14/12/2021
আজ মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানিদের সাথে মিশে কিছু নিকৃষ্ট জীব, রাজাকার, আলবদর, আল শামসরা এদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। অধ্যাপক, সাংবাদিক, শিল্পী, প্রকৌশলী, লেখক-সহ চিহ্নিত বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসরেরা জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেদিন প্রায় ২০০ জনের মত বুদ্ধিজীবীদের তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হায়েনারা তাদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ অন্যান্য আরো অনেক স্থানে অবস্থিত নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের উপর বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাদেরকে নৃশংসভাবে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে হত্যা করে ফেলে রাখা হয়। বাংলাপিডিয়া হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা নিম্নরূপ:
শিক্ষাবিদ ৯৯১
সাংবাদিক ১৩
চিকিৎসক ৪৯
আইনজীবী ৪২
অন্যান্য (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী এবং প্রকৌশলী) ১৬
ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (দর্শনশাস্ত্র)
ড. মুনীর চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য)
ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য)
ড. আনোয়ার পাশা (বাংলা সাহিত্য)
ড. আবুল খায়ের (ইতিহাস)
ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা (ইংরেজি সাহিত্য)
ড. সিরাজুল হক খান (শিক্ষা)
ড. এ এন এম ফাইজুল মাহী (শিক্ষা)
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ)
অধ্যাপক ডা. আব্দুল আলিম চৌধুরী (চক্ষু বিশেষজ্ঞ)
অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ
ডা. হুমায়ুন কবীর
ডা. আজহারুল হক
ডা. সোলায়মান খান
ডা. আয়েশা বদেরা চৌধুরী
শহীদুল্লাহ কায়সার (সাংবাদিক)
নিজামুদ্দীন আহমেদ (সাংবাদিক)
সেলিনা পারভীন (সাংবাদিক)
সিরাজুদ্দীন হোসেন (সাংবাদিক)
আ ন ম গোলাম মুস্তফা (সাংবাদিক)
আলতাফ মাহমুদ (গীতিকার ও সুরকার)
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (রাজনীতিবিদ)
রণদাপ্রসাদ সাহা (সমাজসেবক এবং দানবীর)
যোগেশ চন্দ্র ঘোষ (শিক্ষাবিদ, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক)
জহির রায়হান (লেখক, চলচ্চিত্রকার)
এভাবে চলতে থাকবে নাম বলা। প্রতিটি নাম, প্রতিটি মানুষ বাংলাদেশের জন্য একটি স্তম্ভস্বরূপ ছিলেন।
এই মানুষগুলোর চলে যাওয়ার ক্ষত বাংলাদেশ আজও বয়ে নিয়ে চলেছে।
আমরা তাঁদের ভুলবো না, তাঁদের আদর্শকে ভুলবো না, তাদের শিক্ষাগুলোকে ভুলবো না; তাঁদের বুকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো একটি সুন্দর বাংলাদেশের দিকে। আজকের দিনে, এই আমাদের প্রত্যাশা।
সালাম সালাম, হাজার সালাম,
সকল শহীদ স্মরণে...