স্কুলজীবনের বান্ধবীর মেসেজ পেয়ে নিশাতের মনটা একটু নরম হয়ে আসে। কিন্তু যে পরিস্থিতি নিয়ে সে ভয় পাচ্ছিল, ঠিক সেটাই সামনে এসে দাঁড়ায়।

জটিল জন্মগত রোগ বা সমস্যার জন্য করা সার্জারি আর নিছক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সার্জারির নামে স্বাভাবিক অবস্থার বিকৃতির হুকুম—এই দুইটি বিষয় কি কখনো একই স্তরে পড়ে? এই ব্যাপারে শারিয়াহকী বলে, সাধারণ মানুষ ও ডাক্তারদের মধ্যে আসলেই কতটুকু সচেতনতা আছে?

নিশাত যে হাসপাতালে কাজ করে, সেখানে যদি শরিয়াহর বিধিমালা মেনে চলা হতো, তাহলে এই দুইটি বিষয়কে কীভাবে মূল্যায়ন করা হতো?

“বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত আর উটকে রান্নার পাতিল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়!”রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত হাদিসটি ...
31/12/2025

“বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত আর উটকে রান্নার পাতিল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়!”

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করে রিফা তার প্রতিবেশী আফিফাকে বুঝিয়ে বলছিলেন বদনজরের সত্যতা সম্পর্কে।

আফিফার ছোট মেয়েটা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। গায়ে সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব থাকে কিন্তু থার্মোমিটারে আসে না। কিছুদিন আগের চঞ্চল মেয়েটা যেন মুড়ছে পড়েছে।

নজর সম্পর্কে অল্প সল্প শুনেছে সে কিন্তু ইসলাম কী বলে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকায় সে তার প্রতিবেশী রিফার দারস্থ হলেন।

রিফা একজন শিক্ষিকা। এছাড়া ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, মাশাআল্লাহ।

রিফা তাকে বদনজর সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে বললেন। আফিফা সবচেয়ে অবাক হয়েছে একটা হাদিস শুনে, সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুর নজর লেগে যাওয়ার ঘটনা শুনে! সুবহানাল্লাহ!

রিফা বলছিলেন,

আবূ উমামা ইবনু সহল ইব্নু হুনাইফ (র) থেকে বর্ণিতঃ

(জুহফার নিকটবর্তী) খাব্বার নামক স্থানে আমার পিতা আবূ সহল (ইব্নু হানীফ) গোসল করার মনস্থ করে জুব্বা খুলে ফেললেন। আমির ইব্নু রবীয়া দেখতেছিলেন। আমার পিতা সহল সুন্দর ও সুদর্শন লোক ছিলেন। আমির বললেন, আজকের মতো আর কোনদিন আমি এত সুন্দর মানুষ দেখিনি, এমন কি এত সুন্দর দেহবিশিষ্ট কোন যুবতীও দেখিনি। (আমিরের এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই) তৎক্ষণাৎ সহলের গায়ে জ্বর এল এবং জ্বরের বেগ ভীষণ হল। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল, সহলের জ্বর এসেছে এবং সে আপনার সাথে যেতে পারবে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহলের কাছে এলেন, সহল আমিরের সেই কথা নকল করে শোনালেন। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন মুসলমান নিজের ভাইকে কেন হত্যা করে ? অতঃপর আমিরকে বললেন, তুমি (বারাকাল্লাহ) বললে না কেন? বদ নজর (কুদৃষ্টি) সত্য। সহলের জন্য ওযূ কর, তাকেও ওযুর পানি দাও। আমির সহলের জন্য ওযূ করলেন এবং ওযুর পানি তাকে দিলেন। অতঃপর সহল ভাল হয়ে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে গেলেন, আর তাঁর কোন অসুবিধা তখন ছিল না। (বুখারী ৫৭৪০, মুসলিম ২১৮৭, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ১৬৮৮)

কারো সুন্দর জিনিস দেখে মুগ্ধ হলে বারাকাহর দু'আ পড়তে হয় সেটা আফিফা নতুন করে জানলেন।

এছাড়া রিফা তাকে সকাল সন্ধ্যার মাসনুন আমল করার গুরুত্ব বুঝিয়ে বললেন। আরও বললেন এটা নিজের জন্য এবং বাচ্চার জন্য নিয়ত করে করতে।

মাসনুন আমল হচ্ছে ঢাল যেগুলোর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার নিরাপত্তা চাই। আফিফা এখন নিয়মিত মাসনুন আমল করার চেষ্টা করছেন। বাচ্চাদের জন্যও অনুরূপ করছেন। রিফার কথা মতো ছোট মেয়ের জন্য কিছুদিন বদনজরের রুকইয়াহ করেছেন।

সহীহ মুসলিম এবং মুসনাদে আহমাদের হাদিসে আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বদনজর সত্য, ভাগ্যের চেয়েও আগে বেড়ে যায় এমন কিছু যদি থাকতো, তাহলে অবশ্যই সেটা হতো বদনজর! যদি তোমাদের বদনজরের জন্য গোসল করতে বলা হয় তবে গোসল করে নিও..”

আফিফা রিফার কথা মতো বদনজরের নিয়তে আয়তুল কুরসি, সূরাহ ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক, নাস, কাফিরূন ইত্যাদি পড়ে পানিতে ফু দিয়ে সেই পানি দিয়ে কিছুদিন গোসল করালেন মেয়েকে। মেয়েটা আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠছে দেখে আফিফার মনে সূকুন এলো সে সাথে সাথে বারাকাহর দু'আ পড়ে নিলেন।

আফিফার মনে পড়ে গেলো সূরাহ কাহফের জনৈক ব্যক্তির ঘটনা।

"তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন 'মা-শা-আল্লাহ, লা-ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' বললে না?" (সূরাহ কাহফ, আয়াত ৩৯)

এই আয়াতকে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন—কোনো সুন্দর, বিস্ময়কর বা পছন্দনীয় কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করা আবশ্যক। বিশেষত মা-শা-আল্লাহ, সুবহানাল্লাহ কিংবা আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত। কারণ, কোনো নিয়ামত দেখে মুগ্ধ হয়ে যদি মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাঁকে স্মরণ করে, তবে সেই নিয়ামতের ওপর আল্লাহর হেফাজত অব্যাহত থাকে।

যেহেতু এবোর্শন বা গর্ভপাত একটি সংবেদনশীল বিষয়, একটি ইসলামিক শারিয়াহ ভিত্তিক হাসপাতাল এই ইস্যুতে মেডিকেল এথিক্স এবং কুর...
28/12/2025

যেহেতু এবোর্শন বা গর্ভপাত একটি সংবেদনশীল বিষয়, একটি ইসলামিক শারিয়াহ ভিত্তিক হাসপাতাল এই ইস্যুতে মেডিকেল এথিক্স এবং কুরআন-হাদীসের নির্যাস তথা ফিকহি শারিয়াহ নীতিমালা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। চলুন দেখে নিই, কেমন হতে পারে এই নীতিমালা!

১) মৌলিক নীতি : জীবন রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

মাকাসিদ আশ শারিয়াহ বা শারিয়াহর মূল উদ্দেশ্যের একটি হলো জীবন রক্ষা। সূরাহ মায়িদাতে আল্লাহ বলেন,

“যে কেউ কোনো প্রাণকে হত্যা করে—অন্য প্রাণের পরিবর্তে নয় বা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য নয়—তবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যে কেউ কোনো প্রাণকে রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।”

এবং সূরাহ ইসরায় আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,

“তোমরা আল্লাহ যাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করো না।”

এই আয়াতগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি, মানবজীবন আল্লাহর দেয়া একটি পবিত্র আমানত, এবং অন্যায়ভাবে তা নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কারণেই গর্ভপাত বা এবোর্শন এই নীতির আওতায় পড়ে।

সূরাহ ইসরায় আল্লাহ আরও বলেন,

“তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমি তাদের ও তোমাদের জীবিকা দিই।”

অর্থাৎ অর্থনৈতিক কষ্ট, দারিদ্র্য বা সামাজিক কোনো কারণেই এবোর্শনকে ইসলাম অনুমতি দেয় না।

অতএব শারিয়াহ হাসপাতালের নীতি হবে—

এবোর্শন কখনোই ইচ্ছাধীন নয়।

কেবলমাত্র জরুরি নৈতিক, চিকিৎসাগত বা শারিয়াহ অনুমোদিত কারণেই তা করা যেতে পারে।

২) সিদ্ধান্ত নেবে শারিয়াহ ও মেডিকেল বোর্ড

একটি শারিয়াহ মেডিকেল এথিক্স কমিটি থাকবে, যেখানে থাকবেন—

১. একজন আলেম, যিনি চিকিৎসা-সংক্রান্ত ফিকহ বিশেষজ্ঞ
২. একজন স্ত্রীরোগ বা গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
৩. একজন মেডিকেল এথিক্স বিশেষজ্ঞ
৪. একজন সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সাইকোলজিস্ট

প্রতিটি কেস এই বোর্ডের সম্মিলিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে—এবোর্শন অনুমোদিত কিনা।
প্রতিটি কেসের লিখিত ডকুমেন্ট ও শারিয়াহ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত সংরক্ষিত থাকবে।

৩) চিকিৎসাগত যাচাই

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে—

মায়ের শারীরিক বা মানসিক অবস্থা সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ।

কোনোভাবেই মায়ের জীবনহানি বা অঙ্গহানি রোধ করা যাচ্ছে না।

অধিকাংশ ফিকহ বিশেষজ্ঞের মতে, গর্ভধারণের ফলে যদি মায়ের জীবন নিশ্চিতভাবে হুমকির মুখে পড়ে, শুধুমাত্র তখনই এবোর্শনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
কারণ, মায়ের জীবন রক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। মা ইতিমধ্যেই একটি জীবিত, সচেতন প্রাণ; এবং জীবন রক্ষা মাকাসিদে শারিয়াহর অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

৪) মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং

শারিয়াহ হাসপাতাল কেবল চিকিৎসাগত নয়, মানসিক ও আত্মিক সহায়তাও প্রদান করবে। এবোর্শনের আগে ও পরে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা, মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলায় কাউন্সেলিং, এবং মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিটি কেস রিপোর্ট ও ফিকহি মতামত যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে নথিভুক্ত থাকবে। গোপনীয়তা রক্ষা ও রোগীর অবহেলার কোনো সুযোগ থাকবে না।

রাফিয়ার আলোচনার পর বান্ধবীরা বুঝতে পারলো—এবোর্শন বা গর্ভপাতের বিষয়টি কেবল চিকিৎসার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক বিবেচনার এক জটিল মেলবন্ধন।

প্রচলিত হাসপাতাল যেখানে রোগীর শারীরিক সুস্থতা ও আইনি অনুমোদনকে প্রধান বিবেচনা করে, সেখানে শারিয়াহ হাসপাতাল ইসলামী শারিয়াহর বিধান, জীবন রক্ষার নীতি এবং মানবিকতাকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়।

এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রত্যেক জীবন মূল্যবান।
আর এবোর্শনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা হওয়া উচিত গভীর চিন্তা, ধর্মীয় সচেতনতা ও মানবিক বিবেচনার সমন্বয়ে।

তাই এই বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে হলে চিকিৎসক, ধর্মীয় ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত মতামতই হতে পারে সর্বোত্তম পথ।

Address

Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Yashfeen Hospital posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Yashfeen Hospital:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category