26/10/2025
জাদুর /বদ নজরের গিঠ কি?
জাদুর গিঠ/উকুদ/عقد (عقد السحر) এবং নজর ও হিংসার গিঠের (عقد العين والحسد) সংজ্ঞা ও অবস্থান, এবং তারপর আমরা আপনাদেরকে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী গিঠগুলো সম্পর্কে জানাব।
১. সংজ্ঞা এবং অবস্থান:
জাদুর গিঠ: এগুলি হলো শক্তিশালী গিঠ যা সাধারণত জিন বা শয়তান জাদুর প্রভাবে দেহের গভীরে তৈরি করে। এর উদ্দেশ্য হলো রোগীর ক্ষতি করা, জাদুর উপাদানকে (যদি থাকে) শরীর থেকে সহজে বের হতে না দেওয়া এবং রোগীকে কষ্ট দেওয়া। এই গিঠগুলো সাধারণত দেহের গভীরে, সহজে পৌঁছানো যায় না এমন জায়গায় থাকে। যেমন: কোলন, মূত্রতন্ত্র, জরায়ু, পাকস্থলী ও পাকস্থলীর মুখ, বুক বা বগল, বাহু, মাথার পেছনের দিক, ঘাড়ের নিচে বা মেরুদণ্ড বরাবর বিস্তৃত থাকতে পারে।
নজর ও হিংসার গিঠ: এগুলি হলো নজর বা হিংসার প্রভাবে তৈরি হওয়া গিঠ, যা জাদুর গিঠের তুলনায় কম শক্তিশালী। এগুলি সাধারণত চামড়ার নিচে বা পেশীর মধ্যে থাকতে পারে। এগুলি জাদুর গিঠের মতো গভীর নয়।
২. দেহের ভেতরে থাকা জাদুর গিঠের প্রভাব এবং চিকিৎসা:
প্রভাব: এই গিঠগুলো দেহের গভীরে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে।
জাদুর উপাদান আটকে রাখা: জাদুর গিঠগুলো জাদুর উপাদানকে শরীর থেকে সহজে বের হতে বাধা দেয়, তা পাকস্থলী, কোলন বা জরায়ু যেখানেই থাকুক না কেন।
চিকিৎসা ও ফোঁটার লক্ষণ:
জাদুর গিঠ যখন খোলে: দেহের ভেতরে জাদুর গিঠ ফোঁটার সময় স্পষ্ট শব্দ শোনা যায়। এটি ফেটে যাওয়ার শব্দের মতো, বা জোরে গড়গড় শব্দের মতো, অথবা প্লাস্টিকের দলায় চাপ দিলে যে শব্দ হয়, তার মতো। কখনও কখনও আঙুল মটকানোর মতো বা স্নায়ুর ফোঁটার মতো শব্দও হতে পারে। রোগী সামান্য কাঁপুনি অনুভব করতে পারে এবং যিনি চিকিৎসা করছেন তিনিও এই শব্দ শুনতে পারেন।
নজর ও হিংসার গিঠ যখন খোলে: এগুলি ফোঁটার সময় শব্দ সাধারণত হালকা হয়, ফড়ফড় করার মতো (الرف)। রোগী সাধারণত তা অনুভব করতে পারে এবং যে পেশী বা স্থানটিতে টান বা শক্ত ভাব ছিল, তা শিথিল হয়ে যায়।
৩. গিঠগুলোর অবস্থান নির্ধারণ:
জাদুর গিঠ: এগুলি সাধারণত শিরা-উপশিরার কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, বিশেষত যদি তা হাত-পায়ের অংশে হয়।
নজর ও হিংসার গিঠ: এগুলি সাধারণত পেশীতে থাকে।
৪. প্রভাবের মাত্রা:
জাদুর গিঠ: এর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকারক এবং তীব্র হয়।
নজর ও হিংসার গিঠ: এর প্রভাব জাদুর গিঠের চেয়ে অনেক কম এবং নজর বের হওয়ার সাথে সাথে (বমি, ঘাম, হাঁচি, প্রস্রাব, শ্লেষ্মা, হাই তোলার মাধ্যমে) দুর্বল হয়ে যায়। বিশেষ করে আক্রান্ত স্থান থেকে বা পিঠ ও পেট থেকে ঘামের মাধ্যমে নজর বের হলে এগুলি দ্রুত দুর্বল হয়।
ছবির সাধারণ অর্থ:
ছবিটিতে মানুষের দেহের সামনে, পিছনে এবং পাশে তিন ধরনের গাঁটের (সবুজ, লাল ও কালো বিন্দু দ্বারা চিহ্নিত) সম্ভাব্য অবস্থান দেখানো হয়েছে। এগুলো হলো:
জাদুর গিঁট (কালো বিন্দু): শরীরের গভীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় স্থানে, যেমন: বুক, পেট, পিঠের মধ্যভাগ, মাথা এবং হাতে-পায়ে বেশি ঘন ও বড় আকারে দেখানো হয়েছে।
নজরের গিঁট (সবুজ বিন্দু): শরীরের ওপরের দিকে, বিশেষ করে মাথা, কাঁধ, বুক এবং হাত-পায়ে বেশি ছড়িয়ে আছে।
মাস/জ্বিন স্পর্শের গিঁট (লাল বিন্দু): এটিও শরীরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষত পেশী ও জয়েন্টের আশেপাশে দেখানো হয়েছে।