29/07/2017
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রস্তুতি
বাংলা
মডেল টেস্ট
সময় : ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পূর্ণমান : ১০০
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো :
মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে তারা বুঝতে পারে যে তাদের পরাজয় অবধারিত। তখন তারা এ দেশকে আরো গভীরভাবে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেয়। তারা জানে এ দেশের মনস্বী, চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সৃষ্টিশীল মানুষদের হত্যা করলে এ দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। পকিস্তানিরা আমাদের সেই অপূরণীয় ক্ষতি করার কাজ শুরু করে। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় তারা নতুন করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর। বিভিন্ন আবাসস্থল থেকে তারা ধরে নিয়ে যায় দেশের শক্তিমান, যশস্বী ও প্রতিভাবানদের। তারা ধরে নিয়ে যায় অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও অধ্যাপক আনোয়ার পাশাকে। তাঁরা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তুলে নিয়ে যায় ইতিহাসের অধ্যাপক সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ও অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমদকে। ইংরেজির অধ্যাপক রাশেদুল হাসানও বাদ পড়েননি। শত্রুরা তুলে নিয়ে যায় প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারকে। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, নিজাম উদ্দীন আহমদ ও আ ন ম গোলাম মোস্তাফা, প্রখ্যাত চিকিৎসক ফজলে রাব্বী, আবদুল আলীম চৌধুরী, মোহাম্মদ মোর্তজাকেও একইভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় আরো বহুজনকে। তাঁরা কেউই আর জীবিত ফিরে আসেননি।
১। সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো : ১×৫=৫
১। অনুচ্ছেদটি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে?
(i) বীরশ্রেষ্ঠদের কাহিনি
(ii) চিরদিন যাঁরা স্মরণীয়
(iii) স্মরণীয় যাঁরা চিরদিন
(iv) স্মরণীয় ও বরণীয় যাঁরা চিরদিন
২। পরাজয় অবধারিত জেনে পাকিস্তানিরা কী করে?
(i) পালিয়ে যায়
(ii) আত্মগোপন করে
(iii) নতুন নতুন পরিকল্পনা করে
(iv) নতুন করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে
৩। পাকিস্তানিরা কেন দেশের শক্তিমান ও প্রতিভাবানদের ধরে নিয়ে যায়?
(i) দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য
(ii) সৃষ্টিশীল মানুষদের হত্যা করলে এ দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে।
(iii) সৃষ্টিশীল মানুষেরা তাঁদের কীর্তিকলাপ বহির্বিশ্বকে জানিয়ে দিতে পারেন বলে।
(iv) সৃষ্টিশীল মানুষকে মুক্তিযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি ভয় করত বলে।
৪। সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য কোন বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন?
(i) ইতিহাস (ii) ইংরেজি
(iii) বাংলা (iv) ভূগোল
৫। তাঁরা কেউই আর ফিরে আসেননি কেন?
(i) মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন বলে
(ii) ভাষা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন বলে
(iii) পাকিস্তানিরা তাঁদের নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল বলে
(iv) তাঁদের কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে
২। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : ১+২+২ = ৫
(ক) ‘মুক্তিযুদ্ধ’ কোন পদ?
(খ) পাকিস্তানিরা কিভাবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতির কাজ শুরু করে? দুটি বাক্যে লেখো।
(গ) শত্রুরা কাকে তুলে নিয়ে যায়? একইভাবে আর কাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়?
৩। প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ লেখো : ১×৫ = ৫
মনস্বী, যশস্বী, অবধারিত, অপূরণীয়, প্রখ্যাত
৪। প্রদত্ত অনুচ্ছেদটির মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো ৫
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো :
একবার বনের পশুদের নাচ দেখিয়ে এক বানরের খুব নাম-যশ হয়েছিল। পশুরা মুগ্ধ হয়ে বানরকে তাদের রাজা করে নিল। কিন্তু রাজা হওয়ার মতো কোনো যোগ্যতাই বানরের ছিল না। বুদ্ধিমান আর পণ্ডিত বলে শিয়ালের নামডাক কিছু কম নয়। তবু তাকে বাদ দিয়ে পশুরা বানরকে রাজা করায় শিয়ালের রাগ গিয়ে পড়ল বানরের ওপর। সে শুধু বানরকে জব্দ করার ফন্দি আঁটতে লাগল। একদিন বনের পথে ঘুরতে ঘুরতে শিয়াল দেখল, ঝোপের আড়ালে একটি ফাঁদ পাতা রয়েছে। ফাঁদ চোখে পড়তেই শিয়াল আনন্দে লাফিয়ে উঠল। সে ভাবল, যে করেই হোক ওই হাবাগোবা বানরকে এনে এই ফাঁদে ফেলতে হবে। তাহলে জন্মের মতো তার রাজাগিরির সাধ ঘুচবে। তখুনি শিয়াল চলে এলো বানরের কাছে। করজোড়ে বলে, মহারাজ, এই অধমকে যদি আপনার সেবা করার সুযোগ দেন, তবে ধন্য হই। বানর পায়ের ওপর পা তুলে কলার খোসা ছাড়াচ্ছিল। একটা আস্ত পাকা কলা কোঁৎ করে গিলে ফেলে গম্ভীর মুখে বলল, তোমার মনের ইচ্ছাটা নির্ভয়ে বলে ফেল। শিয়াল বলল, এক জায়গায় খুব ভালো খাবার দেখে এসেছি প্রভু। বনরাজ্যে আপনি ছাড়া অমন খাবারের যোগ্য আর কেউ নেই। যদি দয়া করে অনুমতি করেন, সে জায়গায় আপনাকে নিয়ে যেতে পারি। শিয়ালের চালাকি বানর কিছুই বুঝতে পারল না। সে খুশি হয়ে শিয়ালের সঙ্গে রওনা হলো। মনের খুশি মনে চেপে শিয়াল বানরকে সেই ফাঁদের কাছে ঝোপটা দেখিয়ে বলল, মহারাজ এই ঝোপের পেছনেই সব খাদ্য লুকানো আছে। আপনি এবার গিয়ে খেতে শুরু করুন। আমি হলাম আপনার দাস, একটু দূরে দাঁড়ানোই ভালো। বোকা বানর শিয়ালের কথায় ভুলে সুখাদ্যের লোভে ঝোপের ভেতরে গিয়ে ঢুকল আর ফাঁদে আটকে পড়ল। তখন সে বাঁচাও, বাঁচাও চিত্কার করে শিয়ালকে ডাকতে লাগল। শিয়াল বাঁকা হেসে বলল, বানর মশাই, তুমি একটা আকাট মূর্খ। এই বুদ্ধি নিয়ে পশুদের রাজা হওয়া যায় না। শিকারিরা এখনই আসবে। তোমার যোগ্য ব্যবস্থা তারাই করবে।
৫। সঠিক উত্তর লেখো : ১×৫=৫
১। ওপরের অনুচ্ছেদে কী বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
(i) বানরের বোকামি নিয়ে
(ii) বানরের চালাকি নিয়ে
(iii) বানরের রাজা হওয়া নিয়ে
(iv) বানরের খাওয়ার লোভ নিয়ে
২। বানরের ওপর শিয়াল রাগ করল কেন?
(i) পশুরাজ সিংহকে বাদ দিয়ে বানরকে রাজা করেছে বলে
(ii) পশুরা শিয়ালকে বাদ দিয়ে বানরকে রাজা করেছে বলে
(iii) বনের পশুদের নাচ দেখিয়ে শিয়াল বানরের মতো নাম-যশ করতে পারেনি বলে
(iv) বানরের বাঁদরামি শিয়াল সহ্য করতে পারত না বলে
৩। শিয়াল বানরকে কিসের লোভ দেখাল?
(i) কালো জাম
(ii) পাকা কলা
(iii) খুব ভালো খাবারের
(iv) পাকা কাঁঠালের
৪। শিয়াল বাঁকা হেসে বানরকে কী বলে সম্বোধন করেছে?
(i) মূর্খ (ii) গাধা
(iii) বুদ্ধু (iv) রামগাধা
৫। অনুচ্ছেদটির শিক্ষণীয় দিক কী?
(i) লোক বুঝে আর অবস্থা বুঝে চলতে হয়।
(ii) যোগ্যতার অতিরিক্ত দায়িত্ব যারা নেয়, তাদের বিপদ পদে পদে।
(iii) সতর্ক থাকলে বিপদ কখনো কাবু করতে পারে না।
(iv) নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য মানুষ অন্যকে দোষারোপ করে।
৬। ছকে কয়েকটি শব্দ ও শব্দার্থ দেওয়া হলো। উপযুক্ত শব্দটি দিয়ে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করো। ১×৫=৫
শব্দ—শব্দার্থ
পশু—জন্তু।
বুদ্ধিমান—জ্ঞানী, চালক।
জব্দ—নাকাল।
নিগৃহীত—লাঞ্ছিত।
ফন্দি—গুপ্ত কৌশল, মতলব।
কৌশল—চক্রান্ত।
নির্ভয়ে—ভয় না করে।
(ক) আমাদের শ্রেণি শিক্ষক একজন সৎ ও ................ ।
(খ) রাশেদ সব সময় মুন্নাকে .............. করতে চায়।
(গ) রহিম মিয়া ইঁদুর ধরার জন্য ......... পেতে রেখেছে।
(ঘ) রাজা গরিব লোকটিকে ......... তার কথা বলার অনুমতি দিলেন।
(ঙ) সিংহকে বলা হয় .............. রাজ।
৭। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো :
(ক) বানরের কী করে নাম-যশ হয়েছিল? শিয়াল কেন বানরকে রাজা হিসেবে মেনে নিতে পারল না?—এ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো। ১+৪=৫
(খ) কী দেখে শিয়াল আনন্দে লাফিয়ে উঠল? কী বলে বানরকে সে ঝোপের কাছে নিয়ে এলো? এ সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো। ২+৩=৫
(গ) শিয়াল কিভাবে বানরকে জব্দ করল, সে সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখো। ৫
৮। নিচের যুক্ত ব্যঞ্জনগুলো ভেঙে দেখাও এবং প্রতিটি যুক্তবর্ণ দিয়ে তৈরি শব্দ দ্বারা একটি করে বাক্য রচনা করো : ২×৫=১০ (ক) জ্ঞ (খ) ন্দ (গ) হ্ম (ঘ) ত্র (ঙ) প্ত
৯। উপযুক্ত স্থানে বিরামচিহ্ন বসিয়ে অনুচ্ছেদটি তোমার উত্তরপত্রে লেখো। ৫
কুমিল্লার লালমাই আর বরেন্দ্র অঞ্চলের পাহাড়পুর ও মহাস্থানগড়ের মতো মধুপুর গড়ের বেশির ভাগ ভূমির গড়ন একই রকম এ অঞ্চল মধুপুরগড় নামে পরিচিত। মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা বলেন, এই অঞ্চলের মাটি হাজার হাজার বছরের পুরনো।
১০। এক কথায় প্রকাশ করে উত্তরপত্রে লেখো : ১×৫=৫
(ক) সমুদ্রের তীরের বালুময় স্থান
(খ) মনের ইচ্ছা
(গ) একের সঙ্গে অন্যের
(ঘ) দেখে ভয় লাগে এ রকম শুকনো চেহারা
(ঙ) জনশূন্য স্থান
১১। নিচের শব্দগুলোর সমার্থক শব্দ লেখো : ১×৫=৫
অবরুদ্ধ, বজ্র, জনপদ, খাজনা, খুশবু
১২। কবিতাংশটুকু পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো : ১০
আমরা ঘাসের ছোট ছোট ফুল
হাওয়াতে দোলাই মাথা,
তুলো না মোদের দলো না পায়ে
ছিঁড় না নরম পাতা। ।
শুধু দেখ আর খুশি হও মনে
সূর্যের সাথে হাসির কিরণে
কেমন আমরা হেসে উঠি আর
দুলে দুলে নাড়ি মাথা।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) হাওয়াতে কারা মাথা দোলাচ্ছে? তারা আমাদের কাছে কী মিনতি করছে? কেন করছে? —দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব লেখো। ৫
১৩। মনে করো, তোমার নাম জাওয়াদ বা জাইমা। তুমি কুসুমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বা ছাত্রী। তুমি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তোমার বিদ্যালয়ে আবৃত্তি বা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চাও। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিচের ফরমটি পূরণ করো। ৫
প্রতিযোগিতার ফরম
১. নাম :
২. বিদ্যালয়ের নাম :
৩. শ্রেণি :
৪. রোল নম্বর :
৫. যে বিষয়ে প্রতিযোগিতায় ইচ্ছুক :
আবেদনকারীর স্বাক্ষর :
১৪। মনে করো, তোমার নাম বর্ষণ বা বর্ষা। তুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বা ছাত্রী। অতিরিক্ত গরমে তোমাদের দুপুরে ক্লাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তাই সকালে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তোমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি দরখাস্ত লেখো।
১৫। যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে ২০০ শব্দের মধ্যে একটি রচনা লেখো : ১০
(ক) প্রিয় স্বদেশ [ভূমিকা, দেশের নাম, সীমারেখা ও আয়তন, রাজধানী, বিভাগীয় শহর, প্রধান প্রধান নদ-নদী, জনসংখ্যা ও ভাষা, জাতীয় প্রতীকসমূহ, প্রকৃতি ও পরিবেশ, উপসংহার]
(খ) বাংলাদেশের জাতীয় পশু (বাঘ) : [ভূমিকা, পশুর নাম, আকৃতি, আবাসস্থল, রং, খাদ্যাভ্যাস, কোথায় দেখা যায়, উপসংহার]
(গ) বিদায় হজ (ভূমিকা, মহানবী (সা.)-এর সিদ্ধান্ত, মক্কায় যাত্রা, মহানবী (সা.) কর্তৃক প্রদত্ত বক্তব্য, কৃতদাস-দাসী সম্পর্কে বক্তব্য, মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য, ধর্ম সম্পর্কে বক্তব্য, বিশেষভাবে মনে রাখার মতো চারটি কথা, মহানবী (সা.) কর্তৃক আমাদের জন্য রেখে যাওয়া দুটি জিনিস, আল্লাহর উদ্দেশে বক্তব্য, উপসংহার]
(ঘ) শহীদ তিতুমীর [ভূমিকা, জন্মপরিচয়, তিতুমীর নামকরণ, শিক্ষাজীবন, শারীরিক শিক্ষা গ্রহণ, স্বদেশ চেতনা, মক্কা গমন, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব, স্বাধীনতার ঘোষণা, বাঁশের কেল্লা নির্মাণ, ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, উপসংহার]