15/02/2026
অফিস পলিটিক্সের ২০টি ধরণ :
টিকে থাকতে হলে জানতেই হবে...
কর্পোরেট দুনিয়ায় কাজ জানা যতটা জরুরি, তার চেয়েও জরুরি হলো পলিটিক্স চিনে নিজেকে বাঁচানো। এখানে এমন ২০টি কৌশলের কথা বলা হলো যা সচরাচর কেউ শেখাবে না।
১. ব্লেম গেম (The Blame Game)
কোনো প্রজেক্ট বা কাজে ভুল হলে দায়ভার নিজের কাঁধে না নিয়ে কৌশলে অন্য সহকর্মীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এরা নিজেদের ইমেজ রক্ষা করতে সবসময় 'বলির পাঁঠা' খোঁজে।
২. ক্রেডিট চোর (Credit Stealing)
টিমওয়ার্ক বা অন্য কারো কঠোর পরিশ্রমের ফল নিজের বলে চালিয়ে দেওয়া। বিশেষ করে বসের সামনে এমন ভাব দেখানো যেন পুরো কাজটা তারাই করেছে।
৩. চাটুকারিতা (Sycophancy/Brown-nosing)
বসের অহেতুক প্রশংসা করা বা সব কথায় 'জি হুজুর' বলা। এরা কাজের মানের চেয়ে বসকে খুশি করে পদোন্নতি বা সুবিধা আদায়ে বেশি বিশ্বাসী।
৪. তথ্য গোপন করা (Information Hoarding)
নিজের গুরুত্ব বজায় রাখতে বা অন্যকে বিপদে ফেলতে প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার না করা। এরা মনে করে তথ্যই ক্ষমতা (Information is Power) এবং তা শেয়ার করলে তাদের অপরিহার্যতা কমে যাবে।
৫. গসিপ বা গুজব ছড়ানো (Rumor Mongering)
সহকর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন বা অফিসের গোপন বিষয় নিয়ে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত খবর ছড়ানো। এর উদ্দেশ্য থাকে কারো চরিত্র হনন করা বা টিমের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
৬. পিঠ পিছে ছুরি মারা (Backstabbing)
সামনে খুব ভালো ব্যবহার করা এবং বন্ধুর মতো মেশা, কিন্তু আড়ালে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট বা অন্যদের কাছে ওই ব্যক্তির নামে বিষদগার করা।
৭. দলাদলি বা গ্রুপিং (Cliques)
অফিসের ভেতরেই একটি নির্দিষ্ট 'ইনার সার্কেল' বা গ্রুপ তৈরি করা। যারা এই গ্রুপের বাইরে থাকে, তাদের সাথে অসহযোগিতা করা বা তাদের একঘরে করে রাখা।
৮. ইমেইল পলিটিক্স (The Email Trap)
সামনাসামনি কথা না বলে ইচ্ছাকৃতভাবে সিসি (CC)-তে বস বা উচ্চপদস্থ কাউকে রেখে মেইল করা, যাতে ওই ব্যক্তির ছোটখাটো ভুলগুলোও বড় করে দেখানো যায়।
৯. স্যাবোটাজ (Sabotage)
অন্যের কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা। যেমন—ডেডলাইনের ঠিক আগ মুহূর্তে অসহযোগিতা করা বা ভুল ফাইল পাঠানো, যাতে ওই ব্যক্তি ব্যর্থ হয়।
১০. পক্ষপাতিত্ব (Favoritism)
যোগ্যতা বিচার না করে কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কাউকে প্রজেক্ট, সুযোগ বা প্রমোশন দেওয়া। এটি সাধারণত ম্যানেজার বা লিডাররা করে থাকেন।
১১. গ্যাসলাইটিং (Gaslighting)
এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক খেলা। সহকর্মীর আত্মবিশ্বাস এমনভাবে ভেঙে দেওয়া যাতে সে নিজের যোগ্যতা বা স্মৃতিশক্তির ওপর সন্দেহ করতে শুরু করে। যেমন—"আমি তো তোমাকে এটা আগেই বলেছিলাম, তুমি ভুলে গেছো।"
১২. গেটকিপিং (Gatekeeping)
নির্দিষ্ট কিছু রিসোর্স, মিটিং বা সুযোগের প্রবেশাধিকার আটকে রাখা। এরা নিজেদের 'দারোয়ান' মনে করে এবং ঠিক করে দেয় কারা বসের কাছে যেতে পারবে বা কারা বিশেষ সুযোগ পাবে।
১৩. ডিভাইড অ্যান্ড রুল (Divide and Rule)
দুজন সহকর্মীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে নিজের ফায়দা লোটা। যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে না পারে।
১৪. ভিক্টিম কার্ড খেলা (Playing the Victim)
নিজে ভুল বা অন্যায় করে ধরা পড়লে উল্টো কান্নাকাটি বা আবেগের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে অসহায় বা নির্যাতিত হিসেবে উপস্থাপন করা।
১৫. আইডিয়া হাইজ্যাক (Idea Hijacking)
মিটিংয়ের আগে বা ক্যাজুয়াল আলাপে সহকর্মীর আইডিয়া শুনে নেওয়া এবং পরে মিটিংয়ে সেই আইডিয়াটি নিজের নামে উপস্থাপন করা।
১৬. ইচ্ছাকৃত বর্জন (Exclusion)
কাউকে সামাজিকভাবে বা পেশাগতভাবে একঘরে করে রাখা। যেমন—গুরুত্বপূর্ণ লাঞ্চ, আউটিং বা মিটিংয়ে নির্দিষ্ট কাউকে ইনভাইট না করা।
১৭. মাইক্রোম্যানেজমেন্ট (Weaponized Micromanagement)
কাউকে চাপে রাখার জন্য তার কাজের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা। এর উদ্দেশ্য কাজের মান উন্নয়ন নয়, বরং ওই ব্যক্তিকে বিরক্ত করে অফিস ছাড়তে বাধ্য করা।
১৮. চেঞ্জ রেজিস্ট্যান্স (Resistance to Change/Traditionalism)
"আমরা সবসময় এভাবেই কাজ করে আসছি"—এই দোহাই দিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ বা নতুন এমপ্লয়ির ভালো প্রস্তাবনাগুলো নাকচ করে দেওয়া, যাতে নিজেদের গদবাঁধা রাজত্ব টিকে থাকে।
১৯. নেতিবাচকতা ছড়ানো (The Negative Influencer)
সবসময় কোম্পানি, বস বা কাজের পরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে নতুন বা উৎসাহী কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
২০. পদবির অহংকার (Pulling Rank)
তর্ক বা আলোচনার সময় যুক্তির ধার না ধেরে কেবল নিজের পদবির জোর খাটানো। "আমি তোমার সিনিয়র, তাই আমি যা বলছি সেটাই ঠিক"—এমন মনোভাব পোষণ করা।
পরামর্শ: অফিস পলিটিক্স পুরোপুরি এড়িয়ে চলা কঠিন। তবে নিজের কাজের ডকুমেন্টেশন রাখা, পেশাদার আচরণ বজায় রাখা এবং গসিপ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।