25/03/2026
মুক্তির নিঃশ্বাস: একটি স্বাধীনতা দিবসের গল্প
২৬শে মার্চ। চারদিকে লাল-সবুজের সমারোহ। বৃদ্ধ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রহমান সাহেব জানালার পাশে বসে বাইরের উৎসব দেখছিলেন। কিন্তু তার বুকের ভেতরটা আজ বড্ড ভারী। দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট বা সিওপিডি (COPD) যেন তাকে নিজের ঘরেই বন্দী করে ফেলেছে।
নাতি আয়ান ঘরে ঢুকে দেখল দাদু হাফাচ্ছেন। সে এগিয়ে এসে বলল, "দাদু, আজ তো স্বাধীনতার দিন! চলো না একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি?"
রহমান সাহেব ম্লান হেসে বললেন, "দেশ তো স্বাধীন হয়েছে দাদুভাই, কিন্তু আমার ফুসফুস দুটো তো এখনো পরাধীন। একটু হাঁটলেই দম আটকে আসে, মনে হয় যেন কেউ গলার কাছে পাথর চেপে ধরেছে।"
আয়ান হাসল। সে তার ব্যাগ থেকে একটি ইনহেলার আর একটা থেরাব্যান্ড বের করে বলল, "দাদু, পরাধীনতা ভাঙার জন্যই তো ইনজিনিয়াস পালমোফিট। ডাক্তারবাবু বলেছেন, এটি তোমার শ্বাসনালীর বাধাগুলো দূর করে ফুসফুসকে আবার মুক্তভাবে শ্বাস নিতে সাহায্য করবে।"
স্বাধীনতার স্বাদ ফুসফুসে
রহমান সাহেব পালমোফিটে আসলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি অনুভব করলেন এক অদ্ভুত পরিবর্তন:
সংকোচন থেকে মুক্তি: তার ফুসফুসের ভেতরে যে জমাট বাঁধা ভাব ছিল, তা ধীরে ধীরে শিথিল হতে শুরু করল।
বিজয় উল্লাস: শ্বাসনালীগুলো প্রশস্ত হওয়ায় বাতাস চলাচলের পথ হয়ে উঠল মসৃণ। মনে হলো, দীর্ঘ এক অবরুদ্ধ অবস্থার পর তিনি যেন মুক্তির স্বাদ পাচ্ছেন।
প্রাণের স্পন্দন: কিছুক্ষণ আগের সেই হাঁসফাঁস ভাব কেটে গিয়ে এক প্রশান্তির হাওয়া বইতে শুরু করল তার ভেতরে।
বিজয় মিছিলে ফেরা
বিকেলের দিকে রহমান সাহেব পাঞ্জাবিটা গায়ে জড়িয়ে নিলেন। আয়ান অবাক হয়ে বলল, "দাদু, তুমি বেরোচ্ছ?"
রহমান সাহেব বুক ভরে একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বললেন, "হ্যাঁ রে! পালমোফিট আজ আমাকে শরীরের পরাধীনতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। যে নিঃশ্বাসের জন্য একটু আগে সংগ্রাম করছিলাম, এখন সেই নিঃশ্বাসই আমাকে শক্তি দিচ্ছে। "
আজকের এই স্বাধীনতা দিবস রহমান সাহেবের কাছে দ্বিগুণ আনন্দের। একটি দেশের মুক্তি, আর পালমোফিটের স্পর্শে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের মুক্তি—দুইয়ে মিলে তিনি খুঁজে পেলেন নতুন জীবনের দিশা।