03/03/2026
🏥ঢাকার আইসিইউতে উদ্বেগজনক ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক জনিত ‘সুপারবাগ’— আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণা
ক্যানডিডা অরিস নামের সহজে নিরাময়যোগ্য নয় এমন একটি ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ঢাকার বিভিন্ন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-তে ছড়িয়ে পড়ছে— এমন তথ্য উঠে এসেছে আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত এক গবেষণায়। গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, এই তথাকথিত ‘সুপারবাগ’ শুধু নবজাতক আইসিইউতেই (এনআইসিইউ) সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যান্য গুরুতর অসুস্থ প্রাপ্তবয়ষ্ক রোগীদের মধ্যেও এটি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। এতে হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পূর্ববর্তী গবেষণায় এনআইসিইউ-তে এই ছত্রাকের বিস্তার দেখা গেলেও, নতুন এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে সমস্যাটি আরও বিস্তৃত এবং অন্যান্য আইসিইউ-তেও এর প্রভাব বিস্তার করছে।
মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এই গবেষণাটি ঢাকার একটি সরকারি এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে পরিচালিত হয়। আইইডিসিআর-এর সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-র কারিগরি সহায়তায় এটি পরিচালিত হয়। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৭২ জন আইসিইউ রোগীকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ক্যানডিডা অরিস উপসর্গ ছাড়াই ত্বকে বসবাস (কলোনাইজেশন) করতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি রক্তে প্রবেশ করে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায়। গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল— তাদের জন্য এই ছত্রাক বেশি ক্ষতিকর। এছাড়া, প্রায় সব ধরনের সি. অরিস সাধারণত ব্যবহৃত অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ায় এর চিকিৎসা বেশ কঠিন। এসব কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ ক্যানডিডা অরিস-কে গুরুতর একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
এই গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউ-তে থাকার কোনো এক পর্যায়ে প্রায় ৭ শতাংশ রোগীর শরীরে সি. অরিস পাওয়া গেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই রোগীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি আইসিইউ-তে থাকার সময়ই ছত্রাকটির দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন— যা থেকে বোঝা যায় যে এই সংক্রমণ মূলত হাসপাতাল থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে। আরও দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে এই হার বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেশি। সরকারি হাসপাতালে প্রায় ১৩ শতাংশ রোগী আইসিইউ-তে থাকার সময় সি. অরিস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন, যেখানে বেসরকারি হাসপাতালে এই হার ছিল প্রায় ৪ শতাংশ। এর মাধ্যমে এই দু’টি হাসপাতালে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পার্থক্যের বিষয়টি বুঝা যায়।
🔗আরও পড়ুন: https://www.icddrb.org/storage/file/mediaNewsDocument/69a6a46acd4f3.pdf