31/12/2025
“বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত আর উটকে রান্নার পাতিল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়!”
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত হাদিসটি উল্লেখ করে রিফা তার প্রতিবেশী আফিফাকে বুঝিয়ে বলছিলেন বদনজরের সত্যতা সম্পর্কে।
আফিফার ছোট মেয়েটা প্রায়ই অসুস্থ থাকে। গায়ে সারাক্ষণ জ্বর জ্বর ভাব থাকে কিন্তু থার্মোমিটারে আসে না। কিছুদিন আগের চঞ্চল মেয়েটা যেন মুড়ছে পড়েছে।
নজর সম্পর্কে অল্প সল্প শুনেছে সে কিন্তু ইসলাম কী বলে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকায় সে তার প্রতিবেশী রিফার দারস্থ হলেন।
রিফা একজন শিক্ষিকা। এছাড়া ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, মাশাআল্লাহ।
রিফা তাকে বদনজর সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে বললেন। আফিফা সবচেয়ে অবাক হয়েছে একটা হাদিস শুনে, সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুর নজর লেগে যাওয়ার ঘটনা শুনে! সুবহানাল্লাহ!
রিফা বলছিলেন,
আবূ উমামা ইবনু সহল ইব্নু হুনাইফ (র) থেকে বর্ণিতঃ
(জুহফার নিকটবর্তী) খাব্বার নামক স্থানে আমার পিতা আবূ সহল (ইব্নু হানীফ) গোসল করার মনস্থ করে জুব্বা খুলে ফেললেন। আমির ইব্নু রবীয়া দেখতেছিলেন। আমার পিতা সহল সুন্দর ও সুদর্শন লোক ছিলেন। আমির বললেন, আজকের মতো আর কোনদিন আমি এত সুন্দর মানুষ দেখিনি, এমন কি এত সুন্দর দেহবিশিষ্ট কোন যুবতীও দেখিনি। (আমিরের এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই) তৎক্ষণাৎ সহলের গায়ে জ্বর এল এবং জ্বরের বেগ ভীষণ হল। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বলল, সহলের জ্বর এসেছে এবং সে আপনার সাথে যেতে পারবে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহলের কাছে এলেন, সহল আমিরের সেই কথা নকল করে শোনালেন। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন মুসলমান নিজের ভাইকে কেন হত্যা করে ? অতঃপর আমিরকে বললেন, তুমি (বারাকাল্লাহ) বললে না কেন? বদ নজর (কুদৃষ্টি) সত্য। সহলের জন্য ওযূ কর, তাকেও ওযুর পানি দাও। আমির সহলের জন্য ওযূ করলেন এবং ওযুর পানি তাকে দিলেন। অতঃপর সহল ভাল হয়ে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে গেলেন, আর তাঁর কোন অসুবিধা তখন ছিল না। (বুখারী ৫৭৪০, মুসলিম ২১৮৭, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ১৬৮৮)
কারো সুন্দর জিনিস দেখে মুগ্ধ হলে বারাকাহর দু'আ পড়তে হয় সেটা আফিফা নতুন করে জানলেন।
এছাড়া রিফা তাকে সকাল সন্ধ্যার মাসনুন আমল করার গুরুত্ব বুঝিয়ে বললেন। আরও বললেন এটা নিজের জন্য এবং বাচ্চার জন্য নিয়ত করে করতে।
মাসনুন আমল হচ্ছে ঢাল যেগুলোর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার নিরাপত্তা চাই। আফিফা এখন নিয়মিত মাসনুন আমল করার চেষ্টা করছেন। বাচ্চাদের জন্যও অনুরূপ করছেন। রিফার কথা মতো ছোট মেয়ের জন্য কিছুদিন বদনজরের রুকইয়াহ করেছেন।
সহীহ মুসলিম এবং মুসনাদে আহমাদের হাদিসে আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বদনজর সত্য, ভাগ্যের চেয়েও আগে বেড়ে যায় এমন কিছু যদি থাকতো, তাহলে অবশ্যই সেটা হতো বদনজর! যদি তোমাদের বদনজরের জন্য গোসল করতে বলা হয় তবে গোসল করে নিও..”
আফিফা রিফার কথা মতো বদনজরের নিয়তে আয়তুল কুরসি, সূরাহ ফাতিহা, ইখলাস, ফালাক, নাস, কাফিরূন ইত্যাদি পড়ে পানিতে ফু দিয়ে সেই পানি দিয়ে কিছুদিন গোসল করালেন মেয়েকে। মেয়েটা আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠছে দেখে আফিফার মনে সূকুন এলো সে সাথে সাথে বারাকাহর দু'আ পড়ে নিলেন।
আফিফার মনে পড়ে গেলো সূরাহ কাহফের জনৈক ব্যক্তির ঘটনা।
"তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন 'মা-শা-আল্লাহ, লা-ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' বললে না?" (সূরাহ কাহফ, আয়াত ৩৯)
এই আয়াতকে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন—কোনো সুন্দর, বিস্ময়কর বা পছন্দনীয় কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করা আবশ্যক। বিশেষত মা-শা-আল্লাহ, সুবহানাল্লাহ কিংবা আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত। কারণ, কোনো নিয়ামত দেখে মুগ্ধ হয়ে যদি মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাঁকে স্মরণ করে, তবে সেই নিয়ামতের ওপর আল্লাহর হেফাজত অব্যাহত থাকে।