20/02/2026
রুকইয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিত
_______________________
আভিধানিক অর্থ: ঝাড়ফুঁক করা
পারিভাষিক অর্থ: সুস্থতা লাভের জন্য কোরআনের আয়াত, হাদীসে বর্ণিত দোয়া কিংবা অন্য যেকোন দোয়ার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা।
পাশাপাশি পেশেন্টের সুস্থতা লাভের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সালাফে সালেহীনদের ব্যবহৃত কিংবা তাদের থেকে বর্ণিত বিভিন্ন ভেষজ এবং পদ্ধতি অবলম্বন করা।
রুকইয়াহ করার হুকুম
-------------------------------
অসুস্থ হয়ে গেলে সুস্থতা লাভের জন্য ঝাড়ফুঁক করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ঝাড়ফুঁক নিজে নিজেও করা যায় অথবা অন্যের মাধ্যমেও করানো যেতে পারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম নিজের রুকইয়া নিজেও করেছেন, অন্যকেও করেছেন এবং সাহাবাদেরকে রুকইয়া করতে বলেছেন। সাহাবাদের রুকইয়া করাকে তিনি সমর্থনও করেছেন।
কী ধরনের সমস্যায় রুকইয়াহ করা যায়?
---------------------------------------------------------
বিশেষত জীন, যাদু, বদনজর, হাসাদ এবং এগুলোর কারণে সৃষ্ট যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রুকিয়ার মাধ্যমে সুস্থতা বা সমাধান লাভ করা যায়।
মৌলিকভাবে কোরআন সমস্ত রোগের শিফা। চাই তা শারীরিক, মানসিক, আত্মিক কিংবা অন্য যেকোনো কিছু। কারণ, আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা বলেছেনঃ কোরআনে যা নাযিল করা হয়েছে তা মুমিনদের জন্য শিফা এবং রহমত।
(সূরা বনী ইসরাঈল ৮২)
জিন যাদু বদনজরের কারনে কি কি সমস্যা হতে পারে?
----------------------------------------------------------------------------
শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, বিভিন্ন জটিল কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়া, অসুস্থ্য থাকা সত্তেও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোন রোগ ধরা না পড়া এবং ওষুধ খেয়েও ভালো না হওয়া, হঠাৎ কোনো পরিবর্তন হওয়া: যেমন স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ভালো না লাগা, হঠাৎ কাউকে শত্রু বা বন্ধু মনে করা, বাহ্যিক কোন বাধা না থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না হওয়া, বাচ্চা না হওয়া, চাকরি না হওয়া, সংসারে সর্বদা অশান্তি বিরাজ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
কি ধরনের সমস্যার জন্য রুকইয়া নয়?
-----------------------------------------------------
অসাধ্যকে সাধ্য করা, অসম্ভবকে সম্ভব করা, মনের মানুষকে কাছে পাওয়া, কারো মাঝে অমিল/ মিল বা শত্রুতা সৃষ্টি করা কিংবা শরীয়ত বিরোধী যে কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য রুকইয়া নয়।
রুকইয়াহর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার শর্তাবলী
-------------------------------------------------------------
১/ নিয়ত করা (নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য আল্লাহতালার
কাছে সুস্থতা লাভের নিয়ত করা।
২/ ইয়াকিন রাখা (এই বিশ্বাস রাখা যে কুরআনে
আল্লাহ তাআলা শিফা রেখেছেন)
৩/ ইস্তিকামাত (সুস্থতা লাভের জন্য
নিয়মতান্ত্রিকভাবে -যত কষ্টই হোক- রুকইয়াহ
চালিয়ে যাওয়া-অটল-অবিচল থাকা)
রুকইয়ার ব্যাপারে আকীদা
--------------------------------------
অবশ্যই এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সুস্থতা দানকারী এবং সমাধানকারী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। রুকইয়ার নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই।
রুকইয়ার শর্তাবলী
--------------------------
১/ সুস্থতা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতে- এই বিশ্বাস রাখা।
২/ কোরআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া এবং সুন্দর অর্থবহ দোয়ার মাধ্যমে রুকইয়া করা।
৩/ রুকইয়াহর মধ্যে অস্পষ্ট কোন শব্দ বা কোন কথা উচ্চারণ না করা।
৪/ এ বিশ্বাস রাখা যে, রোগ নিরাময়ে রুকইয়াহ আল্লাহর সৃষ্ট বিভিন্ন উপকরণের একটি উপকরণ মাত্র।
রুকইয়া কে করতে পারে?
------------------------------------
যে কোন মুসলিমই করতে পারে। শর্ত হলো ঈমান আকিদা বিশুদ্ধ হওয়া, কোরআন তেলাওয়াত সহি হওয়া এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা।
নিজে নিজে রুকইয়া করাকে সেলফ রুকইয়া বলে এবং অন্যের মাধ্যমে করাকে লাইভ রুকইয়া বলে!
রুকিয়ার জন্য কি অন্য কারো শরণাপন্ন হতে হয়?
--------------------------------------------------------------------
সমস্যা যদি নরমাল হয় তাহলে সেলফ রুকইয়া দ্বারাই সাধারণত ঠিক হয়ে যায়। অন্যথায় কোন অভিজ্ঞ রাকীর কাছে রুকিয়া করতে হয়। আল্লাহ তাআলা চাইলে জটিল রোগও সেলফ রুকইয়া দ্বারা সুস্থ হওয়া সম্ভব।
আমি কোন রোগে আক্রান্ত তা কিভাবে বুঝব?
---------------------------------------------------------------
প্রাথমিকভাবে প্রতিটি রোগের লক্ষণ দ্বারা তা নির্ণয় করা যাবে। আমরা প্রতিটি রোগের লক্ষণ চিকিৎসাসহ বিস্তারিত পোস্ট করব ইনশা আল্লাহ তাআলা।
সুস্থ হতে কত সময় লাগবে?
--------------------------------------
প্যারানরমাল সমস্যাগুলো শারীরিক অন্যান্য রোগের মতনই একটি রোগ। রোগ ও রোগীর অবস্থা ভেদে সময়ের তারতম্য হয়ে থাকে। কেউ একবার রুকইয়াতেই সুস্থ হয়ে যায় আর কারো একটু বেশি সময় লাগে। পেশেন্টের সদিচ্ছা, যথার্থ ত্যাগ স্বীকার, আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়া এবং রাকীর অভিজ্ঞতার উপরও সুস্থতা অনেকটা ত্বরান্বিত হয় আল্লাহর ইচ্ছায়!
প্যারানরমাল সমস্যায় কি কবিরাজি চিকিৎসা নেওয়া যাবে?
-----------------------------------------------------------------------------------
যারা জিন দ্বারা কাজ করায়, তাবিজ দেয় তাদের কাছে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না। কারণ, কুফরি করা ছাড়া জিন দ্বারা কাজ করানো সম্ভব না। এতে আপনি কেবল প্রতারণার শিকার হবেন। সাথে নিজের ঈমানটাও হারাবেন।
আপনারা কি তাবিজকে স্বীকৃতি দেন?
-----------------------------------------------------
না, কোন ধরনের তাবিজকেই আমরা স্বীকৃতি দেই না। কারণ, এগুলো অধিকাংশই শিরিক কিংবা শিরিকের পথকে উন্মুক্ত করে দেয় । অজান্তে মানুষের ঈমানকে ছিনিয়ে নেয়।
আমাদের সাথে যোগাযোগঃ 01336-202150 / 01336202151