14/01/2026
🔴 পাগলামির জাদু (সিহরুল জুনূন)
অতিরিক্ত সন্দেহ, কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) ও কল্পনা
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। কারণ সন্দেহ হলো পাগলামির দরজা—এটি মানুষকে ধীরে ধীরে পাগল করে দিতে পারে (আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন)।
👈 এক ব্যক্তি ইমাম ইবন আকীল হাম্বলি (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করেছিল:
“হে ইমাম, আমি সাগরে গোসল করি, কিন্তু বের হয়ে মনে হয় যেন গোসলই করিনি।”
তখন ইবন আকীল (রহ.) বললেন:
“তোমার ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
অর্থাৎ তিনি পাগল—এই ইঙ্গিত দিলেন।
➖ অমনোযোগ, বিভ্রান্তি ও তীব্র ভুলে যাওয়া, সঙ্গে চোখ ফাঁকা করে এক জায়গায় তাকিয়ে থাকা।
➖ শরীরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি অনীহা
গোসল করতে চায় না, দীর্ঘদিন গোসল ছাড়াই থাকে। পরিবারের জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে গোসল করে।
➖ নিজের সাজসজ্জা ও বাহ্যিক চেহারার প্রতি অবহেলা, কথাবার্তায় এলোমেলো ভাব।
➖ একাকী থাকতে ভালোবাসা, বিশেষ করে নির্জন ও পরিত্যক্ত জায়গায়—কবরস্থান, ধ্বংসস্তূপ, পাহাড় ইত্যাদি।
➖ কিছু নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি তীব্র ঘৃণা
যেমন মা, বাবা বা পরিবারের কারও প্রতি অকারণ ঘৃণা, শত্রুতা, এমনকি মারধর বা গালিগালাজ পর্যন্ত করতে পারে।
পাগলামির জাদুর চিকিৎসা
✒ এই জাদুর চিকিৎসায় ধৈর্য দরকার। কখনো আল্লাহর ইচ্ছায় দ্রুতও সুস্থ হয়ে যেতে পারে। সবকিছু আল্লাহর হাতেই—তিনি যখন চান, তখনই হয়।
▪ রোগীর ওপর শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ করতে হবে। বিশেষভাবে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, দুই কুল (ফালাক ও নাস) এবং জাদু ধ্বংসের আয়াতগুলো বেশি করে পড়বে।
পড়ার সময় পানি ও তেলে ফু দিবে।
▪ রুকইয়াহ করার সময় রোগীকে সেই দম করা পানি পান করানো হবে এবং মাঝে মাঝে হালকা করে মুখে পানি ছিটানো হবে।
▪ পানিতে বরই পাতা মিশিয়ে তা পান করাবে এবং সেই পানি দিয়ে গোসল করাবে।
এরপর রুকইয়াহ করা অলিভ অয়েল বা কালোজিরার তেল শরীরে মালিশ করবে।
▪ নিচের সূরাগুলো রেকর্ড করে প্রতিদিন ২–৩ বার শোনাবে, কমপক্ষে এক মাস বা তার বেশি সময়—
সূরা: বাকারা, হুদ, হিজর, সাফফাত, ক্বাফ, রহমান, মুলক, জিন, আ‘লা, যিলযাল, হুমাযা, কাফিরুন, ফালাক, নাস।
▪ পরিবারের দোয়া, বিশেষ করে মা-বাবার দোয়া— নেওয়া।
🤲 দোয়া
🤲 হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে শরণ চাই শ্বেতরোগ, পাগলামি, কুষ্ঠ ও সব খারাপ রোগ থেকে।
🤲 হে আল্লাহ! পাগলামির জাদুতে আক্রান্ত সব রোগীকে আপনি শিফা দান করুন—হে বিশ্বজগতের রব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: পোস্ট কপি করা নিষেধ।
Raqi Mahbub Al Misbah