14/11/2020
১৪ নভেম্বর ২০২০ | ঢাকা, বাংলাদেশ
আজ #বিশ্ব_ডায়াবেটিস_দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় 'ডায়াবেটিস সেবায় পার্থক্য আনতে পারেন নার্সরাই'।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। দেশে দিন দিন শিশু ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। আর বিশ্বে ডায়াবেটিসের কারণে প্রতি ৮ সেকেন্ডে মারা যাচ্ছে একজন। আজ ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে "নার্সরাই মুলত ডায়াবেটিস সাস্থ্যসেবায় পার্থক্য তৈরি করে"। ডায়াবেটিসের কারণে অঙ্গহানি, অন্ধত্ব, হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে ৫০ লাখ মানুষ মারা যায়। বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ কোটি। অথচ ১৯৮৫ সালে এই রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ কোটির মত। বাংলাদেশে প্রতিদিন নতুন ডায়াবেটিস রোগী যোগ হচ্ছে শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ। ডায়াবেটিকস আক্রান্তদের মধ্যে ‘টাইপ-১’ রোগী বেড়েছেশতকরা ৮০ ভাগ।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি'র পরামর্শমতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরছি। এগুলো হলো - ★ ফাস্ট ফুড ও কোমলপানীয় জাতীয় খাবারের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা, এ সংক্রান্ত নিবন্ধ পাঠ্যপুস্তকে রাখা। ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় জাতীয় খাবারের প্যাকেটের গায়ে চর্বির পরিমাণ ও ক্যালরি ভ্যালু উল্লেখ করা। ★ নতুন স্কুল-কলেজের অনুমতি দেয়ারক্ষেত্রে একক বা যৌথ খেলার মাঠ রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা। ★ টিভি ও রেডিওতে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান এবং স্লোগান প্রচার করা, এলাকাভিত্তিক ওয়ার্কিং ক্লাব ও সুইমিং ক্লাব গড়ে তোলা। ★ নতুন বসতি গড়ে তোলার অনুমতিদানে রাস্তা রাখার বাধ্যবাধকতা করা, হাসপাতালে চিকিত্সার পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা রাখা, ধর্মীয় নেতাদের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বক্তব্য দানে উত্সাহিত করা এবং মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোকে সচেতনতাসৃষ্টির কাজে উৎসাহিত করা।
২০০৭ সাল থেকে জাতিসংঘের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ১৪ নভেম্বর দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অনুরোধে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘে ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালনের প্রস্তাব দেয়। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনটি ইনসুলিনের আবিষ্কারকফ্রেডেরিক ব্যান্টিংয়ের জন্মদিন। ১৯২১ সালে কুকুরের শরীরে গবেষণা চালিয়ে ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ডা. ফ্রেডেরিক ব্যান্টিং ও তার সহকর্মী চার্লস বেস্ট, যা ডায়াবেটিসরোগ নিয়ন্ত্রণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সাস্থ্য পেশাজীবিদের মতে, ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা না বাড়ালে এ রোগের কারণে কিডনি, চোখ, হৃদপিণ্ড, পাসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতেপারে। এ রোগে অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্ব বরণ ছাড়াও অকালে মৃত্যুবরণ করছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গণসচেতনতা বাড়ানো খুবই জরুরি। খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাপন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানোর মাধ্যমে শতকরা ৬৫ ভাগ থেকে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে ‘টাইপ ২’ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য দরকার সচেতনতা। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে শুধু নিজে সচেতন হলেই চলবে না, অন্যকেও সচেতন করতে হবে।
Courtesy: A z i z u l, Epidemiologist