Ahmed Physiotherapy & Research Center

Ahmed Physiotherapy & Research Center A state-of-the-art Physiotherapy clinic can help you improve your way of life.

We are Ahmed Physiotherapy & Research Center, a trusted and professional physiotherapy center located in Kalabagan, Dhaka. Our experienced physiotherapists provide advanced and modern treatment for the following conditions:
✅ Lower back pain
✅ Knee pain
✅ Neck and upper back pain
✅ Arm and shoulder pain
✅ Bell’s Palsy
✅ Stroke and paralysis rehabilitation
✅ Spondylosis and nerve-related issues

Our goal is to help you return to a pain-free, healthy, and active life — all in a homely and caring environment.

📍 Address:
151, Lake Circus, Kalabagan (Singer's Lane), Dhaka 1205
📞 Contact: +880 1724-007776


কোমরের ব্যথা কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে...
30/12/2025

কোমরের ব্যথা কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, বিশ্বজুড়ে বিকলাঙ্গতা বা অক্ষমতার শীর্ষ কারণ হলো এই কোমর ব্যথা। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক এবং গবেষক হিসেবে কোমর ব্যথার চিকিৎসা সম্পর্কে আমার লেখনীর মাধ্যমে কয়েক পর্বে বিশদভাবে আপনাদের কাছে তুলে ধরবো। আমি মূলত বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা সংস্থা এবং জার্নালে প্রকাশিত আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন গুলোর সারসংক্ষেপ আপনাদের কাছে তুলে ধরবো।

এই ধারাবাহিক সিরিজের প্রথম পর্বে আমি ব্রিটেনের NICE (National Institute for Health and Care Excellence) গাইডলাইন অনুযায়ী ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের কোমরের ব্যথা (Low Back Pain) এবং সায়াটিকা (Sciatica) ব্যবস্থাপনার প্রধান দিকগুলো আলোচনা করবো।

যদি গাইডলাইনটি বিস্তারিতভাবে পড়তে চান তাহলে নিম্নোক্ত লিংকে গিয়ে পড়তে পারবেন (https://www.nice.org.uk/guidance/ng59)

1. প্রাথমিক মূল্যায়ন ও সতর্কতা

ব্যথা শুরু হলে প্রথমেই রোগীদের জানা উচিত এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ কি না। নিচের লক্ষণগুলো থাকলে দেরি না করে সরাসরি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে:
• পায়ে হঠাৎ চরম দুর্বলতা বা অবশ ভাব।
• প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা।
• প্রচণ্ড ব্যথার সাথে জ্বর বা ওজন কমে যাওয়া।
• আঘাত বা এক্সিডেন্টের পর তীব্র ব্যথা।

2. ঔষধ ছাড়া চিকিৎসা

আধুনিক গাইডলাইন অনুযায়ী, ওষুধের চেয়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

• সক্রিয় থাকা: এখনো অনেকেই মনে করি কোমর ব্যথা হলেই সকল ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করে দিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে। বিছানায় শুয়ে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার দিন এখন শেষ। আধুনিক গাইডলাইন বলছে, ব্যথার মধ্যেও হালকা চলাফেরা করা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
• থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্রেচিং, কোর শক্তিশালী করার ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা তাই-চি (Tai Chi) অত্যন্ত কার্যকর।
• ফিজিওথেরাপি: ম্যানুয়াল থেরাপি বা বিশেষজ্ঞের অধীনে ব্যায়াম অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়ে ভালো কাজ করে।
• মানসিক স্বাস্থ্য: দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে 'কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি' (CBT) বা কাউন্সিলিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ দীর্ঘদিনের ব্যথা অনেক সময় বিষণ্ণতা তৈরি করে।

3. ওষুধের ব্যবহার

যদি ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ না হয়, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়:
• ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ হতে পারে ওরাল NSAIDs (ইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন) এর মতো ঔষধগুলো তবে সতর্ক থাকতে হবে এবং যথাসম্ভব সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজে এবং যত কম সময়ের জন্য ব্যবহার করা যায়।
• এছাড়াও, যদি NSAIDs কাজ না করে বা কারো জন্য নিষিদ্ধ থাকে, তবে কোডিন-এর মতো দুর্বল ওপিওড দেওয়া যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এটি শুধুমাত্র তীব্র (Acute) ব্যথার জন্য প্রযোজ্য।
• প্যারাসিটামল: শুধুমাত্র প্যারাসিটামল কোমরের ব্যথার জন্য এককভাবে খুব একটা কার্যকর নয়।
• NICE গাইডলাইন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী কোমরের ব্যথার জন্য ওপিওড, বিষণ্ণতার ঔষধ, বা মৃগীরোগের ঔষধ দেওয়ার সুপারিশ করা হয় না।

সায়াটিকা বা স্নায়ুর ব্যথার ক্ষেত্রে ২০২০ সালের আপডেট অনুযায়ী ঔষধ নির্বাচনে কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে:

• সায়াটিকার ক্ষেত্রে NSAIDs খুব বেশি কার্যকর হওয়ার প্রমাণ সীমিত, তবে ক্ষেত্রবিশেষে স্বল্প মেয়াদে দেওয়া যেতে পারে।
• এপিডিউরাল ইনজেকশন: তীব্র ও গুরুতর সায়াটিকার ক্ষেত্রে লোকাল অ্যানেস্থেটিক এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন (Epidural) বিবেচনা করা যেতে পারে।
• সায়াটিকার চিকিৎসার জন্য গ্যাবাপেন্টিন, প্রিগাবালিন বা অন্য কোনো খিঁচুনি নিরোধক ঔষধ এবং ওরাল স্টেরয়েড ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উপকারের চেয়ে বেশি হতে পারে।

4. যা করা উচিত নয়

• অপ্রয়োজনীয় টেস্ট: ব্যথার শুরুর ৬ সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো গুরুতর লক্ষণ না থাকে, তবে এক্স-রে বা MRI করার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে।
• বেল্ট বা ব্রেস: বেল্ট (Lumbar Braces) ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এটি কোমরের মাংসপেশিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
• ট্রাকশন (Traction): আধুনিক গবেষণায় কোমরে টান দেওয়ার (Traction) কার্যকারিতা খুব একটা পাওয়া যায়নি।

5. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

• বসার ভঙ্গি: দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থেকে প্রতি ৩০-৪০ মিনিট পর পর ৫ মিনিট হাঁটুন।
• ভারী বস্তু তোলা: নিচ থেকে কিছু তোলার সময় কোমর না ঝুঁকিয়ে হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।
• ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের অতিরিক্ত ওজন মেরুদণ্ডের ওপর চাপ বাড়ায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

ডাঃ সোহেল আহমেদ, পিটি
স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট
বিপিটি, এমপিটি ( স্পোর্টস), এমডিএমআর
স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট, বুয়েট মেডিকেল সেন্টার
কনসালটেন্ট এন্ড ফাউন্ডার, আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার
সিরিয়াল নিতে কল করুন: 01673-474560

28/12/2025
আপনি কি পায়ের গোড়ালির তীব্র ব্যথায় ভুগছেন?আপনার কি সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা রাখলেই তীব্র ব্যথা হয়?সঠিক সময়ে ফিজিও...
27/12/2025

আপনি কি পায়ের গোড়ালির তীব্র ব্যথায় ভুগছেন?

আপনার কি সকালে ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা রাখলেই তীব্র ব্যথা হয়?

সঠিক সময়ে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা আপনাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারে।

আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার-এ আমরা ব্যবহার করছি আধুনিক প্রযুক্তির শকওয়েভ থেরাপি, যা প্লান্টার ফ্যাসাইটিস নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকর।

📞 বিস্তারিত জানতে কল করুন: 01673-474560
🌐ভিজিট করুন: ahmedphysio.com.bd
📍আমাদের ঠিকানা: বাসা # 159, ফ্ল্যাট # 2D, লেক সার্কাস (সিঙ্গারের গলি), কলাবাগান, ঢাকা-1205।

#স্বাস্থ্যসেবা #ফিজিওথেরাপি

বিনা অপারেশনে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনভাবে ব্যথামুক্ত জীবন পেতে চান? 🌿আপনার হাড়, জয়েন্ট বা মাংসপেশির দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা...
25/12/2025

বিনা অপারেশনে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনভাবে ব্যথামুক্ত জীবন পেতে চান? 🌿
আপনার হাড়, জয়েন্ট বা মাংসপেশির দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দূর করতে আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার দিচ্ছে আধুনিক ও উন্নত ফিজিওথেরাপি সেবা।
আমাদের বিশেষায়িত সেবাসমূহ:
✅ম্যানুয়াল ও ম্যানিপুলেশন থেরাপি
✅ড্রাই-নিডেল থেরাপি
✅স্পোর্টস ইনজুরি রিহ্যাবিলিটেশন
✅জেরিয়াট্রিক (বার্ধক্যজনিত) রিহ্যাবিলিটেশন
✅অ্যাডভান্সড ইলেক্ট্রোথেরাপি
✅মাস্কুলোস্কেলিটাল পেইন ম্যানেজমেন্ট
ব্যথাকে অবহেলা না করে, আজই পরামর্শ নিন একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্টের।
📞 সিরিয়াল পেতে কল করুন: 01673474560 🌐 ভিজিট করুন: ahmedphysio.com.bd 📍 ঠিকানা: বাসা # 159, ফ্ল্যাট # 2D, লেক সার্কাস (সিঙ্গারের গলি), কলাবাগান, ঢাকা।

যারা দীর্ঘমেয়াদী হাড়ের ক্ষয় জনিত সমস্যায় ভুগছেন, সময় নিয়ে আমার লেখাটি পড়তে পারেন। যুক্তরাজ্যের NICE (National Ins...
22/12/2025

যারা দীর্ঘমেয়াদী হাড়ের ক্ষয় জনিত সমস্যায় ভুগছেন, সময় নিয়ে আমার লেখাটি পড়তে পারেন। যুক্তরাজ্যের NICE (National Institute for Health and Care Excellence) ২০২২ সালে একটি নির্দেশিকার আলোকে হাড় ক্ষয় জনিত রোগের চিকিৎসা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস যেটিকে আমরা হাড়ের ক্ষয় রোগ বলে থাকি যা ১০০ টিরও বেশি ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে এই রোগটি বাত রোগ বলে বেশি পরিচিত, যেখানে হাড়ের আর্টিকুলার কার্টিলেজ বা উপরের নরম আবরণ ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়, জয়েন্টের মধ্যেকার গ্যাপ কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে জয়েন্টের চারপাশে অতিরিক্ত হাড় গঠিত হতে দেখা যায়। এই রোগটি সাধারণত 40 বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষের বেশি হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ওয়েট বেয়ারিং জয়েন্ট যেমন: হাঁটু, এবং হিপ জয়েন্টে। এছাড়াও স্পাইন শোল্ডার সহ অন্য যেকোনো জয়েন্টে এ রোগটি হতে পারে।

এ রোগটি সাধারণত হাড় ক্ষয় জনিত কারণে হয়ে থাকে, এছাড়াও কোন এক্সিডেন্টাল হিস্ট্রি, খেলাধুলায় আঘাত, অতিরিক্ত ওজন সহ আরো অনেক কারণে হতে পারে। অস্টিওআর্থ্রাইটিস এর ফলে জয়েন্টে ব্যথা অনুভূত হয়, জয়েন্ট ফুলে যেতে পারে, জয়েন্ট স্টিফ হয়ে রেনজ-অফ- মোশন কমে যেতে পারে। হাটু অথবা হিপ জয়েন্টে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হলে নিচে বসতে, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নামতে, ও বসে নামাজ পড়তে ব্যথা অনুভূত হয়। এছাড়াও হাঁটু ভাঁজ ও সোজা করার সময় হাঁটুর মধ্যে কটকট আওয়াজ হতে পারে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা অস্থিসন্ধির ক্ষয়জনিত রোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার জন্য যুক্তরাজ্যের NICE (National Institute for Health and Care Excellence) ২০২২ সালে একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নির্দেশিকার প্রধান দিকগুলো নিচে সহজভাবে তুলে ধরা হলো:

চিকিৎসার মূল ভিত্তি (Core Treatments)

নির্দেশিকায় ওষুধ ব্যবহারের চেয়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। NICE নির্দেশিকা অনুযায়ী, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ব্যবস্থাপনায় ফিজিওথেরাপি এবং ব্যায়াম কেবল চিকিৎসার একটি অংশ নয়, বরং এটি চিকিৎসার মূল ভিত্তি। এছাড়াও, ওজন কমানো বা ওজন নিয়ন্ত্রণকেও চিকিৎসার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে হাঁটু এবং কোমরের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

1. কেন ব্যায়াম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

NICE গাইডলাইন অনুসারে, অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
• ব্যথা কমানো: নিয়মিত ব্যায়াম জয়েন্টের ব্যথা কমাতে ওষুধের চেয়েও দীর্ঘমেয়াদী কাজ করে।
• কার্যক্ষমতা বাড়ানো: ব্যায়ামের মাধ্যমে জয়েন্টের নমনীয়তা (Flexibility) বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ হয়।
• পেশি শক্তিশালী করা: আক্রান্ত জয়েন্টের চারপাশের পেশি শক্ত হলে তা জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে দেয়।
• কার্টিলেজের সুরক্ষা: ব্যায়াম জয়েন্টের ভেতরে পুষ্টি সরবরাহ বাড়ায় এবং কার্টিলেজ বা তরুণাস্থির ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।

A. ব্যায়ামের ধরণ
NICE নির্দেশিকা অনুযায়ী মূলত দুই ধরণের ব্যায়ামের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
• লোকাল মাসল স্ট্রেংথেনিং (Muscle Strengthening): নির্দিষ্ট জয়েন্টের (যেমন হাঁটু বা কোমর) চারপাশের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম।
• অ্যারোবিক ফিটনেস (Aerobic Fitness): পুরো শরীরের সচলতা ও হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য দ্রুত হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো।

B. ফিজিওথেরাপির ভূমিকা
ফিজিওথেরাপিস্টরা রোগীর অবস্থা বুঝে একটি নির্দিষ্ট টেইলর্ড বা ব্যক্তিগত ব্যায়ামের পরিকল্পনা তৈরি করে দেন। NICE-এর মতে:
• তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম: একা ব্যায়াম করার চেয়ে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
• ম্যানুয়াল থেরাপি: জয়েন্টের জড়তা কাটাতে ফিজিওথেরাপিস্টের হাতের কৌশল বা ম্যানিপুলেশন কার্যকরী হতে পারে, তবে এটি অবশ্যই ব্যায়ামের সাথে সম্পূরক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (কেবল থেরাপি দিয়ে কাজ হবে না)।

C. ব্যথার ভয় কাটিয়ে ওঠা
অনেকে মনে করেন ব্যায়াম করলে জয়েন্টের ক্ষতি হবে বা ব্যথা বাড়বে। NICE নির্দেশিকা এখানে বিশেষ পরামর্শ দেয়:
• ব্যায়াম শুরু করার পর শুরুতে কিছুটা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। এটি স্বাভাবিক এবং এতে জয়েন্টের কোনো ক্ষতি হয় না।
• দীর্ঘমেয়াদে ব্যায়াম করলে এই ব্যথা কমে আসে এবং জয়েন্টের স্থায়িত্ব বাড়ে।

2. ওজন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা
NICE গাইডলাইন অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীদের জন্য ওজন কমানোর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি:
• ৫% বনাম ১০% নিয়ম: নির্দেশিকা অনুযায়ী, শরীরের মোট ওজনের ৫% কমালেও উপকার পাওয়া যায়, তবে ১০% কমাতে পারলে ব্যথা কমা এবং জয়েন্টের কার্যক্ষমতা বাড়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
• ধীরে ও সুস্থ উপায়ে ওজন হ্রাস: এটি কেবল ক্রাশ ডায়েট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী লাইফস্টাইল পরিবর্তনের অংশ হতে হবে।

A. জয়েন্টের ওপর চাপ কমানো
হাঁটু এবং কোমরের ওপর শরীরের ওজনের একটি বড় প্রভাব থাকে।
• গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যদি ১ কেজি ওজন কমান, তবে প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার হাঁটুর ওপর থেকে প্রায় ৪ কেজি চাপের সমান বোঝা কমে যায়।
• এই অতিরিক্ত চাপ কমে যাওয়ার ফলে কার্টিলেজ বা তরুণাস্থির ক্ষয় হওয়ার গতি ধীর হয়ে আসে।

B. প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন নিয়ন্ত্রণ (Reduction of Inflammation)
অস্টিওআর্থ্রাইটিস কেবল হাড়ের ঘর্ষণ নয়, এটি একটি প্রদাহজনিত রোগও বটে।
• শরীরের অতিরিক্ত চর্বি (Adipose tissue) থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ (Cytokines) নিঃসৃত হয় যা শরীরে প্রদাহ তৈরি করে।
• ওজন কমানোর মাধ্যমে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা কমে আসে, ফলে জয়েন্টের ফুলা এবং ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

C. ব্যথা উপশম ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন
ওজন কমানোর ফলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীদের মধ্যে সাধারণত নিম্নোক্ত উন্নতিগুলো দেখা যায়:
• ব্যথা কমা: অনেক ক্ষেত্রে ওজন কমালে ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমে যায়।
• সহজে চলাফেরা: রোগী দীর্ঘসময় হাঁটতে পারেন এবং সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা সহজ হয়।
• অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা কমানো: ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির প্রয়োজন অনেক পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

3. ওষুধের ব্যবহার (Pharmacological Management)
ওষুধের ক্ষেত্রে NICE এখন বেশ সতর্ক। তাদের সুপারিশগুলো হলো:
• প্রথম পছন্দ (Topical NSAIDs): হাঁটুর ব্যথার জন্য খাওয়ার ওষুধের চেয়ে ব্যথানাশক জেল বা ক্রিম (যেমন- ডাইক্লোফেনাক জেল) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
• দ্বিতীয় স্তর (Oral NSAIDs): জেল কাজ না করলে খাওয়ার ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs) দেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই সবচেয়ে কম ডোজে এবং অল্প সময়ের জন্য। এই ওষুধের সাথে পেটের সুরক্ষার জন্য পিপিআই (PPI) বা গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিতে হবে।
• যা করা যাবে না: রুটিনলি প্যারাসিটামল বা গ্লুকোসামিন (Glucosamine) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়নি, কারণ এগুলোর কার্যকারিতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া শক্তিশালী ওপিঅয়েড (Strong Opioids) ব্যথার জন্য ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে।

4. অন্যান্য থেরাপি ও ইনজেকশন
• ইনজেকশন: স্টেরয়েড ইনজেকশন কেবল স্বল্পমেয়াদী উপশমের জন্য এবং যখন অন্য কোনো উপায় কাজ করছে না, তখন বিবেচনা করা যেতে পারে।
• বর্জনীয়: আকুপাংচার (Acupuncture) বা ইলেক্ট্রোথেরাপি (যেমন- TENS) এখন আর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করা হয় না।

5. সার্জারি বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট (Joint Replacement)
• যদি ব্যায়াম, ওজন কমানো এবং ওষুধ ব্যবহারের পরও জয়েন্টের ব্যথা রোগীর জীবনযাত্রার মানে (Quality of life) বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবেই তাকে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বা হাঁটু/কোমর প্রতিস্থাপনের জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো উচিত।
• গুরুত্বপূর্ণ: রোগীর বয়স বেশি কিংবা ওজন অনেক বেশি—শুধু এই অজুহাতে কাউকে সার্জারির রেফারেল থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

গাইডলাইন অনুযায়ী মূল বার্তা

• সারাজীবনের অভ্যাস: ব্যায়ামকে সাময়িক কোনো কোর্স হিসেবে না দেখে জীবনের অংশ করে নিতে হবে।
• ব্যক্তিগত পরিকল্পনা: বয়স বা শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, সবার জন্যই উপযোগী ব্যায়াম রয়েছে।
• ওজন ও ব্যায়াম: ওজন কমানোর সাথে ব্যায়াম যুক্ত করলে তা দ্বিগুণ দ্রুত কাজ করে।

ডাঃ সোহেল আহমেদ, পিটি
স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট
বিপিটি, এমপিটি ( স্পোর্টস), এমডিএমআর
স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট, বুয়েট মেডিকেল সেন্টার
কনসালটেন্ট এন্ড ফাউন্ডার, আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার

21/12/2025

এসিএল (Anterior Cruciate Ligament) সার্জারির শতভাগ সফলতা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এসিএল সফলতার ৫০-৬০% নির্ভর করে অপারেশনের পরবর্তী রিহ্যাবের ওপর। এসিএল সার্জারি কেবল আপনার হাঁটুর গঠন ঠিক করে, কিন্তু হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা, শক্তি এবং ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার মূল কাজটি করে ফিজিওথেরাপি। অপারেশনের পরবর্তী রিহ্যাবিলিটেশন বা ফিজিওথেরাপি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এটি সাধারণত ৪-৬টি ধাপে বিভক্ত থাকে যা ৯ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত চলতে পারে।

এসিএল অপারেশনের পরবর্তী সময়ে দিন, সপ্তাহ, ও মাস অনুযায়ী ফিজিওথেরাপির লক্ষ্যসমূহ এবং একটি সাধারণ এক্সারসাইজ প্রটোকল সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ধাপ ১: প্রোটেকশন ও হিলিং (১ম দিন থেকে ২য় সপ্তাহ)

অপারেশন পরবর্তী সময়ে অনেক সময় হাঁটু ফোলা থাকে, কিছুটা ব্যথা থাকতে পারে, এবং 10 থেকে 15° এক্সটেনশন ল্যাক থাকতে পারে। সুতরাং এই সময়ের মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা কমানো, ফোলা নিয়ন্ত্রণ করা এবং হাঁটু সোজা করার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া।

১ম - ৩য় দিন:
o বিশ্রাম, বরফ দেওয়া এবং পা উঁচুতে রাখা।
o হাঁটু পুরোপুরি সোজা রাখার চেষ্টা করা।
o পায়ের রক্ত চলাচল সচল রাখতে আঙ্কেল পাম্প বা গোড়ালি ওপর-নিচ করা।

৪র্থ - ১৪তম দিন:
o আইসোমেট্রিক কোয়াড্রিসেপস এক্সারসাইজ বা হাঁটু টান টান করে বিছানায় চাপ দেয়া।
o পা সোজা রেখে অল্প উপরে তোলা।
o ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সহায়তা নিয়ে (Crutches) হাঁটা শুরু।
o ধীরে ধীরে হাঁটু ভাঁজ করা শুরু করা (সাধারণত ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত)।

ধাপ ২: হাঁটা ও শক্তির প্রাথমিক সঞ্চার (৩য় থেকে ৬ষ্ঠ সপ্তাহ)

সার্জারি পরবর্তী সময়ে সাধারণত কোয়াড্রিসেপস মাসল শুকিয়ে যেতে থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে 'Muscle Atrophy' বলা হয়। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করে:

প্রথমত আর্থ্রোজেনিক মাসল ইনহিবিশন, আমাদের হাঁটুতে যখন কোনো আঘাত লাগে বা সার্জারি হয়, তখন হাঁটু ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। আমাদের মস্তিষ্ক তখন হাঁটু রক্ষার্থে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক সিগন্যাল' পাঠায়। মস্তিষ্কের এই সিগন্যালের কারণে কোয়াড্রিসেপস মাসলে স্নায়ু উদ্দীপনা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু পেশিটি কাজ করছে না বা ব্রেইন তাকে 'অফ' করে রেখেছে, তাই খুব দ্রুত এটি শুকিয়ে যেতে শুরু করে।

অব্যবহারজনিত ক্ষয়: সার্জারির পর ব্যথা এবং নিরাময়ের স্বার্থে রোগীকে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকতে হয় এবং হাঁটুর মুভমেন্ট কমিয়ে দেওয়া হয়। সার্জারির পর পা নাড়ানো বন্ধ থাকলে বা ওজন বহন না করলে পেশির প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে। শরীর সেখান থেকে পুষ্টি সরবরাহ কমিয়ে দেয়, ফলে পেশি পাতলা হয়ে যায়।

এছাড়াও গ্রাফট নেওয়ার প্রভাব যেমন সার্জারির সময় শরীরের অন্য কোনো টেন্ডন (যেমন: Patellar tendon বা Quadriceps tendon) গ্রাফট হিসেবে নেওয়া হয়, তবে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বড় ধরনের ট্রমা তৈরি হয়। শরীর যখন গ্রাফট নেওয়ার জায়গার ক্ষত সারাতে ব্যস্ত থাকে, তখন ওই পেশিগুলোর কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়।

মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় এই পর্যায়ে গুরুত্ব দেয়া হয়
• ক্রাচ বা লাঠি ছাড়া স্বাভাবিকভাবে হাঁটার চেষ্টা করা।
• হাঁটুর ভাঁজ ৯০ থেকে ১২০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ানো।
• Stationary Bike: হালকা লোডে সাইক্লিং করা।
• ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম (Balance exercises) ।

ধাপ ৩: শক্তি বৃদ্ধি (২য় থেকে ৩য় মাস)

• Squats & Lunges: আংশিক বসে ওঠা বা লাঞ্জেস করা।
• Step-ups: সিঁড়িতে ওঠা-নামার অনুশীলন।
• পায়ের মাংসপেশির (Quadriceps & Hamstrings) শক্তি বাড়ানোর জন্য রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড বা হালকা ওজন ব্যবহার।

ধাপ ৪: রানিং ও ডায়নামিক মুভমেন্ট (৪র্থ থেকে ৫ম মাস)

• সমতল জায়গায় সোজা দৌড়ানো (Straight line jogging) শুরু করা।
• দ্রুত হাঁটা এবং হালকা লাফানোর ব্যায়াম।
• এক পায়ে ভারসাম্য রক্ষা করার উন্নত ব্যায়াম।

ধাপ ৫: খেলাধুলায় ফেরার প্রস্তুতি (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম মাস)
• আঁকাবাঁকা দৌড় (Zig-zag running) এবং দ্রুত দিক পরিবর্তন (Cutting drills) ।
• স্পোর্টস স্পেসিফিক ড্রিল (যেমন: ফুটবলারদের জন্য বল কিক করা) ।
• পায়ের শক্তি যেন সুস্থ পায়ের অন্তত ৯০% হয় তা নিশ্চিত করা।

ডাঃ সোহেল আহমেদ, পিটি
স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট
বিপিটি, এমপিটি ( স্পোর্টস), এমডিএমআর
স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট, বুয়েট মেডিকেল সেন্টার
কনসালটেন্ট এন্ড ফাউন্ডার, আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার

আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার, বাসা  # 159, ফ্ল্যাট  # 2D, লেক সার্কাস (সিঙ্গারের গলি), কলাবাগান, ঢাকা।সিরিয়াল ...
30/09/2025

আহমেদ ফিজিওথেরাপি এন্ড রিসার্চ সেন্টার, বাসা # 159, ফ্ল্যাট # 2D, লেক সার্কাস (সিঙ্গারের গলি), কলাবাগান, ঢাকা।
সিরিয়াল নিতে কল করুন: 01673-474560 নম্বরে।
যেসব সমস্যায় আসতে পারেন - ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, গোড়ালী ব্যথা, মাথা ব্যথা, হাতে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, স্পন্ডাইলোসিস এর সমস্যা, ডিক্স-প্রলাপ্সের সমস্যা, বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা, ও প্যারালাইসিস এর সমস্যায়।

Address

Flat # 2D, House # 159, Lake Circus, Kalabagan (Singer's Lane)
Dhaka
1205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ahmed Physiotherapy & Research Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram